somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাবলো নেরুদার দেশে - ৪

০৯ ই মে, ২০১১ সকাল ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাওপাওলো থেকে সান্তিয়াগোর ফ্লাইটে উঠে মেজাজ গরম করে চাইলাম বিয়ার। ততোধিক মেজাজ গরম করে এয়ারহোস্টেজ জবাব দিলো, ঠু আর্লি ফর বিয়ার। এবার আরেককাঠি গলা চড়িয়ে বললাম, লাস্ট ৩৫ আওয়ারস ইন ফ্লাই...ডুনট ফা.... উইথ মি! ছোট্ট একটা প্লেন - জিএমজির ঢাকা-কোলকাতা ফ্লাইটের মত, তার উপরে এয়ারহোস্টেজ সবগুলা বুড়া। আমার কাছে মিরপুর গুলিস্থানের কন্ডাকটরদের মত মনে হচ্ছিলো। ঝাড়ি খেয়ে বললো, কাম উইথ মি। নিয়ে গেলো পেছনের কিচেনে। দাড়িয়ে দাড়িয়ে দুটো বিয়ার শেষ করেই বাথরুমে গেলাম ডিপোজিট করতে। তারপরে মনে হলো প্লেনটার দিকে নজর দেয়া যায়। সাওপাওলো থেকে উড়াল দিয়ে আর্জেন্টিনার উপর দিয়ে সরু স্ট্রিপের মত চিলির দিকে যেতে যেতে পথে পড়বে দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ মাউন্টেন রেঞ্জ এনডেজ। পুরো প্লেন জুড়ে অপরিচিত বর্ণের মানুষ, বিচিত্র ভাষার ঝংকার। আমার পাশের সিটের ভদ্রলোক কিছুক্ষণ পরেই ভাঙা ইংলিশ বললো, গত বছর আমি ইন্ডিয়া গেছিলাম। সে জাহাজে চাকরী করে। চিটাগং ছিলো দশপনেরো দিন। শুনেই আমি লাফ দিয়ে উঠলাম। আরে...আমি তো বাংলাদেশ থেকে! শুনে সেও ফাল মেরে উঠলো...ওয়াও....তারপরে নানান প্যাচাল। চিলি সম্বন্ধে মোটামুটি একটা ধারণা সে দিয়ে ফেললো। তারমধ্যে প্রথম সতর্কবাণী হলো, ডাউনটাউনে ছিনতাই হয়, অতএব ক্যামেরা নিয়ে সাবধানে থাকতে হবে! স্কুডো, দি চিলিয়ান বেস্ট বিয়ার - আর যদি ঐসবের ইচ্ছা থাকে তবে সেইসব জায়গায় যাবার ঠিকানা।

আমার সিটটা সেফটি সিটের পাশে। হোস্টেজ বললো, আপনি তো ড্রাংক - এই সিটের কিছু স্পেশাল রিকয়ারমেন্ট আছে, এই করতে হবে - সেই করতে হবে - ইন কেস যদি ফ্লাইটে ঝামেলা হয়। বললাম, তফাৎ যাও - আই ক্যান হ্যান্ডেল দিস! তারপরে সামনের খোলা জায়গায় পা ছড়িয়ে এন্ডেজ পর্বতমালা দেখতে দেখতে, কোনো ধরণের ক্রাস ল্যান্ডিং ছাড়াই সান্তিয়াগো পৌছে গেলাম। এ্যাজ এক্সপেক্টেড এয়ারপোর্টে বিশাল লটরবটর সহ সামিটকারীদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ এবং এতদিন ভার্চুয়াল চেহারার পরিচিত মানুষদের দেখে - আরে তুমি তো অনেক প্রিটি, তোমার মুখটা এমন শুকনা কেনো......লম্বা জার্নি, কে স্প‌্যানিশ জানে, এক ডলারে কত পেসো...হোটেলের ঠিকানা কার কাছে এসব আলাপ-টালাপ সেরে হোটেলে এসে ঢুকতে পারলাম।



সান্তিয়াগো এয়ারপোর্টে নেমে লাস্ট সিগারেটটা ফুকে, হোটেলে এসে দৌড়ে নামলাম রাস্তায়। তখন বিকেল ৫টা। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অনেক উচুঁতে শহরটি বলে বাতাসে উষ্ণতার পরিমাণ বেশী। মুখটা কেমন ড্রাই ড্রাই লাগছিলো। সেই সাথে একটা শীতেল ব্যাপাস্যাপার। এই ওয়েদারের সাথে আমার শরীর কস্মিনকালেও পরিচিত হয়নি। ফুয়ানদর হোটেলে রুম বরাদ্দ পেতে আধা ঘন্টা লাগবে। বিশাল কিউ। রাস্তায় নেমে এক প‌্যাকেট মার্লবোরো কিনলাম ২০০০ পেসো দিয়ে মানে চার ডলারের মত। প‌্যাকেটের গায়ে বীভৎস ছবি, অক্সিজেন মাস্ক পরিহিত একটা বাচ্চার অপারেশনের। দেখে সিগারেট খাওয়ার আনন্দ গেলো মাটি হয়ে। সিগারেট ধরাতে গিয়ে দেখলাম পকেটের বাংলাদেশী ম্যাচে কোনো কাঠি নেই। দোকানীর কাছে ম্যাচ চাইলে সে ম্যাচলাইট দিলো - ২০০ পেসো। কিনতে হবে। কিনে সিগারেট ধরিয়ে সামনের রাস্তায় এসেই চোখে পড়লো চিলি ইউনিভার্সিটি।




জায়াগটাকে বলা হয় সেনত্রো - মানে সেন্টার। আশেপাশে প্রেসিডেন্ট প্যালেস, টাওয়ার, আর ইউনিভার্সিটির বিশাল ক্যাম্পাস। যত্রতত্র হাঁটাহাটি করে মনে হলো - কি শুনে এলাম আর কি দেখছি। চিলি সম্বন্ধে আমার ধারণা ছিলো - থার্ড ওয়ার্ল্ডের কোনো দেশ হবে। দরিদ্র আর ক্লিষ্ট চেহারা দেখবো চারদিকে।




কিন্তু ভুল ভাঙা শুরু হলো বেসিক্যালী ব্রাজিলে বসেই। ব্রাজিলকেও ভেবেছিলাম অনুন্নত কোনো দেশ। সাউথ আমেরিকান ভূগোল এবং অর্থনীতি সম্বন্ধে আমার আইডিয়া ভাগ্যিস কারো সাথে আগে শেয়ার করিনি। প্লেনে জাহাজী ক্রু সেই সহযাত্রী বলেছিলো, ব্রাজিলের পরেই চিলির অবস্থান ইকোনমিক পাওয়ার হিসাবে ইন সাউথ আমেরিকা। শুনে একটু নড়েচড়ে বসলেও সান্তিয়াগো এয়ারপোর্ট থেকে সেনত্রো পর্যন্ত যতটুকু দেখলাম তাতে নতুন ধারণা গঠিত হয়ে গেছে। গোত্র ও ভাষাভাষিতে স্পেনের একটা খন্ড বলে আপাত প্রতীয়মান হলেও চিলি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিধর অর্থনীতির দেশ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১১ সকাল ১০:৫৬
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×