somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: মরীচিকাজল

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বনলতা শান্ত, ধীর-স্থির স্বভাবের, কাজের তুলনায় কথাবার্তা বলে কম। শাশুড়ী পাঁচটা প্রশ্ন করলে একটির উত্তর হয়তোবা পায়। দিনমান কেমন নিরব নির্ভার থেকে চুপচাপ স্বামী সন্তানের দেখভাল, ঘরের সমস্ত কাজকর্ম করতেই তার দিন গড়িয়ে যায়। শাশুড়ীর সংঙে বসে দু'দণ্ড কথাবলা, সংসারের ছোটখাট বিষয় নিয়ে অভিমান অথবা অনর্থক ঝগড়া বাঁধাবে তার সময় কই! প্রথম প্রথম যে ননীবালা একটু আকটু চেষ্টা করেননি তা নয় কিন্তু বড়বৌর বনলতার কাছ থেকে যুৎসই কোন জবাব না পেয়ে নিজেই চুপ করে গেছেন। কড়া করে দুটো কঠিন কথা শুনিয়ে দিলেও যে মুখবুঁজে থাকে, কথার পিঠে যে কথা বলতে জানে না তার সাথে কাথার মারপ্যাঁচে মজা কি?

কিন্তু মেঝবৌ এসেই সমস্ত হিসেব যেন উল্টে দিল। এ বাড়ীতে যেমনি তার ঝড়ের মতো আগমন, তেমনি তার কথাবার্তা, তেমনি ঝড়ো চালচলন। দেখে শুনে মনে হবে কালবৈশাখী ঝড়ের একটা দমকা হাওয়া যেন পুরো বাড়ীর একোন ওকোন তোলপাড় করে ফিরছে। কখনো হাসির বজ্রপাতে, কখনো গুমরিয়ে গজরিয়ে, কখনোবা সদম্ভ পদচারণায় এ বাড়ীর সর্বত্র তার সন্মোহ উপস্হিতি ঘোষণা করছে। দেখা গেল শাশুড়ী একটা প্রশ্ন করলে সুরেলা তার দশটা জবাব দিয়ে দেয়, একটা কথা শুনালে দশটা কথা শুনিয়ে দেয়। মোটকথা শাশুড়ীর কোন কথাই মাটিতে পড়বার জো নেই। আপাতদৃষ্টিতে ননীবালা কে সুরেলার উপর ত্যক্ত বিরক্ত মনে হলেও, মুখভঙ্গিতে সর্বদা অসন্তোষের ছায়া প্রকাশ পেলেও মনে মনে ঝগড়া-বস্‌চা করবার মতো একজন যোগ্য সঙ্গী পেয়ে খুশিই হলেন কিনা তা একমাত্র ভগবানই জানেন!

তবে সুরেলা এ বাড়ীতে আসায় সবচে বেশী খুশ হয়েছে বুঝি টগর ও টুনি। এরা বড়বৌ বনলতার সন্তান। এই ছয় ও পাঁচ বছর বয়সী বালক বালিকা সুরেলার মতো উনিশ বছর বয়সী খেলার সাথী পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হলো। সুরেলার ব্যবসায়ী ভাসুর নিত্যকার ঝগড়া-কলহ লক্ষ্য করে এ একান্তই বৌ শাশুড়ীর ব্যাপার ভেবে নাক না গলানোর সিদ্ধান্ত নিল আর কৃতবিদ্য স্কুল শিক্ষক স্বামী সুরেলার লাজলজ্জা ও শিষ্ঠাচারের অভাব দেখে নিজেই লজ্জা আর সন্কোচে এতটুকু হয়ে গেল অথচ কিছু বলবারও উপায় নেই, কিছু বলতে গেলেই তেজি সাপের ন্যায় ফণা তুলবে নতুবা কেঁদেকেটে একাকার করবে। ওদিকে ঠাকুরপো কলেজের হোষ্টেলে থাকায় এসব কোন কিছুই তাকে কিছুমাত্র সর্প্শ করল না।

