আমার প্রিয় পোস্ট
- ভিওআইপি ব্যবসা নয়, রাষ্ট্রের প্রাপ্য ট্যাক্সের টাকা ভাগ বাটোয়ারার কাহিনী - পি মুন্সী
- গ্রাম পতনের শব্দ - খারেজি
- এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < ১৯ > কেঁপে ওঠা মাটিতে-বাতাসে বারুদের গন্ধ - মনজুরুল হক
- এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < ১৬ > ঘন কুয়াশায় দুটি প্রাণের বিসর্জন - মনজুরুল হক
- কোপেনহেগেন: দুনিয়া যখন ধ্বংসের পথে সম্মেলনে তখন বাঁশি বাজাতে দেখছি - পি মুন্সী
- এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < ৩ > নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি - মনজুরুল হক
- কমেডী ভিডিওগুলো। হা হা চে থে প গে
- শূন্য আরণ্যক
- অডিসিয়াস ল্যাম্পপোস্ট ও বিসর্জিত দীপুমণি : আত্মবলিদানের প্রথম ধাপে যারা - ফারুক ওয়াসিফ
- ল্যাম্পপোস্টের সাহসী তরুনদের - মনজুরুল হক
- পুরনো ডায়েরী থেকে: স্রেফ এক কাপ চা। বা তার চেয়েও অনর্থক। - রিফাত হাসান
- সামহোয়্যারে বাংলা বানান বিভ্রাট: চাই একটু সচেতনতা - ফারহান দাউদ
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- দ্রুপলের একটি মজাদার মডিউল - অ্যাভাটার ব্লকস - রূপক
- Anatomy of জামাতে ইসলামী ও কিছু সোজা-সাপটা কথা - পাললিক মন
- রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে! - খারেজি
- চৈত্র সংক্রান্তি বাঁচলেই কেবল শুভ হবে পহেলা বৈশাখ । এবং পান্তার মঞ্চওয়ালারা চৈত্র সংক্রান্তি বাঁচাবে না। - মোহাম্মদ আরজু
- মাগনা বাংলা বই পড়ার সুযোগ - শরীফ উদ্দীন
- ব্লগে বারো ভূঁইয়ার জমিদারি : ব্লগে ভয়ের সংস্কৃতি - ফিউশন ফাইভ
- ঘুমের ভেতর ঘুম - সুমেরু
- জামাত রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার - পি মুন্সী
- তিনটি ভিন্ন ঘটনা > তিনটি পরম্পরা > অতঃপর দে গরুর গা ধুইয়ে - মনজুরুল হক
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- স্যুটকেস চুরির প্রধান প্রধান বিপত্তি এবং ... পরিত্রাণ - মানস চৌধুরী
- রাষ্ট্র ভাবনা: একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই (দ্বিতীয় ও শেষ অংশ) - পি মুন্সী
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- অমি রহমান পিয়ালের প্রতি নিন্দা ও ফরহাদ মজহারের দুইটা ইন্টারভিউ - ব্রাত্য রাইসু
- ব্লগাব্লগিতে বিস্কুট-দৌড় সংস্কৃতি - মানস চৌধুরী
- জামাত বিষয়ক মোকাবিলা ভাবনা: আল্লাহ'র নামে শেরেকি অথবা স্বৈরাচারিতা - ভূপর্যটক
- ইন্টারনেটের প্রকৃত ইতিহাস - ১ম পর্ব (ব্রাউসার যুদ্ধ) - নাফিস ইফতেখার
- কারো কথাতে কান দিয়োনা মেয়ে, এক ফোটা জল অনেক দামী শত বেদনার চেয়ে - ইউনুস খান
- ক্রিকেট-অদ্ভূত কিছু শট (অনেকগুলো ছবি, লোড হতে একটু সময় নিতে পারে) - নাফিস ইফতেখার
- বিকল্প কিছু সার্চ ইঞ্জিন - নাসির খান
- খোদার কসম, এই রোদ্দুরে রেডিক্যাল হতে চাওয়া কাজের কথা নয়। বরং আমরা সুবিধামতো একটিভিস্টই থাকি। - রিফাত হাসান
- ছবিব্লগ আপডেট: আগ্রহীরা যোগাযোগের ঠিকানাটা জানান - যীশূ
- সুমন রহমানের ব্লগ পড়লাম - মাহবুব মোর্শেদ
- ঝকঝকে সত্যজিৎ তাও আবার ৬০ টাকায় - শওকত হোসেন মাসুম
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- উকুন বাছা দিন। ০৭। বংশ - মাহবুব লীলেন
- আমার ব্লগ যে কারণে দাঁড়াবে এবং তারপরও আমি যে কারণে সেইখানে লিখবো না - মাহবুব মোর্শেদ
- ধর্মীয় বিয়ে ও নাগরিক বিয়ে - ভূপর্যটক
জীবন্ত মানব সত্তার অস্তিত্বই নিঃসন্দেহে মানবের সকল ইতিহাসের প্রথম আরম্ভ...

সামহোয়্যারে বিজ্ঞাপন প্রকাশঃ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিশ্চয়তার স্বরুপ...
০৮ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:৩৯
ছুটির দিনগুলোতে সময় কাটানোর জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশন গ্যালারি একটা চমৎকার জায়গা, বিকালের দিকে প্রায়ই কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকে। ঠান্ডা ঘরে বসে প্রিয় মানুষটার সঙ্গে পছন্দের কোন অনুষ্ঠান উপভোগ করা, চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা।
ঢাকা শহরে সময় কাটানোর মত জায়গার স্বল্পতার যুগে বেঙ্গল গ্যালারীকে আমার একটা ওয়েসিস মনে হয়। বিখ্যাত শিল্পীদের গান শুনে একটা চমৎকার সন্ধ্যা আপনি কাটিয়ে দিতে পারেন। আর মজার ব্যাপার, এর জন্য আপনাকে একটা পয়সাও খরচ করতে হবে না।
বেঙ্গল গ্যালারীতে আমিও যাই মাঝে মাঝে, আমার বন্ধুদের সাথে। কিন্ত মনে একটা খচখচে ভাব নিয়ে! আবুল খায়ের লিটু সাহেব বিস্তর ধনী মানুষ, গাটের পয়সা খরচ করে বেঙ্গল গ্যালারী তিনি চালাতেই পারেন, কিন্ত কোন কিছু কন্ট্রিবিউট না করে কাঁহাতক আর তার ঘরে বসে গান বাজনা শোনা যায়? আমার অস্বস্তি লাগে...
যদিও মাঝে মাঝে ভাবি এই যে ঘর ভর্তি লোক, গান শুনছেন ইফফাত আরা বা সুবীর নন্দীর, এদের প্রত্যেকের কিন্ত অন্তঃত ১০০ টাকা খরচ করে টিকিট কাটার সামর্থ্য আছে। আজকের দিনে ১০০টাকা এমন কিই বা টাকা! অথচ বেঙ্গল গ্যালারী কর্তৃপক্ষ কেন টিকিট কাটার ব্যবস্থা রাখেন না? এটার কোন সদুত্তর নিশ্চয় আছে, কিন্ত আমার তা মাথায় আসে না। তবে আমার খুব ভাবতে ইচ্ছা করে আজ যদি এখানে টিকিট কাটার সিস্টেম থাকতো, ১০০টাকা বা ২০০টাকা,...... এক একটা অনুষ্ঠান যে ভাবে শ্রোতার ভারে জমজমাট— ঠিক আজকের সমপরিমান লোক এখানে জমায়েত হতো কিনা...!
বেঙ্গল গ্যালারী বা ছায়ানট কিংবা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সহ অনেকেই প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এ ধরনের গানের জলসার আয়োজন করে থাকেন। আমার ধারনা প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে তারা জানেন, গান শোনার জন্য টিকিট না কাটতে হলে, মানুষ বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে। কেউ কেউ হয়ত বিনা পয়সায় গান উপভোগ করা তার ন্যয্য হক বলে মনে করে...
আমাদের সেই জিলা শহরে ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে লাঠিতে ভর করে হাটা এক ভিক্ষুকের কথা আমার খুব মনে হয়। খুবই নিষ্ঠাবান এই ভিক্ষুকটি দাড়িয়ে থাকতো রেল ষ্টেশনের প্রধান গেটে, এবং তার খোঁড়া পা দেখিয়ে প্রত্যেক যাত্রীর কাছে তার ভিক্ষা পাওয়ার ন্যয্যতা তুলে ধরতো। তার এই নাছোড়বান্দা মনোভাবে যাত্রীদের অনেকেই বিরক্ত হয়ে ধমক দিত, কিন্ত তাকে কাঁচুমাচু হতে বড়ো একটা দেখতাম না। বরং সুযোগ পেলেই সে আমাদের তার ভিক্ষা পাওয়ার যৌক্তিক দাবীর কথা মনে করিয়ে দিত। আঞ্চলিক ভাষায় যা বলতো, তার সারমর্ম- তোমরা আমাকে অবহেলা করছো, অথচ তোমারা জানো না, এই গোটা শহরটা চলছে আমাদের মত ফকিরদের দোয়ায়......
ভিক্ষুক হিসাবে তার এই গাটস্ আমি মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করতাম।
আমাদের গ্রাম বাংলার সেই জমিদারী আমলে রায়ত (প্রজা) হিসাবে সাধারন মানুষ চিত্ত বিনোদনের এবং আমোদ ফুর্তির খরচ জোগানো জমিদারের পবিত্র কর্তব্য মনে করতো। জমিদার বাড়ীর খরচে গ্রামে দুর্গাপুজার আয়োজন, সে উপলক্ষে যাত্রা বা নাচ গান আর বিজয়া দশমীতে গ্রামের সবার পেটভরে খাওয়ার দাওয়াত, এই কালচার খুব বেশিদিনের পুরানো নয়। জমিদারীর আমলে মানুষ কেন গাঁটের পয়সা খরচ করে আমোদ ফুর্তি করবে? এটা তো রায়তদের পাওনা...
