প্রথম পর্ব
দুই
পনর বছর পরের কথা।
শ্রীলংকান সরকারের আমন্ত্রণে শ্রীলংকায় এসেছেন মেজর জেনারেল এজাজ রহমান চৌধুরি। এদেশে এখনো তামিল টাইগারদের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নি। বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের সাথে সফল শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পৃথিবীর ইতিহাসে একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এল.টি.টি.ই.দের সাথে কিভাবে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত করা যায় সে ব্যাপারে কলম্বোয় একটি সিম্পোজিয়ম অনুষ্ঠিত হবে। নরওয়ে, ভারত, আমেরিকা ও বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় দশটি দেশের প্রতিনিধিগণ এই সিম্পোজিয়মে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন। বাংলাদেশের ওপরও একটি বিশেষ কেইস স্টাডি থাকবে যাতে মেজর জেনারেল এজাজ রহমান চৌধুরি তাঁর বিশেষজ্ঞ মতামত উপস্থাপন করবেন।
তিনদিনব্যাপী সিম্পোজিয়মের প্রাত্যহিক কর্মসূচিতে দম ফেলবার ফুরসত নেই। ইতোমধ্যে তিনি মেজর সামিরার অনুসন্ধান করেছেন। পনর বছর আগের কথা, তাঁরও এতোদিনে মেজর জেনারেল হয়ে যাওয়ার কথা, নিদেনপক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। বয়স ও চাকরির ক্ষেত্রে অবশ্য সামিরা এজাজ রহামন চৌধুরির চেয়ে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। সেই হিসেবে অবশ্য এমনও হতে পারে যে এতোদিনে তিনি অবসর গ্রহণ করেছেন।
মেজর সামিরার খোঁজ নিতে কর্তৃপক্ষ প্রচুর তৎপরতা প্রদর্শন করলেন। একই নামে আরো বহু অফিসার আছেন। কোন্ মেজর সামিরা পনর বছর আগে কুকুলেগংগায় বহুজাতিক সামরিক শান্তিরক্ষী প্রশিক্ষণে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তার হদিস মিললো না।
সিম্পোজিয়মে এক কর্নেলের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে মেজর সামিরার কথা তুলতেই তিনি উজ্জ্বল হয়ে বলে উঠলেন, হ্যাঁ, তিনি ঐ মেজর সামিরাকে চিনেন। ঐ সময় তিনি ক্যাপ্টেন ছিলেন, তাঁর নাম কালনা, মেজর সামিরার অধীনে থেকেই তিনি ঐ সময় মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে দুঃখের বিষয়টি হচ্ছে সামরিক মহড়ার পরের বছরই মেজর সামিরা জাফনায় এক দুর্ধ্বর্ষ যুদ্ধের সময় বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রাণ হারান।
জেনারেলের মন খারাপ হয়। একজন পুরনো বন্ধুর পনর বছর আগেকার স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করলেন। সেসব এখন কেবলই দুঃখ দিয়ে যায়।
তৃতীয় দিন বেলা এগারটায় সিম্পোজিয়মের সমাপনী অধিবেশন শেষ হলো। একই দিন রাত দশটায় জেনারেলের ফিরতি ফ্লাইট। বাসস্থান থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বের হয়ে যেতে হবে, তার আগের সাত-আট ঘণ্টা সময় সম্পূর্ণ তাঁর নিজের, পুরোটা সময় তাঁর অখণ্ড অবসর।
