কেউ সুইসাইড করেছে শুনলেই মাথায় রক্ত উঠে যায়। যদি জানতাম আগে তবে পিটিয়েই মেরে ফেলতাম হয়তো। মানুষ কেনো সুইসাইড করবে? এমনিতেই তো মারা যাচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে। তবে কেনো এত ঢঙভঙ করে সুইসাইড খেয়ে পৃথিবীকে দেখে নেয়া? ভাবটা এমন ইচ্ছে করলে অমর হতে পারতাম!
একসময় আমার সুইসাইড খেতে ইচ্ছে করতো। তখন মনে হতো এটা বোধহয় বেশ আরামপ্রদ কোনো এডভেঞ্চার হবে। দেখলাম এই ভাবটা উদয় হয় তীব্র কোনো অভিমানের ফলে এবং যা হাস্যকরভাবে কোনো মানবসন্তানের জন্যই।
পৃথিবীতে কোনো মানুষ প্রকৃতির উপরে রুষ্ট হয়ে সুইসাইড করেছে কিনা আমার জানা নেই। তবে তীব্র শারিরীক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে কেহ কেহ সুইসাইড করে থাকে। কোনো কোনো দেশে আইন তৈরী হয়েছে লাইফ সাপোর্ট যন্ত্র অপসারণের - যা তাকে স্বেচ্ছামৃত্যু দেবে।
কিন্তু সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর তাবৎ আত্মহত্যার (ধরুন পরিমাণটা ৯৯.৯৯%) কারণ মানুষের প্রতি তীব্র রাগ বা বিরাগ। এটা কোনো কথা হলো? একটা মানুষ কখনই নিদৃষ্টভাবে অন্য মানুষের জন্য এতটা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে না। কোনো মানুষই এমন হয় না। একবার নিজের দিকটা ভাবুন, আপনার জন্য কে আছে এমন যে বিসর্জন দেবে নিজের জীবন? মনে হতে পারে এপারেন্টলী, কিন্তু রিয়েলিটি বহুত যোজন দূরে, কেউ দেবে না! কেবল আপনার জীবনটাই গচ্ছা যাবে।
মানুষের এই ইচ্ছামৃত্যুর ধরণ দেখে আমি ধারণা করি সে হয়তো মস্তিষ্ক বিকৃতির শিকার হয়েছিলো। সুস্থ্য মস্তিষ্কে কোনো মানুষের পক্ষে সুইসাইড খাওয়া সম্ভব না। একমাত্র পাগল হলেই সম্ভব এবং পাগলামীর পর্যায়টা এমন স্তরে পৌঁছে গেলে যেখানে থেকে আর রিকভারী সম্ভব না। মানে তার আসল মৃত্যুটা ঘটে গেছে ঐ মস্তিষ্ক বিকৃতির সাথে সাথেই। ফলে শরীরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা বা না রাখার কোনো মানে থাকে না।
যাদের আমরা মস্তিষ্ক বিকৃতি দেখি তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো সুইসাইড স্তরে পৌঁছে গেছে। তবে আমার ধারণা সুইসাইডাল স্তুরের বিকৃতি ঘটার পরে কোনো মানুষের বেঁচে থাকা ক্ষণস্থায়ীই হবে। তবে পাগলামীর মাত্রা কম হলে তারা হয়তো বেঁচে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সুইসাইড করতে উদ্যত মানুষকে কোনোভাবে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব কিনা! কোনো আইন বা শাস্তি সেজন্য কার্যকরী না হবারই কথা। তবে সেই সুতীব্র নিয়ন্ত্রণহীন মানসিক অবস্থিতির মাত্রা খুব স্বল্পই হবার কথা, মরতে হলে সে সময়ের মধ্যেই মরতে হবে, নইলে........
আমাকে একটু খবর দিয়েন। পিটিয়ে মেরে ফেলবো। মানুষ প্রচন্ড প্রত্যাশা নিয়ে বাঁচতে চেয়েও বাঁচতে পারছে না যেখানে, সেখানে কেউ মরতে চাইলে আমাদের উচিত যথাশীঘ্র তার মৃত্যুর আয়োজন করা।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



