somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাগৈতিহাসিক ফাউন্টেন পেন

৩১ শে জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি অদ্ভুত সেই দিনগুলি!
সবেমাত্র পেন্সিল থেকে কলমে প্রমোশন পেয়েছি। কোন ক্লাসে মনে নেই। তবে একদিন বাবা ঝকঝকে উইনসন কলম আর কালির দোয়াত নিয়ে এলেন। কি চমৎকার সে কলমের নিব, সবচেয়ে কম দামের ফাউন্টেন পেন ছিল বোধহয় উইনসন। বাবা ব্যবহার করতেন পাইলট, ইয়থ। আমার প্রথম কাজ হলো পেনটি খুলে নাড়ী নক্ষত্র দেখা। একটা টিউবের মত রয়েছে যা কালি ধারণ করে। সেটা বের করে বারবার দোয়াতের মধ্যে চুবিয়ে আবার কালি বের করা ছিল দারুন মজার।

তারপরে ইয়োথ কলম ব্যবহার করা শুরু করলাম হাইস্কুলে উঠে। প্রতিদিন ক্লাসে যে উইনসন কলমটা নিয়ে যেতাম পরীক্ষার সময় সেটা বাদ। পরীক্ষা মানেই ছিল নতুন কলম, নতুন পেন্সিল আর জ্যামিতি বক্স। এগুলো পাওয়া যেত অবশ্য ফাইনাল পরীক্ষার সময়।

ক্লাস এইট বা নাইনের সময় থেকে মনে হয় ওয়ানটাইম বলপেনের প্রচলন শুরু হয়। ইকোনো তখন তিনটাকা দাম। কিন্তু সেসময়েও পরীক্ষায় ইনকপেনের ব্যবহার হতো। বলপেন আর ফাউন্টেন পেনে হাতের লেখায় একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করতাম। দ্রুত লেখার জন্য বলপেন আর গোটা গোটা অক্ষর আর সুন্দর কালিতে ঝরঝরে লেখার জন্য ফাউন্টেন পেন। কিন্তু পরবর্তী ক্লাসগুলোতে লেখার চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরীক্ষাগুলো বলপেন দখল করে নিল। এমনও হয়েছে ফাউন্টেন পেন দিয়ে লিখতে লিখতে যখন মনে হয়েছে সময় সংকটে ভূগছি তখন বল পেন তুলে নিয়েছি।

স্কুলে ছেড়ে কলেজে ভর্তির পরে আর ফাউন্টেন পেন ব্যবহার করিনি। তারপরে একসময় ভুলেও গেলাম ফাউন্টেন পেন বলে এককালে কিছু ছিল। অতিসম্প্রতি আমার এক বন্ধু বিদেশ থেকে পাইলট কলম পাঠালো। একটা গিফট প‌্যাকেটে চাবির রিং, ওয়ালেটের সাথে একটা পাইলট কলম। পাইলট মানেই আমার মনে হতো ফাউন্টেন পেন। গতকাল আলমারি গোছাতে গিয়ে পেয়ে গেলাম কলমটা। শৈশবের মত সেই এক্সাইটমেন্ট ভর করলো, খুলে দেখতে হবে ভেতরে কি আছে। খুলে ফেললাম, কিন্তু আশ্চর্য্য, এটা ফাউন্টেন পেন নয়, ভিতরে কোন টিউব নেই, রয়েছে কেবল শিশ!
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×