কিন্তু প্রকৃত অর্থেই তা অখণ্ড অবসর ছিল না। দেশ থেকেই তিনি কিছু পরিকল্পনা করে এসেছেন। এতোটুকু সম্পূর্ণ নিজস্ব সময় হাতে পেলেই তিনি সেই পরিকল্পনা মতো কাজটি করতে বেরুবেন- কলম্বো শহর থেকে সড়কপথে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যাত্রার পর সেই মাতুগামা উপশহরে যাবেন, পনর বছর আগে সেখানে তিনি তাঁর আরাশিগেকে দেখে গেছেন, তাকে পুনর্বার আরেক নজর দেখবার জন্য সেই কতোকাল থেকে তাঁর বুকটা অবিরাম হাহাকার করছে।
কিন্তু মাতুগামা অনেক বদলে গেছে। ছোট উপশহরটি এখন চারদিকে বহুদূর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। অত্যাধুকি অট্টালিকা গড়ে উঠেছে, সারি সারি বিলাশবহুল এ্যাপার্টমেন্ট, ফ্যাশনেবল দোকানপাট, রাস্তাঘাট- সবকিছু বদলে গেছে, উন্নত হয়েছে।
আরাশিগের টেলিফোন বুথটি ঠিক কোন জায়গায় ছিল তা ঠাওর করা গেলো না। সেদিনের আরাশিগেকে আজও এখানে অবিকল সেদিনের মতোই পাবেন- তিনি অবশ্য আদৌ এতোখানি আশা করেন নি। অবশ্য তার টেলিফোন বুথটিও যে খুঁজে পাওয়া যাবে এ ব্যাপারেও তিনি সুনিশ্চিত ছিলেন না। তবে একটা ব্যাপারে তিনি সুনিশ্চিত ছিলেন, আরাশিগে তাঁকে দেখামাত্রই চিনতে পারবে, কখনো কোথাও এ রকম হয় কিনা বা হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না, তিনি খুব সুনিশ্চিত ছিলেন যে আরাশিগেও তাঁকে দেখার জন্য অন্তপ্রাণ হয়ে উঠেছিল। সেই পনর বছর আগের দেখা, কিন্তু তাঁকে দেখামাত্রই সে টেলিফোন বুথ থেকে লাফিয়ে ছুটে এসে জেনারেলের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
প্রায় ঘণ্টাখানেক খোঁজাখুঁজির পর ক্ষুদ্র একটা তথ্য পাওয়া গেলো- তা হলো, বহুদিন আগে শহরের মাঝামাঝি স্থানে বেশ কয়েকটা টেলিফোন বুথ ছিল, যার একটির নাম ছিল 'আরাশিগে টেলিফোন সেন্টার'।
কিন্তু শহরের মাঝামাঝি জায়গা, পনর বছর আগে যা উপশহরের প্রান্ত থেকেও কিছুটা দূরে অবস্থিত ছিল, আজ বড় বড় দালান-কোঠায় ভরে গেছে।
এমন কি হতে পারে না যে এসব দালানের একটির মালিক আরাশিগে নিজে? সময় তো বদলায়, যে কারোরই।
কিন্তু আরাশিগের সন্ধান মিললো না।
মাত্র কিছুক্ষণ জেনারেল ভাবলেন। তারপর তাঁর সঙ্গী অফিসারকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমাদের দেশে কি বৃক্ষরোপণের কোনো প্রচলন আছে?'
শ্রীলংকায় এ ধরনের প্রচলন গড়ে ওঠে নি। কারণ, আমাদের পুরো দেশটাই বৃক্ষে পরিপূর্ণ। প্রাকৃতিকভাবেই এখানে সব গাছ জন্মায় ও বড় হয়।
কিন্তু তবুও আমি একটা গাছ রোপণ করতে চাই।
এটা করার জন্য সর্বদাই আপনাকে স্বাগতম।
শ্রীলংকায় বটগাছের সংখ্যা কেমন তা জেনারেলের জানা নেই। তাঁর ইচ্ছে ছিল একটা বটবৃক্ষের চারা রোপণ করবেন। কিন্তু বটবৃক্ষ কেন, অন্য কোনো গাছের চারা সংগ্রহ করাও সহজ নয়, কেননা, এখানে কোনো নার্সারি নেই।
তীক্ষ্ণ প্রত্যুৎপন্নমতি সম্পন্ন সঙ্গী অফিসার ত্বরিত জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে এলেন। স্থানীয় এক লোকের সাহায্যে রাস্তার ধার থেকে একটা অজানা চারাগাছ উত্তোলন করলেন।
'আমি এটা কোথায় রোপণ করতে পারি?' জেনারেল জিজ্ঞাসা করেন তাঁর সঙ্গী অফিসারকে।
