লাঞ্চের জন্য বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসি। তবে কোনদিন দুপুরে অফিসে মিটিং থাকলে লাঞ্চের জন্য দামী রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আসে। এমন সব সংকটের সময় মিন্নাতউল্লাহ আমার ভরসা। দুই খাবারের মধ্যে যেটা খেতে ইচ্ছে করে সেটা রেখে বাকীটা তাকে দিয়ে দেই। অফিসের অনেক পিয়নের মধ্যে রুগ্ন দেখে তাকে বেছে নেয়া। ফলে মিন্নাতউল্লাহ আমার সাথে সুখ দুখের কথা বলে। প্রায়ই টাকা ধার চায়। তার সুখ দুখের কথা, টাকা ধারের নিবেদন কোনকিছুই আমাকে স্পর্শ করে না, এড়িয়ে যাই ভালভাবেই।
আজকে দুপুরে অফিসিয়াল লাঞ্চের বন্দোবস্ত রয়েছে। স্টারের কাচ্চির প্যাকেট। অবশ্য বাসা থেকে খাবারও আনতে পারিনি তাড়াহুড়োতে। দুইপ্যাকেট কাচ্চি মেরে চায়ের কাপটা নিয়ে কিচেনের পাশের বেলকুনির দিকে যাচ্ছিলাম। ওটা আমার ধুমপানের জায়গা। সবার খাওয়া-দাওয়া শেষে মিন্নাতউল্লাহ খেতে বসেছে। চারপাঁচ প্যাকেট কাচ্চি বিরিয়ানি। মিটিং এ যাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল তাদের অনেকেই আসে নি বলে উদ্বৃত্ত রয়েছে। আমাকে দেখে মিন্নাতউল্লাহ মনে হলো চোখ মুছলো বাম হাত দিয়ে।
আমি একটু অবাক হলাম। কি ব্যাপার মিন্নাত?
কিছু না সার।
আরে বলোই না! খেতে বসা কান্না কেন, আমার জানার আগ্রহ বেড়ে যায়!
মিন্নাত বলে, স্যার গতমাসে কোন মাংশ কিনতে পারি নাই বাসায়। বাচ্চাগুলা এক টুকরো মাংশ চোখে দেখে নাই - আর আমি এখন চার পাঁচ টুকরা মাংশ নিয়া খাইতে বইছি!
মিন্নাত! খেতে বসে কাঁদলে এই খাদ্যদানা তোমাকে বদদোয়া করবে! বলে তাড়াতাড়ি ব্যালকুনিতে সেঁধিয়ে যাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



