somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সচিব মহোদয়ের সালার দৌরাত্মে জানটা ঝালাপালা হইয়া গেলো

০১ লা জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সালাকে হ্যান্ডেল করার জন্য আমারে দায়িত্ব দিয়া বস মোটামুটি নিশ্চিন্ত। কিন্তু এইটা এমন মাল যে লাইত্থাইয়া কবরে শোয়াইয়া দেয়া উচিত। তার দুলাভাই কোন একটা মন্ত্রণালয়ের সচিব। আমাদের অফিসের কাজের সূত্রে সেইখানে যাইতে হয়। সচিব মহোদয় তার সালার জন্য জিওলজিস্ট পদে নেবার অনুরোধ করছিলো। কোন একটা প্রজেক্টে। প্রজেক্ট মানে একটা নিদৃষ্ট মেয়াদে এর স্থিতি, প্রজেক্ট শেষ চাকুরী শেষ। তবে আবার অন্য কোন প্রজেক্টে যদি জিওলজিস্টের দরকার হয় তবে তার আবার চাকুরী হইতে পারে। ঘটনা এইরকম। ম্যানেজমেন্টও সিদ্ধান্ত নিছে সরাসরি না তো বলা যায় না, সেক্রেটারি হয়তো আবার কোন ফাইল আটকাইয়া দিতে পারে, তারচেয়ে যদি প্রার্থী মোটামুটি যোগ্য হয় তবে একটা প্রজেক্টে তারে কিছুদিনের জন্য নিয়া নিতে।

তো তারে যে প্রজেক্টে নেবার জন্য ভাবা হইছিলো সেইটার কন্ট্রাক্ট তখন সাইন হয় নাই। নতুন সরকার - কবে সাইন হবে তাও বলা যাইতেছে না। সেক্রেটারীর সালা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে সেইটা তারে জানানো হইলো। কিন্তু এরপরে চুদিরভাই নিয়মিত ফোন করা শুরু করলো। আমিও নিয়মিত মিষ্টিহাস্যে তাকে একই কথা বলি। সে বলে, আমি তো চাকুরী ছাইড়া দিছি। স্কেফ কোম্পানীতে নাকি ত্রিশ/চল্লিশ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করে। শুইনা কইলাম, পাগল হইছেন নি মিয়া! চাকুরী কনফার্ম না কইরা কেউ চাকুরী ছাড়ে! সে কয়, তিনমাসের আগাম নোটিশ দিতে হয়। আমি কইলাম, কন্ট্রাক্ট সাইন যে তিনমাসের মধ্যে হইবে এরম কোন নিশ্চয়তা নাই। সে কয়, চাকুরী হইবে তো? আমি কইলাম, হইবে নিশ্চিত তবে প্রজেক্টে আর তাও প্রজেক্ট সাইনের পরে।

এরমধ্যে তারে সিভি পাঠাইতে কওয়া হইলো। সে যে সিভি পাঠাইছে তাতে মোটামুটি আমাদের বোঝা হইয়া গেছে যে হালায় জিওলজির জও জানে না। জিওলজিস্ট সিভি পাঠাইছে বাংলায় লিইখ্খা আর তার মধ্যে তার ঔষধ বেচার অভিজ্ঞতার বয়ান। যে গ্রেডের কথা বলছে সেইটা আবার আমি স্কেফ ফার্মাসিটিক্যালস ফোন কইরা জানলাম যে এইটা একটা সেলসম্যানের পোস্ট, বেতন বড়জোর ১২/১৫ হাজার টাকা। তো, যেহেতু সেক্রেটারীর রেফারেন্স এবং এমন একজন সেক্রেটারী যার বিষয়ে সবাই একবাক্যে বলবে হারামাজাদা - তারে তারপরেও ৫মাসের জন্য নেয়ার চিন্তা করা হইলো। যে প্রজেক্টে তাকে নেয়া হইবে বইলা আমরা ভাবছি সেইটাতে জিওলজিস্টের ইনপুট মাত্র পাঁচ মাসের। তাও আবার প্রজেক্ট এরিয়াতে। মানে রাজশাহী অঞ্চলে। ঐ প্রজেক্টর টিম লিডার ভাবলো, এরে দিয়া তো কোন কামই হইবে না, আরেকজন তো নিতেই হবে, সুতরাং তার বেতন থেকে ৮/১০ হাজার টাকা কাইটা এই হালার জন্য বরাদ্দ করা হইতে পারে। এমনিতেই তারে দিয়া বাল ছিড়নের কামও হইবে না। পাঁচমাসে ঐ ১০ হাজার টাকা কইরা ৫০ হাজার টাকই ফিসাবিলিল্লাহ ধইরা নিতে হবে।