জমিদারী আমল চলে গেছে- কিন্ত রায়ত হিসাবে আমরা আমাদের হক আদায়ের দাবী মনে হয় আজও ছাড়ি নাই। তফাত হলো আগে জমিদারের দেওয়া ভুরিভোজের পরে ঢেঁকুর তুলে জমিদারের গুন গাইতাম— জমিদার বাবু মানূষ ভালা, এবার লুচির লগে দই মিষ্টিও দিছে। আর এখন তার বদলে বেঙ্গলে গান শুনতে শুনতে বলি— বহুৎ টাকা কামাইছো বাপ, এখন বেঙ্গল গ্যালারীর পিছনে টাকা পয়সা ঢেলে খানিক সংস্কৃতির চর্চা করো। তোমার এখানে এসে হল ঘর ভর্তি করার জন্য তো আমরা আছিই, এতেই তো তোমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত!!!
প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের মনোভাব এ রকমই। আমরা যাবতীয় সেবা উপভোগ করতে চাই, কিন্ত তার জন্য প্রতিষ্ঠান কিভাবে টাকা পয়সা যোগাড় করবে, তার আর্থিক সমস্যার সমাধান করবে, সে আলোচনায় আমি ঢুকতে চাই না, তা নিয়ে আমি সবচেয়ে কম ভাবতে চাই। প্রত্যকেরই হয় তো ধারনা কোন এক গায়েবি যাদুবলে কর্তৃপক্ষ এ সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন। তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়, ধরা যাক বেঙ্গল আগামী অনুষ্ঠান থেকে স্পনসর নেবার প্রথা চালু করলো এবং সে অনু্যায়ী মঞ্চের পিছনে স্পনসরের ব্যনার টাঙ্গিয়ে দিল। এই বার দেখবেন এক শ্রেণীর শ্রোতাদের মহা আপত্তি, সেই ব্যানারের রঙ নাকি তাদের সঙ্গীত উপভোগে ব্যঘাত ঘটাচ্ছে......
সাম্প্রতিক সময়ে সামহোয়্যার প্রতিষ্ঠান হিসাবে তার টিকে থাকা এবং বিকাশের স্বার্থে ফ্রন্ট পেজে বিজ্ঞাপন নেওয়ার কথা ঘোষনা করেছে, পরবর্তীকালে এ্যকটেল কোম্পানীর একটা বিজ্ঞাপন প্রকাশও শুরু হয়েছে। এই বিজ্ঞাপন প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর ব্লগাররা যে মাত্রার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং এ্যড ব্লকারের পাইকারী সুপারিশ করেছেন তা খুবই দ্বায়ীত্ব জ্ঞানহীন এবং একটা প্রতিষ্ঠানের প্রতি নির্মমতা বলে আমার মনে হয়েছে। দ্বায়ীত্বজ্ঞানহীন- কারন এর মাধ্যমে আমি প্রমাণ করলাম, প্রতিষ্ঠানের সেবা আমি নেব অথচ তার বাজেট কোথা থেকে আসবে সে দায়ীত্ব আমি নেব না...... একই সাথে নির্মম, কারন আমি এ্যড ব্লকারের মাধ্যমে অচলাবস্থা তৈরি করছি যাতে বিজ্ঞাপন প্রকাশের কাজটা নির্বিঘ্ন না হয়।
উটপাখির মতো চোখ মুখ আমরা যতই ঢাকি না কেন, এটাই তো সত্য যে আমরা পুঁজিবাদি একটা অর্থব্যবস্থার অধীনে বসবাস করছি। এই ব্যবস্থায় মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কটাও হবে পুঁজিবাদি। এই ব্যবস্থায় একটা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে আর বেড়ে উঠে এই পুঁজিবাদি সম্পর্ক গুলো ব্যবহারের মাধ্যমে। বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা এবং তার বিনিময়ে অর্থ সংগ্রহ একটা স্বীকৃত পদ্ধতি—আমাদের এটাই করতে হবে, অর্থ যোগানের জন্য কোন জমিদারবাবুকে আমরা এখানে পাবো না।
প্রতিষ্ঠানের সেবা যদি নিতে চাই, তবে এই পুঁজিবাদি সম্পর্কের যুগে তার আর্থিক সমস্যা সমাধানের অধিকারটাও আমাদের মানতে হবে। ভিক্ষাবৃত্তি আমাদের সমাজে মহান পেশা, ভিক্ষুকের দোয়ারও একটা মুল্য আমরা নির্ধারন করে দিয়েছি (ভরপেট খাওয়া আর হাইকোর্ট মাজার থেকে যাওয়া আসার রিক্সাভাড়া) কিন্তু তা দিয়ে তো প্রতিষ্ঠান চলবে না। জমিদারী আমল হলে হয়তো চলতো!!! ফলে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প কোন পথ বাতলে না দিয়ে আমরা যদি সামহোয়্যরের এ্যডের কালার নিয়ে সস্তা টিটকারী মারি, এডব্লকার ব্যবহারের গনতান্ত্রিক অধিকারের কথা তুলি, আমার ডেস্কটপ স্লো হয়ে যাওয়ার অনু্যোগ জানাই— এরপর সামহোয়্যরের জন্য আর বাকী থাকে কোন রাস্তা? ভিক্ষাবৃত্তি নাকি জমিদারের রায়ত হয়ে যাওয়া?
রঙ্গতামাশা বা কৌতুক করার জন্য নিশ্চয় এক ধরনের স্মার্টনেস দরকার হয়। কিন্ত আমার বিশ্বাস প্রতিষ্ঠান হিসাবে সামহোয়্যরের টিকে থাকার জন্য আর্থিক এই নিশ্চয়তা কতটা জরূরী এটা বোঝার মধ্যেও অন্য ধরনের স্মার্টনেশ প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠান কিভাবে গড়ে উঠে এবং কিভাবে টিকে থাকে তা করে দেখানোর অনেক চ্যালেঞ্জ আমাদের তরুন ব্লগাররা নিশ্চয় ভবিষ্যতে তাদের পেশাগত জীবনে সাফল্যের সাথে নিবেন। প্রকল্প পরিকল্পনার সাথে সাথে সে প্রকল্পের আর্থিক নিশ্চয়তা যোগার করাও যে আধুনিক ব্যবস্থাপনার দায়ীত্ব সে বোধও এই সঙ্গে আশা করি তারা অর্জন করবেন।
ভিক্ষাবৃত্তি অথবা জমিদারের রায়ত হয়ে যাওয়া, কোনটাই আমাদের সমাধান এনে দিবে না। আমাদের দেশে পুঁজিবাদি্ ব্যবস্থা দ্রুত বিকাশমান। এখনই সময়, এ থেকে যাবতীয় সামন্তীয় চিন্তা ভাবনার অবশেষগুলো আমাদের ঝেড়ে ফেলতেই হবে...... বের হয়ে আসতে হবে রায়ত প্রজাদের মানসিকতা থেকে।
অন্যথায় যাবতীয় পুঁজিবাদি সম্পর্কের প্রতি আমাদের মধ্যবিত্ত সুলভ ক্ষিপ্ত মনোভাব শুধু কৌতুকই পয়দা করবে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): প্রতিষ্ঠান --প্রাতিষ্ঠানিকতা ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ......বছরের পর বছর সামহোয়্যার চলছে পুরোপুরি অলাভজনকভাবে।...
আমি বিষয়টাকে অবশ্য এভাবে দেখি না, এটা ছিল বরঞ্চ সামহোয়্যার এর সিদ্ধান্ত যে, তারা এটা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে যাবে। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে তারা লাভের প্রসঙ্গটা সামনে আনবে। উদ্যোক্তাদের দিক থেকে দেখলে--অনেকেই এ কাজটা করে থাকেন। এটাও একটা স্বীকৃত পদ্ধতি।
অর্থাৎ আপনি যখন ভাবছেন "বছরের পর বছর সামহোয়্যার চলছে পুরোপুরি অলাভজনকভাবে।" আসলে এটা তখন লম্বা দৌড়ের আগে মোমেন্টাম গেইন করছে।
আর আরিলকে যেভাবে এক মহান চরিত্রে হিসাবে আঁকতে চাচ্ছেন তারও কোন প্রয়োজন নাই।
আরিল একজন স্মার্ট আর বুদ্ধিমান আর ব্যবসায়ী—আমার মনে হয় এটুকুই যথেষ্ট...
