somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেব্রুয়ারী মাস এবং একটি আত্মপ্রচারণামূলক পোষ্ট

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেব্রুয়ারি, মার্চ আর ডিসেম্বর, সেই শৈশব থেকে আমার জন্য একটা আলাদা গুরুত্ব নিয়ে আসে। এই মাসগুলো এলেই আমার আনন্দের সীমা থাকতো না। আমার সেই প্রথম জীবনে আমি ওই মাসগুলোর তিনটি বিশেষ দিনে ১০ টাকা করে পেতাম।
সেই মফস্বলে, আমার পুরো প্রাইমারী স্কুলজীবনে যেখানে ২ টাকার বেশি পাওয়া দুঃস্বপ্ন ছিল, সেখানে ১০ টাকা প্রাপ্তির কথা ভেবে আমার কাঁপুনি শুরু হয়ে যেতো মাসের প্রথম থেকেই। আগের রাতগুলোতে ঘুমাতে পারতাম না চিন্তায়, এতো টাকা আমি কোথায় খরচ করবো?
১০ টাকা পাবার কারণ ছিল স্কুল থেকে প্রভাত ফেরি, র‌্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে যেতে হতো। তাই বাবার কাছ থেকে ছোট হাতে ওই বড় হাতখরচ।
আমি খুব সকালে উঠে রেডি হয়ে বাবাকে ডাকতাম, বাবা...
বাবা চোখ বন্ধ করেই বলতেন, শার্টের পকেট থেকে নিয়ে যা।
২.
সেই মাসগুলো এখনো আসে। এখনো আমার ভেতরে আলোড়ন থাকে কিন্তু সেই শৈশবীয় ফিলিংস হয়না। তবে মাসগুলোর মধ্যে ফেব্রুয়ারিটার আলাদা একটা ফিলিংস নিয়ে আসছে এখন। বিশেষ করে গত বছর থেকে। লেখালেখির প্রতি প্রেম আর অভ্যাসের চুড়ান্ত পরিনতি হিসেবে গত বছর প্রথম বের হয় আমার একটি বই। গল্পের বই। নাম, হোটেল বনলতা (আবাসিক)। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই সে কি আলাদা অনুভূতি। ভাবটা এমন, এইবার বোধহয় একটা কিছু হয়ে গেলাম। বেশ বিখ্যাত বিখ্যাত ভাব নিয়ে মেলায় যাই। ভাই ব্রাদারদরি সাথে নিয়ে ঘুরি। বাংলা একাডেমীটা নিজের মনে হয়। কেউ বসাক আর না বসাক বিখ্যাত লেখকদের সমান কাতারে নিজেকে বসিয়ে ফেললাম। তবে এ কাজে আরেকটু পেট্রোল ঢেলে দিলো এনটিভি। তারা তাদের আজকের সকাল নামক এক অনুষ্ঠানে আমাকে বারো পনেরো মিনিট বসিয়ে একটা ইন্টারভিউ প্রচার করে। সাথে এসে দাঁড়ায় একুশে টেলিভিশন এবং এবিসি রেডিও। তারা অবশ্য বসিয়ে না, দাঁড় করিয়েই দুটি ছোট ইন্টারভিউ প্রচার করে আমার চেনা জানা মহলে তোলপাড় ফেলে দেয়।
খুব ভোরে প্রচার হওয়া এনটিভির ইন্টারভিউ আমার পরিচিত মহলে এতোটাই সাড়া ফেলে অনেকের বাসায় কারেন্ট না থাকার দায়ভারও আমার নিতে হয়।
এই ইন্টারভিউ প্রচারের পর অবশ্য আরো কিছু ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে?
যেমন একজনের প্রশ্ন ছিল, যে সুন্দরী উপস্থাপিকা তোমার ইন্টারভিউ নিল তাকে দেখে তোমার অনুভূতি কী?
আমি জানালাম, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। উত্তর দেয়া ভুলে তার দিকেই হা করে তাকিয়ে ছিলাম বেশ কিছুক্ষণ।
আরেকজন জিজ্ঞাসা করলো, আজকের সকালে যে ইন্টারভিও গেল এ থেকে উপলদ্ধি কী?
তাকে বিনীতভাবে জানালাম, এতো সকালে উঠে যে মানুষ টিভি দেখা শুরু করে তা আমি উপলদ্ধি করতে পারলাম আজ।
এসব অবশ্য আরো বাড়ানো যেতো যদি চ্যানেল আইতে রিটন ভাইয়ের অনুষ্ঠানে চেহারা দেখাতাম। যাইনি। ওই অনুষ্ঠানের একটা বিপদ আছে। সেখানে রিটন ভাই কথা বলার সময় তারপাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
কারণ, দেশে এমন অনেক প্রিয়শত্রু মোবাইল নিয়ে বসে থাকে বলার জন্য, কিরে দেখলাম চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরার সামনে চেহারা দেখানোর জন্য দাঁড়িয়ে ছিলি।
তাই পরপর দুইদিন দাঁড়িয়ে থাকার জন্য রিটন ভাইয়ের কঠিন আদেশ পেয়েও চম্পট দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। হজম করতে হয়েছিল রিটন ভাইয়ের ঝাড়িও।
তবে এই ঝাড়ি অনেক ভালো তার চেয়ে, আগে একবার মেলায় ঘুরতে ঘুরতে কোনো এক ক্যামেরা ফ্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। খবরে দেখানো হয়েছিল ফুটেজ। দেখাতে দেরি ফোন পেতে দেরী হয়নি, কিরে ব্যাটা ক্যামেরা দেখলেই আশেপাশে ঘুরতে হয়?

