somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: আম্মারে মাইনাচ না, প্লাচ :(( X( :) :D

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একলা ফেলাটে আছিলাম, ভালই আছিলাম। সেই দিন আম্মা আমারে কানে ধইরা আইনা ঘরে বন্দী কর্ছে :(( । আর কইছে, উড়নচন্ডী স্বভাব বাদ দাও।

এমনিতেই আম্মার স্বৈরাচারী কর্মকান্ডে মিজাজ প্রচন্ড বিলা হয়া আছে। X( কি কইতে কি কইয়া ফালাই- তাই আর কিছু কইলাম না।মুখে কুলুপ আঁটলাম।

রাইতে খাওয়া দাওয়া শেষে আব্বার লগে নিউজ দেখতে বইছি এমন সময় আম্মা আয়া কইলো, তোমার জন্য মেয়ে দেখলাম। মেয়ে লক্ষী আছে।

আমিতো আসমান থিকা পড়লাম। কয় কি! এ কুন নতুন আজাব শুরু হইল। /:) ভাইয়ার বিয়া হইছে একবছরও হয় নাই আম্মা এখন আমারে সাইজ করনের লিগা পিছে লাগছে।শুধু কইলাম, আমি কিছু জানি না আর তোমরা মেয়ে দেইখা বেড়াইতেছ।

আম্মা কইল, জানানোর কি আছে? আর তোমার আব্বা আর আমার দুইজনেরই মেয়ে পছন্দ হৈছে।

কেমতে জানি মুখ দিয়া বাইর হয়া গেল, বিয়া ত তুমরা করবা না, বিয়া ত করুম আমি। বইলাই বুঝলাম রং ওয়েতে গেছিগা।আম্মার চেহারা দেইখা মনে হইল আমারে এক্ষনি চিবায়া খায়া ফালাইব।X( তাড়াতাড়ি কথা শুধরায়া কইলাম, ইয়ে..... মানে..... আমি কিছু জানলাম না দেখলাম না.....

আম্মা ঐখানেই আমারে ষ্টপ কইরা কইল,এখন তো জানছ আর দেখার ব্যবস্হাও হচ্ছে।শুক্রবার মেয়ে 'হাইফাই' মার্কেটে আসবে।

চিৎকুর দিয়া কইলাম, আম্মা তুমার পায়ে পড়ি, আমি কারু লগে দেখা করতে যেতে পারব না।

আম্মা কইল, মেয়ে আসতে পারলে তোমার সমস্যা কোথায়? মেয়ে আসবে আর তুমিও যাবা।

কিছু না বুঝেই কইলাম, একলা আসব না দোকলা আসব? :P বইলাই বুঝলাম আজকা আমার খবর আছে, আম্মায় আমারে পাইছে!


কিন্তু আম্মায় আমারে অবাক কইরা একটা হাসি দিয়া কইল,মেয়ের সাথে মেয়ের বোন আর দুলাভাই আসবে।

কইলাম, যদি মেয়ে আমারে পছন্দ না করে?

- করবে। তোর ছবি দেখেছে।

অবাক হইয়া কইলাম,আমার ছবি দ্যাখে মেয়ে পছন্দ কর্ছে ?(কানা নি কুন )

- এটা কেমন কথা! না করার কি আছে ?

- আচ্ছা, যদি আমার পছন্দ না হয় ?

- পছন্দ হবে।

- ধর, যদি না হয়।

- মেয়ে পছন্দ হলেও বিয়ে হবে না হলেও হবে।

তারমানে বিচার মান কিন্তু তাল গাছ তুমার। /:) ( কথাটা মনে মনেই বললাম )

ব্লগ হইলে আম্মারে কইষা মাইনাচ দিতাম। অবশ্য চাইলেও পারতাম কিনা জানি না, এমন পরিস্হিতিতে আম্মা শিউর আমারে ব্লক কইরা রাখত।

ব্যাপক মন খারাপ নিয়া নিজের ঘরের দিকে যাচ্ছি আম্মা পিছন থিকা কইল,তোমার টেবিলের উপর মেয়ের ছবি আছে।

দুপুরেই ইনভিলাপটা দেখছি,তখন বুঝি নাই। ঘরে গিয়া ছবি গুলান দেখলাম- মেয়ে দেখতে খারাপ না।


কইতে না কইতে শুক্রবার আয়া পড়ল।সেভ গোসল দিয়া ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে বসতে না বসতেই শুরু হয়ে গেল আম্মার উপদেশ বর্ষণ- মেয়ের সাথে দেখা হলে কি করব কি করব না এইসব।

বললেন, মেয়ের সাথে উল্টাপাল্টা কিছু বলবে না, তোমার ত আবার মুখের ইষ্টিশন নাই।

কইলাম, আচ্ছা।

- আবার একদম চুপ করেও থেকো না।দু' চারটা কথা বোলো।

মুখ ফস্‌কাইয়া কয়া ফেললাম, কি কমু ?

কইয়াই বুঝলাম কত্তবড় ভুল কর্ছি। হালার আমার মুখে সিলাই দেওন দরকার। :|

আমার কথা শুইনা আম্মা এক্কেরে আতেঁ ঘা দিয়া কইল, তা জানবা ক্যামনে। হৈছ ত বাপের মত- ম্যালচোরা। কি বলবা সেটাও আমারে শিখিয়ে দিতে হবে ?

