আমার প্রিয় পোস্ট
- সংখ্যাগুরু -vs- সংখ্যালঘুঃ স্বাধীন বাঙালি যখন শাসক...সংখ্যালঘু পাহাড়ি/উপজাতি/আদিবাসীরা যখন শোষিত...আর দেশের ভূখণ্ড হাতছাড়া হওয়ার চিন্তায় উন্মাদপ্রায় আমরা ! - আইরিন সুলতানা
- মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা বুদ্ধ আর শস্যপোড়া ছাই হতে উত্থিত হোক বিদ্রোহী মধুপূর্ণিমা। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- পাহাড়ের কান্না যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন শেখ মুজিব, তাতে ঘি ঢেলেছেন জিয়া, ফু দিচ্ছেন খালেদা, ষড়যন্ত্রে পাকা খেলোয়ার আছে একটি বাহিনী, আছে বাঙালি নামে একদল পরগাছা সেটেলার শিখন্ডি। শেখ হাসিনা কি তা নিভাতে পারবেন? আমার দুটো প্রস্তাব - মধুখোর
- মীরাবাঈ: আরেক পাগলিনী রাই - ইমন জুবায়ের
- আদিবাসী নারী মুক্তিযোদ্ধা: যাঁদের ত্যাগে এ দেশ স্বাধীন হল - অচেনা সৈকত
- মি: আকন্দ এবং সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী জোশ (উৎসর্গ : কল্পণা চাকমা) - মেজভাবী
- তারকাঁটার ঐ পাশে আরশি নগর (উৎসর্গ কুঙ্গ থাঙ) - অন্যমনস্ক শরৎ
- আদিবাসীদের মাতৃভাষাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারসহ সকলের আন্তরিকতা প্রয়োজন - জেনন
- রতন থিয়ামের কবিতা - হামোম প্রমোদ
- রাংলাই ম্রো-শেকলে বন্দী ক্ষুব্ধ পাহাড়। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- বাবা বলেছিলেন বড় হও- - ডাক্তার আইজউদ্দিন
- ভিন্ন ভাবনা : বাংলাদেশে বাংলা ভিন্ন অপরাপর ভাষা সমূহের প্রতি উদাসীনতা বজায় রেখে কী ভাষা শহীদদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব? - জুয়েল বিন জহির
- আদিবাসীদের ভাষা কেও সমান মর্যাদা দেওয়া... - হমপগ্র
- আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় পড়বে কবে? - বিপ্লব রহমান
- পল্লবের পরীরা (শেষ) - বিপ্লব রহমান
- দায় এবং দায়িত্ববোধ... - মিট্ঠু
- আদিবাসী সম্পর্কে ভুলে ভরা বাংলাপিডিয়া (এক) - বিপ্লব রহমান
প্রান্তিক জনগোষ্ঠিগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমমর্যাদা দাবী করছি

মণিপুরীদের বিষু উৎসব
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:৫৫
মণিপুরীদের বর্ণাঢ্য বিষু উৎসবের আজ তৃতীয় দিন। বাংলাদেশের মৌলবীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার মণিপুরী বসতিগুলোতে চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে সাতদিন ব্যাপী এই উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবের মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। সংস্কৃত "মহাবিষুব" শব্দ হতে "বিষূ" শব্দটির উৎপত্তি বলে ধারন করা হয়। কারো কারো মতে "দ্বিষু" অর্থ্যাৎ যেদিন বিষুবরেখা সূর্যালোক দ্বারা দ্বিধাবিভক্ত হয় সেই দিনটি বিষু। যাহোক মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়ারা যে দিনটিকে "বিষু" বা "চেরৌ" হিসাবে পালন করে, মণিপুরী মৈতৈদের কাছে সেদিনটি "শাজিবু চৈরাউবা", চাকমাদের কাছে "বিঝু", মারমাদের নিকট "সাংগ্রাই", ত্রিপুরাদের "বৈসুক" এবং অসমীয়াদের "বিহু" এবং বাঙালীদের কাছে "চৈত্র সংক্রান্তি"।
বছরের শেষ দিনটিতে মণিপুরীরা সুর্যোদয়ের আগেই ঘরদোর, ঘরের চারপাশ এবং ঘরের যাবতীয় ব্যবহার্য বস্ত্রআসবাবপত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সেরে ফেলে। স্নানের পর রান্নাবান্না শুরু হয়। শুধুমাত্র নিরামিষ রান্না অসংখ্য পদের। এরপর লৌকিক দেবতা "আপোকপা" এবং কুলদেবতা "লামরদৌ"এর উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদনের পর চলে সম্প্রীতির নিদর্শন হিসাবে ঘর থেকে ঘরে রান্না করা খাবার বিনিময়ের পালা। সন্ধ্যায় তৈরী হয় নানান জাতের পিঠা। মণিপুরী লেইসাঙ বা মন্দিরগুলো আরতি, পালা, কীর্তন ও মৃদঙ্গের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে। কোথাও কোথাও বসে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য এবং গানের আসর। রাতভর চলে তরুণ তরুনীদের ঐতিহ্যবাহী নিকন (বিশেষ ধরনের পাশা), গিল্লা, লাকাটি ইত্যাদি নানান খেলা।