হাসান বায়েজীদ বলেছেন:
একটা কথা আছে, যাকে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। সামুর মডারেটররা তাদের এক মডারেশন নিয়েই ব্লগারদের সাথে দুরত্ত্ব তৈরি করে ফেলেছেন। এখন ভালো কিছু হোক আর খারাপ কিছু, ব্লগাররাও থাকে কর্তৃত্ত্ব পরায়ন মডারেটরদের পচাঁনোর তালে। অতিকায় ডাইনোসরের মতো সমাজতন্ত্র পরাজিত হলেও চরম পুজিঁবাদী কাঠামো টিকে আছে বিশ্বে। তবে একথাও তো ঠিক, পুজিঁবাদের সমালোচকরা বসে নেই। বিষয়টা অনেকটা "যে ডালে বসে আছে, সেই ডালে কুঠার চালানোর মতো।"ধন্যবাদ। ভালো লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: মডারেটরদের মাঝে কর্তৃত্ত্বপরায়নতা থাকা অবশ্যই একটা সমস্যা। এটা সমালোচনা যোগ্য। কিন্ত যদি কিছু ব্লগার মডারেটরদের শুধু বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যেই বিরোধিতা করে—তবে এ মডারেশন পলিশি নিয়ে আমাদের সমস্যা কখনো মিটবে না।
আমি আপনার সাথে একমত। মডারেশন পলিশি নিয়ে যেহেতু কর্তৃপক্ষের সাথে ব্লগারদের বিরোধ আছে, ফলে তার বিজ্ঞাপন নেওয়ার নীতিকে বিরোধিতা বা একটা অচলাবস্থা তৈরির সিদ্ধান্তটা কিন্ত এখান থেকেই আসছে। ব্লগ কর্তৃপক্ষকে বিপদে ফেললাম—এটাই আমার আনন্দ, এটা খুব ছেলেমানুষী আচরন। এর পিছনে কোন বিচক্ষনতা নাই।
আমার সমালোচনা এটা নিয়েই।
আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ঐতিহাসিক ভাবে সমাজতন্ত্রের আগের অবস্থা। পশ্চাদপদ সামন্তীয় ব্যবস্থাকে পিছনে ফেলে পুঁজিবাদ মাত্র বিকশিত হতে শুরু করেছে, ফলে পুরানো সম্পর্কগুলোও ভেঙ্গে যাচ্ছে, তার জায়গা দখল করছে স্রেফ পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক- যা নির্ধারন হয় অর্থমুল্য দিয়ে, নগদ লেনদেনের মাধ্যমে। সামন্তীয় অবস্থানে থেকে অনেকেই এই সম্পর্ককে মেনে নিতে পারে না, বিরোধিতা করে, প্রতিক্রিয়া দেখায়।
কিন্তু পুঁজিবাদি ব্যবস্থা কি রাগ গোস্বা দেখিয়ে ঠেকিয়ে রাখার জিনিষ?
অনেক ধন্যবাদ হাসান বায়েজীদ, ভাল থাকবেন।
কৌশিক বলেছেন:
আমার কাছে ব্লগিং অনেক সম্ভাবনাময় মনে হয়। আগত দিনগুলোতে প্রযুক্তি নির্ভর তথ্যের অবাধ যাতায়াতে আধিপত্যশীলরাই রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রন করবে - ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য-সঞ্চালন-উপস্থাপন-বিশ্লেষণ-কর্মসূচী নির্ভর ওয়েব বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য্য; এজন্য সামহোয়ারের মত একটা প্লাটফর্মের স্থিতিশীল অভিযাত্রা নতুন ব্লগার, নতুন ভৌগলিক অবস্থিতির প্রতিনিধিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে - মূলত তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যম হিসাবে। এজন্য এই প্লাটফর্মের লো-প্রোফাইল, লো-প্রজ্ঞা, লো-স্কিল নির্ভর চলমান মডারেশন যা অনেক বেশী ব্লগারদের তাৎপর্যপূর্ণ ফিডব্যাকে আপাত প্রমাণিত হয়; এটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কর্তৃপক্ষের চেয়ে ব্লগাররা বেশী বোঝে এই রকম আমিও বুঝতে, ভাবতে পছন্দ করি, নিজেরে নিরাপদ বোধ করি। এটা সবচেয়ে পজেটিভ দিক সামহোয়ারের।
লেখক বলেছেন: ব্লগিং এর অপার সম্ভাবনা নিয়ে আপনার সাথে আমার কোন দ্বিমত নাই...
আপনার চোখে যা সামহোয়ারের সবচেয়ে পজেটিভ দিক, তা নিয়েও সমস্যা নাই।
কিন্ত আমার আলোচনাটা ছিল সাধারন ভাবে-- কিভাবে একটা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে আর তাতে সংশ্লিষ্টদের দ্বায়িত্বের দিকটা কোথায়।
রিফাত হাসান বলেছেন:
সামহোয়ারে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ব্যাপারটি সমর্থন করেছি বেশ আগে, যখন প্রথম ঘোষণা এসেছিল। ফাহমিদ ভাই সম্ভবত এর বিপক্ষে প্রচুর কথাবার্তা বলেছিলেন। কিন্তু সামহোয়ারকে কোন দাতব্য বা বিপ্লবীদের প্রতিষ্ঠান মনে করি না, এটি নিরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তাই এই সমর্থন। তবে শর্ত থাকে যে, বিজ্ঞাপন দেনেওয়ালারা এই সাইটটির মডারেশনে মনোযোগ দেবেন না।এখন মডারেশন সংক্রান্ত আলোচনা চলছে বেশ। এই পোষ্টটি সেই স্রোতের ভিতরে একটু ছন্দপতন মনে হল। তাছাড়া বিজ্ঞাপনপর্বতো বেশ আগে থেকেই শুরু হয়েছে। একটু বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া নয় কি?
লেখক বলেছেন: রিফাত ভাই, অনু্যোগ করতে চাই না, তবে আশঙ্কা করি সামইন ব্লগে আপনি আগের মতো মনোযোগ দিতে পারেন না। তরুন ব্লগারদের চিন্তা ভাবনার খোঁজ রাখতে পারেন না। ফলে স্বাভাবিক কারনেই সাম্প্রতিক প্রবনতার অনেক কিছুই আপনার মনো্যোগ টানতে পারে নাই।
বিজ্ঞাপন নিয়ে ব্লগারদের বিরোধিতার যে অবস্থান-- আমার চোখে তা যার পর নাই বালখিল্য এবং চুড়ান্ত ভাবে অপেশাদার মনে হয়েছে। আমার ধারনা মডারেশন নিয়ে ব্লগারদের সাথে ব্লগ মডারেটরদের যে দুরত্ব তৈরী হয়েছে, সেটাই এক্ষেত্রে ড্রাইভিং ফোর্স হিসাবে কাজ করেছে। এবং এটা আরও চিন্তিত হওয়ার মতো ঘটনা।
তরুন ব্লগারদের পেশাগত জীবনে এই মনোভাব ক্ষতিকর প্রভাব রাখবে বলেই আমার মনে হয়েছে। আর পেশাগত জীবন তো দীঘল বিস্তারী, সেটার জন্য কোন প্রতিক্রিয়াই আপনার বিলম্বিত মনে হবে না। ট্রাস্ট মি...
হাসান বলেছেন:
ফাটাফাটি একটি পোষ্টঅবাক লাগে যখন বিভিন্ন দিবসে থিম পরির্বতন না করার জন্য পোলাপাইন যা তা বলে। মডারেশনের জন্য অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে - মডারেশনে কখনও কখনও পক্ষপাতিত্ব হতে পারে, তাই বলে জাত, ধর্ম, বর্ণ ভেদে গালাগালি অবাক করার মত।
এ্যাড ব্লকার আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। ফ্রি সেবা নিব অথচ ফ্রি দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের যে ঘাম ছুটছে সেইদিকে খেয়াল করব না ভাবাটা পুরোপুরি অকৃতজ্ঞের মতো আচরন।
কেউ কেউ বলছেন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে উৎকট রঙয়ের বিজ্ঞাপন - অলাভজনক ভাল কথা, তাই বলে সার্ভার চালানোর মতো পয়সা উঠাতে বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না এই কথা তো কোথাও বলা নাই।
কতিপয় ব্লগার খালি নিজের ভাগের কথা চিন্তা করছে - কেউ কর্তৃপক্ষের কথা মাথাতেই আনছে না, আমরা কি এতটাই স্বার্থপর হয়ে গেছি।
এই বিষয় নিয়ে আমার পোষ্ট: Click This Link
লেখক বলেছেন: হাসান ভাই প্রথম ধন্যবাদটা আমার আপনাকেই দেওয়া উচিত, এই পোষ্টের যাবতীয় প্রণোদনা আপনার পোষ্ট "সামহোয়ারইনে বিজ্ঞাপন এবং আমার ব্যক্তিগত মতামত" থেকে পাওয়া। ওখানে আমার মন্তব্যও রেখেছি।
কয়েকদিন ধরেই বিষয়টা নিয়ে ভাবছিলাম, লেখা হয়ে উঠছিল না, তারপর আপনার লিখাটা পড়েই তাগিদটা আরো জোরালো ভাবে অনুভব করলাম......
