মাধুকর মন্ত্রী-মেয়র কিংবা মিছিলকাতর রাজনীতিকদের কাছে জানতে চেয়েছি ঘুমের বয়ান। ওদের ডিভান, পিলোকাভার আর বেডরুমের ফ্যাক্স মেশিনে কেবল এলফাবেটিক প্রেসক্রিপশান, কিংবা জার্মান ফার্মাসিউটিক্যালের ডিজপোজেবল সরঞ্জাম।
বিভোর এক মার্চে, মনে পড়ে, তৃষ্ণাকাতর হয়ে একটি ডেফিনেশান খুঁজতে বেরিয়েছিলাম।
সকিনা বিবির রক্তে গোলাগুলির কোন প্রতিধ্বনি অবশিষ্ট নেই। সূর্যোদয় আর ছয়তলা সিঁড়ির লোডশেডিং ছায়াজগতের দু’পাশে সাময়িক দেখা চেহারাগুলোই তার পৃথিবী। গর্ভজাত হবুপুরুষের খাদ্য-শিক্ষা-রঙঢঙের যোগারযন্ত্র করতেই শ্রম বিলি করে সে।
কিংবা স্মরণ করো বদিউলের ঘর্মাক্ত ডেফিনেশান। হয়তো রোদ্রকাষ্ঠ মঙ্গার দিন, হয়তো বালির বস্তাঘেরা বেড়িবাঁধে ঘুমফাঁকি রাত মাড়িয়ে, প্রয়াত ভিটেমাটি-গবাদির জন্য দীঘল শোকগাঁথা শুকিয়ে পরে এই বাচাল সংসদ, দীর্ঘদেহী ব্যাংক, কিংবা স্টেডিয়াম-বায়তুল মোকাররমের স্বাদ।
স্বাধীনতা মূলত পাকস্থলী, সানস্ক্রিন, ফ্যাশন হাউজ। কিংবা টাকার ধান্দায় লঘুচাপ শহরের প্রধান সড়কে লোকাল বাসের বমির মহড়া।
মধ্যবুর্জোয়া বিল্ডিংগুলোতে কাউকেই পাইনি তেমন। হিংসার বলিরেখা মেকাপে ঢেকে ওরা সিএনজিতে গুলশান ধানমন্ডি গেছে। ওখানে নাকি ফেস্টিভল-কনসার্ট টনসার্ট হবে। পিঠে লাল দাগ জড়িয়ে ভাড়াকরা বুয়ারা বলেছে, কালো রাত্তির মানে এখানে শুধুই হিন্দী চ্যানেল। অথবা নিছক ঘুমের প্রয়োজনে স্বাধীন বেতারের সিডি বাজিয়ে বিছানায় যাওয়া কখনও হঠাৎ।
এক শিশুকে দেখেছিলাম, মনে পড়ে, ফেব্রুয়ারির আন্তঃনগরে। মায়ের কোলের মতো শীতাতপ কুঠুরি ছিঁড়ে বারবার নেমে আসে ধুলিপথে। যেখানে দাঁড়ায়, সেখানে শুধুই ধুসর জানালা- মেঘনীল ওয়ান্ডারল্যান্ড, সবুজ এথলেটিক্সের ছায়াছবি। ঝাউ-শালবন মাতাল করে, শহর-নগর-জনপদের ইতিহাস নিঙড়ে বাতাসের উদ্দাম ঝাপটা আসলেই শুধু শিশুটি হেসে ওঠে ভীষণ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


