আমার প্রিয় পোস্ট
- কম সময়ে একসাথে আপলোড করে ব্লগে অনেক অনেক ছবি দেওয়ার অনেকগুলো উপায় (নতুনদের জন্য) - সাইফুলহাসানসিপাত
- বাংলা ব্লগের বিভাজন রেখা : কর্পোরেট বনাম ইনডিপেন্ডেন্ট ব্লগ - মাহবুব মোর্শেদ
- একদিন, দেখে নিও! - সুলতানা শিরীন সাজি
- ব্যাবিলনের শুন্যোদ্যান ( Hanging Garden of Babylon) - বীরেনদ্র
- ব্লগ রাজনীতি ও ব্লগের রাজনীতি - একরামুল হক শামীম
- বেগম আখতার গানের জগতের সম্রাজ্ঞী। - সুরঞ্জনা
- জেগে ওঠো মানুষ, বেঁচে উঠুক তিতাস - অন্যমনস্ক শরৎ
- সামুর বেশকিছু টেকি , টিপস এন্ড ট্রিকস এবং দরকারি পোস্টের সংকলন

- রবিন মিলফোর্ড
- ফিরে দেখা ২০১১ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- আমার ছানা পাখীর লেখা গল্প " মুক্তিযোদ্ধার গল্প" পড়ে আমি নিজেই মুগ্ধ - মেহবুবা
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র : জনপ্রিয় কিছু অনুষ্ঠান ও তাদের নেপথ্যের কুশলীরা - দস্যু রত্নাকর
- ১৯৭১ , জেড ফোর্সের মুক্তিযুদ্ধ : জিয়া-শাফায়াত-মইন-আমিনুলদের যুদ্ধ দিনের গল্প জানুন ছবি আর বর্ননায়........ - দাসত্ব
- স্মৃতির পাতা থেকে........ - নাআমি
- খনা : এক ক্ষণজন্মা কিংবদন্তীর দুঃখগাথা - ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন
- ক্যাট স্টিভেন্স থেকে ইউসুফ ইসলাম - অসম্ভব জনপ্রিয় এক নওমুসলিমের ইতিকথা - কবির চৌধুরী
- ব্যাক্তি নিরাপত্তা ও আমরা কি করবো। - জুন
- জেনে নিন আপনি সামহোয়্যারের কত নাম্বার ব্লগার {(যারা জানেনা তাদের জন্য) সম্পূর্ণ আজাইড়া পোস্ট} - অণুজীব
- দেখা হবে আবার, এই সামহয়্যারইন, এই মায়াবীবৃক্ষের তলায় - সুনীল সমুদ্র
- সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন - বহুরূপী মহাজন
- ·٠•●♥♫♫♫ "লালন" - পোস্ট সংকলন ♫♫♫·•●♥ ·٠ - কবির চৌধুরী
- সোনারগাঁও হোটেলের সোনালী স্মৃতি - চার্ত্রুজ-বী
- সোনারগাঁও হোটেলের সোনালী স্মৃতি .... ২য় খন্ড - চার্ত্রুজ-বী
- শব্দ কল্প দ্রুম -৩ - বোকা ছেলে
- আজম খানকে নৈবেদ্য - তাঁর কীর্তি সমগ্র - কবির চৌধুরী
- আঁধারপ্রেমী - অনিক
- ২০০ বছরের পরাধীনতা এবং আমাদের তথাকথিত ওয়ার সিমেট্রী: পর্ব - ১ - মিলটন
- ডঃ ইউনুস ও আমার দেখা একটি সিনেমার কাহীনি - মুরশীদ
- মাতৃভাষা আন্দোলনের সেই সব সূর্যসন্তানেরা...... - রেজোওয়ানা
- - হৃদয়ের কথা-নির্মম বাস্তবতা আর রূপকথা - মানবী
কেন এমন হয়!-২
০১ লা জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৩৮
প্রথম পর্বের লিঙ্ক- Click This Link
কেন এমন হয়!-২
আমি আমার স্ত্রীর কাছে কি বলবো, কি ভাবে কি বলবো ভাবছি! অস্থির ভাবে এটা সেটা করছি। আমার স্ত্রী আমাকে জানতে চাইলেন-"কিছু বলবে"? আমি আমতা আমতা করে বললাম-"না মানে, কিছুনা"!....আমার অস্থিরতা যাচ্ছেনা। যা আমি কোন দিন করিনা তাই করলাম-রান্না ঘরে গিয়ে বাবুর্চীকে জানতে চাইলাম "আজ কি রান্না হবে"? এবার আমার স্ত্রী খবরের কাগজ থেকে মুখ সরিয়ে জিজ্ঞেস করলেন-"তুমি কি তুতনের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলে"? আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম-"তুমি কি করে জানলে তুতন এসেছে"?
