দুবাই টাইম রাত দুটা। হোটেল মিলেনিয়ামের যাবার অপেক্ষায়। এমিরেটসেরই হোটেল। ৭/৮ মিনিটের বাস রাইড। এয়ারপোর্ট থেকে বের হবার শেষ মাথায় বসে আছি। হোটেলের একজন এক্সকিউটিভের সামনে। প্যালেস্টাইনী ইব্রাহিম, সাত আট বছর যাবত দুবাই আছে। বিগত ৬ বছরে একবারও বাড়ী যেতে পারে নাই। জিজ্ঞেস করলো, আপনাদের আই স্ক্যান করতে হয়েছে না? হয় নাই মানে,ঘন্টাখানেক লাইন ধরে চোখের পরীক্ষা দিলাম, অবশ্য পরে আবিষ্কার করলাম তখন যে চশমাটা খুলে রেখেছিলাম পরীক্ষাগারের টেবিলে -ওটা সেখানেই রয়ে গেছে।
ইব্রাহিম বললো, কিছুদিন আগে ইজরাইলী গোয়েন্দাদের হাতে দুবাইতে যে হত্যাকান্ড ঘটলো তার পরে দুবাই কর্তৃপক্ষ ভীষণ কড়াকড়ি আরোপ করেছে। প্যালেস্টাইনে ঢোকা তার পক্ষে একদমই সম্ভব হচ্ছে না, ইজরাইলীও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। কিন্তু ভূগত হচ্ছে সাধারণ ট্রাভেলারদের!
তবে ইব্রাহিম মাই ব্রাদার বলে বেশ আলাপীয় হয়ে উঠলো। কোথায় যাচ্ছি ইত্যাদি জানাতে সে ব্লগিং কি জানতে চাইলো, এবং শুনেটুনে বললো এটা তো আমার সবচেয়ে বেশী দরকার। গুগলে ব্লগ লিখে সার্চ দিতে বললাম।
দুবাইয়ের ট্রাফিক চলে আম্রিকান স্টাইলে - রাস্তার ডান পাশ দিয়ে। এয়ারপোর্টের আশেপাশে কোনো হাইরাইজিং দেখলাম না। আর যে বিশাল এয়ারপোর্ট - মানে এটা নিজেই একটা শহর। কি নাই? জায়ান্ট এলিভেটর, লিফট আর ডিউটি ফ্রি শপ। এয়ারপোর্ট থেকে বেরুলেই পড়বে অসংখ্য ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস। তবে সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো যতটুকু শহর দেখলাম - এর মধ্যে প্রচুর উপমহাদেশীয় চেহারা চোখে পড়লো। আরবদের তিনধরণের গাত্রবর্ণ রয়েছে মনে হলো। স্বেতাঙ্গ, উপমহাদেশীয় এবং ব্লাক। অনেক আরবের উপমহাদেশীয় বর্ণ কিন্তু কেতারদুরস্ত আরবীয় পোষাক আর সুস্বাস্থ্য দেখে আলাদা করে ফেলে যায়। কিন্তু পিউর উপমহাদেশীয়দের বোঝায় উপায় কনস্ট্রাকশন সাইটের শ্রমিক, গাড়ীর ড্রাইবার, গার্ড, ক্লিনার - এসবই। ইব্রাহীমের বক্তব্য মতে দুবাই শহরে নাকি ৭৫% ইন্ডিয়ানের বাস। হয়তো সে বাড়িয়ে বলেছে। তবে হোটেলের টিভিতে দেখলাম ডিডি নিউজ রয়েছে, শ্রীলংকার একটা চ্যানেল আছে। আছে কোরিয়া, চাইনিজ চ্যানেল। পাকিস্থানের তো আছেই। কিন্তু বাংলাদেশের চ্যানেলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেলো না।
সকালে একটা হেভি ব্রেকফাস্ট মেরে দিলাম কমপ্লিমেন্টারি। রাতের ঘুমটাও হয়েছে চুশত। এখন প্লেনে উঠে দুটো চিপ মেরে বুদ হয়ে থাকবো ১৭ঘন্টা। যাজাকুল্লাহ খায়রুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