ভাল থাকবেন হাসান ভাই, সামনে আরও কথা হবে।
সোজা কথা বলেছেন:
লেখার সঙ্গে একমত।Click This Link এ একই বক্তব্য এসেছিল
১. সামহোয়ারইন এড দেবে বা কিভাবে দেবে সেটা নিয়ে কে কি বললে তা আসে যায় না । গুগল কোথায় এড দেয় বা দিবে তা নিয়ে গুগলকে কি আমরা প্রশ্ন করি বা করতে পারি? যে কোন এডই পাঠককে বিরক্ত করে।
তবে ভুল এড এবং এডের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার সাইটকে ধ্বংশ করে ।
সামহোয়ারইনের নিরপেক্ষতার সুনাম ধরে রাখার প্রয়োজনে এড দাতা যাতে সামহোয়ারইন এর ব্লগকে নিয়ন্ত্রন না করে তা নিশ্চিত করা দরকার।
২. এডের ইম্প্রেশন বা ক্লিক থেকে আয়ের উপর যদি সাইটটি নির্ভরশীল হয় তবে এড ব্লকার বা এড রিমুভার ব্যবহার অনৈতিক।
৩. সামহোয়ারইন থেকে আয় যেটা হবে সেটার ভাগ ব্লগারকে দেয়ার প্রস্তাবটি সঠিক যুক্তি নয়। ব্লগারদের কন্টেন্টের কপিরাইট ব্লগারদের থাকবে (এমন কি ব্যান হলেও সে যাতে লগইন করে তার ব্লগ ডাউনলোড করতে পারে তা আবশ্যক)। ব্লগারদের হোষ্টিং এর বিনিময়ে আয় সামহোয়ারইন এর প্রাপ্য। যেমনটা গুগল বা ইয়াহু করে থাকে।
তবে ব্লগারদের নিজস্ব পেজে নিজস্ব এড(টেক্সট বেজড হতে পারে) দেয়ার সুযোগ দেয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে( যেমন ব্লগস্পটে আপনি আপনার পছন্দ মত এডসেন্সের এড দিতে পারেন।) তাহলে ব্লগাররা ইনসেনটিভ পাবে লেখার জন্য।
৪. উপরের লিংকে কেউ বলেছেন অতিরিক্ত আয়, সমাজসেবা মুলক ফান্ডে দেয়ার। সামহোয়ারইনে একটি বেসরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অতিরিক্ত আয় বলে কিছু নেই ব্যবসায়! যে বিনিয়োগ করেছে তার ভাষায় এটি লাভ।
তবে সময় সময় তাদের কে অনুরোধ করতে পারি কোন ফান্ডে পয়সা দেয়ার জন্য - এর বেশী আশা করা ঠিক নয়। কেননা কোথাও এটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করে নি।
মডারেশন নিয়ে স্বচ্ছতা আসলে সামহোয়ারইন কে নিজের টিকিয়ে রাখতে এবং উন্নতির জন্য করতে হবে। এতে যদি ভাল শক্তিশালী লেখকেরা স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন, নিরাপদ বোধ করবেন, পাঠকদের ভিড় বাড়বে আরো বেশী, এডের মুল্যও বাড়বে। এতে সামহোয়ারইনেই লাভবান হবে।
লেখক বলেছেন:
সোজা কথার মন্তব্য খুব চমৎকার হয়েছে, আমি ঠিক যা বলতে চেয়েছি, সেটাই আপনি সার সংক্ষেপ হিসাবে তুলে ধরেছেন অল্প কথায়। আমার চেয়েও চমৎকার ভাবে।
কমেন্টে প্লাস দেওয়ার সিস্টেম থাকলে আমি তাই দিতাম।
তবে আপনার কমেন্টের বেষ্ট লাইন “সামহোয়ারইনে একটি বেসরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অতিরিক্ত আয় বলে কিছু নেই ব্যবসায়! যে বিনিয়োগ করেছে তার ভাষায় এটি লাভ।”
ঠিক এই জিনিষটাই আমাদের তরুন ব্লগাররা মিস করে। অবশ্যই তাদের ক্যাপিটালিজম বুঝতে হবে সম্পুর্ন নির্মোহ ভাবে।
আপনাকে আবার ধন্যবাদ।
নীলজোছনা বলেছেন:
ব্লগার রেজিস্ট্রেসন করে, লিখা দেয়, কমেন্ট করে। যেখানে লেখকা রা আর্থিক ভাবে লাভবান হবার কথা , তা তো নয় ই বারং মডারেটররা কন্টেন্ট নিজেদের মনে করে।আডের টাকার শেয়ার তো লেখকদের পাওনা।লেখকরা সময় দিয়ে লিখবে আর আর সেই সময় বিক্রি করবে আরেক পার্টি..?
লেখক বলেছেন: আপনি লিখেছেন---ব্লগার রেজিস্ট্রেসন করে, লিখা দেয়, কমেন্ট করে। যেখানে লেখকা রা আর্থিক ভাবে লাভবান হবার কথা ,.........
নীলজোছনা, আপনাকে এই লাভবান হবার কথা কে কোথায় দিয়েছে?
হাসান বলেছেন:
@নীলজোসনা - আর কোথায় কোথায় লিখে পয়সা পান? আপনি বলতে পারেন কি হিসেবে পয়সা দিলে আপনি খুশি হবেন? আর তিন বছর ধরে যে সামহোয়ারইন আপনাকে ব্লগ ব্যবহারের সুবিধা দিল তখন কি কখনও তাদের সার্ভার রক্ষনাবেক্ষনের জন্য পয়সা কথা, প্রোগ্রামারদের বেতনের কথা আলোচনায় এনেছেন? আপনার সময়ের মূল্য চান, আর তাদের সময়ের কি দিয়েছেন?আমি মডারেশন নিয়ে আলোচনা করতে চাই না, কারন ওই দায়িত্বটা সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ - ক্রিকেট খেলার অ্যাম্পায়ারদের মতো।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ওয়াহিদ ভাই...
রাসেল ( ........) বলেছেন:
যারা এডব্লকার ব্যবহার করছে তাদের এক হাত নেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিলো না। সামহোয়্যার ইন বিজ্ঞাপন নিয়েছে, সেটা প্রথম পাতায় ঝুলিয়ে রাখলেও যা সব পাতায় ঝুলিয়ে রাখলেও তাই।আমার যদি এই বিজ্ঞাপন দেখতে ইচ্ছা না করে আমি দেখবো না, সেটাই স্বাভাবিক হওয়া ভালো। কেউ যদি পোঁদের কাপড় উচিয়ে দেখাতে চায়, সেটা আমি দেখতে চাইলে দেখবো, নাইলে চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাখবো। সেটার জন্য নিশ্চই সামহোয়্যারের বিজ্ঞাপন ভাতার কমতি পড়বে না। যারা বিজ্ঞাপন দেয়, তারা প্রতিটা ব্লগারের নিজস্ব কম্পিউটার সেটআপ দেখে কতজন এডব্লকার ব্যবহার করলো কতজন উন্মুক্ত রাখলো এটা যদি বিবেচনা করে তবে সেটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘনের সামিল হবে। এখানে অবশ্য ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘনকারী অনেকেই উপস্থিত, তাদের সম্মুখেই বলছি- ভদ্র সমাজে মানুষ অনেক কিছুই করে না, কারো খোলা চিঠিও পড়ে না, অনুপ্রবেশের বিষয়টাও নেহায়েত অশালীন,
দাতব্য প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যেভাবে চলতে চায় এই ব্লগ চলুক, কেউ যদি বিজ্ঞাপন দেখতে চায় দেখুক, কেউ দেখতে না চাইলে এবং এই বিষয়ে পরামর্শ দিতে চাইলে, সেটাও মূলত এখানে লিখবার স্বাধীনতা থেকেই আসে, এটা নীতিমালায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, নীতিমালায় অনেক হাস্যকর বিষয়াদি আছে, তবে কেউ এডব্লকার নিয়ে পোষ্ট দিতে পারবে না, এমন নীতিমালা নেই, কেউ পরামর্শ দিতে পারবে না এমন নীতিমালাও নেই।
আমার নিকের বয়েস ৩ বছর হয়েছে, সুতরাং আমি বোধ হয় এখানে ফিফার সামনে বক্তব্য রাখতে পারি , ঠিক না জনাব? আপনের আবার সহবত জ্ঞান শেখানোর আগ্রহ প্রচুর, কে চার মাস, কে ৩ দিন এসব নিয়ে ব্যপক গবেষণা না করে মেজর শাকিলের গোঁফ আইকা দিয়ে না কি সুপার গ্লু দিয়ে আটকানো হয়েছিলো সে হদিস দিতে পারেন আপনি।
আর অন্য একটা পোষ্টে দেখলাম আপনি ওহী নাজেল করেছেন, ১ বছর নিকের বয়েস না হলে কিছু করতে দেওয়া ঠিক না-
এইসব জ্ঞানী ভাঁড়ামি কোথায় শিখলেন জনাব?
হাসান ----------
অনেকে অনেক কিছুই ব্যবহার করে, কেউ র্যাপিড শেয়ার, কেউ মিডিয়া ফায়ার, কেউ ডাউনলোড এক্সিলেটর, কেউ ব্যানড সাইট দেখবার জন্য আলাদা কারিগরি জ্ঞান ব্যবহার করে, কিন্তু প্রতিটা ব্রাউজারেই পপ আপ ব্লকার আছে, সেটাও ব্যবহার করা অনৈতিক মনে হয় তোমার কাছে?
কেউ কেউ অন্য সব আপ্লিকেশন এড করতে চায় না ফ্রি সফটওয়্যারের সাথে যেসব এড অন আসে সেসবও ইনস্টল করতে চায় না অনেকে, এইসব মানুষের ব্যক্তিগত বিবেচনা, এখানে নীতি নির্ধারণী মন্তব্য কিংবা একটা ঘোষণা দিয়ে দেওয়া সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এড ওয়্যার রিমুভাল কিট যারা ব্যবহার করে তারাও গুরুতর অপরাধ করছে তাহলে?
লেখক বলেছেন: দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য রাসেলকে অনেক ধন্যবাদ। রাসেলের যুক্তির সাথে দ্বিমত করার মতো কিছু দেখছি না। নীতিমালায় যদি বিধিনিষেধ না থাকে তবে তো অনেক কিছুই করা যায়।
তবে সমাজে বিধিনিষেধ এর বাইরেও অনেক জিনিষ থাকে যেমন সৌজন্যবোধ, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতা, মানবিকতা ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার বক্তব্য ছিল এগুলো নিয়েই।
পাঁচজন মিলে একত্রে বসবাস করতে গেলে এমন অনেক কিছুই আমরা করি, যা কোন নীতিমালাতেই লেখা থাকে না। যেমন ধরেন চলতে ফিরতে আপনি যদি কাউকে সৌজন্য না দেখান, তবে কিন্ত কেউ আপনার নামে বিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনবে না।
আমি পোষ্টে ঠিক তাই বলেছি—এড ব্লকার এর ব্যবহার কে দ্বায়ীত্বজ্ঞানহীন বলেছি, নির্মম আচরন বলেছি, বেআইনী বলি নাই কিন্ত। কোন বিধিনিষেধ ভঙ্গের অভিযোগও আনি নাই। কারন এটা সৌজন্যবোধের প্রশ্ন, কৃতজ্ঞতার প্রশ্ন, মানবিকতার প্রশ্ন। আমার এই বোধই আমাকে বলে দেবে এড ব্লকার এর ব্যবহার নিয়ে আমি ব্লগে প্রচারনা চালাবো কিনা। যে সামহোয়্যারে আমি আমার বন্ধুদের সাথে ব্লগিং করি, তার বিরুদ্ধে সর্বোত (অল আউট) যুদ্ধ চালাবো কিনা, তার পেটে লাথি মারবো কিনা...
