গত শতাব্দীর ত্রিশের মধ্যভাগ সিলেটের যে সাধারণ গৃহবধূটি পারিবারিক গন্ডি অতিক্রম করে যুক্ত হন অহিংস গান্ধীবাদী ধারার সাথে, সেই সাধারণ বধূটিই পরবর্তীকালে বিপ্লবী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা সুহাসিনী দাস। ১৯৪২ সালে কংগ্রেসের নেতৃত্বে 'ভারত ছাড়' আন্দোলনে কারাবরণ করেছেন এই মহিয়সী নারী। ১৯৪৬ সালে সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করলেন। নোয়াখালীর দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকায় মহাত্মা গান্ধীর সাহচর্য লাভ করার সুযোগও হয়েছে তাঁর। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর তাঁর সুযোগ ছিল ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে নানা সুবিধা লাভের। কিন্তু তা না করে দেশের টানে রয়ে গেলেন সে সময়ের দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানে।
১৯৪৭ উত্তর পাকিস্তানে কংগ্রেস রাজনীতির ক্ষীণধারাকে বেগবান রাখার ক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করলেন। উল্লেখ্য ভাষা আন্দোলনে রাজনৈতিকভাব কংগ্রেস ধারার অবদান আছে। পার্লামেন্টে বাংলা ভাষার পক্ষে প্রথম যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য রাখেন কংগ্রেস নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। আপন প্রতিভায় সুহাসিনী সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে সক্রিয় কংগ্রেস কর্মী এবং পরবর্তীকালে নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। কুলাউড়ার রঙ্গিরকুল পাহাড়ে ইংরেজ আমলে কংগ্রেস কর্মীরা এক আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই আশ্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন পূর্নেন্দু কিশোর সেনগুপ্ত, নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী, দুর্গেশদেব প্রমূখ। এরা সবাই এক কালের প্রথিতযশা কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ। কালক্রমে সুহাসিনী দাস সেই আশ্রমেরই অধ্যক্ষার দায়িত্ব নেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সাল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দুর্যোগময় দিনগুলোতে তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে আশ্রমটিকে রক্ষা করেছিলেন। স্বাধীনতার পর সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে যুক্ত হন সমাজ সেবায়। বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে পালন করেন বিশেষ ভূমিকা। ১৯৭৩ সালে তিনি ভারতের রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে সংবর্ধিত হন। তখনো তাঁর সুযোগ ছিল সসম্মানে সেখানে থেকে যাওয়ার। কিন্তু তা-না করে তিনি ছুটে এসেছেন দেশের দু:খী অসহায় মানুষদের পাশে। বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষকে শুনিয়েছেন অভয়বাণী। বিশাল বিষয় সম্পত্তির অধিকাংশই বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য উত্সর্গ করেছেন তাঁর সারাজীবন।
স্যালুট অগ্নিকন্যা সুহাসিনী দাসকে।
সহায়ক লিংক:
অগ্নিকন্যা সুহাসিনী দাসের সংক্ষিপ্ত জীবনী
ভানুবিল কৃষক প্রজা বিদ্রোহ - অগোচরে থেকে যাওয়া প্রান্তিক লড়াই এর ইতিহাস
ছবির জন্য কৃতজ্ঞতাঃ দীন মোহাম্মদ শিবলী
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