'মাতুগামা সবচাইতে উপযুক্ত স্থান হয়', সঙ্গী অফিসার বলেন। 'কিন্তু সেখানে এটা রোপণ করবার জন্য কোনো পতিত জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না।'
জেনারেল আর কিছু বলেন না। চারাটি সমেত গাড়িতে উঠে কলম্বোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে বলেন।
মাতুগামা থেকে বের হয়ে মিনিট দশেক গাড়ি চালাবার পর রাস্তার এক ধারে একটা ফাঁকা জায়গা পাওয়া যায়। সেখানে গাড়ি থামাতে বললেন জেনারেল।
'আমি যদি ঐ মাঠের মাঝখানটায় এই চারাগাছটি রোপণ করি তাহলে কেমন হয়?' জেনারেল জিজ্ঞাসা করেন।
'উত্তম প্রস্তাব। আমার মনে হয় এটা পতিত জায়গা। এখানে আগামী পঞ্চাশ বছরেও বসতি গড়ে উঠবার কোনো আশঙ্কা নেই।' সঙ্গী অফিসার বলেন।
'তাহলে অনুগ্রহ করে এখানে এটা রোপণ করবার ব্যবস্থা করুন।'
গ্রামবাসীদের সহায়তায় অজানা বৃক্ষের চারাটি ওখানে রোপণ করে কলম্বোর উদ্দেশে পুনরায় গাড়িতে উঠে বসলেন।
সমস্ত রাস্তা অত্যন্ত করুণ নীরবতার মধ্য দিয়ে পার করে নিজ কক্ষে ফেরত এলেন জেনারেল। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে আরো ঘণ্টা দুয়েক সময় অবশিষ্ট আছে। ইচ্ছে করলে তিনি শহরে বেরুতে পারেন। কিন্তু বেরুবেন না। ঘোরাঘুরির অভ্যাস তাঁর আগে ছিল। তাঁর ছেলেমেয়েরা যখন ছোট ছিল স্ত্রীসহ তাদের নিয়ে তিনি প্রচুর ঘুরতে বেরুতেন। প্রায় বছর খানেক ভোগান্তির পর যে বছর রীতুর ক্যান্সারে মৃত্যু হলো মূলত সে-বছর থেকেই তিনি অনেক গুটিয়ে গেছেন- বহুদিন পর্যন্ত তাঁর কেবলই মনে পড়তো, তিনি গোসল সেরে বাইরে বেরিয়েছেন, রীতু দৌড়ে ছুটে এসে তাঁর শরীর শুঁকছে আর বলছে, 'আব্বু, তোমার শরীরে কী যে ঘ্রাণ! এতো ঘ্রাণ কি সাবানে হয়? আমার হয় না কেন?'
রীতুর মৃত্যুর পরের বছর যখন তাঁদের ছেলেটাও চলন্ত বাসের তলায় পিষ্ট হয়ে মারা গেলো- তার পর থেকে তিনি অন্তরে অন্তরে শুষ্ক ধুধু মরুভূমি হয়ে আছেন। তাঁর কিছুই ভালো লাগে না। ছোট একটা মেয়েকে দত্তক নিয়েছেন। মেয়েটির আসল নাম পাল্টে তার নাম রেখেছেন রীতু আরাশিগে। রীতু আরাশিগে খুব অদ্ভুত মেয়ে। রীতুর মতোই বড্ড জেদী। এতোটা জেদী ও বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে সে দিনে দিনে যে মাঝে মাঝেই সে উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে বলে ওঠে, 'আমার নাম রীতু আরাশিগে রেখেছো কেন, আমার নাম রেহানা।'
জেনারেলের তন্দ্রা ছুটে যায়। আসলে রীতু আরাশিগে কখনোই বলে নি, 'আমার নাম রীতু আরাশিগে রেখেছো কেন, আমার নাম রেহানা।' এ কথাটি তিনি তন্দ্রার মধ্যে স্বপ্নে শুনেছেন।
তিনি আজকাল খুব নিষ্ঠুরও হয়ে উঠেছেন। ই-মেইল, ফোন, ইত্যাদি কতো সুবিধাদি আছে, অথচ দেশে একবারও ফোন করেন নি- এ কথা মনে হতেই তাঁর মন খুব খারাপ হয়ে যায়। হঠাৎ বোধোদয় হয়, হাতের কাছেই টেলিফোন, তিনি ডায়াল করতে থাকেন।
জেনারেলের স্ত্রী অপর প্রান্ত থেকে বলে ওঠেন, 'কী ব্যাপার, এতো ঘন ঘন ফোন করছো কেন? এরই মধ্যে দুবার হয়ে গেলো। খুব খারাপ লাগছে?'
