পৌষ সংক্রান্তিতে মণিপুরীদের বিশেষ খাবার আইটেমটি হলো উতং-চাক। পৌষ মাসের শেষে এবং মাঘ মাসের প্রথম দিকে, বিশেষ করে পৌষসংক্রান্তির দিনগুলোতে বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈদের ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী উতং-চাক তৈরীর ধুম পড়ে। "উতং" শব্দের অর্থ বাঁশের চোঙা আর "চাক" হলো ভাত। বাঁশের চোঙার ভেতর যে ভাত রান্না করা হয় তাই উতং-চাক। তবে উতং-চাকে সাধারনত সাধারন চালের পরিবর্তে বিরণ ধানের চাল ব্যবহার করা হয়। যে বাঁশের চোঙায় রান্নার কাজটি হয় সেটিও বিশেষ প্রজাতির বাঁশ। স্হানীয়ভাবে ডলু বাঁশ নামে পরিচিত এই বাঁশের চোঙাগুলো বেশ লম্বা ও পাতলা হয়ে থাকে।পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে জন্মায়। চা বাগানের আশপাশ আর উঁচু টিলা জমিতে জন্ম নেয় ডলু বা কালী বাঁশ। চা শ্রমিকরা এই বাঁশ সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করেন।
পিঠা তৈরির জন্য বাঁশের একটি আকি রেখে অন্য আকির কাছাকাছি আড়াআড়িভাবে কাটা হয়। ভেতরে পরিমানমতো চাল ও পানি ঢুকিয়ে চোঙার মুখটি কলাপাতা বা খড় দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করা হয়। তারপর সেটা বিশেষ ব্যবস্থায় খরের বা কাঠের আগুনে পোড়ানো হয়। চাল ঠিকমতো সেদ্ধ হয়ে গেলে চোঙাটি বের করে ঠান্ডা করা হয়। তারপর বাঁশের পাতলা বাকলটি ছিলে উতং-চাক বের করা হয়।
উতং-চাক আখের রস, গুড়, মধু, দুধ ইত্যাদি দিয়ে খাওয়া যায়। উতং-এর ভেতর শাকশব্জিও রান্না করা যায়। মণিপুরীদের অন্যতম প্রিয় এই খাবারটি উৎসগতভাবে সহস্রাধিক বছর আগে থেকে মণিপুরের (বর্তমানে উত্তরপুর্ব ভারতের একটি রাজ্য) পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা তাংখুল আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। পরে এর জনপ্রিয়তা মণিপুরের সমতল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। উতং চাকের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে এই খাবারটি সহজে নষ্ট হয় না, দীর্ঘদিন সংরক্ষন করে রাখা যায়।
উতং-চাকের সিলেটি সংস্করন হলো চোঙ্গা পিঠা। ডলু বাঁশের ভিতর চালের পরিবর্তে চালের গুড়ি ব্যবহার করে এই পিঠা তৈরী করা হয়। পৌষসংক্রান্তিতে সিলেট অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে বড় বড় মাছের সঙ্গে চুঙ্গা পিঠা ছিল উৎসব-আমেজের খাবার। কিন্তু সময়ের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এ পিঠা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