স্ত্রীঃ-"তুতন এসেছে নাকি? আমিতো এমনিতেই জিজ্ঞেস করলাম"।
আমিঃ-"হ্যা, তুতন এসেছে। আমি হোটেলে রেখে এসেছি। কাল চলে যাবে"।
স্ত্রীঃ-"বাসায় নিয়ে এলেই পারতে। হোটেলে রাখা কি ঠিক হলো"?
আমিঃ-"বিশ্বাস কর, তুতন আসবে তা আমি জানতামনা। হঠাত করেই এসেছে। তাছারা আমার সাথে অনেক দিন তুতনের কোন যোগাযোগ ছিলনা"।
স্ত্রীঃ-"আমিতো বলিনি, তুতনের সাথে তোমার যোগাযোগ আছে। আমিতো বলিনি তুতন হঠাত করে আসেনি। এত কইফিয়ত দেবারতো কিছু নেই। তুতন তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, বহু বছরের প্রবাসী। পারিবারিক ভাবে যা আমরা সবাই জানি-এটা নিয়ে তুমি "চোর চোর" ভাব করছো কেনো"? আমি আমতা আমতা করছি-কোন কিছু বলতে পারছিনা.........
স্ত্রীঃ-"যাও, তুতনকে বাসায় নিয়ে এসো। আমি তাঁর জন্য গেস্ট রুম রেডি করে রাখছি"।
আমিঃ-"তুতন হোটেলেই থাকবে"।
স্ত্রীঃ-"তুতন কি আমাদের সাথে লাঞ্চ করবে"?
আমিঃ-"ওর জেট ল্যাগ, ঘুমোচ্ছে। বাসা থেকে লাঞ্চ নিয়ে গেলে খুশী হবে"।
আমার স্ত্রী বাবুর্চীর সাথে পোলাউ, সাদা ভাত, কয়েক প্রকার মাছ, সব্জ্বি, চিকেন, মুগ ডাল চচ্চড়ি, ইলিশ ভাজি সহ অনেক প্রকার খাবার রান্না করে ২ টা picnic basket ভরে নিজেও রেডি হয়ে আমার সাথে দুপুড় দুইটার সময় হোটেলে এলেন। আমি আমার বৌ কে জানতে চাইলাম-এতো খাবার এতো অল্প সময় রেডি করলে কি ভাবে। আমার বৌ কোন জবাব দিলেননা। আমি মুখ ফুটে বললামনা-এই খাবারের মধ্যে অনেগুলো খাবারই তুতনের খুব প্রিয় খাবার। হোটেল রুমের Door knock করে দেখলাম তুতনের কোন সারা নেই। এখনো ঘুমোচ্ছে। আমরা হোটেল লবীতে বসে প্রায় আধাঘন্টা খানেক টিভি দেখছি।
এমন সময় তুতন ফোন দিয়ে জানতে চাইলো-"তুমি কোথায়, আমি লেট করে ফেললাম। তুমি কি লাঞ্চ সেরে নিয়েছো"? আমি বললাম-"আমরা নিচে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা এক্ষুনি তোমার রুমে খাবার নিয়ে আসছি"। আমরা হোটেলের ছয়তলায় লিফটের ডোড় খোলার সাথে সাথেই দেখি-তুতন আমাদের জন্য (আমার বৌ কে নিতে)নিচে আসার জন্য অপেক্ষা করছে। তুতন আর আমার বৌ দুজন বান্ধবী......