তারে সেইটা জানাইলাম যে ৫মাসের জন্য আপনারে নেয়া হইতে পারে, বেতন হইবে ৮/১০ হাজার টাকা, থাকতে হইবে ফিল্ডে। সে সেইটা শুইন্না কয় তাইলে প্রজেক্টের শেষে কি করুম, আমি কই, এইটা আপনার ব্যাপার। তারপরেও তার উৎসাহ কমে না। ত্রিশ/চল্লিশ হাজার টাকা বেতন ছাইড়া খন্ডাকলিন একটা জবে কেন সে আইবে সেইটা খালি ফোন কইরা বলে। আমিও কই, তাইতো, কেন আইবেন! কিন্তু তারপরেও কবে কন্ট্রাক্ট সাইন হবে, কবে সে জয়েন করতে পারবে এইসব খালি অনবরত জিগাইতেই থাকে - আর আমিও টেপরেকর্ডারের মত একই কথা বলতে থাকি।

তারপরে একসময় প্রজেক্টটা সাইন হইলো। ইতিমধ্যে চারমাস অতিবাহিত হইয়া গেছে। তারে ডাকা হইলো ইন্টারভিউএর জন্য। সে অবাক হইয়া কয়, আবার ইন্টারভিউ লাগবে, চোদনা হালায় ভাবছিলো আইবো আর চাকুরী হইয়া যাইবো। বুঝাইয়া কইলাম যে অফিসের একটা প্রসিডিউর আছে, প্রজেক্টের জব ও আমাদের এইচআরডি মারফত যাইতে হবে। ইন্টারভিউ কমিটি হবে, তারা রিটেন নিবে, ভাইবা হবে - তারপরে সেইটা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে - তারপরে নিয়োগ।

গত সপ্তাহে তার ইন্টারভিউ হইলো। তিন জন জিউলজিস্ট সহ পাঁচজনের একটা বোর্ড তার ভাইভা নিলো। ভাইভার পরে কোন বোর্ড মেম্বারই ইভালুয়েশন সিট জমা দেয় না। আমার কাম ছিল নন-টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন। সানন্দে সবগুলা প‌্যারামিটারে জিরো দিলাম। ক'দিন আগের ঝড়ের নাম কি জিগাইলে কইলো, পেপারে নামটা পড়ছিলাম। তো আমি যদিও জিরো দিয়া ইভালুয়েশন সিট জমা দিয়া দিছি - অন্যান্যরা জিরো দিতেও চাইতেছে না। তাদের বক্তব্য এইটার কোয়ালিফিকেশন হইলো মাইনাচ-জিরো। কিন্তু সেক্রেটারীর সালা বইলা কিছু লিখতে ভয় পাইতেছে।

আইজকা আবার ফোন করছে। বস আমারে কইলো তারে জানাইতে যে রেজাল্ট খুবই পুয়োর হইছে, তারপরেও তারে ঐ আগের কন্ডিশনেই নেয়া যাইতে পারে। ৫ মাস এবং ফিল্ডে, বেতন দশ হাজার। শুইনা কয়, ৫মাসের জন্য কেন আমি সেইখানে জব করবো। তারপরে আরেকটু রাইগ্গা কয়, আপনার বস তো আমার ক্যারিয়ার নষ্ট কইরা দিলো। আমার দুলাভাই বিষয়টা নিয়া প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলবে।

শুইন্না মেজাজটা এতো খারাপ হইলো - ৫মাস যাবত ধৈর্য্যের চরম পরীক্ষার অবসান ঘটানো বাধ্যতামূলক মনে হইতেছে। ফোন হোল্ড কইরা, বসের রুমে গিয়া এই কথা কইলাম, বস কইলো, ওবামার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন - আর একটা রিগ্রেট লেটার পাঠাইয়া দেন। আইসা কইলাম, ভাইজান, আপনি খুবই একটা খারাপ কথা বলছেন, যার ফলে আপনার ৫মাসের জন্য চাকুরীটাও দেয়া যাইতেছে না। শুইন্না কয়, আমার তো ক্যারিয়ার শেষ - প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দুলাভাই নালিশ দেবে।

ইচ্ছে হইতেছিলো পাছায় একটা গদাম লাথি দেই। কিন্তু অফিস ডিকোরাম বইলা কথা, ফোন কাইটা দিলাম।

বিদ্রঃ ব্যানের ভয়ে কিছু কুশীল শব্দ বিয়োগ করাহ হইলো।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০০
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×