আব্বা পাশ থিকা কইল, আমি কি কর্লাম ? আমারে টানতেছো ক্যান। /:)বুঝলাম ঘা খানিকটা আব্বার দিলে গিয়াও লাগছে।



নির্ধারিত সময়েই মেয়ের সাথে 'হাইফাই' মার্কেটে দেখা হলো। মেয়ে দেইখা আমি তো পুরা টাশ্‌কি খাইলাম। মেয়ে তো পরীর লাহান সোন্দর, ছবির সাথে কুন মিল নাই।আমারতো রীতিমতো ঠ্যাং কাঁপাকাঁপি শুরু হইয়া গেছেগা।

পাশ থিকা আন্কেল ( ইনিই বিয়ার মাতবর মানে উকিল,আমার সাথে আসছেন ) কনুইয়ের গুঁতা দিয়া ফিস ফিস কইরা কইলো, পাশে মেয়ের বড় বোন আর দুলাভাই।সালাম দাও।সালাম দিয়া পরিচয় হৈছে কি হয় নাই মার্কেটিং এর নাম দিয়া বেবাকতে উধাও। আন্কেলও মোবাইল রির্চার্যের নাম দিয়া কই কাইটা পড়ল।

পরী আর আমি একলা! বুঝেন অবস্হা। কিছু একটা কওনের দরকার...... কুনুমতে জিগাইলাম, কেমন আছেন ?

মেয়ে কইল, জ্বী ভালো। আপনি ?

- ভালো। এরপর কি কমু কিছুই মাথায় আয়ে না। আম্মু কইছিল উল্টাপাল্টা কিছু না কইতে কিন্তু এই পরীর লাহান মাইয়ার সামনে বেবাক ভুইলা গেলামগা। কইলাম, এই সম্বন্ধে আপনি রাজি ত নাকি পরিবারের সিদ্ধান্তই আপনার সিদ্ধান্ত।

মেয়ে বড় বড় চোখ তুলে অবাক হইয়া কইল, পরিবারের সিদ্ধান্ত হতে যাবে কেন আমিই রাজি হয়েছি।

আমি আফসুসের সাথে কইলাম, আপনি শুধু শুধু কপালে দুঃখ টেনে আনছেন।

- বিয়ে করা মানে কি কপালে দুঃখ টেনে আনা ?

- না ....মানে......বলতে চাইছি আপনি চাইলেই আমার চেয়ে অনেক সুন্দর এবং ভালো ছেলে পেতেন।

- কে বলল আপনি ছেলে খারাপ ?

সত্যি ত !! আইজ পর্যন্ত কেউ তো কয় নাই আমি পোলা খারাপ। চেহারা বদখত হইতে পারে লেকিন পোলা হিসেবে আমি মনে হয় খুব একটা খারাপ না। বন্ধু-বান্ধবের লগে মাঝে মধ্যে একটু আকটু সিগারেটে টান দেই , এই যা !

মেয়ে যেন আমারে আশ্বস্ত করল, খারাপ লোক কখনো বলে না যে সে খারাপ।

মাইয়ার কাছ থিকা এত তাড়াতাড়ি চারিত্রিক সার্টিফিকেট পাইয়া যামু ভাবি নাই। :) আহ কি মিষ্টি কন্ঠ।

মেয়ে কইল, দেখুন বিয়ে ত ফ্যাশন শো না যে এখানে সৌন্দর্যটাই মুখ্য। আচ্ছা আপনি বিয়ে বলতে কি বোঝেন বলেনতো ?

এই ত ফালাইল মুশকিলে। জেনারেল নলেজ আমার বরাবরই কম। কুনুমতে মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে কইলাম, বিয়ে মানে......দু'জনের প্রতি দু'জনের আস্হা-বিশ্বাস, সমঝোতা, স্যাকরিফাইজিং মনোভাব আর দু'জনেরই পারর্টিসিপ্যান্ট থাকতে হবে।( বিছানা :P মানে ভালোবাসার কথা আর কইলাম না, লজ্জা করল ;) )

আমার কথা শুনে মেয়ে একটা হাসি দিয়া কইল, এই তো ঠিক ধরেছেন।

সেই মোনালিসা হাসি দেইখা আমারতো কইলজার ভিতর চিন চিন করন শুরু করল যারে কয় দিল মে চাক্কু ।

তারপর আমারে তাজ্জব কইরা দিয়া মিহি সুরে কইল, আর আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে। খুব হয়েছে।

মেয়ের কথা শুইনা কি যে আনন্দ হইল কি কমু !! :D :D ইচ্ছা করতে ছিল........( থাক সেই কথা পরে কমুনে :P )


যেই আমি এই ক'দিন আম্মার উপ্রে ফেডআপ আছিলাম সেই আমি মনে মনে আম্মারে উদ্দেশ্য কইরা কইলাম, আম্মা তুমারে মাইনাচ না প্লাচ। ইয়া বড় প্লাচ..........:D :D :D








সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২০
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×