নন্দীগ্রামের রহস্যময় মাঠে আগুন জ্বলছে আজ। রাতের গুমোট অন্ধকারে আগুন ঘিরে বসা মানুষগুলোকে আদিম গুহাবাসীর মতো ক্ষ্যপাটে দেখায়। বাতাসে আগুনের ফুলকি ওড়া দেখে ছেলে-বুড়ো-নারী। আর দেখে বৃদ্ধ গুরুলি আকবরকে। আগুনের একটু দূরে খানিক উঁচু আসনে নন্দীগ্রামের প্রাচীন এক শিমুল গাছের নিচে সৌম্য ভঙ্গিতে বসে বৃদ্ধ গুরুলি আকবর। তার শান্ত প্রাচীন জ্বলজ্বলে চোখ আর সাদা দাড়িতে গলগলে রহস্য খেলে। আগুনের হলদে-লাল দাবানলের গভীরে তাকিয়ে বৃদ্ধ গুরুলি আকবর গল্প শুরু করেন...
...সেবার আশ্বিনে হঠাৎ খুব একটা ঝড় হয়ে গেলো। মেয়েটার ওড়না যে আমগাছে পাওয়া গিয়েছিল সেই গাছে কোনদিন আর মুকুল ধরেনি। খড়ের চালার নিচে চাপা পড়েছিল সে। আর তার কাপড়-চোপড় ছড়িয়ে ছিল নদীর কূলে এখানে ওখানে। সে বছরই কোত্থেকে কে জানে অদ্ভুত লোকটা এসে উঠলো বাবু অবিনাশের বাড়ি। এত লম্বা কাউকে নন্দীগ্রামের কেউ আর কোনদিন দেখেনি। দিনে শুধু একবারই নদীতে গোসলে যাওয়ার সময় তার চেহারা দেখা যেতো। অদ্ভুত লম্বাটে ভাবলেশহীন চেহারা কিন্তু কী ভীষণ জ্বলজ্বলে চোখ। তার পরিচয় কেউ জানেনা আর কেউ তার সাথে কথাও বলেনি। সে আসার এক সপ্তাহের মধ্যে কলেরায় মারা গেল বাবু অবিনাশের ছেলেটা। পরের সপ্তাহে মারা গেলেন বাবু অবিনাশ। পরের সপ্তাহে তার স্ত্রী। বাবু অবিনাশের স্ত্রীর দেহ চাটাইয়ে মুড়ে একা একা শ্মশানে নিয়ে গিয়েছিল অদ্ভুত লম্বা লোকটা। আর কোনদিন তাকে দেখেনি কেউ। বাবু অবিনাশের বাড়িতে এরপর বছরখানিক পা পড়েনা কারো...। তারপর একদিন সেটা পাড়ার যুবকদের ক্লাবঘর হয়ে যায়...
বৃদ্ধ গুরুলি আকবরের এরকম সৌম্য গল্পের পর বাতাস বন্ধ হয়ে যায়। আগুনের ফুলকি ওড়া কমতে থাকে আর ভীষণ রকম স্তব্ধতায় নন্দীগ্রামের ছেলে-বুড়ো-নারী সবাই থমকে থাকে। নাড়ার গাদা পুড়িয়ে আগুনের কুন্ডলি একসময় কান্ত হলে ধীরে ধীরে খালি হয় নন্দীগ্রামের অদ্ভুত মাঠ। আগুন কুন্ডলির ভাপ-ওঠা তাপের পাশে একা বসে থাকেন শুধু বৃদ্ধ গুরুলি আকবর। তার হাতে কাগজের তৈরি ছোট্ট একটা নৌকো। নন্দীগ্রামের ছোট্ট শশি স্কুলের খাতার কাগজ ছিঁড়ে নৌকোটা বানিয়ে দিয়ে গেছে তাকে। দূর আকাশে এক অজানা তারা খসতে দেখে উঠে দাঁড়ান বৃদ্ধ গুরুলি আকবর। লালচে কাল ছাইয়ের আগুনে ছুঁড়ে দেন কাগজের নৌকোটি। মরতে বসা আগুন শেষবারের মতো তীব্র জ্বলে ওঠে শুধু।
পরদিন খুব সকাল সকাল শিশু গাছে ঘেরা নন্দীগ্রামের সবুজ পুকুরটার চারিদিকে ঘন হয়ে ওঠে মানুষের ভীড়। পুকুরের ঠিক মাঝখানে পানির ওপর শান্ত ঘুমিয়ে আছে নন্দীগ্রামের ছোট্ট শশি। ভোরের পুকুরের মতোই গভীর শান্ত নৈঃশব্দের মধ্যে হঠাৎ কারো তীব্র আর্তনাদ বেজে উঠলে আমাদের নন্দীগ্রামের গল্প এবারের মতো এখানেই শেষ হয়।
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।