ক্লাশ ফাইভ থেকে অনার্স পর্যন্ত একসাথে পড়েছে। অনার্সে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হয়ে তুতন স্কলারশীপ নিয়ে চলে যায় আমেরিকাতে হায়ার স্টাডির জন্য। তুতনের সাথে আমার চমতকার একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তুতন আমেরিকা গিয়ে তিনমাসের মাথায় হুট করে বিয়ে করেন অন্য একজনকে। তুতনের মাধ্যমেই আমার পরিচয় হয়েছিল পরবর্তীতে আমার বৌ হয়ে আসা তুতনের বান্ধবীর সাথে। তুতনের বন্ধুকে বিয়ে করেছি বলে, কিম্বা তুতন আমাকে বিয়ে করেনি বলে-ওদের দুজনের সম্পর্কের হেরফের হয়নি-যদিও আমি বিশয়টা নিয়ে সব সময় একটা মনস্তাত্বিক অসস্তিতে ভুগছিলাম। অনেক দিন পর দুজন দুজনকে পেয়ে খুব হৈ-হুল্লোর করল। আমরা তিন জন একসাথে বেশ মজা করে বাসায় তৈরী খাবার খেলাম।
প্রায় ৫ টা পর্যন্ত আমরা একসাথে কাটালাম। সন্ধায় আমার বৌ'র একটা ক্লাশ থাকায় আমরা একসাথে তিন জন বেড়িয়ে পরি। বৌ'কে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়ে আমি তুতনকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অনেক অনেক বছরের পুরনো স্মৃতিবিজরিত বিভিন্ন যায়গা ঘুরিয়ে দেখাতে থাকি। হাকিম চত্তরে গিয়ে সেই পুরনো ঐতিয্যবাহি ওভাল্টিন মিশ্রিত চা খাই। আমি তুতনকে নিয়ে গাড়িতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্মৃতিময় যায়গাগুলো খুব স্লোলী ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে দেখাচ্ছিলাম। তুতন আমার হাটুতে হাত রেখে বলে-'you look very smart & nice when you drive'! আমি থ্যাংকস বলেই এক্টুখানি খোঁচা মেরে বললাম-"স্মার্ট/সুন্দর হলেতো আমাকেই বিয়ে করতে। আমাকে অবহেলা করে অন্য একজনকে বিয়ে করতেনা"! তুতন আমার কথা শুনে কি যেনো ভাবলো উদাস হয়ে।
আমি জিজ্ঞেস করি-"কি ভাবছো তুতন"?
তুতনঃ-"তোমাকে বিয়ে করিনি সত্য। কিন্তু তোমাকে এখনো লাভ করি......তোমাকে মিস করি! ...... every moment to show you, my deepest love and respect for you"
আমি প্রসংগ বদলিয়ে বললামঃ-"তুমি আগের চাইতেও বেশী সুন্দর হয়েছো"!
তুতন বলে-"পরের বৌ সব সময়ই সুন্দর মনে হয়। তোমার বৌ আমার থেকে অনেক বেশী সুন্দর"।
আমিঃ-"চাক্ষুস সুন্দর যতটা চোখের তৃপ্তি মেটায়, অতটা অন্তরের নয়"।
তুতনঃ-"হিমেল, সত্যি করে একটা কথার জবাব দেবে? তুমি কি পারিবারিক/বিবাহিত জীবনে সুখী"? এক কথায় জবাব দাও"।
যদিও এই প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেয়া যায়না-তারপরও বললাম-"হ্যা, সুখী"।
"তুমি"?এক কথায় জবাব দাও"।
তুতনঃ-"না"!
