মুনতাজের আল জায়েদী
২৯ বৎসর বয়স্ক জায়িদী মিশর থেকে পরিচালিত ইরাকী স্বাধীন টিভি চ্যানেল আল-বাগদাদিয়ায় ৩ বছর যাবত সাংবাদিকতা করছিলেন। ২০০৫ এর সেপ্টেম্বরে চ্যানেলটির উষালগ্নে জায়েদী সেখানে যোগ দেন। বাগদাদের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজরিত কেন্দ্র রশিদ রোডে অবস্থিত দুই-কক্ষ বিশিষ্ট একটা সুসজ্জিত ফ্লাটে জায়িদীর বসবাস। ঘর ভর্তি আরবী ও ইংরেজী ভাষায় লিখিত রাজনীতি ও ধর্মের বই। দেয়ালে টাঙানো বিপ্লবের প্রতীক চে গুয়েভারার ছবি।
বহুদিন যাবত জায়েদী চেয়ে আসছেন বুশকে জুতাপেঠা করতে, সূত্র
তার বড় ভাই ৩২ বৎসর বয়সী দার্গাম জানিয়েছেন যে আমেরিকার সৈন্যরা তাকে এ বৎসরের শুরুতে একদিনের জন্য আটক করেছিলো। এছাড়া গত বৎসর বাগদাদের প্রাণকেন্দ্র থেকে তাকে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীরা কয়েকদিনের জন্য অপহরণ করেছিলো। যে খবর তখন সারাবিশ্বে তাকে পরিচিত করে তোলে। ইরাকের শিয়া-সুন্নী উভয় সম্প্রদায়ের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা তাকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে বর্ণনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী মালিকের অফিসের একটা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে যে জায়েদীকে ইরাকী কর্তৃপক্ষ আটক করেছে কিন্তু এর বিস্তারিত আর জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা পিটিয়ে তার পাজরের হাড় ভেঙে ফেলেছে। গোটা আরব জুরে জায়েদীর মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে।
জায়েদীর আক্রমণে কেউ আহত না হলেও বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানকে অপমান করার জন্য তার শাস্তি হতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন তা কোনভাবেই ২ বছরের বেশী হতে পারে না। অথবা হতে পারে সামান্য কিছু জরিমানা। তবে আরবে আইকন পরিণত হওয়া জায়েদীর জন্য নিশ্চয়ই রয়েছে আরো বড় কোন উপহার। অবশ্য তার আগে আমেরিকার সিক্রেট এজেন্ট হয়তো জায়েদীকে প্রাণে মারতে না পারলেও জীবনীশক্তি চুষে নেবে।
জায়েদীকে আটক করার মুহূর্ত, সূত্র
কায়রোতে জায়েদীর বস, টিভি অনুষ্ঠানের পরিচালক, মুজহির আল-কাফাজি তাকে বর্ণনা করেছেন একজন গর্বিত আরব ও খোলা মনের মানুষ হিসাবে। কিন্তু এখন তার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
জায়েদী যে বিল্ডিং এ বাস করে সেই একই ভবনে বসবাসকারী তার একজন আত্মীয়া উমমে জামান বলেছেন বহুদিন যাবত জায়েদীর লালিত স্বপ্ন ছিল বুশকে জুতাপেটা করার, শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্ন পূরণ হলো।
বিপ্লবী মুনতাজের আল জায়েদী - বিপ্লবের নতুন প্রতিকৃতি, সূত্র
সূত্র ১ , ২ অবলম্বনে তৈরী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

