somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এভারেস্ট দেখতে চাই

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এভারেস্টকে দেখে আমার আনন্দ হয় শুধু, ভয় হয় না। সরাসরি পাহাড়টার নিচে দাঁড়িয়ে দেখি নি বলেই বোধহয়। তবে কাঠমান্ডু থেকেও দেখি নি। অথচ আমি জানতাম কাঠমান্ডু থেকে এভারেস্ট দেখা যায়। কি ভুল জানতাম! কাঠমান্ডু নামার পরেও আমার ভুল ভাঙেনি। হোটেলে যাবার পথটুকুতে গাড়ি থেকে অতিদূরে অণুবীক্ষণী দৃষ্টি ছুড়েও আমি এভারেস্টের কোনো টিকিটি বের করতে পারি নাই। আশায় ছিলাম শহরের কোনো না কোনো স্থান থেকে দেখা যায়, নইলে কাঠমান্ডুতে মানুষদের চলবে কিভাবে। বা কাঠমান্ডুতে কেনোই বা মানুষজন আসবে। মোটেই আকৃষ্ট করার মত শহর মনে হয়নি আমার কাছে - একমাত্র পাহাড়ের মাঝে একটা বিশাল ভ্যালি যদি কাউকে আকৃষ্ট করে; আমাকে অবশ্য ভ্যালিও আকৃষ্ট করেনি।

পরে জানলাম একমাত্র নাগরকোট থেকে দেখা যেতে পারে, অনেক আশাভঙ্গের পরে। একদিন, নেপালে যাবার বেশ কিছুদিন পরে, কাঠমান্ডু ভ্যালির উঁচু একটা পাহাড়ে চড়তে শুরু করলাম। পাহাড় পেঁচিয়ে ক্রমশ শীর্ষে চলে গেছে মসৃণ পিচের রাস্তা। উপরে যত উঠতে থাকলাম তত শহরের বিশাল বিস্তৃতি স্পষ্ট হতে থাকলো নিচে এবং সরে যেতে থাকলো দূরে। একসময় মেঘ এসে ঢেকে ফেললো শহরটি। নাগরকোটের একদম উঁচু একটা জায়গায় হোটেল। খুব সকালে সেখান থেকে এভারেস্ট দেখা যায়। তবে বর্ষার মেঘের কালে দেখা যায় না। আর আমি গেলাম সেসময়ে। মেঘ ছাড়া আর কিছু দেখা হলো না।

এভারেস্ট আমার দেখা হয়নি আর। কিন্তু যত এভারেস্টের ছবি দেখেছি তত আমার ভেতরে রক্ত নেচে উঠেছে। ফিল্মে দেখে পাগল হয়েছি। ইউটিউবে ঘণ্টার পরে ঘণ্টা ভিডিও দেখেছি। ট্র্যাকিং এর জন্য নয়। সেটি আমার কখনও ইচ্ছে হয়নি। আমার কেবল এভারেস্ট দেখার ইচ্ছেটা আরো বেড়েছে। কোনো দূর স্থান থেকে, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে এভারেস্টকে দেখার জন্য আমি মরীয়া হয়ে ছিলাম।

সম্প্রতি এভারেস্ট নামের সিনেমাটি দেখে সর্বোচ্চ আনন্দ পেয়েছি। এভারেস্টকে এত স্পষ্টভাবে আর কোনো ভিডিওতে দেখিনি। সিনেমার অভিযাত্রিরা লুকলা এয়ারপোর্টে নেমে যখন হেঁটে হেঁটে বেজ ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছিলো তখন একটা জায়গায় এসে প্রথম এভারেস্টের যে ভিউটা দেখলো - সেটা জেনো আমিও সরাসরি তাদের সাথে থেকে দেখলাম। সিনেমাটিতে এরপর এভারেস্টের নানা অংশ দেখানো হয়। অভিযাত্রীদের গাইড এভারেস্ট শৃঙ্গে উঠে নামার পথে অক্সিজেন সংকটে পতিত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। সেই দৃশ্য এবং এভারেস্টের ঝড়ের দৃশ্য দেখে এবং এমন মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও পূর্ব থেকেই অনেক দেখে ভয়ঙ্কর কোনো কিছুতে চড়ার সাহস আমার হয়নি, কিন্তু ঐ মৃত্যুও জেনো অপূর্ব মনে হলো। মহামূল্যবান মৃত্যু।

আমি লুকলা এয়ারপোর্ট থেকে বেজ ক্যাম্পের পথটায় হাঁটতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৫
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংস্কারের নামে ১০ হারাম কাজ হয়ে গেল হালাল একেই বলে আধুনিক সৌদি আরব?

লিখেছেন আরব বেদুঈন, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৪






একেই বলে আধুনিক সৌদি আরব। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কারে এ বছর অন্তত ১০টি বিষয় হারাম থেকে পরিণত হয়েছে হালালে। ৩৫ বছর পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঋণস্বীকারে বাংলাদেশি ‘মুক্তি’প্রেমীদের এত কুণ্ঠা কেন? ---নিখিলেশ রায়চৌধুরী

লিখেছেন বুবলা, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩০

আগেই লিখেছি, ইদানীং পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক মহলের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মহলের সম্পর্কটা আবার বেশ মাখো মাখো হয়ে উঠেছে৷ ফেসবুক-অনলাইনের সূত্রে এই প্রেম ও যোগাযোগের বাঁধন আরও খুলে গিয়েছে৷ তাতে কোনও অসুবিধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রছন্ন আহ্বান

লিখেছেন এফ.কে আশিক, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৫


এসো সুদক্ষ শিল্পীর মত কপালে
নিপুণ আলপনা এঁকে দেই,
চাঁদ যেমন।

নদী এঁকে দেই স্রোতস্বিনী-
ভাঙ্গনের বাঁকটায় বৃক্ষ এঁকে দেই,
দুটি পাতা একটি ফুলে।

সু-গভীর সুখের ক্ষত এঁকে দেই
ক্ষানিকটা, আজন্ম পিছু টানের।

এসো কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক খালি ১০০! ১০০! ১০০!...হৈ যে গেলো ১০০! ১০০! ১০০! [আর মাত্র ৮০টি বাকি]

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:০৫

ব্লগ দিবসে'র এক্সপোর্ট কোয়ালিটি টি-শার্টের মূল্য ১০০ টাকা + কুরিয়ার চার্জ।

কুরিয়ার চার্জ (কোয়ান্টিটি বুঝে):
ঢাকা = ৬০ - ৯০ টাকা
ঢাকা'র আশে-পাশের এলাকা = ৮০ - ১২০... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ যেহেটু তাদের চায়না সেহেটু নিরদলীয় সরকার রেখে নির্বাচন দিলেই ভালো হবে ।

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:৫৯


বিজয় দিবস উপলক্ষে রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা বলেন যারা ক্ষমতায় উড়ে এসে জুড়ে বসে তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×