সামনের মাসে জেআরসির (জয়েন্ট রিভার কমিশন/যৌথ নদী কমিশন - বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের অভিন্ন নদী বিষয়ক একটা সংস্থা) মিটিং হতে যাচ্ছে। ২৪ তারিখের ইত্তেফাকের নিউজে এসেছে এই মিটিং এ সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি চূড়ান্ত করা। তিস্তায় কি পরিমাণ পানি প্রবাহ রয়েছে সেটা আমার জানা নেই (ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং/আইডব্লিউএম এর কাছে থাকার একটা সম্ভাবনা আছে) তবে তিস্তা থেকে কি পরিমাণ পানি আমাদের পেতে হবে তার একটা ধারণা দেয়া হয়েছে নিউজটাতে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা থেকে কমপক্ষে ৩ হাজার কিউসেক পানি দরকার আমাদের তিস্তা সেচ প্রকল্প চালু রাখার জন্য। এই প্রকল্প উত্তরাঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য অতীব প্রয়োজন কারণ প্রকল্পের আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের বেশীরভাগ কৃষি জমি এবং উক্ত জমিতে ফসল উৎপাদনের জন্য তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই।
ঐ একই তথ্যানুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে দেড় হাজার কিউসিক পানি পেলেও রেশনিং করে কোনভাবে প্রকল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই অনুমান করা যায় এর কম পানি পেলে এই প্রকল্পের আওতাধীন কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন অসম্ভব। এবং ফসল মানে ধান, রবিশষ্য, শবজী যদি উৎপাদন করা সম্ভব না হয় তাহলে পরিস্থিতি দুর্বিসহ হতে বাধ্য। মৌসুমী দুর্ভিক্ষ বা মঙ্গা দেখা দেবে স্বাভাবিকভাবে। জমি আছে কিন্তু ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে না, যেখানে মানুষের একমাত্র অবলম্বন কৃষিকাজ সেখানে এর চেয়ে ভয়াবহ অমানবিকতা আর কিছুই হতে পারে না।
খুবই বিক্ষুব্ধ হবেন এটা জেনে যে গত বৎসর শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা থেকে মাত্র ৪০০ কিউসেক পানি পাওয়া গেছে। এখন সহজেই অনুধাবন করতে পারেন উত্তরাঞ্চলে জনজীবনের জন্য অভিশাপ হিসাবে যে পিরিওডিক্যাল মহামারী দেখা দেয় তার কারণ কি।
জেআরসির সূত্রমতে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত তিস্তা পানি বন্টন চুক্তিতে তিস্তার পানি সমান সমান ভাগের কথা বলা হয়েছে। ২০ শতাংশ নদীর জন্য রেখে ৪০% করে এ একটা দেশ পাবে। যদি এই চুক্তির বিষয়ে ভারত একমত হয় তবে প্রধানমন্ত্রী সামনের মাসে ভারত সফরের সময় চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন। কিন্তু ভারত যদি রাজী না হয়? জেআরসির সভায় হয়তো বোঝা যাবে ভারতের অভিরুচী।
তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য জেআরসির মিটিং এর সাথে সাথে একটা শক্তিশালী প্রেশার গ্রুপ তৈরী করা উচিত যারা বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশে তিস্তা অববাহিকার মানুষের ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরবেন। অন্যথায় এই মহাবিপর্যয়ের পরিনতিতে যে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অস্থিরতা তৈরী হবে তার হাত থেকে পাশ্ববর্তী দেশও কোনভাবে নিরাপদ থাকার চিন্তা করতে পারে না। তিস্তার পানির মালিক ভারত একা নয়, বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি আমাদেরকেই গ্রহণ করতে হয়, ভারত চাইলেও সে পানি নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না। প্রকৃতির এই পরিনতি যখন আমরা বাই ডিফল্ট ভোগ করে ভারতকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করি, তখন শুষ্ক মৌসুমে সে পানির উপরে ভাগ বসানোর কোনো অধিকার ভারতের থাকতে পারে না। তারপরেও আমরা চাচ্ছি অর্ধেক মাত্র!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




