somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি কর্পোরেট আতিথেয়তাঃ আমার অভিজ্ঞতা

১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকের সন্ধ্যাটা আমার কেটেছে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী কমপ্লেক্সে, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে। তারকা দ্যুতিতে উদ্ভাসিত, লিটল-বিগ সব ধরনের তারকা বিচ্ছুরিত মেরিল-প্রথম আলোর অনুষ্ঠানে আমার এই প্রথম যাওয়া।

এর আগে অন্যান্য বছর গুলোর মেরিল-প্রথম আলো অনুষ্ঠানের বিস্তর রিপোর্টিং পত্রিকায় দেখতাম, আমার কাছে এটা সব সময়ই সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের একটা কর্তৃত্বমুলক এবং সেই সাথে মানের দিক থেকেও উচু মান সম্পন্ন অনুষ্ঠান মনে হতো।

গত কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকা শহর আগের চেয়ে অনেক বেশি চাকচিক্যময় হয়ে উঠেছে। এ জাতীয় অনুষ্ঠানের জন্য আগে পাঁচতারা হোটেল গুলোর বলরুম বা উইন্টার গার্ডেন এগুলোই ছিল ভরসা। তার বদলে এখন ঢাকায় অনেক বেশী অপশন। অনেক ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে অনেক বেশী ঝকঝকে, প্রায় আন্তজার্তিক মানের বেশ কিছু স্থাপনা এখন ঢাকায় দেখা যায়। সে সবের ম্যনেজমেন্টের দিক থেকেও একটা চোখে পড়ার মতো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।

দাওয়াতের কার্ডে যাকে হল অব ফেম বলা হয়েছে, সেটা একটা গোল ডিম্বাকৃতির থিয়েটার হল, প্রায় ছয়টার দিকে আমি যখন হলে ঢুকছি—সারা হলরুম লোকে থিক থিক করছে। অনুষ্ঠান শুরু হতে তখনও আধা ঘন্টা বাকি। প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক ভিতরে, কিন্ত বসার জন্য যথেষ্ঠ আসন নাই। প্রায় শেষের সারিতে অনেক কষ্টে যখন একটা আসন যোগাড় করলাম, আবিস্কার করলাম আমার হাটু গিয়ে ঠেকছে সামনের আসনে।
লক্ষ্য করলাম পুরো হল ঘরের আসন বিন্যাস নতুন ভাবে সাজানো হয়েছে, দুই সারির মাঝে প্রায় কোন স্পেশ না রেখে। যদি আপনি মাঝের সারিতে কোন খালি আসন দেখতে পান, তাহলে সেখানে পৌছতে হলে ঐ সারিতে বসা প্রতিটা লোকের হাটুতে ঘষা খেয়ে সেখানে ঢুকতে হবে।
অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে, তখনও প্রচুর লোক দাড়িয়ে, পেছন থেকে সিকিউরিটির লোকের কর্কশ আওয়াজ ভেসে এল-আপনারা এখানে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না।

অনুষ্ঠানে ঢোকার শুরু থেকেই প্রবেশপত্র চেক করার যে পরিমান কড়াকড়ি চোখে পড়েছিল তাতে করে দাওয়াত কার্ডের চেয়ে অতিরিক্ত লোক ঢুকে পড়েছে এটা সম্ভব মনে হচ্ছিল না।

শুরুতেই বলে নেই, ঢাকায় এ ধরনের বড় কোন স্টেজ প্রোগ্রাম বা ইন্ডোর কনসার্ট দেখার অভিজ্ঞতা আমার নাই। আজ আমি জীবনে প্রথম চায়না বাংলা কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম, প্রথম আলোর অনুষ্ঠানেও আজ প্রথম। আমি কাউকে কোন সমালোচনা করতে চাই না, কারো ক্রটি তুলে ধরতেও এ লিখা নয়। কিন্ত আজ আমার যা অভিজ্ঞতা তা এক কথায় চুড়ান্ত অব্যবস্থাপনা মনে হয়েছে। যদিও আমি যতক্ষন অনুষ্ঠানে ছিলাম কোন দর্শককে আমার অসুখী মনে হয় নাই, কেউ কোন আপত্তি সুচক আওয়াজও তুলেছে, এটা আমার চোখে পড়ে নাই।

আসলে আমি ইনোসেন্টলি বুঝতে চাই, আমার কথা গুলো নানান কিসিমের বাহানা তোলা- খুঁতখুঁতে বালকের মত শোনাচ্ছে কিনা। ঢাকায় এ ধরনের বড় কোন স্টেজ প্রোগ্রাম বা ইন্ডোর কনসার্ট দেখার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, অথবা আজকের ঐ অনুষ্ঠানে ছিলেন এমন কেউ যদি ব্লগে থেকে থাকেন-- তবে আমি তাদের সাথে আমার ধারনা গুলো মিলিয়ে নিতে চাই। যদি আপনাদের মনে হয় এ আলোচনা তুলে আমি ওভার রিএ্যাকশান দেখাচ্ছি, তবে আমি সেটাও শুনতে চাই।

আমি বুঝতে চাইঃ
১। ঢাকায় বড় কর্পোরেট হাউসগুলো যে সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাদের সর্বোচ্চ মান কি এ ধরনের?
২। চায়না বাংলার হল অফ ফেমে বসে আমার জুলফি বেয়ে ঘাম নামছিল, এটা কি অতিরিক্ত লোকের জন্য, নাকি গোটা কমপ্লেক্সে শীতাতপ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা আপ টু দ্য মার্ক নয়?
৩। এ ধরনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে কি উদ্যোক্তারা হর হামেশা অতিথিদের দাঁড় করিয়ে রাখেন, এবং সিকিউরিটির লোকজন তাদের ধমকায়?
৪। এত সুবিন্যস্ত ইভেন্ট ম্যনেজমেন্টের মধ্যেও কি বিনা কার্ডে অতিরিক্ত লোক ঢুকে পড়তে পারে?
৫। কর্পোরেট হাউসগুলো-ইভেন্ট প্লানিং এর সময় কি আসন ব্যবস্থার সঙ্গে মানান সই ভাবে কার্ড ছাপান, নাকি দাওয়াতের লিস্ট আগে বানানো হয়?

আমার মনে আছে ঢাকায় কোন এক বছরের আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ একটা দিনের কথা। সত্যজিত রায়ের হীরক রাজার দেশে ছবিটার সেটাই ছিল শেষ প্রদর্শনী। হল পরিচালকদের রাজী করিয়ে কয়েকশত তরুন তরুনী সেদিন প্রেক্ষাগৃহের মেঝেতে বসে খুশি মনে এবং শান্ত ভাবে সে ছবি দেখেছিল।

প্রথম আলো কি মনে করে তাদের এই অনুষ্ঠান দেখে সবার অত্যন্ত কৃতার্থ চিত্তে একই ধরনের পুলক অনুভব করা উচিত?

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:৫৪
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×