ব্যস এইটুকুই আমি বলেছি... এর বেশি তো কিছু নয়!
রবিনহুড বলেছেন:
সামহয়্যার ফ্রি সেবা দিচ্ছে এই তত্ত্ব যারা বলেন, তাদের সাথে আমি কখনই একমত না। একটু দেখাতে পারবেন ফ্রি সেবা পাচ্ছেন?সামহয়্যার লেখকের সব লেখার স্বত্ব যেখানে নিয়ে নিয়েছে, সেই ক্ষেত্রে তারা তো সবচে বড় একটা সুযোগটা হাতিয়ে নিয়েছে। তাহলে ফ্রি কোথায়? যে লেখার স্বত্ব হস্তান্তর করে লিখতেছেন সেটা কি করে ফ্রি হলো?
একদম বিনা মূল্যে শুধু মাত্র ওয়েব সাইটে লেখা প্রকাশের সুযোগের মাধ্যমে লেখকের লেখার স্বত্ব...... চিন্তাই করা যায় না। এর থেকে কম মূল্যে পৃথিবীতে মনে হয় কোনো সৃজনশীল বিষয় কেনার আর কোনো সস্তা পথ নেই।
একজন লেখকের সবচে দামী জিনিসটার এত কম মূল্যে কেনার পর ক্রেতা আর কি দাবি করাতে পারে?
চিন্তা করুন আজ থেকে শত. শহস্র বছর পরে আপনার এই লেখার এক মাত্র সত্ব সামহয়্যারের, তখন সেটার মূল্য কত শত কোটি টাকা হতে পারে? সেই শত কোটি টকার মালিক কে হবে? আপনি?.... সুতরাং ভবিষ্যত লাভের কথা মাথায় রেখেই এই বিনা মূল্যে লেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান কিভাবে চলবে সেটা তো প্রতিষ্ঠানের চালকদের মাথা ব্যাথা থাকার কথা। এত সস্তায় লেখা কিনে নেবার পর প্রতিষ্ঠান যখন ইচ্ছা মাফিক খগড় চালায় তখন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি কার করুনা থাকবে? কেন থাকবে?
প্রায় বিনামূল্যে পাওয়া ক্রেতা যাখন বিক্রেতাকে পছন্দ না হলেই ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারে তখন সেই বিক্রেতার প্রতি কার দরদ কাজ করবে? সেই ক্রেতাকে নিয়ে ভাবনা কাজ করবে?
সামহয়্যার কি কখনো বলেছে, কখনো লেখককে তার যথাপোযুক্ত সম্মানী দেওয়া হবে? বা হতে পারে? সেই নিশ্চয়তাও নেই।
সুতরাং লেখকরা তো লিখে যাচ্ছে ফি-সাবিলিল্লাহ....
ক্রেতা যখন যা খুশি আচরন বিক্রতার প্রতি করতে পারে তখন বিক্রতা কি ক্রেতাকে নিয়ে ভাববে?
ক্রেতা যখন চিন্তা করে না বিক্রেতা কি খেয়ে বেচে থাকবে, সেই পরিস্তিতে বিক্রতাও কখনো ক্রেতাকে নিয়ে ভাবতে বসবে না।
এটাই চিরন্তন সত্য।
সামহয়্যার তার আয়ের জন্য যা খুশি করতে পারে, সেটা আমর মাথা ব্যাথা না।
লেখক বলেছেন: আপনার সাথে সামহোয়্যারের কি এ্যরেঞ্জমেন্ট আমি জানি না, তবে আমি নিশ্চিত ভাবে জানি, আমি সামহোয়্যারে যা যা লিখি তার কপিরাইট পুরাটাই আমার। আমি এই লিখা ড্রাফট করে ফেলতে পারি, অন্য ব্লগে প্রকাশ করতে পারি, প্রিন্ট করে বিক্রি করতে পারি, এমনকি সামহোয়্যারকে যদি পছন্দ না হয়, তবে খুদাপেজ বলে চলে যাওয়ার সময় আমার লিখা আমি বগলদাবা করে নিয়েও যেতে পারি।
জানা মতে অতীতে ব্লগাররা এমনটাই করেছে।
মনে হচ্ছে আপনার সাথে সামহোয়্যারের চুক্তিটা একটু ভিন্ন ধরনের, এটা নিয়ে আমার ভাল ধারনা নাই, তাই কিছু বলতে পারলাম না।
হাসান বায়েজীদ বলেছেন:
রাসেল ( ........)ভাইরে জাঝা..ফর কমেন্ট টু ফিফা
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ... ভাল থাকবেন
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
বরাবরের মতোই। ভাল লিখছেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্য। ভাল থাকবেন।
শয়তান বলেছেন:
আলোচনা জমছে ।
লেখক বলেছেন: য়ালোচনা য়ার জম্লো কোথায়, য়াপ্নে তো চলেই গেলেন......
মনজুরুল হক বলেছেন:
গুড জব মাই ডিয়ার। টেক আ হার্ড রাইড।
লেখক বলেছেন: হাঃ হাঃ মনজু ভাই নাকি? ম্যালাদিন পরে দেখলাম মনে হয়।
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
জমিদারের জিয়াফত খাওয়ানের বিষয়টা রায়ত বা অধিকারের বিষয় ছিলো কীনা সেইটা নিয়া বিতর্কের অবকাশ আছে...জমিদারের বাড়িতে বাৎসরিক খানাপিনার পরে প্রজারা তারে দোয়া করতো...তার উদারতার প্রশংসা করতো...তাগো অধিকারের চাইতে জমিদারের উদারতা এইখানে মূখ্য ছিলো...এই একদিন জমিদারের বাড়িতে গিয়া মানুষ নিজেরে ক্ষমতাশালী মনে করতো...তার উল্লেখ কইরা এই সময়ে বিজ্ঞাপন বিরোধীগো অসম্মান করনের কোন হেতু আমি খুঁইজা পাই না...বরং তারে অপমানজনকই লাগে। মানুষ যখন প্রতিষ্ঠানের অনৈতিকতারে প্রশ্ন করে তাতে বরং আমার শ্রদ্ধাবোধ জাগে...
বেঙ্গল গ্রুপ যখন তার ফাউন্ডেশনের নামে আর্টিস্ট কিনে তখন তারে প্রশংসা করনের কোন কারন আমি দেখি না। উদ্দেশ্যমূখীনতা একই প্রকাশরে অনেক আলাদা রূপ দিতে পারে...বেঙ্গল গ্রুপের লিটু সাহেব তার চাচা রাজ্জাক সাহেবরে বেইচাই তো বড়লোক হইছে...তথ্যতো মিথ্যা না...আর বেঙ্গল ফাউন্ডেশনতো একটা স্পন্সরড অর্গানাইজেশনই...
পুঁজিতান্ত্রিকতার সুবিধা নেই বইলা তার বিরুদ্ধে কিছু কওন যাইবো না এইরম যুক্তিও বড় সেকেলে ঠেকলো। শ্রমিকেরা যখন বিপ্লব করছে বা করবো তখনতো তারা কারখানার মধ্যেই থাকে, নাকি!? সর্বোপরি পোস্টটা অনেক অর্ডারি মনে হইছে আমার কাছে...সামহোয়্যারে বিজ্ঞাপন নেওনরে জায়েজ করতে তারে এতো মাহাত্ম দেওনের কোন প্রয়োজন আছে বইলা মনে হয় নাই আমার।
সামহোয়্যার ইন যেহেতু বিদ্যমান কাঠামোর বাইরে কোন প্রতিষ্ঠান না তাই তারা বিজ্ঞাপন নিতেই পারে...কিন্তু আরিল সাহেব আড়াই বছর আগে কোন এক সময় বিডিজবসে ফ্ল্যাশ বিজ্ঞাপন নিয়া সমালোচনা করছিলেন সেই কথা যখন মনে পড়ে তখন একটেল'এর আখাম্বা বিজ্ঞাপন আমার কাছে অসহনীয়ই লাগে...তয় প্রতিষ্ঠানের এই চরিত্রই আমার কাছে স্বাভাবিকও প্রতিভাত হয়...এর লেইগাই প্রতিবাদ দেখলে কিঞ্চিত সম্ভাবনা দেখি...এই হুমকী বলবৎ না থাকলে প্রতিষ্ঠান দানবের মতোই সামনে আইসা দাঁড়ায়...ইতিহাসে তার প্রমান ভুড়ি ভুড়ি...আপনেও নিশ্চিত জানেন তার সকল নমূনা...
