আনিসুল হক আজকে "বাংলাদেশ ডুববে না, ডোবাবেও না" শীর্ষক তার অরণ্যে রোদন কলামে লিখেছেন "বাংলাদেশ ডুবে যাবে - এই প্রচারণায় আমাদের হাওয়া দেওয়া উচিত নয়।" তার কাছে একমাত্র বিশেষজ্ঞ বক্তব্য হচ্ছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেচ ও পানি বিভাগের ড. এম এইচ খানের যিনি বলেছেন, না, বাংলাদেশ তলিয়ে যাবে না।
অথচ বিশ্বের তাবৎ জলবায়ু, পানি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে সবচয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হিসাবে আশংকা করছেন। দেশে তৈরী হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি, এ্যাকশন প্লান। জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্র পৃষ্ঠ কি পরিমাণ বেড়ে যাবে তার সঠিক হিসাব বের করার প্রচেষ্টা। ক্রমশ পরিবর্তনের তথ্য, দীর্ঘ দিনের পর্যবেক্ষণ, জলবায়ুর অন্যান্য বিষয়গুলো নিরূপন করে সঠিক ইনানডেশনের পরিমাণও আমরা জানতে পারবো অচিরে। ইতোমধ্যে অল্প-বিস্তর ডাটা থেকে যে চিত্র বেড়িয়ে এসেছে তাতেই ভয়াবহ অবস্থা। প্রতি বছরের পরিবর্তনগুলো হিসাবে এনে এই চিত্র আরো একুরেট করা সম্ভব। দরকার সরকারের আরো উদ্যোগী হওয়া। সরকার ও জনগণকে বুঝতে দেওয়া আসলে কি হতে যাচ্ছে।
এটা জানা থাকলে সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও মোকাবেলার উপায় বের করা সম্ভব। সমুদ্র পৃষ্ঠ বেড়ে গেলেও যেন বাংলাদেশের ভূখন্ডকে রক্ষা করা যায় তার জন্য হাজারো উপায় প্রয়োগ করা সম্ভব - লুজিয়ানার নিউ অরলিয়ন্সে যে ক্যাটরিনা আঘাত করেছিল সেই শহর সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এখনও অনেক নীচে - কিন্তু প্রায় এক শতাব্দী যাবত টিক আছে বহাল তবিয়তে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সমুদ্র পৃষ্ঠ বেড়ে যাওয়াই বাস্তবতা - এর মোকাবেলায় সরকার ও জনগনকে সচেতন করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার, দরকার মনযোগ প্রদান। সেক্ষেত্রে এটাকে নিছক প্রচারণা হিসাবে খারিজ করে দেওয়ার যে পরামর্শ দিলেন আনিসুল হক তা রীতিমত বিষ্ময়কর। একজন কান্ডজ্ঞানময় লেখক কিভাবে এমন চোখের মাথা খেয়ে বসে থাকেন, আল্লাহ মালুম।
তিনি আরো লিখেছেন, বাংলাদেশ একটা বিরাট বদ্বীপ, এটা গড়ে উঠেছে পলি জমে জমে; হিমালয়ের পানি যতই এই দেশে আসবে, ততই এই দেশ বড় হবে।
সন্দীপ-হাতিয়া সহ বিভিন্ন জায়গাতে যে চর বেড়ে বেড়ে আনিসুল হকের মতে দেশ বড় হয়ে যাচ্ছে সেগুলোকেও সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যে সরকারকে বিভিন্ন কার্যক্রম বহাল রাখতে হচ্ছে সে খবর কি আনিসুল হকের জানা আছে?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



