সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার এক বছর পরই তৎকালীন সরকার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে ভারতের সবধরনের ছবি নিষিদ্ধ করেছিলো। ১৯৭২ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
খুবই ভালো সংবাদ। ব্যক্তিগতভাবে আমি ভারতীয় ছবির প্রতি বিশেষ আকৃষ্ট একজন। বিমুগ্ধ নয়নে দেখি মনিরত্নম, রাম গোপালের ম্যাজিক। দেখি শাহরুখ, আমীর, ঋত্তিকদের আকাশ ছোঁয়া প্রতিভার বিচ্ছুরন। দেখি কারিনা, ক্যাটরিনাদের ভুবণ ভোলানো সৌন্দর্য।
এবার ঘরের ডিভিডি প্লেয়ারের পাইরেটেড হল প্রিন্ট দেখা লাগবে না। দশ টাকা রিকশা ভাড়া খরচ করে চলে যাবো প্রিয় প্রেক্ষাগৃহে, যেখানে আমার জন্য জ্বলে উঠার অপেক্ষায় ভারতীয় চলচিত্রের বাতি। উজ্জ্বল আলোর টর্চলাইট। ঘোরার অপেক্ষায় ভারতীয় চলচিত্রের সেলুলয়েডের চাকা।
যে টর্চলাইট আমরা আমদানী করছি আমাদের চলচিত্রের অমাবশ্যা দূর করতে। যে চাকা বেগবান করবে আমাদের আমাদের চলচিত্রকে।
যে ধারনা পোষণ করেন আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রী মহোদয়। কারণ, সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেছেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের উপর এই নিষেধাজ্ঞা আমরা প্রত্যাহার করেছি আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরো বেশি বেগবান করার লক্ষ্যেই।
এই জাতীয় চিন্তার মন্ত্রীসহ আমাদের চলচিত্র বিভিন্ন সময়ে নানাধরণের মানুষের দ্বারা ক্ষয়ে ক্ষয়ে গেছে। বরণ করেছে পঙ্গুত্ব। একটা নিদির্ষ্ট সময়ের পর সেটা ক্ষয় প্রাপ্ত হয়েছে, চলচিত্র ডুবলে ডুবুক আমার টাকা উঠাইতে চাই মানসিকতার লোকদের দ্বারা। কখনো ডুবেছে অতিবুদ্ধিবৃত্তিক আঁতেল উদ্ধারকর্তদের দিয়ে। এই ক্ষয়ে ক্ষয়ে বাংলা চলচিত্র হারিয়েছে ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলার ক্ষমতাও।
তবে সরকারীভাবে আশার বিষয়, এবার সে চাকা বেগবাণ করতে বিদেশী হুইল চেয়ার আনা হচ্ছে!!!
বাংলা চলচিত্র নষ্ট হয়েছে আমাদের দ্বারাই। এই সুযোগে এমন ঘটনা ঘটছে। ফলে দাদাদের তুষ্ট করার মানসিকতার লোকজনের হাতে তার সৎব্যাবহার হচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই আমাদের চেয়ে কয়েকম গুণ এগিয়ে আছে ভারতীয় চলচিত্র। কোনো সন্দেহ নেই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তারা বিশ্বচলচিত্রের ষ্টিয়ারিং-এ নিজেদের হাত ছোঁয়াতে সক্ষম হবে। প্রতিবেশী দেশ বলেই তাদের সাথে আমাদের সংস্কৃতিগত অনেক সাদৃশ্য আছে। আছে তাদের প্রতি আমাদের বিমুগ্ধতাও। যার ফলে তারা ছুয়ে যেতে পারে আমাদের। আপন হয়ে যায় আমাদের অজান্তেই।
হিন্দি সিরিয়ালগুলো যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
কিন্তু তার মানে এই না এই আপনদের জন্য গেষ্টরুম না দিয়ে অতি আন্তরিকতায় আমাদের বেড রুম ছেড়ে দেবো।
এই না আমাদের সার্বোভৌম চলচিত্রে মুল রাজত্বে রাজ করতে দেবো ভারতীয় চলচিত্রকে।
আমাদের অনেক ব্যার্থতা আছে এই চলচিত্রে। তবে সফলতার কাটা কম্পাসও ঘুরিয়ে দেয়া যাবেনা অন্যদিকে।
দেশে এখন ডিজিটাল ফিল্মের এক বৈপ্লবীক জোয়ার চলছে। অসংখ্য তরুন এখন ঝিম ধরে পড়ে আছে সেলুলয়েডের ফিতা আঁকড়ে। নুরুল আলম আতিকের ভাষায়, যেখান থেকে অন্তরের নীলাভ আলোয় তুলে আনবে ছবিমালা।
তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই প্রজন্মকে নীলাভ আলোর সন্ধান নয় সরকার তুলে দিচ্ছে নীল বিষের পেয়ালা।
এ কথাও উড়িয়ে দেয়া যায় না, এই বিষাক্রান্ত প্রজন্ম যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌছবে তার স্বপ্ন নিয়ে তখন মানে আর দু চার দশ বছর পর হয়তো আমাদের ওইসব নীতি নির্ধারক মহল থেকে বেঁচে ওঠার প্রেরনা দেয়া হবে এমন আওয়াজে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বাজারে টিকে থাকার জন্য সরকার হিন্দি চলচিত্র নির্মাণে বিশেষ অনুদান ঘোষণা করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



