somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাত্রাটুকুই প্রেম!

৩১ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
তোমার জন্য আমি জান কোরবান করবো।
সত্যিই!
বলেতো দেখো?
আচ্ছা এ মুহূর্তে গাড়ীর নিচে ঝাঁপ দাও।
ছেলেটি ফুটপথ থেকে রাস্তার মধ্যে দৌড়ে নেমে গেল। বিপরীত দিক থেকে একটা বাস আসছে। শুনশান রাস্তায় বিকট শব্দ তোলা গাড়ীটা ছেলেটিকে দেখে হর্ন দিচ্ছে। কিন্তু ছেলেটি দাড়িয়েই আছে। বাসটা থামছে না। ফুটপথে দাড়িয়ে মেয়েটি হাসছে। ছেলেটিকে সরে যেতে বলছে না।
বাস আরো কাছে চলে এলো। এমন রাস্তা যে ছেলেটিকে সাইড কেটে যাবার সুযোগ নেই। এখন ড্রাইভারের কাছে বিষয়টা অনেকটাই স্পষ্ট। এ ছেলে সুইসাইড করার জন্যই দাড়িয়েছে। সে গাড়ী স্লো করে। একদম ছেলেটির গা ঘেসে দাড়িয়ে পড়ে।

২.
ছেলেটি চোখ বন্ধ করে। ড্রাইভার হেলপারদের গালি বর্ষন এড়িয়ে ফুটপথে ওঠে। মেয়েটি তখনও হেসে চলে। বলে, পারলে না তো? কখনই পারতে না সুইসাইড করতে!
ছেলেটি নিশ্চুপ হয়ে থাকে। মৃত্যুর একদম সন্নিকট থেকে ফিরে আসে সে। সে বুঝতে পেরেছে কতটুকু ভালবাসে সে মেয়েটিকে। ঠিক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার নিজেকে বাঁচাতে ইচ্ছে করেনি। এতটুকু বুক কাপেঁনি। ভয় লাগেনি।
মেয়েটি হাত ধরে হাঁটে। ছেলেটি চুপ মেরে থাকে। তার মাথায় ঘুরছে, প্রেম কি? মনে হতে থাকে এই ত্যাগটুকুই প্রেম। এই যাত্রাটুকুই প্রেম।

৩.
মেয়েটি হন্যে হয়ে খোঁজে ছেলেটিকে। কিন্তু পাচ্ছে না। ছেলেটির মোবাইল বন্ধ। ইউনিভার্সিটিতে আসে না। একদিন ছেলেটির বাসায় গিয়ে উপস্থিত হয়। সহাস্যে ছেলেটি মেয়েটিকে স্বাগত জানায়।
কেমন আছো? কি খবর জিজ্ঞেস করে।
মেয়েটি তাকিয়ে থাকে ছেলেটির দিকে। বোঝার চেষ্টা করে কি হয়েছে। ছেলেটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। যে প্রতিদিন তার সাথে দেখা করার জন্য মুখিয়ে থাকতো আজ সপ্তাহখানেক তাকে এড়িয়ে চলছে!
মেয়েটির স্বর ফোটে। কি হয়েছে তোমার?
ছেলেটি বিষ্মিত হয়। বলে, সবতো ঠিক আছে।
কিন্তু তুমি আমাকে এড়িয়ে চলছো কেন?
না তো! কিছুক্ষন চুপ থাকে।
তারপরে ক্লাস, টিউটরিয়াল নিয়ে কথা হয়। ভাবী চা বানিয়ে দিয়ে যায়। তারপরে মেয়েটিকে বাসার গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে।

৪.
মেয়েটি বড় অস্থির হয়ে আছে। কয়েকমাস পর্যন্ত ছেলেটি আর আগের মত তার দিকে ছুটে আসে না। একদম ক্লাসমেটীয় সৌজন্যতা। আজকে সে ক্লাসে তার কানে কানে বিশেষ কথা আছে বলে এসেছে। ক্লাস শেষে যেন জামতলায় চলে আসে। ছেলেটে এগিয়ে আসছে।
মেয়েটি তার কাছে গিয়ে হাত ধরে। বলে, তোমার জন্য জীবন কোরবান করতে পারি!
ছেলেটি হাসে। সহজভাবে বলে, ভালবাসা মানে অদৃশ্যায়ন নয়, ভালোবাসা মানে সহবস্থান। যদি একত্রবাসই না হয় তবে কেন আমাকে তোমার প্রয়োজন হবে?
মেয়েটি হাসে। বলে, কিন্তু দেখতে চাও পারি কিনা?
না। ছেলেটি ভয় পেয়ে বলে ওঠে।
কেন?
যখন আমি মরতে গিয়েছিলাম সে সময়টাতে আমার ভালোবাসার পূর্ণ বিকাশ হয়েছিল। আমি সে মুহূর্তেও তোমার মাঝে নিবিষ্ট ছিলাম।
মেয়েটি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। ছেলেটি বলে চলে, এখন তোমার কোন সংগই আমার প্রয়োজন হয় না। আমি তখন নিজের ভালোবাসার চুড়ান্ত সুধাটুকু পান করেছি। হারিয়েছি তোমাকে পাবার আশাটুকু। কারণ তখন সেটা বিসর্জন দিতে হয়েছিল। এখন তুমি আমার জীবনে না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই।
মেয়েটি চুপ মেরে বসে থাকে। জানে সে, এখন সে মরতে পারবে না। সে যে বড় চাইছে ছেলেটিকে।
দুফোটা চিকচিকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে জামতলার ঘাসে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:১৩
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×