না না, খারাপ লাগছে না। রীতু আরাশিগের হাতে দাও। ওর জন্য কী কী আনবো জেনে নিই।
রীতু আরাশিগে কে?
ঐ যে আমাদের দত্তক মেয়েটা!
'তুমি যে কী! রীতু আরাশিগে সেই কবে চলে গেছে না? আর ওর নাম তো রীতু আরাশিগে ছিল না, ওর নাম ছিল আরিশেগা। এখনো তুমি ওর কথা মনে রেখেছো? এসব কথা কেন তুমি এতো মনে করো? এসব ভাবতে ভাবতেই তুমি শেষ হয়ে গেলে। তুমি আর ফোন করো না লক্ষ্মীটি, চোখ বন্ধ করে সারাক্ষণ শুধু আল্লাহ্র নাম জপবে, বুঝেছো? তবেই দেখবে তোমার ঠিক সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি।'
জেনারেলের আজকাল যেন কিছুই মনে থাকে না। তাঁর কি মাথায় কিছু ঘটেছে? হয়েছে? তাঁর হাতে সর্বদাই একটা মোবাইল থাকে। বাসা থেকে স্ত্রী ফোন করেন, এখান থেকে তিনি। প্রতিদিনই তিনি দু-একবার করে স্ত্রীর সাথে কথা বলছেন, কিন্তু এখন তাঁর সেসব কিছুই মনে পড়ছে না। তাঁর কী হয়েছে? মাতুগামায় গেলেন, আরাশিগেকে খুঁজলেন, চারা রোপণ করলেন, সব মনে পড়ে, কিন্তু তারপরেও মনে হচ্ছে তাঁর মাথায় সবকিছু জট পাকিয়ে আসছে। মদ্যপান করলে মানুষের এমন হয় অপরাপর বন্ধুদের কাছে তিনি শুনেছেন, নিজে যদিও জীবনে এক ফোঁটা মদ চেখে দেখেন নি। তিনি ভেবেই পাচ্ছেন না তাঁর এরূপ স্মৃতিভ্রম হচ্ছে কেন। তিনি কি খুবই ক্লান্ত?
অতি সত্বর বিশ্রাম নেয়া দরকার, অতি শীঘ্র। জেনারেল মনে মনে ভাবেন।
দরজায় টোকা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সঙ্গী অফিসার কক্ষে প্রবেশ করেন। বলেন, মহোদয়, আপনার জন্য কি সামান্য চা-নাস্তার ব্যবস্থা করবো?
নো নো ইয়াং ম্যান, আরেকটু পরে তো ডিনারই করবো। তুমি বরং একটু বসো, তোমাকে আমি একটা কাজ দিতে চাই, আশা করি হাসি মুখে তা করবে।
নিশ্চয়ই মহোদয়। দয়া করে আপনার কাজের কথাটি আমাকে বলুন।
আজ যেখানে আমি চারাটি রোপণ করে এলাম, তুমি আরেকবার সেখানে যাবে। কিন্তু তার আগে আরেকটা কাজ করবে। আমি এ কাগজটায় লিখে দিচ্ছি, একটা টিনবোর্ড বা অন্য যে কোনো উপযুক্ত বোর্ডের ওপর সুন্দর করে এ কথাগুলো লিখাবে। তারপর গাছটির গোড়ার সন্নিকটে বোর্ডটা পুঁতে দিবে। আর এজন্য যাবতীয় খরচ বাবদ তোমাকে সামান্য এই রুপি ক'টা দিচ্ছি।
আমি এর সবই করবো মহোদয়, এগুলো সুসম্পন্ন করতে পারাটা আমার জন্য অনেক আনন্দের হবে, তবে এ সামান্য কাজটুকুর জন্য আমি কোনো রুপি গ্রহণ করতে রাজি নই, প্রিয় মহোদয়।
অবশ্যই তুমি রুপি গ্রহণ করবে।
কিন্তু এ তো প্রচুর রুপি!