একমাত্র বনলাতাই নিজ নিয়ম মাফিক কাজকর্ম করে যেতে লাগলেন। সুরেলাকেও কিছু শিখিয়ে পরিয়ে দিতে চাইলেন কিন্তু সাংসারিক কাজকর্মের চাইতে টগর ও টুনির সাথে দিনভর খেলা আর এপাড়া ওপাড়া করতেই তার আগ্রহ কিছু বেশী ছিল।

সুরেলা যেদিন কালবৈশাখী ঝড়ের মতো এ বাড়ীতে প্রবেশ করলো সেদিনই কিন্তু ননীবালা বুঝে গিয়েছিলেন এ যেনতেন মেয়ে নয়। অন্তত বড়বৌর মতো তো নয়ই। সেই ধারণা সত্য প্রমাণের জন্যই যেন সুরেলার মাথার কাপড় কাঁধে খসল তিনদিনের মাথায় আর সাত দিনের মাথায় কাঁধের কাপড় কোমরে গুঁজে টগর টুনির সাথে এক্কাদোক্কা খেলতে নেমে গেল বাড়ীর উঠোনে।
বাড়ীর নতুন বৌ সপ্তা না যেতেই মাথার কাপড় খসিয়ে ভুতের মতো ঘুরে ফিরবে, মাসখানেকের মধ্যে পাড়া মাথায় তুলবে এ আর সকলের চোখে ঠাউর না হলেও ননীবালার সহ্য হলো না। একদিন কর্তারা কাজে বেরিয়ে গেলে তিনি কথাটা তুলেছিলেন কিন্তু সুরেলা ভাল লাগেনা, ঘরে দম বন্ধ হয়ে আসে এইসব অযুহাত দেখায়। ননীবালা দুটা কড়া কথা শুনিয়ে দিতে চাইলে বনলতা রান্নাঘর থেকে এসে বাঁধা দিয়ে বলে, থাকনা মা। ছোট মানুষ এমনকি বোঝে।
সুরেলা কঠিন সুরে বলে, দিদি তুমি ভিতরে যাও। আমাদের কথার মধ্যে এসো না।
একথায় বনলতাকে কেমন বিহ্বল দেখায়, তবু স্খলিত গলায় বলল, সুরেলা এ ভাল নয়, মা গুরুজন। গুরুজনের সাথে...ননীবালা বড়বৌর মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে ভৎর্সনা করে, গুরুজন! গুরুজনের সাথে কেমন করে কথা বলতে হয় তা কোন কালে শিখলে তো বড়বৌ, সবাই তো তোমার মতো নয়।

বনলতার সংঙে তুলনা তাই হয়তো সুরেলা চুপ করে যায়; নয়তো আরও কিছু কড়া কথা তার কন্ঠনালী দিয়ে বের হবার জন্য ছটফট করতে থাকে। বাপের বাড়ীর কথা তুলে কেউ খোঁটা দিলে সেও ছেড়ে দেবার পাত্রী নয়। মূলতঃ বনলতার মুখ চেয়েই সে আত্মসংবরণ করে, তারপর ছুটে নিজের ঘরে চলে যায়। ননীবালা ও গজরাতে গজরাতে আপনমনে কি সব বকতে বকতে চলে গেলেন। মাঝখানে ফাঁপড়ে পড়ে বনলতা ভাবলেন তার জন্যেই আজকে মেয়েটাকে কটা কথা বেশী শুনতে হলো। গিয়ে যে মেয়েটাকে দুটা স্বান্তনার কথা বলবেন সে সাহসটুকুও তাঁর নেই। ভরসা এই যে যতই রাগারাগি, মনকষাকষি চলুকনা কেন নাওয়া- খাওয়ার কোন ব্যতিক্রম করবেনা সুরেলা।

