somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইনে

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ সহজ করতে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে অনলাইনে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কম্পিউটার সার্ভারে জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে যে কোনো সময় দেশের জনসংখ্যার গতি-প্রকৃতি যেমন জানা যাবে, তেমনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করাও সহজ হবে।

এ ছাড়া পাসপোর্ট তৈরির সময় তথ্য যাচাইসহ যে কোনো ধরনের পুলিশী প্রয়োজন মেটাবে এই তথ্যভাণ্ডার।

এরই মধ্যে কক্সবাজার জেলার উখিয়া এবং যশোর সদর উপজেলায় অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শেষ করা হয়েছে।

সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের আওতায় জানুয়ারিতে নয়টি জেলার ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন কাজ শুরু হচ্ছে।

জেলাগুলো হলো- নীলফামারী, লালমনিরহাট, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, খুলনা, গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজার।

এছাড়া আরো ১৭৪টি পৌরসভা, ছয়টি নগর সংস্থা (সিটি করপোরেশন) ও ১৫টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় অনলাইনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে।

এসব জায়গার পুরনো ও নতুন সব তথ্য ফেব্র"য়ারির মধ্যে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে জুনের মধ্যে পুরনো সব তথ্য সংরক্ষণের কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সরকারের এ কাজে অর্থ ও কারিগরী সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ। আর কম্পিউটার কাউন্সিল কাজটি করার জন্য একটি সার্ভার স্থাপন করে দিয়েছে।

ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা জামিল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমাদের উদ্দেশ্য দক্ষতা বাড়ানো। আমাদের প্রকল্প শেষ হয়ে গেলেও, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ হিসেবে কার্যক্রমটি চলতে থাকবে। তখন এই দক্ষতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।"

কর্মসূচির অংশ হিসাবে দেশের সরকারি-বেসরকারি বড় হাসপাতালগুলোকেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সার্ভারের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালকে সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

২০০৪ সালে আইন প্রণয়নের পর দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে আইনটি কার্যকর হয় ২০০৬ সালের ৩ জুলাই । এর আগে ১৮৭৩ সালে বৃটিশ সরকারের একটি আইন থাকলেও, তা খুব বেশি কার্যকর ছিলো না।

আইনের বিধি অন্যুায়ী, বিভাগীয় শহরগুলোয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করে থাকে নগর সংস্থা। সারাদেশে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোয় নিবন্ধন করা হয়।

২০০৭ এর জানুয়ারি থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের চার বছর মেয়াদী বর্তমান প্রকল্পটি শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা হয় ৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউনিসেফ দিয়েছে ৫৬ কোটি এবং সরকারের অর্থ দুই কোটি টাকা।

চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তা করা সম্ভব হয়নি। তাই এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আগামী জুন পর্যন্ত। জুনের মধ্যে কাজ শেষ না করতে পারলে প্রকল্পের অর্থ ফেরত দিতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

কিন্ত এই সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কেননা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগর সংস্থাগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে কেবল এ কাজ করা হচ্ছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়গুলোতে অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধার অভাবে নিবন্ধন কাজ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণার অভাবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন হার খুব বেশি আশাব্যাঞ্জকও নয়।

তবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের পরিচালক আ ক ম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী দাবি করেন, "এবার নির্ধারিত সময়ে পুরনো তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণের কাজটি শেষ করা যাবে।"

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এরমধ্যে আমরা আমাদের প্রকল্প এলাকাগুলোর সব পৌরসভা ও ইউনিয়নে কম্পিউটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করেছি। প্রশিক্ষণও দিয়েছি।"

প্রকল্প পরিচালক আরো জানান, সারা দেশের যেসব এলাকায় এ প্রকল্প থেকে কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়নি সেসব জায়গায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ নেই যেসব এলাকায় সেখানে দেওয়া হয়েছে সোলার প্যানেল।

ইউনিসেফের কর্মকর্তা জামিল হাসান বলেন, "আমরা যদি এ কাজটি করতাম তাহলে আরো আগেই শেষ করা সম্ভব হতো। সরকারি কাজে নানা সমস্যা থাকে। এরপরও আশা করছি সময় মতোই কাজটি শেষ হবে।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×