রাষ্ট্রপ্রধান বা নেতাদের বক্তৃতা শোনার মত একটা বিষয় হিসাবে যখন আমি আবিষ্কার করলাম - তখন এরশাদের যুগ। ৭ইমার্চ শুনতাম বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, যা একটা স্টান্ডার্ড সেট করে দিয়েছিল। ফলে এরশাদের ভাষণ মনে হলো একদমই থার্ডক্লাস। এরপরে খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনার ভাষণ শুনলাম। শুনলাম শত শত নেতার বক্তৃতা। শেখ মুজিব যে মাটির নেতা, সেই মাটিতে আর কারও বক্তৃতা তার ধারেকাছেও মনে হলো না।
এরপরে বিশ্বের নানা দেশের নেতার ভাষণ শুনলাম। মহত্মা গান্ধী, জিন্নাহ, নেহেরু থেকে শুরু করে আইকনিক নেতাদের ভাষণ শুনলাম। বিভিন্ন ভাষায়, বিভিন্ন দেশের। কিন্তু নাহ! বঙ্গবন্ধুর ভাষণের যে শিল্প তা খুঁজে পেলাম না। এমন ভাষণ কেবল মাত্র হলিউডের ডিরেকশনেরই সম্ভব। ম্যলকম এক্স চরিত্রে ড্যানজেল ওয়াশিংটন অথবা ইন্ডেপেন্ডেন্স ডেতে আম্রিকার প্রেসিডেন্ট। একটা দেশের স্বাধীনতার ডাক দেয়া এমন ভাষণ - পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই যা বঙ্গবন্ধুকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম সেজন্য বৈশ্বিক সেলিব্রেশনের বিষয়। আব্রাহাম লিংকনের জন্মদিনকে নিয়ে উগান্ডায় যদি মিছিল হতে পারে, তবে বঙ্গবন্ধুর এই যুগান্তকারী ভাষণের অডিয়েন্স কেবল বাঙালী নয়, পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ের কথা তিনি উচ্চারণ করেছেন।
স্বপ্ন দেখি তেমন একটা বৈশ্বিক অলঙ্করণের - যেদিন বঙ্গবন্ধু কেবল বাঙালির নয়, পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী জনতার অনুপ্রেরণা হয়ে উচ্চারিত হবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