যাই হোক সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির সেই মাস আমার জীবনে আলাদা মাত্রা এনে দিল।
যে মাস আবারও এসেছে। অসম্ভব ভালোলাগার অনুভূতিতে আছি। এবারও একটা বই আসছে। মেলামুখি গন্তব্য এবারো সচল থাকবে ইনশায়াল্লাহ।
প্রতিদিন ভোরে উঠে যেমন ভালোলাগা থাকে সন্ধ্যায় তেমনি খারাপ লাগাও থাকে। ইস! আরেকটা দিন চলে গেলো? সবচেয়ে দুঃখ ফেব্রুয়ারি মাস নিয়ে, শালার সব মাস এতো বড় বড়, এইটা এতো ছোট কেন?

পুনশ্চ : ফেব্রুয়ারি মাস মেলার জন্য একটা প্রচারনার মাসও। কাল থেকে পত্রপত্রিকা খুললেই বইয়ের বিজ্ঞাপন দেখে তা বোজা যাবে।
আর আমার এই লেখার সাথে ছবিগুলো সংযোজন আত্মপ্রচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, মানি। তবে না দিলেও সমস্যা, অনেকে বিশ্বাস করে না। গত মাসে এক কনসার্ট দেখে এসে অন্য একটি ব্লগে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে ছবি সংযোজনের নিয়ম আমার জানা ছিল না। তাই ছবি দিতে পারিনি। তো সেখানে এসে প্রথমে একজন লিখলেন, ছবি কই?
তারপর একজন এসে লিখলেন, ছবি ভিড্যু কিস্যু নাই। আসলে অয় যায় নাই...

তাই ছবি দিলামই।
তবে এজন্য আমি কথা শুনতেও ভীত না। কারণ, অনেক বড় কথা শুনেও ফেলেছ। এই ছবি গত বছর ফেসবুকে আপলোড করার পর এক বন্ধু কমেন্ট করেছিল, কিরে নীলক্ষেত থেইকা তো ছবি ভালোই বানাইলি। এনটিভির লোগোটাওতো একুরেট মারছোস।

ওই পোষ্টের লিংক : http://isteaque.amarblog.com//posts/95050/

২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×