স্বামী যদি স্ত্রীর অবর্তমানে নিজে রান্না করে খায় তাহলে স্ত্রীর আর আনন্দের সীমাপরিসীমা থাকে না। তবে আমি যে কি পর্যায়ের অলস তা বোঝার জন্য আমার পাশের ফ্লাটের নাসিমের উদাহারণ দিতে হবে। একবার তার স্ত্রী পুরো দিনের জন্য কোথাও বেড়াতে গেল। সব কিছু রান্না করে ফ্রিজে উঠিয়ে রেখে গেছে। নাসিমের কাজ হচ্ছে কেবল খাবার সময় সেগুলো বের করে একটু গরম করে খেয়ে নেয়া। কিন্তু বেচারা এই কাজটুকু করার চেয়ে সারাদিন না খেয়ে থাকা অধিক লাভজনক মনে করেছে। শেষে তার স্ত্রী রাতে ফিরে যখন খাবার গরম করে খেতে ডাকলো তখনই সে কেবল খেতে বসলো।
আমি অবশ্য এত আলসে নই। ফুটানো পানি রয়েছে ফিল্টার করা, শুধু গ্লাসে ঢেলে খেতে হবে। এত ঝামেলায় না গিয়ে পাশের বাসায় গিয়ে বলি, ভাবি, এক গ্লাস পানি খাওয়াবেন? এ বিষয়ে কেউ কথা বললে আমার ও নাসিমের দুজনের সোজা জবাব, কাজতো করতেই পারি, কিন্তু কেন করবো? তবে এবারের আলসেমী চুড়ান্ত রকমের হয়ে যাচ্ছে। গতকাল বাসায় ঢুকে দেখি একটা স্যান্ডেল ডাইনিং টেবিলের উপরে। কিভাবে সেটা উঠেছে স্মরণ করতে পারলাম না। আমার অবশ্য ঘরের চারটি রুমের মধ্যে দুটো রুমেই কেটেছে পুরো সময়, বাকী দুটো রুমে ভুলেও ঢুকে দেখি নি। দরজা খুলেই সামনে পড়ে টিভিরুম। রিমোট নিয়ে চালিয়ে দিয়ে জামাকাপড় খুলতে শুরু করে দেই। সেগুলো স্তুপীকৃত হতে থাকে ঐ রুমেই। তারপরে আরতো কোন কাজ নেই। বাথরুম পাশেই আছে, কয়েকবার ঘুরে এলাম, তারপরে আবার হাক করে টিভির দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
খাবার সময় হয়েছে। রান্নার কথা মনে হলে শরীরে জ্বর চলে আসে। ওকে কোন চিন্তা নাই, রান্না করতে অন্যভাবে যাই। স্ত্রীর ফোন, কি রান্না করবে?
গরুর গোসত!
ওকে, আছে বাসায়?
না, দাড়াও নিয়ে আসছি। আবার জামাকাপড় পরিধান করে নিলাম। তালা মেরে রাস্তায় এসে দেখা হলো কোন পরিচিতর সাথে। আড্ডা চলে, চলতেই থাকে। স্ত্রীর ফোন, গরুর গোশত কিনেছো?
হ্যা এইতো কিনলাম। আমি তখনও আড্ডায়।
ওকে বাসায় যাও, তারপরে রান্নার সময় আমাকে ফোন করো।
ঘন্টাখানেক পরে ফোন করি, আমার রান্না হয়ে গেছে। আমি কিন্তু তখনও আড্ডায়।
এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো? কয় সিটি দিয়েছে?
সাতটা। আমি রেঁধেছি বলেই দারুন স্বোয়াদ, কেমন সুগন্ধ বের হচ্ছে দেখেছো?
গোশত নিশ্চয়ই শক্ত!
না, না একদম তুলার মত হয়ে গেছে। আমি তখনও আড্ডায়।
আচ্ছা ঠিক আছে, দেখো আবার শক্ত গোশত খেয়ো না!
কি যে বল তুমি!
আধখন্টা পড়ে আবার ফোন। খেয়েছো?
হ্যা এই তো খাচ্ছি। আমি তখন হোটেলে গরুর গোশ দিয়ে খাচ্ছি। তুমি ঠিকই বলেছো, একটু শক্ত রয়ে গেছে!
আরো তিন সিটি দিয়ে নিও!
ওকে! মহাখুশী, রান্না করে খেয়েছি, বিশাল একটা অর্জন।
বাসায় গিয়ে দরজা খুলে আমি আবার টিভিরুমে। পুরো ঘর জুরে সিগারেটের এ্যাশ। স্যান্ডেলটা এখনও ডাইনিং টেবিলের উপরে আছে। আমি সেটাও ভাবছি, কিভাবে এটা ওখানে গেল! ভেবে গিয়ে বসার জায়গা খুঁজে পাই না, এ্যাশময় রাজ্য, যতটুকু নিতম্ব রাখার জন্য স্থান প্রয়োজন ততটুকই হাত দিয়ে দুই টোকায় পরিষ্কার করে বসে গেলাম। তারপরে আবার হাক করে দেখি সিএসবি নিউজ। ফোন এলো, খাবার ঠান্ডা না হলে কিন্তু ফ্রিজে ওঠাবা না।
ঠিক আছে।
খাবার ঢেকে রাখবে।
ঠিক আছে।
বাথরুমে গিয়ে দেখলাম, লাইটটা জ্বালানো, সারাদিন জ্বলেছে। পানির একটা কল হাফখোলা, সারাদিন ঝড়েছে। এবার কষ্ট করে সেটা বন্ধ করে দিলাম। কম্পিউটার চালাতে গিয়ে দেখি সেটাও ওপেন করা। আর একটা বিষয় এখন মনে হলো, আজকে তো ফ্যান আমার চালাতে হয়নি! তারমানে সেটাও চলছিল! আর টিভি?
না মনে পড়ছে না। আজকে গিয়ে যদি দেখি ওটা চলছে তাহলে নিশ্চিত হওয়া যাবে কালকেও খোলা ছিল!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





