আমার প্রিয় পোস্ট

প্রান্তিক জনগোষ্ঠিগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমমর্যাদা দাবী করছি

পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে এক ব্রিগেড সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২০

শেয়ারঃ
0 0 0

পাকিস্তান আমলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম কাপ্তাই লেক নির্মাণের পর পার্বত্য এলাকার বহু গ্রাম স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হলে স্থানীয় মানুষের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় তার সঙ্গে অন্যান্য বঞ্চনার বোধ যুক্ত হয়ে সত্তরের দশকে পাহাড়ীদের একটি অংশ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। শান্তিবাহিনী নামে পরিচিত ওই বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সংঘাতে বহু রক্তক্ষয়ের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ নিরাপত্তা বজায়ের লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। যে চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে সংঘাতের অবসান ঘটে সৈন্য প্রত্যাহার ছিল তার অন্যতম প্রধান শর্ত।

পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়নসহ একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সময়ে সেখানে স্থাপিত নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৫টি ক্যাম্প প্রত্যাহার হবে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বরাত দিয়ে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন ধাপে নিরাপত্তা বাহিনীর মোট ২০০ টি ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সাপেক্ষে সরকার আরও ৩৫টি ক্যাম্প ও ৩টি পদাতিক ব্যাটালিয়নসহ একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় এ প্রক্রিয়া 'অনতিবিলম্বে' শুরু হবে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ পর্যন্ত পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে এটিই হবে সর্ববৃহৎ ও উল্লেখযোগ্য সেনা প্রত্যাহার।

আওয়ামী লীগ সরকারের এর আগের মেয়াদে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

আইএসপিআর এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তা বাহিনীর আসন্ন প্রত্যাহার পাবর্ত্যবাসীর কাছে সরকারের প্রতিশ্র"তি বাস্তবায়নে একটি 'মাইলফলক' হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়। পাবর্ত্য শান্তি চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকার দেশবাসী বিশেষ করে পাবর্ত্যবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছে জানিয়ে এতে বলা হয়, সরকার শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।


প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে শান্তিবাহিনীর রাজনৈতিক সংগঠন 'জনসংহতি সমিতির' চেয়ারম্যান সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমার সঙ্গে তার রাঙামাটির বাসভবনে ঢাকা থেকে যোগাযোগ করা হলে তার সচিব জানান, 'তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন।'

শান্তি চুক্তির বিরোধিতাকারী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্্রন্ট সমর্থিত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি রিকো চাকমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সরকার অনেক কিছুই করছে। তবে এসবই লোক দেখানো। যতদিন না পর্যন্ত কাজে বাস্তবায়িত না হচ্ছে ততদিন বিশ্বাস করা যায় না।"

তিনি বলেন, "আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি যেভাবে জিইয়ে রেখেছে এ বিষয়টিও তেমনিভাবে জিইয়ে রাখবে।"


ঢাকা, জুলাই ২৯ (বিডিনিউজ টায়েন্টিফোর ডটকম )

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পার্বত্য চট্টগ্রামপাহাড়ে মানবাধিকারশান্তিচুক্তি ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২৬
স্পাইডার বলেছেন: আসেন আমরা ঢাকাবাসী জলমগ্নতা সহ অন্যান্য সমস্যার জন্য অস্হ হাতে ঝাপাইয়া পড়ি
০১ লা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: পাহাড়ে নির্যাতন এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাপঞ্জী আপনার আমার সবারই কমবেশী জানা। রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে, দিনের পর দিন অত্যাচারিত হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার মতো অবস্থায় পাহাড়ীদের একাংশের হাতে অস্ত্র তুলে নেয়ার সাথে ঢাকার জলমগ্নতার তুলনা নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া কিছু নয়।

জীবন আমাদের নয়, জীবনতো সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠের!

২. ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২৯
আলমগীর কুমকুম বলেছেন: সিদ্ধান্দ নিতে সময় লাগেনা, বাস্তবায়ন করতেই যত সময়। আমার কাছেও মনে হয় এ বিষয়টি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো চাপাবাজির মারপ্যাচে পড়ে হারিয়ে যাবে।
৩. ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৩৬
আবু সালেহ বলেছেন:
স্পাইডার বলেছেন: আসেন আমরা ঢাকাবাসী জলমগ্নতা সহ অন্যান্য সমস্যার জন্য অস্হ হাতে ঝাপাইয়া পড়ি
৪. ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৩৭
অ্যামাটার বলেছেন: আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এর সুদূরপ্রসারী ফল কখনোই ভাল হবে না।
৫. ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৪৪
দস্যু বনহুর বলেছেন: সত্যি হয়ে থাকলে সরকারের সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে বলবো। পার্বত্য চট্টগ্রামকে অকারণে দেশের অন্যান্য সকল জনপদের থেকে আলাদা করে রাখার কোন মানে হয়না। নাগরিক হিসাবে পাহাড়ি জনগনকে সমান সুযোগ সুবিধাও নিশ্চিত করা উচিৎ।
৬. ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৪৬
সততার আলো বলেছেন: অস্ত্রেই কি মুক্তি? তবে কি জে এম বিও মুক্ত হতে যাচ্ছে?
৮. ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৫
শয়তান বলেছেন: বিশ্বাস করেন বাস্তবায়ন হবে ?
৯. ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:১১
মং হ্লা প্রু পিন্টু বলেছেন: ভালো লক্ষণ। মহাজোট সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি আমরা এর দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
১০. ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:১৭
মইন বলেছেন: আবু সালেহ বলেছেন: স্পাইডার বলেছেন: আসেন আমরা ঢাকাবাসী জলমগ্নতা সহ অন্যান্য সমস্যার জন্য অস্হ হাতে ঝাপাইয়া পড়ি
১১. ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:১৯
সৌম্য বলেছেন: একটা বিষয় আছে। কিছু কিছু জায়গা আছে যে গুলো এখনও কোন সরকারী নিয়ন্ত্রন ১০০% নাই। তিন মাথা (যেখানে বাংলা-ইন্ডিয়া-বার্মা বর্ডার একসাথে মিশেছে, বিডিআর, বিএসএফ কিংবা নাসাকা কেউ ওখানে যায়না এত দূর্গম)... বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন, রাংতলাং, মদক রেঞ্জের ভিতরের এলাকা গুলো আরো অনেক জায়গা আছে যেগুলো সম্পর্কে আমরা ক্লিয়ারলি কিছুই জানিনা। বার্মার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বর্গভুমী এসব এলাকা। প্রায়ই আর্মির সাথে গোলা গুলি হয়।
এই তো মাসখানেক আগে রোয়াংছড়ির রণীংপাড়া গ্রাম থেকে কারবারী সহ ৩জন বম গ্রামবাসীকে কিডন্যাপ করা হলো। তার ক-সপ্তাহ আগে আমি ওখানে ছিলাম। আর্মি আর গ্রামবাসী দারুন মিলে মিশে আছে। প্রায় মাস খানেক পরে ওরা উদ্ধার পেল। আর্মির হাতে দলটা ধরা পড়ার পর দেখাগেল সবাই মিজো গেরিলা। ইন্ডিয়ান আর্মির ধাওয়া খেয়ে ঢুকেছে। আর্মির প্রয়োজন আছে।
১২. ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৩৩
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: আর্মি সরায়া দিলেই সমাধান নাকি। কতোবছরে কয়জন আর্মি সরাইবো।

প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলা নিয়া কারুর কোন আলাপ নাই কেন।
১৩. ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৫১
সোনার বাংলা বলেছেন: সৌম্য ভাইয়ের সাথে একমত।

পার্বত্য চট্রগ্রামে আর্মির প্রয়োজন আছে।






অ্যামাটার বলেছেন: আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এর সুদূরপ্রসারী ফল কখনোই ভাল হবে না। ।




>>এই দুই ঘন্টা আগে খবর পাইলাম ভারত কাশ্মির থেইকা ৪ লক্ষ সেনা প্রত্যাহার করিতেছে এবং ঘোষনা করিয়াছে যে আগামী মাসে তাদের কে স্বাধীনতা দিবে
১৪. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৪
তাহ্‌লীল আহেমদ চৌধুরী বলেছেন: "পাকিস্তান আমলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম কাপ্তাই লেক নির্মাণের পর পার্বত্য এলাকার বহু গ্রাম স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হলে স্থানীয় মানুষের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় তার সঙ্গে অন্যান্য বঞ্চনার বোধ যুক্ত হয়ে সত্তরের দশকে পাহাড়ীদের একটি অংশ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। শান্তিবাহিনী নামে পরিচিত ওই বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সংঘাতে বহু রক্তক্ষয়ের ঘটনা ঘটে।"

শান্তিবাহিনীকে যারা সেসময় পাবর্ত্য চট্টগ্রামে ছিল কেউই সন্ত্রাসী বাহিনী ছাড়া আর কিছু বলবে না।আমি জানি না আপনার ভিন্ন মতামতের কারন কি।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮১৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবী করছি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