বাজারের ব্যাগ থেকে কয়েকটা কাঠের চ্যালা বেড়িয়ে আছে। শরাফত সাহেব এরপরে ইটের দোকানে গেলেন। ভাঙা খোয়া নিলেন এক কেজি। মাত্র দশটাকা দাম। এরপরে তিনি গেলেন বালু কিনতে। আধা কেজি বালু কিনে বাড়ীর পথ ধরেন। আজকের মত বাজার শেষ।
গৃহিণী বাজারের ব্যাগ খুলে একটা ডিব্বায় বালু ভর্তি করে রাখেন। একমাসের লবণের চাহিদা মেটাবে। খোয়াগুলো ভিজিয়ে রাখলেন ডেসকিতে। নরম হবে। কাঠের চ্যালাগুলো সাইজ করতে লেগে গেলেন। রাতের খাবারে আজকে কিছু সলিড পুষ্টি থাকবে।
কাঠের টুকরো দিয়ে ভাঙা ইটের ভুনা খেলে মোটামুটি দশদিন ক্ষুধা-তৃষ্ণা ভুলে থাকা যায়। শরাফত সাহেব টিভি ছেড়ে নিশ্চিন্তে খবর দেখেন। বাজারের রিপোর্টার ভাঙা ইটের টুকরোর দাম বয়ান করছেন। বালুর সমজলভ্যতায় দোকানীরা এখন প্রায় মাগনাই দিতে শুরু করেছেন বলে জানালেন। চ্যালাকাঠের দামও সহ্যসীমার মধ্যে।
শরাফত সাহেবের দুই সন্তান, রত্না আর বিপ্লব স্কুলের পড়া মুখস্ত করছে। গৃহিনীর চুল বেয়ে অযত্নের কয়েকফোটা ঘাম নামে চিবুকে। গ্যাসের চুলায় ধুয়ো নেই, কিন্তু একটা ঘোরের মত ফুলকি দুলতে থাকে গৃহিনীর চোখের সামনে।
ইটের ভাঙা টুকরো গুলো হাড়িতে দিতেই তিনি একটা অস্বাভাবিকতা টের পেলেন। গরুর মাংশের মত গলে যাচ্ছে। গৃহিনী চোখ ডলেন, ভুল দেখছেন না তো! না। কাঁচা গরুর মাংশের সুবাস ছড়াচ্ছে। তিনি রান্নাঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। কিছু না ভেবে ধূঁয়ে পরিষ্কার করে রাখা কাঠের টুকরো গুলো হাড়িতে ঢেলে দেন। ইটের ভাঙা টুকরোর অভাবনীয় তেলেসমাতির পরে কাঠের টুকরো গুলোও খেলা দেখায়। আলু হয়ে গেল মুহূর্তে। গৃহিনী এবার ভয় পেয়ে গেলেন। গৃহস্বামীকে ডাকেন, ওই রত্নার আব্বা! দেখে যাও জলদি!
শরাফত সাহেব হন্তদন্ত হয়ে রান্নাঘরে ঢোকেন। মায়ের চিৎকারে রত্না-বিপ্লবের পড়াশুনাও মাথায় ওঠে। বাবার পিছুপিছু তারাও রান্নাঘরে ঢোকে। ভুনা গরুর মাংশের সুঘ্রানে মৌ মৌ করছে চারদিক। শরাফত সাহেবের মুখে রা নেই।
গৃহিনী রত্নার বাবার শার্ট ধরে চিৎকার করে। কি হচ্ছে এসব গো!
শরাফত সাহেবের মাথা ঘুরতে থাকে। গরুর মাংশ আলু সহযোগে রান্না হচ্ছে। বাচ্চাকাচ্চাদের হৈহৈ চিৎকারে স্বামীস্ত্রী বেশীক্ষণ বিষ্মিত থাকতে পারেন না। চোখে মুখে আনন্দ চিকচিক করে ওঠে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



