বিজ্ঞাপন-১
সাগুফতার। বউ-শাশুড়ির ঝগড়ার পরে বাবা-মা ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। ছেলে ভ্যবলার মত চেয়ে চেয়ে দেখলো। তারপরে একটা বৃদ্ধ-নিবাসের ছবি, বলা হলো বাবা-মাকে আর দূরে নয়, কাছেই রাখুন। সাগুফতা আবাসিক এলাকার বৃদ্ধ-নিবাসে বাবা-মাকে রাখলেই নিজের কাছে রাখা হয়। বিজ্ঞাপনটিতে তৌকির আহমেদ সহ সিনিয়র বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেছেন।
বিজ্ঞাপন-২
প্রাণ ম্যাংগো জুসের। বাচ্চা একটা হকার ছেলে মানিব্যাগ খুঁজে পেলো। মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেবার পরে সে কিছু টিপস দিতে চাইলো। ছেলেটি কেবল দশটাকা নিলো। প্রাণ ম্যাংগো জুস খাবার জন্য।
প্রথমেই এই দুটো এ্যাডের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রদর্শকদের আমি একটা গালি দিতে চাই। পিগ। পিগের বাচ্চা। দুটো বিজ্ঞাপনে বেশ আবেগঘন গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এবং এই গল্পের আবেগ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রডাক্টের আর কোন ফিচার পাবলিকের আসলে নজরে পড়ে না। বিজ্ঞাপন বাজারে আইডিয়া সংকটের প্রকটতা বোঝা যায় সেইদিন থেকে যখন এমন সব তরল আবেগঘন বিষয় নিয়ে বাণিজ্য-বিজ্ঞাপন শুরু হয়। গল্পের সাথে প্রোডাক্টের কোন সংযোগ থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই, কিন্তু যে চিত্র, ঘটনা, মানবীয় অনুভূতিগুলো সামাজিক মুল্যবোধে স্পর্শকাতর ও সশ্রদ্ধ চর্চায় প্রতিভাষিত - তার এমন বাণিজ্যিক চিত্রায়ন একেবারেই অনাকাঙ্খিত।
আলোচ্য এই দুটো বিজ্ঞাপনেই - যা হতে দেয়া উচিত নয়, তেমন বিষয়কে নিরুৎসাহিত করা হয়নি, বউয়ের অত্যাচারে বিতারিত হবেন বাবা-মা - এই পরিস্থিতিকেই বরঞ্চ পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে। বাচ্চা বয়সী হকারের শিশুশ্রম নিয়ে বয়সী মানিব্যাগ মালিকের কোন চিন্তা প্রস্ফূটিত হয়নি। অথচ আমাদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির যাবতীয় মৌলিক কাঠামো ও প্রচার অংশে এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধার হ্যারাসমেন্ট ও শিশুশ্রম বেশ উল্লেখ্যযোগ্য ডিসকাশন টপিক।
এইসব শিল্পী, পন্যের উৎপাদক, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, প্রদর্শক সামাজিক সংকট ও বৈষম্য নিরসনে কোন দায়িত্ব অনুভব করেননি। কর্পোরেট স্যোশাল রেসপন্সিবিলিটির ন্যুনতম সেন্স থাকলেও এমন কুৎসিত, জনমানুষের চেতনা-পরিপন্থী বিজ্ঞাপন বানাতে পারতো না।
উল্লেখিত বিজ্ঞাপন দুটির নির্মাতা, শিল্পী, প্রদর্শকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সেইসাথে পন্যদুটোকে ব্লাক লিস্টেড করারও দাবী জানাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