বিষুর আভিধানিক অর্থ সাম্য বা সমতা। দিনরাত্রির দৈর্ঘ্যের সমতা মনিপুরী জীবনধারায় এসে সামাজিক সংহতি ও সাম্যের রূপ নিয়েছে। বিষু সবার দু:খ-কস্ট আনন্দ-বেদনা হতাশা-বঞ্চনা ভাগাভাগি করার দিন। ভারতবর্ষের পশ্চিমে পাঞ্জাবে "বৈশাখী" উৎসব, দক্ষিনে কেরালায় গিয়ে "ভিজু", এরপর দেড়হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বাঙালীর "চৈত্র সংক্রান্তি", আসামে এসে অসমীয়াদের "বিহু", মণিপুরী বিষ্ণুপ্র্রিয়াদের "বিষু", চাকমাদের নিকট "বিঝু" এবং ত্রিপুরীদের নিকট "বৈসুক" হবার নেপথ্যে কারণ কি কাকতালমাত্র? তবে কি সুদুর অতীতে ইতিহাসের কোন এক সময়ে এইসব জাতিগোস্টির পুর্বপুরুষদের মধ্যে কোনরূপ পারস্পরিক নৈকট্য বা যোগাযোগ ছিল?
![]()
![]()
![]()
ছবি: ক্রম অনুসারে:
১. বিষুর দিনে মণিপুরী নৃত্য ও সংগীতের আসর
২. লৌকিক দেবতার উদ্দেশ্যে ভোগ
৩. মণিপুরী মন্দিরে পালাকীর্ত্তনের আসর
৪. ঐতিহ্যবাহী নিকন খেলা নিয়ে রাজকুমার চন্দ্রজিৎ সিংহের পেইন্টিং
বিষু উৎসব সম্বন্ধে আরো পড়ুন:
* The festival of Bishu
* The Biggest Festival of Bishnupriya Manipuri: Bishu
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, বাংলাদেশ, আদিবাসী, বিষু, বিঝু, বিহু, বৈসুক ;
প্রকাশ করা হয়েছে: এপেই যেসাদে আসু বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:০৬
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। বিষুর শুভেচ্ছা এবং নতুন বছরের জন্য শুভকামনা রইল।
সুতরাং বলেছেন:
চমৎকার একটি পোস্ট। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি পৃথিবীর সকল বহুল ব্যবহৃত ভাষা ও সংস্কৃতির মতো সমমর্যাদায় বেঁচে থাকুক- এটা আমারও কামনা।
লেখক বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
দস্যু বনহুর বলেছেন:
সুতরাং বলেছেন: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি পৃথিবীর সকল বহুল ব্যবহৃত ভাষা ও সংস্কৃতির মতো সমমর্যাদায় বেঁচে থাকুক- এটা আমারও কামনা।+++++++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ময়ুরবাহন বলেছেন:
মণিপুরীরা বিষু করেন !!! এখানে দক্ষিন ভারতে তামিলদের ও মালায়ালীদের নববর্ষের উৎসবের নাম বিষু। উত্তর পূর্ব ভারতে অসমীয়ারা বিহু পালন করেন শুনেছি। আপনার থেকে মণিপুরী সংস্কৃতির অনেক কিছু জানছি। ভাল লাগল। নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।
লেখক বলেছেন: পুরাতন বছরকে বিদায়ের সংস্কৃতি সকল জাতিগোষ্টির মধ্যে আছে, শুধু রীতির ভিন্নতা। বিষু ও নববর্ষের শুভেচ্ছা আপনার জন্য।
প্রিয় বলেছেন:
ভালো লাগলো। ইচ্ছা করলে আমাদের জন্যে লিখতে পারেন। সাইট হলো http://www.priyoaustralia.com.au ই-মেইল
আমার মনে হয় প্রবাসীরা এই বিষয় ভিত্তিক লেখায় আগ্রহ পাবে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ইমেইল এড্রেস সেভ করে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: বিষুর শুভেচ্ছা রইলো।
রাশেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ ভাইজান শেয়ারের জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকে বিষু ও নববর্ষের শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: বিষু ও নববর্ষের শুভেচ্ছা রইলো।
