ফুলার রোডে বৃটিশ কাউন্সিলের সামনে গাড়ি দাড় করলাম। আমি ড্রাইভ করতে পারছিনা। আমার কিছুই ভালো লাগছেনা! তুতন তার জীবনে সুখীনা! তাহলে আমি কেনো সুখী হলাম! তুতন এতোটা বছর গোপনে গোপনে মানষিক কস্ট নিয়ে সুখী থাকার অভিনয় করে যাচ্ছে......! আমার কিছুই ভালো লাগছেনা...... কেউ কোন কথা বলছিনা। গাড়ী থেকে নেমে আমরা বসে আছি বৃটিশ কাউন্সিলের সামনের রাস্তায়-যেখানে আমরা স্টুডেন্ট লাইফের অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছিলাম। এখানেই আমাদের দুজনের দেখা হতো, ঘন্টার পর ঘন্টা কথা হত। তুতন আমার সাথে দেখা করে চলে যাবার সময় আমি ওর কপালের টিপ খুলে নিতাম। সেই টিপ আমি অনেক যত্ন করে জমাতাম। পরে তুতন নিজেই সব সময় চলে যাবার সময় ওর টিপ খুলে আমাকে দিয়ে যেতো না চাইতেই। আমি ওকে বলেছিলাম-যদি আমাকে ফাঁকি দাও তাহলে তোমার টিপ তোমাকেই ফিরিয়ে দেব......। অনেক যত্নে রাখা সেই টিপগুলো এখনো আমার কাছে আছে......কাল থেকে ভেবেছিলাম-এবার ওর সেই টিপগুলো ওকে ফেরত দেব। কিন্তু তুতনের অসুখী থাকার কথা শুনে মনে মনে আমার সিদ্ধান্ত থেকে আমি সরে এসেছি।
আমার স্ত্রী কল করে জানালো তার ক্লাশ শেষ। কলা ভবনের সামনে থেকে তাকে তুলে নিতে হবে। আমরা কলা ভবন থেকে বেড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে গিয়ে বসি। কিছু নাশতা করে আমরা চলে যাই আমার বাসায়। বাসা থেকে ছোট ছেলেকে তুলে নেই। আমরা চলে যাই ক্রিসেন্ট লেক(জিয়া উদ্দ্যান)। ওখানে বসেই আমার বৌ এবং তুতন আমাকে জানায়-তুতন ঢাকা আসার বিশয়টা আগেই আমার বৌ'কে তুতন ইমেইলে জানিয়েছিল এবং ওভার ফোন কনফার্ম করেছিল। অনেক্ষন ওখানে বসে গল্প করে চলে যাই গুলশান শপার্স ওয়ার্ল্ড। তুতনের জন্য কিছু গিফট কেনার জন্য। শপিং শেষে বনানীর সফুরা টাওয়ারের ১৬ তলার হোয়াইট ক্যাসেল রেস্টুরেন্টে ডিনার করে তুতনকে হোটেলে ড্রপ করি রাত সারে এগারোটার সময়। আমার বৌ বললেন-"তুমি কি আরো কিছুক্ষণ তুতনের সাথে সময় কাটাতে চাও-তাহলে তুমি আরো কিছু সময় থাকো-আমরা বাসায় চলে যাচ্ছি"। তুতন বললো-"না, আমার এখনো ঘুমের রেশ কাটেনি-আমি এখন ঘুমোব। ভোর চার টায় এয়ারপোর্টে আমার রিপোর্টিং"। আমি তুতনকে বললাম-রাত তিনটার সময় আমি তোমাকে নিতে আসবো।
যদিও তুতন বলেছিলো-"অত রাতে কস্ট করে তোমার আসার দরকার নেই, আমি হোটেল ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস নিয়ে নেবো"। আমি ঠিক তিনটার সময় হোটেলে চলে আসি। আমি পৌছে দেখি-তুতন তার ছোট্ট লাগেজ গুছিয়ে রেডী হয়ে বসে আছে। তার চোখ লাল, মুখটা ফোলা ফোলা। আমি জানতে চাইলাম-"রাতে ঘুমাও নি"? কোন উত্তর না দিয়ে আমাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে নিশ্চুপ কিছু সময় গোপন কান্না করলো। আমিও আমার চোখের পানি গোপন করলাম। আমরা কেউ কারো চোখের পানি কাউকে দেখতে দেইনি.........। আমরা বেড়িয়ে পরি এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে।
