somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যিশু, আপনার জন্মদিনের কেক আমি সেদিন পাইনি

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব ছোটবেলা থেকে জানতাম খ্রিষ্টানরা খুব বড়লোক শ্রেনীর।
কার কাছে শুনে বা কীভাবে এ ধারণা হয়েছিল মনে নেই, তবে খ্রিষ্টানদের সম্পর্কে এই ধারণা আর পাল্টায়নি।
আমার এক ছোট ভাই জয়, মোটামুটি দারিদ্রতায় বড় হওয়া সে নাকি ছোটবলোয় একবার খ্রিষ্টান হতে চেয়েছিল। সে জেনেছিল, খ্রিষ্টান হলে এক লাখ টাকা পাওয়া যায়।
যাই হোক, জয় এখন অনেক টাকা পয়সার মালিক এবং সে মুসলমান-ই আছে। খ্রিষ্টান হতে হয়নি।
এইসব বিভ্রান্তি আর কৌতুহল নিয়েই ছিল খ্রিষ্টান আর তাদের খ্রিষ্টধর্মের সাথে আমার পরিচয়।

আজ যাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। তাদের প্রভু যিশুর জন্মদিন। মুসলমানদের নবী ঈসার জন্মদিন। ইঞ্জিল বলে, ঈসা মসীহের জন্ম এইভাবে হয়েছিল-
ইউসুফের সংগে ঈসার মা মরয়িমের বিবাহের ঠিক হইয়াছিল। কিন্তু তাহার একসংগে বাস করিবার আগেই পাক-রূহের শক্তিতে মরিয়মের গর্ভ হইয়াছিল। মরিয়মের স্বামী ইউসুফ সৎ লোক ছিলেন। তিনি লোকের সামনে মরিয়মকে লজ্জায় ফেলিতে চাহিলেন না। এইজন্য তিনি তাহাকে গোপনে ছাড়িয়া দিবেন বলিয়া ঠিক করিলেন।
যখন ইউসুফ এই সমস্ত ভাবিতেছিলেন তখন প্রভুর এক ফেরেস্তা স্বপ্নে দেখা দিয়া তাহাকে বলিলেন, " দাউদের বংশধর ইউসুফ! মরিয়মকে বিবাহ করিতে ভয় করিও না, কারণ তাহার গর্ভে যাহা জন্মিয়াছে তাহা পাক রূহের শক্তিতে জন্মিয়াছে। তাহার একটি ছেলে হইবে। তুমি তাহার নাম ঈসা রাখিবে, কারণ তিনি লোকদের তাহাদের পাপ হইতে উদ্ধার করিবেন"।( ইঞ্জিল/১ম খন্ড/ মথী ১৮-২১)


এই ঈসা অথবা যিশুর জন্মদিনকে কেন্দ্র করেই বড়দিন। ছোটবেলা থেকেই এই বড়দিন আমার কাছে ছিল এক বড় বিস্ময়ের নাম। মুসলমানরা ঈদে নামায় পড়ে, হিন্দুরা পুজার সময় পুজা করে কিন্তু এই শ্রেনী কী করে?
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর একবার বড়দিনে এক লোকাল পত্রিকার রির্পোটিংয়ের ছুতোয় আমরা কয়েকজন চলে গেলাম এক গীর্জায়। আমাদের শহরে কম সংখ্যক খ্রিষ্টান থাকায় আমাদের দিকে সেই সম্প্রদায়ের লোকদের সেকি বিস্ময় মাখানো দৃষ্টি। আমরাও ব্যাপক ভাব নিয়ে চলে গেলাম গির্জার ভেতরে। ভাবখানা এমন, আমরা প্রভু যিশুর লোক।
গিয়ে দেখি এলাহী কান্ড। কেক, বিস্কিট, পুডিন, চানাচুর, কোকসহ অন্যরকম এক ধর্মীয় আয়োজন। দেখে অবাক হলাম। ভালোও লাগলো।
যদিও নতুন চেহারা দেখে আমাদের খুব একটা পাত্তা দেয়নি, দুঃখের বিষয়
কেক না খাইয়েই বিদায় করে দিয়েছিল।
ভীষন রাগ নিয়ে চলে এসেছিলাম। মনে মনে বলেছিলাম আমাদের জন্মদিনে এসো।
রাগ আর অভিমান করে সেদিন প্রভু যিশুর জন্মদিনের প্রার্থনা না করেই চলে এসেছিলাম। আসার সময় সান্তাক্লজ আবার বুড়োকে খুজছিলাম। ভাগ্যিস সে সামনে পড়েনি না হয় তার দাড়ি ধরে টান মেরে আসার প্ল্যান ছিল।

যাই হোক, সেদিন কেক খেতে পারি আর না পারি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে বড়দিনের আনন্দ অল্প হলেও শেয়ার করতে পেরেছিলাম। এটাই ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। আর যিশুর জন্য নিয়ে এসেছিলাম এক বুক অভিমান। যিশু, আপনার জন্মদিনের কেক আমি সেদিন পাইনি। শোনা যায়, এই ধূলার ধরনীতে আপনার আবার আবির্ভাব ঘটবে।
আমি বাঁচি আর না বাঁচি সেদিনের অপেক্ষায় থেকে গেলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪২
২০টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×