সুরেলা যেমন রাগতে জানে, ঝগড়া বস্‌চা করতে জানে, পরের মুখে কথার ঝামটা দিতে জানে তেমনি নিঃস্বার্থে ভালবাসতে জানে, আপনের মত মায়া করতে জানে, ছোটদের আদর স্নেহে ভুলাতে জানে আর প্রেমতো বটেই। কারণ এই উদার অসীম প্রেম দিয়েইতো সে রাজেনের বৌ হয়ে এ বাড়ীতে এসেছে।

লোকে বলে সময় স্রোতের মতো। অবিরাম বয়ে চলেও তার কোন ক্লান্তি শ্রন্তি নেই। এমনি তার শক্তি, এমনি অশ্রান্ত তার পথচলা। হাসি- আনন্দ, দুঃখ- বেদনা, আবেগ- উচ্ছাস, দুরন্তপনা আর নব বিকশিত যৌবনের সুখ কল্পনার মধ্য দিয়ে এ বাড়ীতে সুরেলার তিনটি বছর কেমন করে কেটে গেল।

এই তিন বছরে সুরেলা গ্রামে সমবয়সী বেশ ক'টি মেয়ের সাথে ভাব জমিয়ে ফেললো। তারা এখন সুরেলা বলতে অজ্ঞান। টগর টুনি ও স্কুল শেষের পুরো সময়টুকু সুরেলার সংঙে খেলে বেড়ায়। মেয়েরা বিয়ের পর যে কার্য সমাধা করে নারী জীবনের সার্থকতা খুঁজে পায় সেরূপ কিছুই এই তিন বছরে সুরেলার জীবনে ঘটলো না বলে তার মনে এতটুকু উদ্বেগ উৎকন্ঠা বা কোন ভাবের সন্চার হলো না। শুধু রাজেন কিছুটা চিন্তাক্লীষ্ট হয়ে পড়লো আর ননীবালা আপন অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারলেন ও আর ঘটবার নয়।

একদিনের ঘটনা। দুপুর গড়িয়ে যাবার পরও বনলতা সকাল হতে তিনজনকে বাড়ীর আশে পাশে কোথাও ক্ষণিকের জন্য না দেখে ভিতরে ভিতরে অস্হির হয়ে উঠলেন। চাকর হারুকে পাঠালেন তাদের খুঁজে পেতে আনতে। হারু ঝাঁ ঝাঁ রোদে এ বাড়ী ও বাড়ী খুঁজে এসে জানাল তারা তিনজনেই ঘোষ বাড়ীর বেত ঝাড়ে বেতুন খুঁজছে, বাড়ী ফিরতে বলায় তাকে ধমকে ফেরত পাঠিয়েছে।

এই কথা শুনে ননীবালা রেগে কাই হয়ে আপাতত বনলতার উপরেই ঝাল ঝাড়লেন, তোমার জন্যই এমন হয়েছে বৌ, ছোটকে তো কিছু বলইনা তাই বলে নিজের ছেলেমেয়েকেও শাসন করতে নেই? এই করে করে ওরা গোল্লায় গেল বলে। এখনি সামলাও নয়তো পরে কেঁদেকেটেও কূল পাবেনা। সত্যি বলতে সুরেলাকে কিছু বলার সাহস বনলতার কোন দিনই হয়নি। এমনকি টগর টুনিকেও যে কিছু বলবেন সুরেলার জন্য সে উপায়ও নেই। ছেলেমেয়েদের কিছু বলতে গেলেই সুরেলা ঝাঁঝিয়ে উঠে।