নিঝুম রাত। মাঝে মাঝে কিছু পুলিশ আর RAB এর টহল গাড়ি চলছে। কখনোবা আমাদের মত এয়ারপোর্ট যাত্রীদের নিয়ে কিছু যানবাহন। আমরা চলছি এয়ারপোর্টে। আমার গাড়ির চাকা যেনো নড়ছেনা। কেউ কোন কথা বলছিনা। মহাখালী ফ্লাইওভার পার হবার সময় তুতন বললো-"তোমাদের ঢাকার অনেক জৌলুশ বেড়েছে। অনেক বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে"। আমি কোন কথার জবাব দিতে পারছিনা। ঠিক চারটায় আমরা এয়ারপোর্ট প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জে পৌঁছি। আমি গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করেছি। কিন্তু কেউ গাড়ি থেকে নামছিনা। আমার হাত স্টীয়ারিং'র উপড়। তুতন আমার হাতে একটা হাত রাখলো অন্য হাত আমার হাটুতে। আমি ওর দিকে তাকাচ্ছিনা, তুতনও আমার দিকে তাকাচ্ছেনা, হাতে হাত রেখে চুপ করে রইল। কেউ কোন কথা বলছিনা। ডিউটি পুলিশ গাড়িটা সরিয়ে রাখার জন্য বললো। তুতন আস্তে করে বললো-"শরিরের যত্ন নিও"।
তুতন গাড়িথেকে নেমে দাড়ালো। আমি তার ছোট্ট লাগেজটা নামিয়ে তার পাশে রেখে বললাম-"তুমি একটু দাড়াও, আমি গাড়িটা সেইভে রেখে আসি"।
তুতন বললো-"তুমি আর এসোনা...... আল্লাহ হাফেজ"- বলেই ভিতরে চলে গেলো।
আমি শুধু বলতে পারলাম-"তুমি ভালোথেকো"।
(শেষ)।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:১৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ভাঙ্গন বলেছেন:
২য়বারও গোগ্রাসে গিললাম।লেখক বলেছেন: আপনি কালকের মত আজও আমার পোস্ট ভিজিটে প্রথম হয়েছেন!
লেখক বলেছেন: অনেক সুন্দর সুন্দর লেখা পুরস্কার দেবো-ভবিষ্যতে...............
যোগাযোগ করতে পারেন
আতিক একটেল বলেছেন:
ভাই আপনার লেখাটা বেশি টাচ করলো। এভাবে না লিখলেই পারতেন!
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আতিক। কাল বলেছিলেন-আপনার সাথে মিলে যাচ্ছে............সত্যি কি আপনার সাথে কি মিলেগিয়েছে কোথাও?
কালপুরুষ বলেছেন:
দারুণ!! খুবই চমৎকার লেখা। প্রিয়তে রেখে দিলাম।
লেখক বলেছেন: বাদসা ভাই, জীবনের কস্ট লেখা সত্যি কি ভালোহয়েছে-নাকি পাম্পট্টি মারতাসেন?
ফোন বন্ধ কেন?কালথেকে চেস্টা করছি.................. কল করেন-জরুরী কথা আছে।
মানবী বলেছেন:
"পড়ে ভালো লেগেছে"- বলাটা এক্ষেত্রে এপ্রোপ্রিয়েট হবে কিনা বুঝতে পারছিনা!লেখার বর্ণনা মন ছুঁয়ে গেছে।
ভালো থাকুন আপনারা সবাই।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ বুবু।
আমরা সবাই যেযার অবস্থানে ভালোথাকার চেস্টা করছি...............
লেখক বলেছেন: শেষতো করতেই হবে-কিছু আগে কিম্বা কিছু পরে। কস্টের কথা যত তাড়াতাড়ি শেষ করা যায়-ততই ভাল!
ধন্যবাদ আপনাকে।
মুহিব বলেছেন:
সুন্দর এক বন্ধুত্বের কথা পড়লাম। ভাল লাগল। আপনার বন্ধুভাগ্য সবসময়ই ভাল।
লেখক বলেছেন: আমার বৌ, দুই ছেলে সন্তান ছাড়া আমার আর কোন আত্মীয় নেই! জীবনে অনেক ভালো বন্ধু পেয়েছি-একথা সত্যি। বন্ধুরাই আমার খুব বেশী আপন, খুব বেশী প্রিয়।
জ্বীন বলেছেন:
অসাধারণ ।
ভাইয়া আপনি লিখলেন কিভাবে??
