জহীরকে আমি প্রায়ই বলি, কি রে জহীর তোর চেহারাটা দেখি নষ্ট করে ফেলছিস? আমার ছবি ফ্লপ করলে কিন্তু সব ট্যাকা তোর দিতে হইবো। জহীর অনেকক্ষণ ভেবে জবাব দেয়, আরে না মামা সব ঠিক হইয়া যাইবো। আইজকা রইদে একটু বেশি আছিলাম তো। এর লাইগ্যা। কাল দেইখ্যেন।
আমি কাল দেখার ইচ্ছে পোষণ করে তার দোকানে চা খেয়ে চলে আসি।
জহীর আমার নির্মিতব্য ছবির নায়ক। আমি একদিন যে ছবি বানাবো, সেই ছবিতে এই দশ-এগারো বছরের ছেলেটাকে নায়ক নেবো। এমনই একটা মৌখিক এগ্রিমেন্ট আমার আর জহীরের মধ্যে হয়ে আছে অনেকদিন ধরে। নায়ক হবার আগ পর্যন্ত জহীর একটা চায়ের দোকানে কাজ করছে। রোজ বিশ টাকা পায়। মাসে ছয়শ টাকা।
আশ্চর্য হলেও সত্যি এটা তার পরিবারের ব্যায় নির্বাহের একটা বড় অংশ।
২
মোখলেস নামের রিকশাওয়ালার সাথে আমার প্রথম বাক্য বিণিময় তাকে হালকা একটা ধমক দিয়ে, ধুর মিয়া রিকশা চালাইতে পারো না, ঢাকা শহরে রিকশা নিয়ে বের হইছো।
ভাই আমি রিকশা চালাই দুইদিন হইলো। আমি আসলে-ই পারিনা।
আমি দেখলাম এবং বিরক্ত হলাম। তা হলে কে তোমাকে বলেছে এই কাজে আসতে?
কী করবো ভাই, জামালপুর থেকে আসছি চরম অভাব নিয়া। একটা অফিসে পিয়নের চাকরীরর জন্য তিন হাজার টাকা দিয়া ধরা খাইছি। কিচ্ছু করার নাই। গত বছর ইন্টারে 'এ' পাইছি। সেই লেখাপড়াও করতে পারলাম না।
আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম, ইন্টারে 'এ' মানে?
মোখলেস তার মানিব্যাগ থেকে মার্কসিটের ফটোকপি বের করলো। আমি দেখলাম এবং দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।
জহীরের মোটামুটি মানের ঈদ পালনের জন্য এখনো কোনো নিশ্চিত কিছু হয় নাই। মোখলেস আজ জামালপুর চলে গেলো। রিকশা চালিয়ে বাড়ীতে নেয়ার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো টাকা তার ছিলনা।
তাদের নিয়ে এই লেখাটার আসলে কোনো উদ্দেশ্য নাই। আমি আসলে বলতে পারবো না আমি এ লেখা লিখে কী বুঝাতে চাই? অযথাই লিখলাম। চারদিকের উৎসব এবং বিপরীতে তাদের দেখে আমার মনটা খারাপ হয়। এই লেখার উদ্দেশ্য শুধুই আমার মন খারাপ হওয়ার একটা কারন জানানো। আর কিছু না।
তবে আমার প্রচন্ড জানতে ইচ্ছে করে জহীর, মোখলেসদের এই সাদাকালো সময়কে রঙ্গীন করার রঙ কী কারো কাছে আছে?
তাদের কী জহীরদের এই কষ্ট স্পর্শ করে?
মন খারাপ হয়?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