আরও কিছু সময় পরে তিনজনেই যখন ভিজে কাপড় নিয়ে বাড়ী ফিরল, ননীবালা কঠিন গলায় বললেন, ওদের নিয়ে কোথায় গিয়েছিলে বৌ? সুরেলা কিছুমাত্র বিচলিত না হয়ে নিরুদ্ধেগ কন্ঠে জবাব দেয়, অর্পনাদের বাড়ী।
একি! কাপড় চোপড়ও তো ভিজে দেখছি। এ কথায় সুরেলা কোন উত্তর করে না। সুরেলার এই নির্লজ্জ নিরবতায় ননীবালা দারুন ক্ষেপে উঠে, ছিঃ ছিঃ ছিঃ। লাজ লজ্জার মাথা খেলে দেখছি বৌ। সারাদিন পাড়া করে বেড়িয়ে ভেজা কাপড়ে ঘরে ফিরতে লজ্জা করে না বৌ!
বাড়ীর বাইরে বেরুলেই
যে লজ্জার মাথা খেতে হবে আপনাকে কে বলল মা? সুরেলার মুখ কঠিন দেখায়।
ননীবালা ভীষণ ক্ষেপে চিৎকার দিয়ে উঠে, হতচ্ছাড়ি বাঁজা বেহায়া মেয়ে আবার মুখে মুখে তর্ক। সারাদিন হাওয়া লাগিয়ে বেড়াবে কিছু বললেই দোষ। হারামজাদি দুরে গিয়ে মরিসনা কেন। এমন বেহায়া মেয়ে....ননীবালা আরও কিছু অভিসম্পাত দেয় কিন্তু তার কিছুই সুরেলা শুনতে পায় না। বাঁজা শব্দটি গরম সীসার মতো তার কানে প্রবেশ করে তার আপন অস্তিত্ব যেন নাড়িয়ে দিল। বজ্রাহতের মতো স্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সুরেলা। পুরো পৃথিবীটা তার পায়ের নিচে টলতে থাকে, চোখের সামনে সবকিছু হঠাৎই ঝল্‌সে উঠে নানা রং ছড়িয়ে দিতে দিতে অন্ধকার হয়ে আসে। জন্মবয়সে সেই প্রথম সুরেলা জ্ঞাণ হারায়।

সেই প্রথম এ বাড়ীতে সারাদিনে সুরেলার পেটে কোন দানাপানি পড়লনা। ননীবালা ও কিছু মুখে দিল না অম্বলের অযুহাত দেখিয়ে। যদিও তার কোন কালে অম্বলের দোষ ছিল কিনা তা কেউই ভাল বলতে পারবে না। মূলতঃ ঐ রকম নির্দয় ভাবে নির্মম নিষ্ঠুর কথাটি তিনি কি করে বলতে পারলেন তারই অনুশোচনায় অনুতপ্ত হয়ে সারাদিন ঠাকুর ঘরে পড়ে রইলেন।

রাতে রাজন শুতে এলে ব্যাকুল হয়ে সুরেলা তার দু'হাত জড়িয়ে ধরে অনুরোধ করে আমাকে তুমি বাড়ী পাঠিয়ে দাও। রাজন চুপ থাকে। ওগো তোমাকে একটা সন্তান দিব সেই ক্ষমতাও আমার নাই। তুমি আবার বিয়ে কর বলেই ঢুঁকরে কেঁদে উঠে। রাজেন হালকা ধমকের সুরে বলে এত রাতে কি শুরু করলে সুরেলা। শান্ত হয়ে ঘুমাও। কিন্তু সুরেলার চোখে ঘুম নামাবে সে শক্তি বুঝি আজ ভগবানেরও নেই। সে ব্যাকুল হয়ে আরও অনেক কথা বলে যায়। রাজন তাকে শুধু সান্ত্বনাই দেয়, কপালে যা আছে তাই হবে সুরেলা। শুধু শুধু কষ্ট পেয়ে লাভ কি? আর বংশ প্রদীপের কথা বলছ, জীবন প্রদীপ নিভে গেলে বংশ প্রদীপ দিয়ে আমি কি করব।