লেখক বলেছেন: বেঙ্গল গ্রুপের লিটু সাহেবকে নিয়ে আমি কোন কিছু লিখতে বসি নাই। ফলে উনি কার বেইচা টাকা বানাইছেন তা জানার দরকার হলে আপনাকে তখন স্মরন করে নিবো।
আমার প্রাসঙ্গিকতা ছিল- এই ক্যাপিটালিজমের জমানায় আমি কোন পয়সা খরচ না করে জনৈক শিল্পীর গান শুনে আসছি... আমি পারতাম পয়সা খরচ করতে, যাতে সেই শিল্পী তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক পান, আমি কিন্ত তা করি নাই। আমরা অনেকেই তা করি না।
অথচ বেঙ্গল কেন শিল্পীদের কিনে ফেললো, তা নিয়ে বিরাট গোস্বা করি। এটাই ক্যাপিটালিজমের প্রতি আমাদের কৌতুককর প্রতিক্রিয়া।
পয়সা দিয়ে কিছু কিনতে হতো না একমাত্র প্রাকপুঁজিবাদি যুগে, যখন আমি নিশ্চিত হয়ে জিয়াফত খাইতাম, আর যাত্রা দেখতাম। কেউ আমার কাছে পয়সা চাইতো না, চাওয়াটাও ছিল হাস্যকর।
আজকের ব্লগাররা ফাইনান্সিং এর সরল পাঠ বোঝে না, একটা আলপিন কিনতেও এখন পয়সা লাগে এটা তারা বোঝে না এটাই যদি আপনার বক্তব্য হয়ে থাকে—তবে আপনি অসম্মান বোধ করতেই পারেন, অপমানজনক তো লাগবেই।
একমাত্র জমিদারীর জিয়াফতই আমাদের সামহোয়্যার এর সমস্যার সমাধান করতে পারে। এর বাইরে এই পুঁজিতান্ত্রিক জমানায় অন্য কোন পন্থা যদি আপনার জানা থাকে- আমরা তা নিয়ে আলাপ করতেই পারি।
প্রাক পুঁজিবাদী যূগেও মূদ্রা চালু হওনের পর থেইকা পয়সা দিতে হয় মানুষরে...জমিদার তারে জিয়াফত খাওয়াইতো, উৎসব হইতো...এইগুলি আয়োজনের খরচ জমিদার কি আকাশ থেইকা পাইতো!? সাধারণ মানুষের খাজনার টাকাতেই সব হইতো...এইসব মানুষ উপলব্ধ করতে পারছে বইলাই সমাজ পাল্টাইছে...বিদ্রোহ হইছে...
গোস্বার প্রকাশের ধরণ নিয়া আমার উদ্বেগ থাকতে পারে কিন্তু তারে কৌতুককর মনে হওয়াটারে আমার উদ্দেশ্যমূলকই মনে হয়...
লেখক বলেছেন: ১। আমরা গান শোনার সময় টিকিট কাটার চাইতে বিনা পয়সায় হলে ঢুকতে পছন্দ করি, বুঝতে পারছেন?
২। আর্টিস্টকে আমি কোন কন্ট্রিবিউট করলাম না, তাই তো?
৩। এখন বেঙ্গল গ্রুপ যখন তার ফাউন্ডেশনের নামে আর্টিস্ট কিনে নিল এটা আমার পছন্দ হলো না।
এখন আপনি বলেন এই আর্টিস্টএর টাকার প্রয়োজন কিনা! যদি হয় তবে বেঙ্গল গ্রুপের সমালোচনা করা কি আমাকে মানায়?
লেখক বলেছেন: এর পর আসেন দ্বিতীয় প্রসঙ্গঃ জনৈক কোম্পানী তার পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য সামহোয়্যারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলো। সে অনুযায়ী সামহোয়্যার তার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলো।
সামহোয়্যারের অর্থের যোগান কোথা থেকে আসবে এটা নিয়ে আপনার কোন পরিকল্পনা নাই, আপনি এটা নিয়ে মাথাও ঘামাতে চান না।
অথচ টিকে থাকার জন্য সামহোয়্যারের অর্থের প্রয়োজন, এখন আপনি বলেন আপনার কোন অধিকার আছে সামহোয়্যারের সমালোচনা করার, তার এ্যড ব্লক করার?
সব মিলিয়ে কোন কোম্পানী যদি সামহোয়্যারের সাথে বিজ্ঞাপন প্রকাশের চুক্তি করে, তবে এখানে পুঁজির নোংরামী কোনটা আমাকে বুঝায়ে বলবেন?
শয়তান বলেছেন:
এই পোস্টে ফাহমিদুল হক কে দরকার ছিল ।
লেখক বলেছেন: য়ারে য়াপনি য়্যাখোনো আছেন?
জ্বী, ঠিক বলেছেন, উনি থাকলে একটা চমৎকার আলোচনা হতেই পারতো। আপনাকে ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন ব্লগে বিজ্ঞাপন নেওনের প্রশ্নে আমি বিরোধীতা করি নাই, কিন্তু আর্টিস্টের টাকা পাওনের প্রশ্নে বেঙ্গল গ্রুপের কেনাকিনির মনোভাব নিয়া যদি প্রশ্ন না থাকে সেইটারে আমার সন্দেহজনক ঠেকে।
২.
এই দেশে অনেক আর্টিস্টই পেশাদারী হইয়া বাঁইচা আছে...অনেকে খারাপ আছে। এখন আর্টিস্টরে বেঙ্গল গ্রুপ কন্ট্রিবিউট করতাছে বইলা তার উদ্দেশ্য নিয়া কোন কিছু কওন যাইবো না!? তার মানে কি, পুলিশ কনস্টেবলরা যেহেতু সর্বনিম্ন বেতন পায় তাই তাগো ঘুষ খাওন জায়েজ!? বেক্সিমকো ব্যাংকের টাকায় ব্যবসা করে...সেই ব্যবসায় যেহেতু হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয় তাই তার ফাইন্যান্স স্ট্র্যাটেজি লইয়া কোন সমালোচনা করন যাইবো না!?
৩.
সামহোয়্যার ইন কখনো ব্লগারগো কাছে বিকল্প অর্থ যোগানের পদ্ধতি বিষয়ে জানতে চাইছে?
পুঁজির নোংরামি আসে ক্ষমতার প্রকাশে...আমি জানি না আপনে কতো আগের থেইকা ব্লগান, কিন্তু সামহোয়্যার ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষ একসময় কওনের চেষ্টা করতো বিনা পয়সার ব্লগানের সুযোগ দিতাছে বইলা তাগো সমালোচনা করনের অধিকার নাই কারো...আরিল একসময় বিডিজবস নামক সাইটের অসংখ্য ফ্ল্যাশে করা বিজ্ঞাপন আছে বইলা, পেইজ ভারী বইলা বহুত কথা শুনাইছিলো আমার এক পরিচিত জনরে...কিন্তু আজকে তারা যখন একটেলের ফ্ল্যাশে করা বিজ্ঞাপনটা পাতায় পাতায় ঝুলায় তখন তারা সেইটা নিয়া কোন সমালোচনা শুনতে রাজী না।
৪.
আর তাই আমি মনে করি কেউ যদি তার ইন্টারনেট কানেকশন স্লো হওনের হাত থেইকা বাঁচতে এ্যাড ব্লক করে তারে দুষনের কোন সুযোগ নাই। সামহোয়্যার ইন যেরম এ্যাড ঝুলাইতে পারে, একজন ব্লগার তার সুবিধার্থে এ্যাড ব্লকও কইরা রাখতে পারে। তাতে আমি কোন সমস্যা দেখি না...পুঁজিতান্ত্রিকতায় ক্ষমতার দাপুটে প্রকাশ সর্বক্ষেত্রেই আসবো এইটাই তো স্বাভাবিক...
লেখক বলেছেন: বেঙ্গলের প্রসঙ্গটা আমি এখানে এনেছি উদাহরন হিসাবে, বেঙ্গলের কাজ কর্মের আলোচনার উদ্দেশ্যে নয়। বেঙ্গল এখানে একটা প্রতীক যারা শিল্প সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করছে...
আগের আমলে শিল্পীদের এই পৃষ্ঠপোষকতা করতো জমিদার বা রাজা বাদশারা। এতে করে শিল্পীর পক্ষে করনীয় কর্তব্য ছিল তার পৃষ্ঠপোষকদের খুশি রাখা। এখন রাজা বাদশারা নাই, তার জায়গা দখল করেছে বেঙ্গল গ্রুপ। কিন্ত এটা কখনই শিল্প সংস্কৃতি বিকাশে সহায়ক নয়। আমরা চাই পৃষ্ঠপোষক বেঙ্গল গ্রুপের আধিপত্য খর্ব করতে।
এই কাজটা কিভাবে হতে পারে? এর একটা ভাল বিকল্প হতে পারে কোন প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা, যারা নিয়মিত দর্শনীর বিনিময়ে গান শোনার ব্যবস্থা করে দেবে। এই প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল নিজেও হতে পারে, যদি সে বিজ্ঞাপন নিয়ে এবং দর্শনীর বিনিময়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্পনসর যোগাড় করলে টিকিটের দাম কমে আসবে, শ্রোতা কম পয়সায় অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবে। তখন কিন্ত বেঙ্গল একটা জবাবদিহিতার জায়গায় আসবে। একটা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যে কিনা বিজ্ঞাপন অথবা স্পনসর এর নির্ভর করে টিকে থাকে ভোক্তা হিসাবে আমার কাছে সে বেশি গ্রহন যোগ্য। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তার গ্রাহকদের কাছে অনেক বেশী দায়বদ্ধ থাকে। আমি কি গান শুনতে চাই এটা এখন আমি বেঙ্গলকে ডিক্টেট করতে পারি না, আজ যদি সে ফাতেমা-তুজ-জোহরার বদলে কোন তৃতীয় শ্রেনীর শিল্পীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে, আমার তেমন কোন করনীয় থাকবে না।
ফলে কোন ধরনের ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতার বদলে বেঙ্গল যদি একটা বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক স্পনসরের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান হয়, তবে কিন্ত সে ভোক্তাদের পছন্দ অপছন্দের গুরুত্ব দেবে, শিল্পীরা তাদের সম্মানীর জন্য দর কষাকষি করতে পারবে, সুস্থ্য একটা প্রতি্যোগিতা গড়ে উঠবে। এটা পদ্ধতি হিসাবে অনেক ভাল। আপনার যে অভি্যোগ বেঙ্গলের আর্টিষ্ট কেনা নিয়ে, সেটাও কিন্ত এ সিস্টেমের মাধ্যমে বন্ধ করা যাবে। ফলে আমার বক্তব্য যে কোন ইস্যুতেই বেঙ্গলএর সমালোচনা করা যাবে, কিন্তু সে যদি বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক স্পনসরের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান হিসাবে দাড়াতে চায়, সেটার বিরোধিতা করা ঠিক হবে না।
বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক স্পনসরের ওপর নির্ভরশীল কোন প্রতিষ্ঠান যদি নিয়মিত দর্শনীর বিনিময়ে গান শোনার ব্যবস্থা করে দেয়, এতে হয়তো স্পনসর করতে এগিয়ে আসবে এ্যকটেল, গ্রামীন বা স্কয়ার। এতে করে কি ঐ প্রতিষ্ঠান এ্যকটেল, গ্রামীন বা স্কয়ার এর দখলে চলে যাবে বা তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে? এ ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য পরিস্কার, আমার কাছে লিটু সাহেবের বেঙ্গল গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতার তুলনায় এ্যকটেল, গ্রামীন বা স্কয়ার অবশ্যই বেটার চয়েজ, বাণিজ্যিক কোম্পানী যখন স্পনসর হয়ে আসে আমি তার মোটিভ জানি, কিন্ত বেঙ্গল যখন পৃষ্ঠপোষকতা করতে আসে, তার হিডেন এজেন্ডা আমার জানা না থাকার কারনে এটা অবশ্যই আমার জন্য অস্বস্তিকর। তা ছাড়া স্পনসর কোম্পানীগুলি যেহেতু পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, ফলে তাদের কারো পক্ষেই একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
ঠিক এই কারনে আমি সেই সামহোয়্যার দেখতে চাই, যা বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করে টিকে থাকে। এতে করে ব্যক্তি আরিলের আধিপত্য অনেক কমে আসবে এবং কর্তৃপক্ষ হিসাবে সে বেটার মডারেশন পলিশি গ্রহন করতে বাধ্য হবে। কারন ব্লগের হিট নির্ভর করবে বেশী সংখ্যক ব্লগারের উপস্থিতির উপর, যার উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনদাতারা টাকা ঢালবে। ব্লগারদের অসন্তষ্টি এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি আরিলের কখনই কাম্য হতে পারে না। বিজ্ঞাপন নির্ভর সামহোয়্যার যদি সফল হয়, তবে বাজারে আমরা কিন্ত এ ধরনের আরও উদ্যোগ দেখতে পাবো, ব্লগার হিসাবে আমাদের অপশন আরও বাড়বে।
ফলে আমাদের উচিত হবে সামহোয়্যারকে বেশী বেশী করে বিজ্ঞাপন নির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেখতে চাওয়া, যারা এটা করতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন, তাদের নিরুৎসাহিত করা, আলোচ্য পোষ্টের উদ্দেশ্য ছিল সেটাই......
