সুইজ বংশোদ্ভব কানাডীয়ান ফিল্মমেকার বার্নাড ওয়েবার (১) সাতশ ডলার খরচ করে ১৯৯৯ সালে নিউ সেভেন ওনডার্স নামে যে ওয়েবসাইটটি তৈরী করেছিলেন সেটাই এখন বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহাকারী জনগোষ্ঠীর কাছে প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশ্বের ৬৬০ কোটি মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহাকারী ২০ শতাংশ (২) মানে ১৩১ কোটি মানুষ এই ব্যবসার মূল লক্ষ্য। ওয়েবার অবশ্য এই ভাওতাবাজিকে হালাল করার জন্য "নট ফর প্রফিট" ট্যাগ জুরে দিয়েছেন নিউ সেভেন ওনডার্স ফাউন্ডেশনের গায়ে। সাথে মুখরোচক আরো কিছু অফার, যেমন আয়ের অর্ধেক ব্যয় করা হবে নির্বাচিত স্থানগুলোর উন্নয়নে।
পরবর্তীতে, ১৩১ কোটি মানুষের মধ্যে কতজনকে এই ভোটিং ক্যাম্পেইনে সম্পৃক্ত করা গেছে বোঝা যায় দশকোটি (৩) ভোট কাউন্ট হওয়াতে। উল্লেখ্য এই ভোটিং পদ্ধতিটাই এমন যে আমাদের আউজুদ্দিনের মত একজন ব্লগারই দশকোটি ভোট দিতে সক্ষম। বার্নাড ওয়েবারের প্রচারখরচ এতই ব্যাপক যে বিশ্বের মিডিয়াগুলো খুশীতে বাকবাকুম, স্পেশাল নিউজ করে জানাতে লাগলো ইন্টারনেট বেইজড ভোটিং এ সবচেয়ে বেশী ভোট ওয়েবারই সংগ্রহ করেছেন। এ্যাডভেটাইজ, স্পন্সর মিলে বিশাল বাণিজ্য হাতিয়ে ইতোমধ্যে ওয়েবারের নিউ সেভেন ওনডার্সের রমরমা অবস্থা দাড়িয়ে গেছে।
বিশ্বের বেশীর ভাগ মানুষের সম্পৃক্ততা নেই বলে ইউনেস্কো (৪) এই প্রতিযোগিতার সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ২০০৭ এর ২০ই জুন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় এই সপ্তাচার্য প্রতিযোগিতা একটা ব্যক্তিগত উদ্যোগমাত্র যা কেবল ইন্টারনেট সংযোগকারীদেরই মতামত প্রতিফলিত করবে। বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক গবেষণার প্রেক্ষিতে ইউনেস্কো প্রণীত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের যে অন্তর্ভূক্তি রয়েছে তার সাথে ওয়েবারের মিডিয়াটাইসড এই ক্যম্পেইনের কোন তুলনা চলতে পারে না। নিউ সেভেন ওনডার্স সমস্ত বিশ্বের মতামতের প্রতিফলন নয়। যারজন্য কেবলমাত্র ইন্টারনেট ব্যবহাকারী মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচিত এই স্থানগুলো রক্ষায় এই উদ্যোগ আসলে তেমন কোন ভূমিকা পালন করবে না।
ওয়েবার রমরমা ব্যবসার মওকা দেখে সাথে সাথে প্রাকৃতিক সপ্তাচার্য প্রতিযোগিতা শুরু করেন। বাংলাদেশের সুন্দরবন ও কক্সবাজার দীর্ঘসময় লিস্টের প্রথম দিকে থাকাতে বোঝা গেছে এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বিশ্বের অংশগ্রহণই ছিল সর্বোচ্চ। যেখানে মাত্র পয়তাল্লিশ লাখ (৫) ইন্টারনেট ব্যবহাকারী সেই দেশের কোন স্থান এই লিস্টে স্থান পাওয়ার কথা নয়। তদুপরি বিশ্বের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের হাজারো চমৎকার জায়গা ফেলে কক্সবাজার ও সুন্দরবনকে কেবলমাত্র আমরাই হয়তো বলতে পারি এক নম্বর - কিন্তু সেটা অন্ধের হাতি দর্শন ছাড়া আর কিছুই নহে। বড়জোর শ্রেষ্ঠতম নির্বাচিত স্থানের মধ্যে সুন্দরবন ও কক্সবাজার ঠাই করে নিতে পারে, কিন্তু এক নম্বর কখনই নয়।
প্রাকৃতিক সপ্তাচার্য থিম নিয়ে বার্নাড ওয়েবারের এই ব্যবাসয়িক প্রতিযোগিতায় ইন্ধন দেয়ার কোন মানে নেই। মিডিয়া ও সুযোগসন্ধানী কিছু চক্র স্রেফ মুনাফার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচারনা চালাচ্ছে। যে ক্যাম্পেইনে বিশ্বের এক শতাংশ মানুষই সম্পৃক্ত নয়, সে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও এ নিয়ে জনমত সংগঠন করার মত হুজুগে জিগির ওঠানো এখনই রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে স্তব্ধ করা উচিত।
তথ্যসূত্রঃ
১. উইকিপিডিয়া
২. বিশ্বে ইন্টারনেট ইউজারের সংখ্যা
৩. নিউ সেভেন ওনডার্স ওয়েবসাইট
৪. ইউনেস্কো ওয়েবসাইট
৫. বাংলাদেশে ইন্টারনেট ইউজারের সংখ্যা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


