বাবার বিরুদ্ধে একবার জেহাদ ঘোষণা করেছিলাম। ইন্টারমেডিয়েটের পরে। আলীগড়ে ভর্তি হয়ে এসেছি, কিন্তু তিনি যেতে দেবেন না। বাবরী মসজিদ গুড়িয়ে দিয়েছে, হয়তো মুসলামনদের ধরে ধরে কচু কাটা করবে এই আশংকায়। কিন্তু আমাকে যেতেই হবে, নুর ইসলাম, শিল্পী ভর্তি হয়েছে, আমি কিভাবে না গিয়ে পারি!
একদিন রাতে সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। ইন্ডিয়া যাবো। পাসপোর্ট ভিসা করাই ছিল। ভর্তিও হয়ে আছি। বন্ধুকে সাইকেল দিয়ে এক হাজার টাকা নিলাম। তারপর চাকলাদারের টিকিট কেটে উঠে পড়লাম।
বেনাপোলে পৌঁছে গেছি সাতসকালে। ইমিগ্রেশন শুরু হতে বাকী। নাস্তা সারলাম একটা হোটেলে। হোটেলটার সাথেই একটা পান-বিড়ির দোকান। তখন আমি রীতিমত বিড়ি খাই। ক্যাপস্টান। একটা ধরিয়ে দাড়িয়েছি। সাথে বাসে পরিচয় হওয়া একজন মধ্যবয়সী ভদ্রলোক। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, পান খাবেন?
কি মনে করে হা বললাম। খাবো। পানের দোকানদার একটা পান টান দিয়ে বের করলো সাজানো পানের ডালি থেকে। জিজ্ঞেস করলো, পানে কি খাবেন?
মুখস্থের মত বললাম, খর ছাড়া, হাকিমপুরী জর্দা আর শুকনা সুপারী।
বলেই চমকে উঠি। বাবার মুখটা ভেসে উঠলো। পানের এই কম্বিনেশন তার। হাজার বার তার জন্য খিলি পান আনতে গিয়ে আমাকে এই কথা বলতে হয়েছে। প্রতিবার তিনি আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতেন।
পানটা খেতে খেতে আমি আবার বরিশালের বাসে উঠে পড়লাম।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