এই লেখা পড়াই কস্টকর ।
@আতিক একটেল, আসলেই এভাবে না লিখলেই পারতেন !
লেখক বলেছেন: তোমাদের অন্তরস্পর্শী মন্তব্য পড়ে সত্যি আমার কস্ট উথলে উঠছে, কান্না পাচ্ছে!
সত্যিই কি ভাবে যে লিখেন এত সাবলীল ভাবে মনের কথা।
লেখক বলেছেন: কিছু কিছু বিশয়ের কোন সমাধান নেই। অন্তরে লালন করা গোপন কস্টগুলো তেমনই এক কস্ট-যার কোন শেষ নেই, কোন সমাধানও নেই..................
সুপার গ্লু বলেছেন:
হৃদয় ছোঁয়ানো অসাধারণ হয়েছে...............শেষ না হলেই ভালো হতো।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
লেখক বলেছেন: লেখা শেষ হয়েছে-কিন্তু সেই কস্ট শেষ হয়নি, কোন দিন শেষ হবেনা!
সেজুঁতি বড়ূয়া বলেছেন:
পড়া শেষ মনে হচ্ছে-বুকের ভিতর কিযেনো নাই...কিযেনো নাই! বিশাল এক শুণ্যতা!! জানিনা কত মানুষের জীবন এমন গোপন কস্ট নিয়ে কাটিয়ে দেয়, কাটিয়ে দিতে হয়!!!
লেখক বলেছেন: কস্ট হলেও আমাদের অনেক কিছুই মেনে নিতে হয়।
লেখক বলেছেন: আমাদের ব্লগে কি আপনার সমগোত্রীয় আরো কেউ আছে? খুব খুশী হয়েছি-বান্দরের ইমোশন দেখে(এখানে ইমো হইবে)!
লেখক বলেছেন: আমার বিশ্বাস, আমি অবশ্যই অরিজিনাল মনুষ্য প্রজাতির। আমার পুর্বপুরুষ মানুষ ছিল। অন্যকিছু নয়।
চেস্টা করে দেখুনতো আপনি কিম্বা আপনার বংশের কারোর লেজটা ঘষা-মাজা করেও খসিয়ে ফেলতে পারেনকিনা!(ইমো হইবে)
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
খুবই চমৎকার লেখা, কিন্তু খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল। পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।
লেখক বলেছেন: কস্টটা খুব তাড়াতাড়ি শেষ করতে হয়। ওটা যতই পোষন করবেন-ততই ভুগবেন!
সেতূ বলেছেন:
ছোট গল্প ....শেষ হয়েও হইলো না শেষ ......
ভাই মাথারটিপগুলো ফেরত না দিয়ে ভাল করেছেন।
দুই জনকেই সুভ কামনায় ..
কিছু কিছু কস্ট শেষ হয় না ...
এই কস্ট নিরবে কাদাঁয় প্রকাশ পায় না
কিন্তু আপনি সাহসের সাথে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য
অনেক ধন্যবাদ ..
ভালো থাকুন....
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সেতু।
যাকে কস্ট দেবার জন্য টিপগুলো ফেরত দিতে চেয়েছিলাম-তিনি অনেক কস্টে আছেন। সেই তাঁকে, যাকে আমি খুব মিস করি-তাকে আমিই কিকরে কস্ট দেই বলুন?
