বিখ্যাত দার্শনিক রিডিকিয়াল মার্ভেজ বলেছিলেন, "বইমেলায় প্রকাশিত বেশীরভাগ বই মেলার বাইরে আর যেতে পারে না"। প্রত্যেক বছর বইমেলা শেষ হলে ইচ্ছে করে সামনের বছর একটা-আধটা নিজের বই না হলে আর না। আমি যে আসলে বিশাল লেখক এটা বুঝাবার জন্য বইয়ের চেয়ে বিকল্প যে পদ্ধতিটা আছে সেটা হলো মাইক নিয়ে বই মেলায় চিৎকার করে নিজের বিশালত্ব জানানো। তবে এ পদ্ধতি বেশী যুৎসই মনে হয়না নানা কারণে। প্রতিষ্ঠিত লেখকরা - মাইক নিয়ে প্রচার করার বিষয়ে আপত্তি দিতে পারেন, অথবা তারাও শুরু করে দিতে পারেন। তখন দেখা যাবে পুরো মেলা জুরে কেবল অমুক, তমুকের মাইকের ছড়াছড়ি।
যদিও কিছুটা এমন না হলেও এখন মাইকেই বেশী প্রচার হচ্ছে লেখকের নাম। কলরেডির মাইক ছাড়াও আছে টিভির মাইক, রেডিওর মাইক এবং জ্যন্ত মানুষের ভোকাল মাইক। এভাবে নাম প্রচার হচ্ছে, বই প্রচার হচ্ছে। এবং অমুকতমুকের নাম শুনে, কিছু বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টে যখন চলে যাই - তখন মনে হয় আমার জন্য তো এমন নিয়তিই অপেক্ষমান। অন্যরা বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টে - কেনবো পরে, খুবই ভাল হয়েছে, এমন আশ্বাস বানী দিয়ে চলে যাবে। এখন যেমন তাকে বললাম, বই মাগ্না দে, তাকে বললাম, তোর বই কিনতে হবে কেন?, ওকে বললাম, মামা পরে তো ঘরেই রাখবা সব কপি - তখন একটা দিও, এসবও আমার কপালেই জুটবে। বন্ধু-১ কে বলবো রিভিউ লিখে দে, বন্ধু-২ কে বলবো পত্রিকায় একটু উঠায়া দে, বন্ধু-৩ কে বলবো কয়েকটা বই বিক্রি করে দে, বন্ধু-৪ কে বললো, সালা গত বছর তোর বই কিনছিলাম না!
এসব দেখে বই তো দূরের কথা বইয়ের প্রচ্ছদ বের করার দুঃস্বপ্নও দেখি না। বইমেলায় সবার বই দেখি আর নানাধরণের মাইকে সবার বইয়ের বিজ্ঞাপন শুনে মনে হয় - আহা! বই বেচা কি কষ্টের!
ভুল স্বীকারঃ রিডিকিয়াল মার্ভেজ নামে কোনো দার্শনিক জন্মান নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