এর পরেও জামাল ভাস্করকে নিশ্চিত করতে চাই, পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোন কিছু নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না এমন কোন ইমডেননিটিতে আমি বিশ্বাস করি না । কোন কিছুই সমালোচনার উর্ধ্বে নয়, আমি যে ব্যবস্থার কথা বললাম, তার কি কোন সমালোচনা নাই, নিশ্চয়ই আছে, তবে আপাতঃ সময়ের জন্য- পুঁজিবাদের বিকাশের এ পর্যায়ে এটা একটা ভাল পদ্ধতি, আমার বক্তব্য এতটুকুই, মোটেই এ ব্যবস্থা চুড়ান্ত কোন ব্যবস্থা নয়। আরিলের পকেট থেকে টাকা আসার চাইতে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে টিকে থাকা সামহোয়্যার তার ব্লগারদের কাছে আরও বেশী জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করবে।
আপাততঃ এই টুকুই, জামাল ভাস্করের বক্তব্য পাওয়া গেলে আরও কথা হবে।
আপনের লগে আমার মতভেদ এই জায়গাতেই হইতেছে...পুঁজিবাদের কতোটা বিকাশ হইতেছে, কতোটা বড় তার আকাশ এইসব ভাবতে আমার তর সইতেছে না। আমি দেখতে পাই পুঁজি তার প্রয়োজনে কেমনে মাথা কিনে। তার যারে তারকা বানানের আগ্রহ তারেই পৃষ্ঠপোষণা চলে দিনমান। সম্ভাবনারে বেইচা তার বাজারের আওতা বাড়ে...
আমি দেখি বেঙ্গল কিম্বা অবেঙ্গল উভয়েই আমাগো শিল্পরে পণ্য বানাইয়া আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাড়ায়...
একটা কথা আমি সরাসরিই কই বিদ্যমান কাঠামোতে বিজ্ঞাপনে আমার আপত্তি নাই...যেমন নাই বিজ্ঞাপনে ভক্তি। তয় আমি কোনমতেই বিশ্বাস করি না একটেলের বিজ্ঞাপন আরিলের আধিপত্য কমাইয়া একটা ইক্যুইলিব্রিয়াম হাজির করবো। আমি বরং আরিলের কথিত আধিপত্যরে শ্রদ্ধা করি...মুখাপেক্ষি আরিলরে দেখলে আমার করুনা হয়...
ধরেন এই বিজ্ঞাপনের ব্যাপারেই আরিল কিম্বা নোটিশ বোর্ড জানাইছিলো তারা সিম্পল একটা বিজ্ঞাপন ব্যবহার করবো, কিন্তু কর্পোরেটের হাত এমনই লম্বা, যে তার বেষ্টনী ছুটাইতে না পাইরা ফ্ল্যাশের চরকী সারাক্ষণই ঘুরে আমার পিসিতে...
বিজ্ঞাপন দাতারা কতো প্রনোদনায় খুশি হয়...কেমনে তাগো পৃষ্ঠপোষণা পাওন যায় এইসব প্রক্রিয়ারে আমার চিরকাল রহস্যময় লাগে...বিজ্ঞাপনি সংস্থায় দীর্ঘসময় চাকুরী করনের সুবাদে বরং মতাদর্শিক মতবাদে আস্থাশীল হইছি অধিকতর...
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
স্থান কাল আর পাত্রের দিকে তাকাইয়া বোধ হয় আপনে খুব দরকারি দৃষ্টিভংগী থেকে লিখছেন।তবে আপনে যখন বলেন-
উটপাখির মতো চোখ মুখ আমরা যতই ঢাকি না কেন, এটাই তো সত্য যে আমরা পুঁজিবাদি একটা অর্থব্যবস্থার অধীনে বসবাস করছি।
তখন মনে হয় লেখা যদি আরেকটু বিশদ হইতো তবে আপনি এরকম লিখতেন না। কারন, আমার মনে হয় আমার সমাজ আর অর্থনীতিকে ঠিক বুর্জোয়া আর পূজিবাদী বলা যায়না, এখনো। পূর্ন বিকশিত পূজি'র অর্থে । তয় কথা হইলো গিয়া এইখানে নিশ্চয় কেউ মার্কসবাদ, কিংবা বামপন্থা অথবা পূজিবাদ চর্চা করতে আসে না। লেখা বিশদ হইলে হয়তো আপনে এইভাবে মোটাদাগে বলতেন না।
যাই হোক। অবিকশিত পূজিবাদী অর্থনীতির মধ্যে এক পেশাজীবী এবং সংস্কৃতিবান মানুষের জায়গা থেকে আপনি কথা বলেন। এই অর্থনীতির বিরুদ্ধে কথকের কোনো বৈপ্লবিক অবস্থান আছে কি না, সেইটা পরিস্কার না। কিন্তু আপনি সেবা নিতে চান, নিতাছেন। আমি, আমরাও নিতাছি। সুতরাং আপনি বলেন- প্রতিষ্ঠানের সেবা যদি নিতে চাই, তবে এই পুঁজিবাদি সম্পর্কের যুগে তার আর্থিক সমস্যা সমাধানের অধিকারটাও আমাদের মানতে হবে। তখন একমত না হয়া পারি না। এইটাই হইলো মূল কথা। এই ব্যবস্তার মধ্যে যদি আমি সুবিধা নিতে চাই তবে ব্যবস্থায় অনিবার্য আর্থিক দেয়া নেয়ার কানুনাদি মানতেই হইবো। এমনকি যদি আমি মার্কসবাদী কিংবা প্রচলিত বামপন্থী বিপ্লবীও হই। এইখানে তো বিপ্লবের তবগীলগ করেত হইলেও এইগুলান মাইনা করতে হইবো।
কেন পূজিবাদ এইরকম? কেন সে এইরকম আচরন করে? এইসব প্রশ্ন তো আর যেই তুলুক বিপ্লবী তোলে না। তাই না! আপনে এসব প্রশ্ন তোলেন নাই। আপনে সামন্তযুগের চিন্তার থেকেও সামনে আইসা লিখছেন। ভালো লাগছে।
আপনে বরং একটু খুলে খুলে দেখছেন চলমান ব্যবস্থার ভেতরবাড়ী। যেইটারে 'পর্যালোচনা' বলা যায়।
তবে আর একটু কথা আছে। বিরুদ্ধ ব্যবস্থার পর্যালোচনা ছাড়া বিপ্লবী আরে বেশি যা করে সেইটা হইলো ওইটারে নাকচ কইরা দেয়া।
আপনে কি এই ব্যবস্থারে নাকচ করেন কি না সেইটা কিন্তু বলেন নাই। সেই জায়গা থেকে লেখেনও নাই। আপনে যদি সেইটা করতেন তাইলে আরো বেশি খুশি হইতাম।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আরজুকে বিস্তারিত মন্তব্য করার জন্য। প্রথমতঃ আমাদের অর্থব্যবস্থা নিঃসন্দেহে পুঁজিবাদ, এটা সামন্তীয় নয়, সমাজতান্ত্রিক তো নয়ই। তাই এটাকে আমি পুঁজিবাদ হিসাবেই উল্লেখ করেছি, এখন এই পুঁজিবাদএর বিকাশ কি মাত্রায় তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে আমার লক্ষ্য সেদিকে ছিল না।
তবে আপনি প্রশ্ন করেছেন, এই ব্যবস্থাকে আমি নাকচ করি কিনা? সরাসরি বললে আমি নাকচ করি না। নাকচ করা সম্ভবও নয়। একজন বিপ্লবীও তার সামনে যতক্ষন একটা পরিস্কার বিকল্প না দেখতে পায়, পালটা কোন ব্যবস্থা নিয়ে নিশ্চিত না হয়, তার আগে পর্যন্ত বিরাজমান সব কিছুকেই সে নাকচ করে না। সে বরং চেষ্টা করে, প্রচলিত ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে, তার চুড়ান্ত বিকাশ ঘটাতে এবং একই সাথে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে তার অসংগতিগুলো তুলে ধরতে। আমি নিজেও তাই করি। এই প্রেক্ষিতে আমার অবস্থান শুধু পর্যালোচনামুলকই হতে পারে, নিরন্তর আমি খুটিয়ে যাবতীয় সম্ভাবনা ও অসংগতি গুলোকে পর্যালোচনা করে যাই, যতক্ষন না আমার চারপাশের পরিমানগত পরিবর্তনের মাঝে কোন গুনগত পরিবর্তন না দেখতে পাই, আমার পরবর্তী অবস্থানকে দার্শনিক ভাবে পরিস্কার করতে না পারি।
