১.
তোমার জন্য আমি জান কোরবান করবো।
সত্যিই!
বলেতো দেখো?
আচ্ছা এ মুহূর্তে গাড়ীর নিচে ঝাঁপ দাও।
ছেলেটি ফুটপথ থেকে রাস্তার মধ্যে দৌড়ে নেমে গেল। বিপরীত দিক থেকে একটা বাস আসছে। শুনশান রাস্তায় বিকট শব্দ তোলা গাড়ীটা ছেলেটিকে দেখে হর্ন দিচ্ছে। কিন্তু ছেলেটি দাড়িয়েই আছে। বাসটা থামছে না। ফুটপথে দাড়িয়ে মেয়েটি হাসছে। ছেলেটিকে সরে যেতে বলছে না।
বাস আরো কাছে চলে এলো। এমন রাস্তা যে ছেলেটিকে সাইড কেটে যাবার সুযোগ নেই। এখন ড্রাইভারের কাছে বিষয়টা অনেকটাই স্পষ্ট। এ ছেলে সুইসাইড করার জন্যই দাড়িয়েছে। সে গাড়ী স্লো করে। একদম ছেলেটির গা ঘেসে দাড়িয়ে পড়ে।
২.
ছেলেটি চোখ বন্ধ করে। ড্রাইভার হেলপারদের গালি বর্ষন এড়িয়ে ফুটপথে ওঠে। মেয়েটি তখনও হেসে চলে। বলে, পারলে না তো? কখনই পারতে না সুইসাইড করতে!
ছেলেটি নিশ্চুপ হয়ে থাকে। মৃত্যুর একদম সন্নিকট থেকে ফিরে আসে সে। সে বুঝতে পেরেছে কতটুকু ভালবাসে সে মেয়েটিকে। ঠিক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার নিজেকে বাঁচাতে ইচ্ছে করেনি। এতটুকু বুক কাপেঁনি। ভয় লাগেনি।
মেয়েটি হাত ধরে হাঁটে। ছেলেটি চুপ মেরে থাকে। তার মাথায় ঘুরছে, প্রেম কি? মনে হতে থাকে এই ত্যাগটুকুই প্রেম। এই যাত্রাটুকুই প্রেম।
৩.
মেয়েটি হন্যে হয়ে খোঁজে ছেলেটিকে। কিন্তু পাচ্ছে না। ছেলেটির মোবাইল বন্ধ। ইউনিভার্সিটিতে আসে না। একদিন ছেলেটির বাসায় গিয়ে উপস্থিত হয়। সহাস্যে ছেলেটি মেয়েটিকে স্বাগত জানায়।
কেমন আছো? কি খবর জিজ্ঞেস করে।
মেয়েটি তাকিয়ে থাকে ছেলেটির দিকে। বোঝার চেষ্টা করে কি হয়েছে। ছেলেটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। যে প্রতিদিন তার সাথে দেখা করার জন্য মুখিয়ে থাকতো আজ সপ্তাহখানেক তাকে এড়িয়ে চলছে!
মেয়েটির স্বর ফোটে। কি হয়েছে তোমার?
ছেলেটি বিষ্মিত হয়। বলে, সবতো ঠিক আছে।
কিন্তু তুমি আমাকে এড়িয়ে চলছো কেন?
না তো! কিছুক্ষন চুপ থাকে।
তারপরে ক্লাস, টিউটরিয়াল নিয়ে কথা হয়। ভাবী চা বানিয়ে দিয়ে যায়। তারপরে মেয়েটিকে বাসার গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে।
৪.
মেয়েটি বড় অস্থির হয়ে আছে। কয়েকমাস পর্যন্ত ছেলেটি আর আগের মত তার দিকে ছুটে আসে না। একদম ক্লাসমেটীয় সৌজন্যতা। আজকে সে ক্লাসে তার কানে কানে বিশেষ কথা আছে বলে এসেছে। ক্লাস শেষে যেন জামতলায় চলে আসে। ছেলেটে এগিয়ে আসছে।
মেয়েটি তার কাছে গিয়ে হাত ধরে। বলে, তোমার জন্য জীবন কোরবান করতে পারি!
ছেলেটি হাসে। সহজভাবে বলে, ভালবাসা মানে অদৃশ্যায়ন নয়, ভালোবাসা মানে সহবস্থান। যদি একত্রবাসই না হয় তবে কেন আমাকে তোমার প্রয়োজন হবে?
মেয়েটি হাসে। বলে, কিন্তু দেখতে চাও পারি কিনা?
না। ছেলেটি ভয় পেয়ে বলে ওঠে।
কেন?
যখন আমি মরতে গিয়েছিলাম সে সময়টাতে আমার ভালোবাসার পূর্ণ বিকাশ হয়েছিল। আমি সে মুহূর্তেও তোমার মাঝে নিবিষ্ট ছিলাম।
মেয়েটি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। ছেলেটি বলে চলে, এখন তোমার কোন সংগই আমার প্রয়োজন হয় না। আমি তখন নিজের ভালোবাসার চুড়ান্ত সুধাটুকু পান করেছি। হারিয়েছি তোমাকে পাবার আশাটুকু। কারণ তখন সেটা বিসর্জন দিতে হয়েছিল। এখন তুমি আমার জীবনে না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই।
মেয়েটি চুপ মেরে বসে থাকে। জানে সে, এখন সে মরতে পারবে না। সে যে বড় চাইছে ছেলেটিকে।
দুফোটা চিকচিকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে জামতলার ঘাসে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



