মানুষের ধর্মীয় পরিচয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ এখন- আদালতে মামলা হয়েছে ভোটার তালিকা এবং অন্যান্য নাগরিক সনদে কেনো ধর্মীয় পরিচয়ের অন্তর্ভুক্তি না করা সংবিধান লঙ্ঘন হবে না- মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ও লিপিবদ্ধ করতে হবে ভোটার তালিকায় যদিও এটা আমার বোধগম্য না ভোটার তালিকায় ধর্ম পরিচয়ের গুরুত্ব কি? কিংবা মানুষের পাসপোর্টেও ধর্মীয় পরিচয় লিপিবদ্ধ থাকবার প্রয়োজনীয়তা কি? বরং এতে মানুষের উপরে ধর্মীয় বিদ্বেষ কিংবা ধর্মভিত্তিক অবিচারের সম্ভাবনা বাড়বে-
বাংলাদেশের ফৌজদারী দন্ডবিধির ২৯৫ থেকে ২৯৮ ধারায় মানুষের উপরে ধর্মীয় আগ্রাসন কিংবা মানুষের ধর্ম পালনের এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের উপরে আঘাত আসলে কি শাস্তি নির্ধারিত তা বলা আছে-
ব্ল্যাসফেমী আইন এটাকে বলা যাবে না তবে ভালোমতো বলা আছে যদি কারো ধর্ম বিশ্বাস আক্রান্ত হয় তবে আঘাতকারীর ২ বছরের জেলের বিধান আছে- কিন্তু মানুষের ধর্ম বলতে এখানে একেবারে প্রতিষ্ঠিত ধর্ম নিয়েই কথা বলা হয়েছে-
যদি কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে সহিংস হামলা করা হয় তবে এটা জামিনঅযোগ্য অপরাধ- কিন্তু একটাই সমস্যা যে সব ধর্ম এখনও ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়- সেসব উপাসনালয়ে গিয়ে হামলা চালানো ব্যক্তিদের কি হবে-
কাদিয়ানীরা নিয়মিত ধর্মীয় সন্ত্রাস আর ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে- এবং ইসলামের নাম ধরে খাতমে নুবুয়ত এই হামলা করছে সময় সময়- এর আগে বেশ কয়েকবার তাদের উপাসনালয়ে বোমা হামলা হয়েছে- এবং কতিপয় আল্লাহর উগ্র বান্দা জোরপুর্বক তাদের মসজিদের উপরের ফলক কেটে লিখেছে কাদিয়ানীদের উপাসনালয়-
আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের উৎস এবং বিশ্বাস নিয়ে তারা যদি আনন্দিত থাকে এবং তাদের ইহলৌকিক এবং পরলৌকিক ভাবনা যদি তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয় হয়ে থাকে তবে তাদের আলাদা একটা ধর্ম হিসবে প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা কিংবা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরকার কেনো বাদী হয়ে আদালতে মামলা করে না কিংবা এখনও কেনো করেন নি?
রাষ্ট্র নিজে কি এটা বিশ্বাস করে তার নাগরিকের ধর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে? তবে কেনো আদিবাসী সাঁওতালেরা নির্যাতিত হয় ধর্মান্তরিত হলে- কেনো চার্চে হামলা হলে তাদের বিরুদ্ধে বোমাবাজির আর প্রাণ নাশের চেষ্টার কারণে মামলা হয়-
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র অনেক আগেই তার ধর্ম নিরপেক্ষ চরিত্র হারিয়েছে- আমাদের সংবিধানে যদিও সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ তবে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা তেমন ভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়- সংবিধান পরিবর্তন করে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করার কারণে তেমন ভাবে হয়তো মানুষ ধর্মীয় সন্ত্রাসের কবলে পড়ে নি তবে এখানে বসবাসরত ভিন্ন ধর্মী মানুষের ভেতরে আতংক তৈরি করতে পেরেছে-
আমাদের সভ্য রাষ্ট্র হয়ে উঠতে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে- আমাদের অন্তত রাষ্ট্রের তলবি কাঠামোতে নিজেদের বিশ্বাসের তিলক লাগানোর বর্বরতা রদ করতে হবে- স্কুলে কিংবা কলেজে কিংবা মিলিটারিতে এসব অসভ্য প্রশ্নমালার অস্তিত্ব না থাকাই ভালো- ধর্ম- গোত্র- কূল কিংবা যে উপায়েই এটা থাকুক না কেনো এটা বাদ দেওয়া দরকার-
বেশ আশ্চর্য হয়ে একটা জিনিস খেয়াল করলাম আমি -এখন মিলিটারির অবঃ মেজর কিংবা অবঃ জেনারেল কিংবা উচ্চপদস্ত কোনো পদেই আদতে কোনো হিন্দু নাম নেই- বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী কি তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংঘবদ্ধ যোদ্ধা মুসলিম বাহিনী?
এদের হাতে কি আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিরাপদ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