রাজনের কথাগুলো শুনে সুরেলার আজ বারবারই কেবল মনে হয় রাজন তাকে কতই না ভালবাসে অথচ এতদিন ধরে সে শুধু তাকে অবহেলা করেই এসেছে। স্বামীর সাথে প্রণয়ের মুহুর্তগুলোতে সে যেন খেলাচ্ছলেই অংশগ্রহণ করেছে। তাতে ভালবাসার চেয়ে কৌতুহল কিছু বেশি ছিল, প্রেমের চেয়ে দুষ্টমিই ছিল বেশী।

সুরেলা কিছুটা শান্ত হয়ে এলে রাজন একটা হাত আলতো করে সুরেলার পিঠে রাখে, সুরেলা চলো একদিন সদর হাসপাতালে যাই। দুজনেই ডাক্তার দেখিয়ে আসি। সুরেলা কোন উত্তর করে না। রাজন মৃদু স্বরে আবারও বলে, যাবে? সুরেলা শুধু বলে, না।
কেন?
ডাক্তার যদি বলে দেয় আমাদের কোনদিনও সন্তান হবে না! কান্নার দমকে সুরেলার শরীর আবারও কেঁপে উঠে।

হায়! মানুষ আশা নিয়ে বাঁচতে বড় ভালবাসে। আমাদের গ্রাম্য মেয়ে সুরেলাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এরপর থেকে সকলে স্পষ্টতই বুঝতে পারল, এ সংসারের হাওয়া দ্রুতই পাল্টে গেছে। বন্যার অধীর পানি যেমন পুকুরের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে সরসর শব্দে ঢুকে পড়ে পানিকে স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছগভীর করে তোলে তেমনি সুরেলার বুকের ভিতর এক অশ্রান্ত অবিরল কান্না বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মতো তার হৃদয়ের সমস্ত অস্হিরতা, চিত্তচান্বল্য ও দুরন্তপনাকে ভাসিয়ে নিয়ে তার অস্থির মনকে স্হির আর সংসারের যাবতীয় কর্মের প্রতি সচেতন করে তুলল। শুধু একটা অবর্ণনীয় হাহাকার তার বুক তোলপাড় করে ফেরে। নারী জীবনের একটা অধ্যায় হয়তো তার অজানাই থেকে যাবে। এ যেন তার পোঁড়া ভাগ্যের নির্মম চিরস্হায়ী বন্দোবস্ত। যে টগর টুনি ছিল তার এতদিনের খেলার সাথী আজ তারাই তার নিজ সন্তানের চেয়েও বেশী কিছু। ওরাও আর সুরেলাকে চিনতে পারে না শুধু দুটি অবুঝ হৃদয় দুর থেকে কিছু বোঝার চেষ্টা করে; খেলার কথা তাদের মনেও আসেনা।

বাস্তবিক এ অবস্হায় সংসারের যাবতীয় মনোমালিন্য, ঝগড়া বিবাদ দুর হল বটে কিন্তু সুখ-দুঃখ, আনন্দ-উচ্ছাস, মান অভিমান স্তিমিত হয়ে গেল দুর প্রান্তরের গোধূলি সূর্যের মতোই। এমনিকরেই আরও দুটি বছর কেটে গেল। সকলেই যখন সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়েছে ভগবানের বুঝি তখন নাটক করবার খেয়াল চাপল।

সারারাত অসহনীয় যন্ত্রনায় ছটফট করে, ভীত সন্ত্রস্ত শাশুড়ীর দু'হাত জড়িয়ে কোন এক মিষ্টি ভোরে সূর্যের নরম আলো সোনারং ধারণ করেছে তেমনি এক মোহময় সময়ে সুরেলা যখন তার নারীজীবন সার্থক প্রমাণে ব্যস্ত ; ঠিক সেই মুহুর্তে এ বাড়ীর সকলের অলক্ষ্যে গোপনে নিভৃতে এসে যমরাজ দরজার কড়া নাড়লেন।






// গল্পটা আঠার / উনিশ বছর বয়সে লেখা। সেই অপরিণত বয়সের কাঁচা আবেগকে সকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এই প্রত্যাশায় //
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৪
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×