কাশেম বিন আবু বকর তার তার সদ্য প্রসবিত কাব্যসন্তান "হে খোদা শক্তি দাও" এ এক নতুনধরণের মেটাফোরের প্রচলন ঘটিয়েছেন। দুই ছত্রের কবিতায় পাঠক প্রথমত যে ধারণা প্রাপ্ত হবেন তা হৃদয়ঙ্গম করতঃ নতুনভাবে আলোড়িত হবেন, আপনার মনে হবে আসলে যা বুঝেছি তা এটা নয়, যা বুঝিনি তাই হয়তো এটা। বিষয়ের বর্ণনায় এমন রহস্যপূর্ণ আচরণ তুলনা করার ক্ষমতাকে প্রহসন করবে, বিভ্রান্ত করবে গভীর মনযোগী পাঠককেও। যেমন কবি বলেন, " হে খোদা শক্তি দাও;/দিশেহারা ভ্রান্ত যারা/ ক্লান্ত হৃদয় বিকৃত মস্তিষ্ক।" এ চরনত্রয় পাঠে কবি খোদার কাছে শক্তি চাচ্ছেন নাকি দিশেহারাদের শক্তি দিতে বলেছেন তা নিয়ে একটা জটিলতা তৈরী হবে। পরবর্তীতে আপনি বুঝবেন এটা হচ্ছে দিশেহারা তথা ভ্রান্ত তথা ক্লান্ত হৃদয় তথা বিকৃত মস্তিস্ক মানুষদের হাত থেকে বাঁচার জন্য খোদার আনুকূল্য প্রার্থনা। সাহিত্যে এমন পাঠকের প্রজ্ঞার উপরে লক্ষ্য রেখে কবিতা রচনা খুবই বিরল।
এরপরে কবি ডেকে আনার জন্য বলেছেন। কিন্তু পাঠক এদিক সেদিক তাকিয়ে নির্জন প্রান্তর ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না। তার মধ্যে প্রশ্ন জাগে, কি ডাকাডাকির জন্য বলা হচ্ছে? পাঠক যখন অমীমাংসিত এ অবস্থানে দাড়িয়ে শূণ্যতায় হাবুডুবু খাচ্ছেন তখন আরেকটা আহবানে চমকিত হয়ে যাবেন। যখন কবি বলেন, "ডেকে আনো ডেকে আনো / মন খুলে দাও প্রাণ খুলে দাও/বিবেকের আলো জ্বেলে দাও / শক্তি দাও মুক্তির..." তখন হয়তো কবি রহস্য করে কাউকে ডাকার বিষয়টা গোপন রাখেন যেন পাঠক মন খুলে দেয়ার একটা সুবাতাস পেয়ে হাফ ছেড়ে বেঁচে ওঠে। ভুলে যায় কবির ডাকাডাকির বিষয়ক অমীমাংসিত প্রসংগ। অত্যন্ত চমৎকার মুন্সীয়ানায় কবি পাঠককে আরো কঠিন একটা ভাবনায় ফেলে দেন। এটা লোডশেডিং এর যুগে বিকল্প শক্তি উৎপাদনে বিবেকের ব্যবহারের এক অনবদ্য দেশীয় প্রযুক্তি, পাঠক মাত্রই মুক্তির স্বাদ খুঁজে পাবার সর্টকার্ট সম্ভাবনা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। কি দূর্দান্ত রহস্যময়তায় জাতীয় সমস্যা সমাধানের বর্ণিল মেটাফরিক বিশ্লেষণ তাও আবার বিধাতার শক্তির সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনে চালিত করে! বাহ বাহ! এমন কবিতা পাঠে আমাদের বিবেকের আলো জ্বেলে লোডশেডিংএর ভয়াবহতা দূরীভূত হবে বলেই কবিতাটির বহুল পঠন ও বিশ্লেষণ আশা করছি। আনকাট কবিতাটি নিচে দেয়া হলো -
হে খোদা শক্তি দাও;
দিশেহারা ভ্রান্ত যারা
ক্লান্ত হৃদয় বিকৃত মস্তিষ্ক।
ডেকে আনো ডেকে আনো
মন খুলে দাও প্রাণ খুলে দাও
বিবেকের আলো জ্বেলে দাও
শক্তি দাও মুক্তির...
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