তানিয়া কবির লিজা বলেছেন:
এক নিঃশ্বাসে পড়া হয়ে গেলো।প্রিয়তে রাখলাম
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ লিজা।
ফেরারী পাখি বলেছেন:
গল্প অনেক ভালো লেগেছে। বিশেষ করে হাকিম চত্বর, বৃটিশ কাউন্সিল আমারও প্রিয় জায়গা।আমি সাধারণতঃ অন্যের ভুল ধরিনা। কারণ আমার লেখাই ভুলে ভরা থাকে। কিন্তু আপনার গল্প কতটা মনোযোগ দিয়ে পড়েছি তার প্রমাণ দেই
বাবুর্চী- বাবুর্চি
হঠাত- হঠাৎ
কইফিয়ত- কৈফিয়ত
ডোড়- ডোর
চমতকার- চমৎকার
বিশয়- বিষয়
অসস্তি- অস্বস্তি
বেড়িয়ে- বেরিয়ে
পৌছে- পৌঁছে
ঘুড়িয়ে- ঘুরিয়ে
দাড়াও- দাঁড়াও
শরির- শরীর
বানানগুলো আপনার এত সুন্দর গল্পে চাঁদের কলঙ্কের মত হয়ে আছে।
সময় পেলে ঠিক করে দেবেন। তাড়াহুড়ো করে লিখলে আমারও এরকম হয়। ভুল হবে জেনেও, প্রায়ই আমি তাড়াহুড়ো করি।
লেখক বলেছেন: আমার ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ। অভিধান চেক করে বানান ভুল্গুলোর জন্য রিপ্লাই দিতে লেট হলো। বাবুর্চি, শরির বানানে দুটো বানানই ঠিক। হাঠাত, চমতকার' র খন্ডত আমি লিখতে পারিনা-তাই ত ব্যবহার করতে বাধ্য হই। বেড়িয়ে মানে-বেড়ানো, বেরিয়ে মানে-বের হয়ে যাওয়া অর্থে। কৈফিয়ত, বিষয় টাইপো হয়েছে। অন্য ভুলগুলো আমার নাজানার কারনেই হয়েছে। আমিও অনেকটা অস্থির মনের মানুষ-ব্লগ লিখি অনেক ব্যস্ততার মাঝে। ভুল শুদ্ধ যাচাই-বাচাই করার সময় ও ধৈর্য্য থাকেনা। তাছারা এতো দিনে সবাই বুঝে গিয়েছেন-আমার লেখায় "ভুল" হওয়াটাই স্বাভাবিক-কারন আমি অভ্র ছারা বাংলায় একটা অক্ষর টাইপ করতে পারিনা। অভ্রতে টাইপ করা শিখেছি মাত্র কিছুদিন পুর্বে-যা এখনো ভালো করে রপ্ত করতে পারিনি।
আপনাদের কাছ থেকে কিছু শেখার জন্য আমি সব সময় প্রস্তুত।
লেখক বলেছেন: এগুলোও আমার জানার সীমাবদ্ধতার জন্য।
ফেরারী পাখি বলেছেন:
এত বানান ভুল ধরলাম বলে, আপনি হয়তো কষ্ট পেতে পারেন, দেখুন আপনাকে কষ্ট দেবার অভিপ্রায় আমার একেবারেই ছিল না।আমার নিজের কেমন যেন এবার অস্বস্তি হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: আমি মোটেই কস্ট পাইনি। আমি খুশী হয়েছি-আপনি এত যত্ন করে আমার লেখা পড়েছেন এবং ভুলগুলো শুধরে দিয়েছেন বলে। আমি আবারো বলছি-আমি আপনাদের সকলের ছাত্র হতে চাই।
লেখক বলেছেন: আমি আপনাকে ই-মেইল করছি...............
সহেলী বলেছেন:
গল্পটা লিখেছেন ভাল , টিপের বিষয়টাতে মজা পেলাম ; ওটা আমার পছন্দের উপকরন ।
লেখক বলেছেন: আমিও মেয়েদের টিপ খুব পছন্দ করি...............কিন্তু আমার বৌ টিপ পরেনা!
