রাষ্ট্রের সাফল্য গাঁথা শুনলাম। এখন ইচ্ছা করছে ব্যর্থতাও জানতে। প্রধানমন্ত্রী যদি জাতির উদ্দেশ্য অন্য একটা ভাষণ প্রদান করে জানাতেন:
১. টিপাইমুখ বাঁধের প্রতিবাদ করছি আমরা, এই বাঁধ প্রতিহত করার জন্য আমরা যা করার সবই করবো, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ বলে আমরা তাদের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবো, একই সংগে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশেগুলোকে আমাদের দাবীর পক্ষে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে ক্যাম্পেইন চালাবো। দেশের মানুষ টিপাইমুখ বাঁধ চায় না, আর আমি তাদের নেতা হিসাবে আমিও এই বাঁধ হতে দিতে পারি না।
২. তিতাস নদীর উপরে বাঁধ দিয়ে আমরা গর্হিত অপরাধ করেছি। আমাদের সময় নেয়া উচিত ছিলো, অবকাঠামো উন্নয়ন করা উচিত ছিলো, শুল্ক ও কর ঠিক করা উচিত ছিলো - তারপরে ভারতীয়দের ট্রানজিট দিতে পারতাম। যাইহোক ভুল থেকে আমরা শিখি - এখন আমরা তিতাস নদীকে পুনর্জীবন ও ট্রানজিটকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার দিকেই দৃষ্টি দেবো। দেশের জনগণ আমার উপর আস্থা রাখুন।
৩. সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে প্রতিটা বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী হত্যার বদলে একজন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী হত্যাকে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করবো। হত্যার প্রতিশোধ যে নিতে পারবে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেয়া হবে।
৪....
৫....
ইত্যাদি
মাত্র এই ব্যর্থতাগুলো স্বীকার করে শক্তিশালী সদিচ্ছার কথা যদি প্রধানমন্ত্রী জানান জাতিকে পুনরায় প্রদত্ত এক ভাষণে - আমি নিশ্চিত সেটাই হবে সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়কোচিত অবস্থান। জনপ্রিয়তায় তিনি ছাপিয়ে যাবেন স্মরণকালের যেকোনো নেতাকে।
প্রধানমন্ত্রী - সুযোগটা নিয়ে ফেলুন! আপনার পিতার মত ইতিহাস তৈরীর এই-ই সুবর্ণ সুযোগ, বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই যে আপনার যাবতীয় ক্রেডিবিলিটি - সেটা ভেঙে একবার নিজের পরিচয় নির্মাণ করুন, যেখানে মানুষ আপনাকে স্মরণ করবে আপনার নিজ নামে, বঙ্গবন্ধু কন্যা বলে আর পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

