আজকের সন্ধ্যাটা আমার কেটেছে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী কমপ্লেক্সে, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে। তারকা দ্যুতিতে উদ্ভাসিত, লিটল-বিগ সব ধরনের তারকা বিচ্ছুরিত মেরিল-প্রথম আলোর অনুষ্ঠানে আমার এই প্রথম যাওয়া।
এর আগে অন্যান্য বছর গুলোর মেরিল-প্রথম আলো অনুষ্ঠানের বিস্তর রিপোর্টিং পত্রিকায় দেখতাম, আমার কাছে এটা সব সময়ই সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের একটা কর্তৃত্বমুলক এবং সেই সাথে মানের দিক থেকেও উচু মান সম্পন্ন অনুষ্ঠান মনে হতো।
গত কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকা শহর আগের চেয়ে অনেক বেশি চাকচিক্যময় হয়ে উঠেছে। এ জাতীয় অনুষ্ঠানের জন্য আগে পাঁচতারা হোটেল গুলোর বলরুম বা উইন্টার গার্ডেন এগুলোই ছিল ভরসা। তার বদলে এখন ঢাকায় অনেক বেশী অপশন। অনেক ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে অনেক বেশী ঝকঝকে, প্রায় আন্তজার্তিক মানের বেশ কিছু স্থাপনা এখন ঢাকায় দেখা যায়। সে সবের ম্যনেজমেন্টের দিক থেকেও একটা চোখে পড়ার মতো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।
দাওয়াতের কার্ডে যাকে হল অব ফেম বলা হয়েছে, সেটা একটা গোল ডিম্বাকৃতির থিয়েটার হল, প্রায় ছয়টার দিকে আমি যখন হলে ঢুকছি—সারা হলরুম লোকে থিক থিক করছে। অনুষ্ঠান শুরু হতে তখনও আধা ঘন্টা বাকি। প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক ভিতরে, কিন্ত বসার জন্য যথেষ্ঠ আসন নাই। প্রায় শেষের সারিতে অনেক কষ্টে যখন একটা আসন যোগাড় করলাম, আবিস্কার করলাম আমার হাটু গিয়ে ঠেকছে সামনের আসনে।
লক্ষ্য করলাম পুরো হল ঘরের আসন বিন্যাস নতুন ভাবে সাজানো হয়েছে, দুই সারির মাঝে প্রায় কোন স্পেশ না রেখে। যদি আপনি মাঝের সারিতে কোন খালি আসন দেখতে পান, তাহলে সেখানে পৌছতে হলে ঐ সারিতে বসা প্রতিটা লোকের হাটুতে ঘষা খেয়ে সেখানে ঢুকতে হবে।
অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে, তখনও প্রচুর লোক দাড়িয়ে, পেছন থেকে সিকিউরিটির লোকের কর্কশ আওয়াজ ভেসে এল-আপনারা এখানে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না।
অনুষ্ঠানে ঢোকার শুরু থেকেই প্রবেশপত্র চেক করার যে পরিমান কড়াকড়ি চোখে পড়েছিল তাতে করে দাওয়াত কার্ডের চেয়ে অতিরিক্ত লোক ঢুকে পড়েছে এটা সম্ভব মনে হচ্ছিল না।
শুরুতেই বলে নেই, ঢাকায় এ ধরনের বড় কোন স্টেজ প্রোগ্রাম বা ইন্ডোর কনসার্ট দেখার অভিজ্ঞতা আমার নাই। আজ আমি জীবনে প্রথম চায়না বাংলা কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম, প্রথম আলোর অনুষ্ঠানেও আজ প্রথম। আমি কাউকে কোন সমালোচনা করতে চাই না, কারো ক্রটি তুলে ধরতেও এ লিখা নয়। কিন্ত আজ আমার যা অভিজ্ঞতা তা এক কথায় চুড়ান্ত অব্যবস্থাপনা মনে হয়েছে। যদিও আমি যতক্ষন অনুষ্ঠানে ছিলাম কোন দর্শককে আমার অসুখী মনে হয় নাই, কেউ কোন আপত্তি সুচক আওয়াজও তুলেছে, এটা আমার চোখে পড়ে নাই।
আসলে আমি ইনোসেন্টলি বুঝতে চাই, আমার কথা গুলো নানান কিসিমের বাহানা তোলা- খুঁতখুঁতে বালকের মত শোনাচ্ছে কিনা। ঢাকায় এ ধরনের বড় কোন স্টেজ প্রোগ্রাম বা ইন্ডোর কনসার্ট দেখার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, অথবা আজকের ঐ অনুষ্ঠানে ছিলেন এমন কেউ যদি ব্লগে থেকে থাকেন-- তবে আমি তাদের সাথে আমার ধারনা গুলো মিলিয়ে নিতে চাই। যদি আপনাদের মনে হয় এ আলোচনা তুলে আমি ওভার রিএ্যাকশান দেখাচ্ছি, তবে আমি সেটাও শুনতে চাই।
আমি বুঝতে চাইঃ
১। ঢাকায় বড় কর্পোরেট হাউসগুলো যে সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাদের সর্বোচ্চ মান কি এ ধরনের?
২। চায়না বাংলার হল অফ ফেমে বসে আমার জুলফি বেয়ে ঘাম নামছিল, এটা কি অতিরিক্ত লোকের জন্য, নাকি গোটা কমপ্লেক্সে শীতাতপ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা আপ টু দ্য মার্ক নয়?
৩। এ ধরনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে কি উদ্যোক্তারা হর হামেশা অতিথিদের দাঁড় করিয়ে রাখেন, এবং সিকিউরিটির লোকজন তাদের ধমকায়?
৪। এত সুবিন্যস্ত ইভেন্ট ম্যনেজমেন্টের মধ্যেও কি বিনা কার্ডে অতিরিক্ত লোক ঢুকে পড়তে পারে?
৫। কর্পোরেট হাউসগুলো-ইভেন্ট প্লানিং এর সময় কি আসন ব্যবস্থার সঙ্গে মানান সই ভাবে কার্ড ছাপান, নাকি দাওয়াতের লিস্ট আগে বানানো হয়?
আমার মনে আছে ঢাকায় কোন এক বছরের আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ একটা দিনের কথা। সত্যজিত রায়ের হীরক রাজার দেশে ছবিটার সেটাই ছিল শেষ প্রদর্শনী। হল পরিচালকদের রাজী করিয়ে কয়েকশত তরুন তরুনী সেদিন প্রেক্ষাগৃহের মেঝেতে বসে খুশি মনে এবং শান্ত ভাবে সে ছবি দেখেছিল।
প্রথম আলো কি মনে করে তাদের এই অনুষ্ঠান দেখে সবার অত্যন্ত কৃতার্থ চিত্তে একই ধরনের পুলক অনুভব করা উচিত?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




