কলুটোলা কাঠের পুল মসজিদে জোহরের নামাজে শেষ দুইরাকাত সুন্নত পড়ছিলাম। সামনে জুতার বাক্স। সুরা পড়তে পড়তে সেদিকে তাকিয়ে ছিলাম। দেখলাম কে যেন আমার জুতা নিয়ে হাঁটা শুরু করলো। আমি নামাজ ছেড়ে দিয়ে ধরলাম তাকে, কই যাও বাপু!
মধ্যবয়স্ক জীর্ণ শীর্ণ মলিন চেহারার মানুষটি একটু কেঁপে উঠলো। তারপর জুতা ফেলে দৌড়। সে জুতার দাম ছিল ৬শ টাকা। ৯০ সালে এই ছিল আমার চরম বিলাসীতা।
স্কুল পেড়িয়ে কেডসের যুগ শুরু হলে দাম ভেরি করতো হাজার টাকার মধ্যে। তারপরে চাকুরী করতে এসে মানুষের পায়ে দুই-তিনহাজার টাকার জুতা দেখে আমি বিষ্মিত - এত দামের জুতা মানুষ কেনে কেন?
জীবনে জুতা পিঠা দিয়েছিলাম একবার। বইমেলায় বন্ধুর স্টল থেকে জনৈক ক্রেতা হুমায়ুন আহমেদের দুইটা বই হাপিস করে দিচ্ছিল। কিন্তু কিভাবে যেন আমার চোখে ধরা পড়ে। প্রকাশনীর মালিক সাথে সাথে চোরের কলার ধরে চড়ানো শুরু করলো। আমার তখন পনের শ টাকা দামের জুতো পায়ে। সদ্য কেনা। শক্ত সে জুতার সোল দিয়েই পিটালাম কিছুক্ষণ। পরে দেখি জুতার সোল গেছে খুলে। তবুও মনে মনে তৃপ্তি ছিল, যাক বাবা জুতার জীবন স্বার্থক।
জীবনে একবার জুতা কপালে পড়তে যাচ্ছিল। অনেক শৈশবে। নানির নেওটা ছিলাম। একবার তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, নানি তোমার দুধু খাবো!
নানি আমাকে ধাক্কা মেরে বললো, সর সর! জুতা মারি তোর কপালে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