খরচের পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা দিয়ে তুমি চকোলেট খাবে, প্রিয় বালক, কেমন? তোমরা তো বিশ্ববিখ্যাত চকোলেট প্রস্তুত করো, তাই না?
জি মহোদয়। আপনাকে বলছি, আমার চেয়ে আমার স্ত্রীই চকোলেট অধিক পছন্দ করেন।
আমার ভুল হয়ে গেছে, আমার উচিত ছিল তোমার স্ত্রীর জন্য একটা উপহার প্রদান করা।
মহোদয়, আপনার অসামান্য বদান্যতা যে আপনি এতোখানি সৌজন্য প্রকাশ করছেন। আমি অবশ্যই অখরচকৃত সবগুলো রুপি দিয়ে ব্যাগভর্তি চকোলেট কিনে আমার স্ত্রীর জন্য নিয়ে যাবো, তাঁকে বলবো এক বাংলাদেশী সহৃদয় ও মহৎ জেনারেল এগুলো তোমার জন্য উপঢৌকন স্বরূপ পাঠিয়েছেন। তাতে আমার স্ত্রী যে কী পরিমাণ আহ্লাদিত হয়ে উঠবে তা আপনাকে আমি বোঝাতে পারবো না।
তোমাকে বাছা আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
দেশে ফেরত গিয়ে অবশ্যই মহোদয়াকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা জানাবেন।
তুমিও তোমার স্ত্রীকে আমার ভালোবাসা আর মমতা পৌঁছে দিও।
অবশ্যই মহোদয়।
একবার আমার দেশে তোমার বউকে নিয়ে বেড়াতে এসো। বাংলাদেশ পৃথিবীর সুন্দরতম দেশগুলোর একটি, যেমন তোমার দেশটিকেও আমার আমৃত্য ভালো লাগবে।
সুজলা-সুফলা শস্যশ্যামলা আপনার বাংলাদেশ, আমি এ কথা জানি মহোদয়। আপনারা বীরের জাতি। মাতৃভাষার দাবিতে শহীদ-হওয়া জাতি আপনারা। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য হাসি মুখে আত্মাহুতি দেয়া জাতি আপনারা। এমন একটি দেশের মানুষের সঙ্গে আমি কিছুদিন কাটালাম, এ আমার সারা জনমের গৌরবোজ্জ্বল প্রাপ্তি। আপনার দেশে ভ্রমণে যাবার সুযোগ পেলে স্বর্গলাভের চেয়েও তা হবে শ্রেয়তর। অবশ্যই যাবো এবং আপনার আতিথেয়তা গ্রহণ করবো।
বিমান উড্ডয়নের পর জেনারেল লক্ষ্য করেন তাঁর পকেটে এক টুকরো কাগজ পড়ে আছে। ওটা বের করে এনে চোখের সামনে ধরেন :
One Arachchige, My Beloved Daughter
Once I Met Her Here.
এখানে একদিন আরাশিগে নামক একটা মেয়ের সাথে দেখা হয়েছিল
যে ছিল আমার প্রিয়তমা কন্যার মতো।
তত্ত্বাবধায়ক সঙ্গী অফিসারের হাতে কি কাগজের টুকরোটা দেয়া হয় নি তাহলে? ভালো করে চোখ বুলান তিনি। না, ভুল দেখেছেন। এটাতে সেই সঙ্গী অফিসারের ঠিকানা লেখা রয়েছে। ঠিকানা লেখার জন্য আগে ছোট নোটবই ব্যবহার করতেন। আজকাল ছোট ছোট কাগজের টুকরো ও ভিজিটিং কার্ড দিয়ে মানিব্যাগ ভরে ফেলেন। ভুলবশত মানিব্যাগ থেকে মাঝে মধ্যে টাকা ঝরে পড়ে যায়, ঠিকানাও।
জেনারেল হাতের কাগজটা তাঁর মানিব্যাগে পুরে রাখলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