বর্তমানে প্রচলিত পুঁজিবাদী ব্যবস্থা আমার দাবী মেটাতে পারে না, আমার কাছে তা চুড়ান্ত বিচারে গ্রহন যোগ্যও নয়। কিন্ত এই ব্যবস্থার বিকল্প কি হতে পারে তার কোন কিছুও স্পষ্ট ভাবে আমি দেখি না। আপনি যদি দেখেন, আমার সাথে শেয়ার করতে পারেন, তবে অবশ্যই যদি সেটা বাংলাদেশের কোন বামপন্থা যা ৩০-৪০ দশকের রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করে, তবে তা নিয়ে আমাকে অনেকবার ভাবনা চিন্তা করতে হবে।
ভাল থাকবেন আরজু ভাই, সামনে আরও কথা হবে।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
তবে বিজ্ঞাপন কিংবা স্পন্সর গ্রহন প্রশ্নে আপনার মতামত প্রকাশের ধরন ভালো লাগে নাই।
লেখক বলেছেন: ্ভাল বুঝি নাই, কারন গুলো আর একটু বিস্তারিত জানালে ভাল হইতো।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
বিজ্ঞাপন কিংবা স্পন্সর প্রশ্নে আমার বিস্তারিত অবস্থান ছিলো যেই অবস্থানকে আহত করে আপনার 'এই বার দেখবেন এক শ্রেণীর শ্রোতাদের মহা আপত্তি, সেই ব্যানারের রঙ নাকি তাদের সঙ্গীত উপভোগে ব্যঘাত ঘটাচ্ছে' টাইপ কথাবার্তা। তবে সে প্রসঙ্গ ভিন্ন। পরে কথা বলা যাবে। শুধু এইটুকু বলি- ওইটা হইলো মাত্রা জ্ঞানের প্রশ্ন। স্পন্সর প্রশ্নে আপনার জায়গা থেকে আমার আপত্তি নাই কিন্তু বাংলালিংকের ডোরাকাটা দাগের জালে যখন নজরুল গৌন হন ব্যানারে, কিংবা এসএম সুলতান যদি গ্রামীনের নীল চাকতির আড়ালে ঝাপসা হইয়া যান তখন তো এক শ্রেণীর শ্রোতাদের একজন আমি হইয়া যাই। এতে কি আপনে আমারে দোষ দিতে পারেন? পারলে দ্যান। না কমুনা।
লেখক বলেছেন: জ্বী না আরজু ভাই, আপনাকে আমি দোষ দিতে যাব না। আপনি যদি রুচির পক্ষে দাঁড়ান, আমিও আছি আপনার সাথে।
শুধু প্রশ্ন তুলতে চাই, মাত্রা জ্ঞান নিশ্চিত করার কোন তরিকা আপনার জানা আছে কিনা? আমার নিজেরও ধারনা নাই, এই সমস্যা দেশ কাল পাত্র ভেদে যে কোন জমানায় ঘটতে পারে বলে মালুম হয়। এমন কি কমুনিষ্ট জমানাতেও এ সমস্যা দেখা যাইতে পারে। ধরেন দেশটা যদি সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ হইতো, তাহলে এই নজরুল জয়ন্তীর উদযাপনের টাকা আসতো সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয় বা স্থানীয় কমিশার জাতীয় সংস্থার ফান্ড থেকে। তখনও কিন্ত নজরুলএর পোট্রেট আর কাস্তে হাতুড়ির মধ্যে কে মুখ্য আর কে গৌন আর কে কার আড়ালে ঝাপসা হইয়া গেল জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে পুঁজিবাদী সমাজে এই মাত্রা জ্ঞান বা রুচির বিষয়টা যেহেতু এক ধরনের গিভ এন্ড টেক দ্বারা নিয়ন্ত্রন করা হয় আর একই সাথে তা ভোক্তার গ্রহনযোগ্যতার উপর নির্ভর করে, ফলে এই ব্যবস্থাটা মোটামুটি নিরাপদ। পাবলিক যদি কিছু গ্রহন না করে, তবে সেই বিজ্ঞাপন বেশিদিন চলতে পারে না। অন্ততঃ এ্যাকটেল এর লোগো এবং বিজ্ঞাপন নিয়ে আমাদের আরিল আপত্তি তুলতেই পারে, যে তোমার কালার পাবলিক পছন্দ করছে না, এর পর সে এ্যকটেলকে বাদ দিয়ে অন্য কারও সাথে চুক্তি করতে পারে।
অন্ততঃ চাইলে আরিলের তা করতে পারার অপশন আছে।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
পৃষ্ঠপোষণ করার দায়-অধিকার-মাত্রাজ্ঞান নিয়া আমার প্রায় এক বছর বয়সী পোস্টটা দেইখা আসতে পারেন।
লেখক বলেছেন: হুম, নতুন করে আবার পড়লাম...
এফ আই দীপু বলেছেন:
নীলজোছনা বলেছেন: ব্লগার রেজিস্ট্রেসন করে, লিখা দেয়, কমেন্ট করে। যেখানে লেখকা রা আর্থিক ভাবে লাভবান হবার কথা , তা তো নয় ই বারং মডারেটররা কন্টেন্ট নিজেদের মনে করে।
আডের টাকার শেয়ার তো লেখকদের পাওনা।লেখকরা সময় দিয়ে লিখবে আর আর সেই সময় বিক্রি করবে আরেক পার্টি..?
কর্তৃপক্ষ @ আয় ব্যায়ের হিসাব কি লেখক কিংবা পাঠকরা জানতে পারবে কোনদিন?
বিডি আইডল বলেছেন:
হাসান ভাইয়ের পোষ্টে নীচের কমেন্টটি করেছিলাম:সাইট অথিরিটির অ্যাড দেবার অধিকার আছে..এই মাপের একটা সাইট চালাতে কত খরচ হতে পারে ১% ব্লগারেরও কোন ধারণা নাই..
আবার কোন ইউজার যদি আ্যড দেখতে না চায় সেটাও তার অধিকারের মধ্যে পড়ে....
অন্য সাইটের সাথে সামু কমুউনিটি ব্লগ হওয়ায় বিজ্ঞাপণ এবং ব্লগারদের পোষ্টের মধ্যে ইন্টারআকশ্যান হবার সম্ভাবনা থেকে যায়...এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনেক পরিনত আচরণ করতে হবে...
আ্যডসেন্স না আশা পর্যন্ত টাকার বিষয়টি ব্লগের জণ্য ভালো হবে না বলেই মনে করি
জানজাবিদ বলেছেন:
"প্রত্যেকেরই হয় তো ধারনা কোন এক গায়েবি যাদুবলে কর্তৃপক্ষ এ সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন"----খাঁটি কথা। ব্লগের সাফল্য কামনা করি।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















দূর থেকে পাখির চোখে দেখে আমি যেটা জেনেছি, সেটা হচ্ছে বছরের পর বছর সামহোয়্যার চলছে পুরোপুরি অলাভজনকভাবে। এই ব্লগ থেকে তাদের একপয়সা আয় নেই। তারপরও তারা বেতন দিয়ে মডারেটর রেখেছে। এই সাইট চালাতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে তাদের। তবু কর্তৃপক্ষের মুখে কখনো এ নিয়ে উচ্চবাচ্য শুনিনি। বরং এমনও সময় গেছে, আরিল টিভিতে ব্লগ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন- এ নিয়ে কটুক্তি করেছেন অনেকেই। এই সেদিনও আরিলকে উদ্দেশ্য করে এক ব্লগার একটি চরম রেসিস্ট মন্তব্য করেছেন। অথচ তাকে ব্যান করা হয়নি।
আমি এখানে লিখছি- এর মানে এই নয় যে, আমি ব্লগ কিনে নিয়েছি। ব্যবহারবান্ধব সাইট, ভালো পরিবেশ, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আছে বলে, উদারভাবে মতপ্রকাশ করতে পারি বলেই আমি এখানে আসি। অথচ কী নির্মম, সামহোয়্যার সাইটে একটি অ্যাড লাগিয়েছে বলে কতোজনকে কতোভাবে কটুক্তি করতে দেখলাম, কতোজন অ্যাড ব্লকার ব্যবহারের নির্দেশনা নিয়ে হাজির হলেন! আমরা বাঙালিরা নিজেরা সৃষ্টিশীল কিছু করতে পারি না, কিন্তু অন্য কেউ করতে গেলে তার দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে যাই। জানেনই তো, নরকে শুধুমাত্র বাঙালিদের প্রকোষ্ঠেই কোনো প্রহরা থাকে না। নরকের দেয়াল টপকে কেউ পালাতে চাইলে অন্যরা তাকে টেনে নামিয়ে আনে!