আসিফ নজরুল আওয়ামী লীগের ভেতরের নানা মত-পথের খবর হয়তো জানেন। অনেক মাইক্রোস্কপিক স্বার্থ বাজির ধান্দা হয়তো বুঝতে পারেন। ফলে তিনি যা বোঝেন এবং বলেন তার সাথে জনমানসের চিন্তার সমন্বয় হবেই সর্বদা বিষয়টা ঠিক নহে, তিনি এক বিচ্ছিন্ন গ্রহে, এক বিচ্ছিন্ন গবেষকের অবোধগম্য ভাষায় জনগণের কাছে হাজির হয়ে পড়েন। মিডিয়ার কল্যাণেই। বুঝতে হবে এখনও মিডিয়ার এসব টকশোর দর্শক তারাই যারা জনমত সংগঠনে ভূমিকা রাখে।
পৃথিবীর তাবৎ দার্শনিকেরা ব্যাখ্যা করে গেছেন জীবনের বহমানতা ও এর পেছনের আদি কোনো উৎস বা কারণ সম্পর্কে। যখন যিনি ব্যাখ্যা করেছেন - তিনি নতুন কোনো চিন্তার স্ফুরণ ঘটিয়েছেন। বিষয়টা এমন এক জটিল জীবন-রহস্যের যে নতুন তত্ত্ব এসে হাজির হয়েছে একের পিঠে আরেক।
যুদ্ধাপরাধ এমন কোনো দর্শনের বিতর্ক নয়। যুদ্ধাপরাধ ওপেন ডে লাইটে কোটি কোটি বিশ্ববাসীর সামনে মঞ্চস্থ একটা ব্রুটাল ট্রাজেডি। এর পেছনের কারিগরদের দর্শন-তত্ত্ব আর এর শহীদ আত্মার হ্যাভেনলী ডায়লগ নয়। এটা ব্রুটালীটির ও এর প্রতিশোধের বাস্তবতা।
যুদ্ধাপরাধ এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ, এর সাথে কোনো মানবীয় সম্পর্কের আখ্যান নেই। পিতা, পুত্রের জোটবদ্ধতা নেই। যুদ্ধাপরাধ সমাজে সকল অন্যায়ের সর্বোচ্চ শীর্ষ - সেখানে পরিস্কার পাটাতনের বিচার আশা করা অব্যাখ্যায়িত দর্শনের কূটচাল।
ধুম্র উঠতে থাকুক আসিফ নজরুলদের প্রতি-ব্যাখ্যার চুল্লি থেকে - সে সব হাওয়ায় উড়ে যাবে। সাধারণের কাছে কেবল পৌঁছাবে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হয়েছে - কলঙ্ক মুক্ত হয়েছে জাতি, এই সংবাদটুকু।
আসিফ নজরুল যুদ্ধাপরাধ বিচার ইস্যুর গড় প্রতিপাদ্য থেকে স্পষ্টতই বিচ্যুত। বিচারক ও ট্রাইবুনাল কোনো সমাজেরই নির্ভুল ব্যবস্থাপনা হতে পারে না - কিন্তু তারপরেও আস্থা সেখানেই রাখতে হয়। আসিফ নজরুল তীর ছুড়ছেন - এর লক্ষ্য আইনী জটিলতার কেন্দ্রভূমি, তো মারুন না প্লিজ সেখানে গিয়ে। শুধরে দিন।
যখন জনতার মঞ্চে বলছেন, তখন জনতার অভিঘাত কে অ-স্বতস্ফূর্ত ভাবার কোনো কারণ নেই, পাটকেলটিও মেনে নিতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