লেখক বলেছেন: আমার ঠিক মনে নেই-কোন লেখার কথা বলেছেন। তবে তিনি কিন্তু আপনার-আমার ডিপার্ট্মেন্টের ছাত্রী ছিলেন! নিশ্চই এখন খুঁজে বের করতে পারবেন।
মিলটন বলেছেন:
বেশ ভাল লিখেছেন। লিখুন। অপেক্ষায় আছি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মিল্টন। তোমাদের মত রেগুলার ভাল লিখিয়েরা যদি আমার মত নবীশ'র লেখা পড়ে ভাল বলে তখন সত্যি খুব ভাল লাগে।
লেখক বলেছেন: আসলে কস্টগুলো স্বার্বজনীন-তাই অমন লাগছে।
অন্তিম বলেছেন:
লিখা বিষয়ে কিছু বলার মত ভাষা নেই।প্রিয় পোস্ট করলাম।
আর এই লিখাটা কেন জানি সত্য মনে হয়েছে..........তাই গল্প ভাবতে পারিনি। মানুষের জীবন কত অদ্ভুত!!
লেখক বলেছেন: জীবন থেকে নেয়া, জীবনের গল্প-তাই সত্য সত্য মনে হয়।
রাজীব বলেছেন:
এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়
লেখক বলেছেন: জানিনা ভাইয়া..............................
চিকনমিয়া বলেছেন:
আফনেতো ভালাই লেকেন
লেখক বলেছেন: আমার লেখা স্বার্থক হয়ে যায়-আমাদের সবার প্রিয় চিকন মিয়া একটা মন্তব্য করলেই!
লেখক বলেছেন: লুইচ্চা বললে শুনতে বেশী খারাপ লাগে-ঐ জাতীয়দের আদর করে "লেসু" বলবেন।
কত সুর কতো গান মনে পড়ে গেলো ......
আশা করি লিখাটি শুধু ব্লগের পাতাতেই পড়ে থাকবে না।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ইচ্ছে বলেছেন:
খুবই চমৎকার লেখা। প্রিয়তে রেখে দিলাম।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: আমার জীবন তোমাদের মত নয় ভাইয়া। জন্ম থেকেই অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের পরও ক্যামন করে বেঁচে আছি-সেটাই আমার কাছে জীবনের সব চাইতে বড় রহস্য! কস্টকর সব অনুভুতিগুলো যদি ইচ্ছে করলেই বাদ দিতে পারতাম-তাহলে পৃথিবীর যাবতীয় যন্ত্রনাগুলোকে আর যন্ত্রনা মনে করতামনা। যা কিছু প্রশ্রয় দিতে চাইনা-তাই জীবনের অনুসংগ হয়ে প্রতিনিয়ত জীবনসংগী হয়ে আছে!
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
দুর্দান্ত।।। গল্পটাকে ডিফাইন করবো এভাবে- ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকা গাড়িতে বসে কোন চল্লিশোর্ধ মানুষের হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়া প্রথম যৌবনের স্মৃতি।।। তথ্যবহুল লেখার পাশাপাশি আপনি যে এত ভাল গল্প লিখেন, সেটি এতদিন অজানাই ছিল,আজ জেনে ভাল লাগল।।।লেখায় একটা বিষয় পাঠের ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে- 'আমার স্ত্রী'/ 'আমার বউ'..এই শব্দটির বারংবার ব্যবহার, স্ত্রীর একটি নাম দিয়ে বর্ণনা চালিযে নিলে পড়ার পক্ষে সুবিধাজনক লাগে।।।।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ হিমালয়। আমি লেখাটাকে গল্প বলছিনা। আমার জীবনের একটি ভগ্নাংশ চলমান গতিতে তুলে ধরেছি মাত্র। তোমার সুন্দর মন্তব্যটা নিঃস্বন্দেহে আমাকে গর্বিত করেছে!!!
তুমি জান-আমি সব সময়ই যাই লিখি-আমার জীবন ঘনিষ্ঠ বিশয় নিয়ে লিখি। তুমি সহ ব্লগের অনেকেই জানেন-আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। এই ব্লগে অনেক লেখক, পাঠক আছেন-যারা ওর স্টুডেন্ট। আমি চাইনি-কোন পাঠক আমার এই লেখা পড়ে সরাসরি আমার স্ত্রীকে চিনহিত করুক এবং তারজন্য তাঁকে বিব্রত হতে হয়............।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















