পাকিস্তান আমলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম কাপ্তাই লেক নির্মাণের পর পার্বত্য এলাকার বহু গ্রাম স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হলে স্থানীয় মানুষের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় তার সঙ্গে অন্যান্য বঞ্চনার বোধ যুক্ত হয়ে সত্তরের দশকে পাহাড়ীদের একটি অংশ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। শান্তিবাহিনী নামে পরিচিত ওই বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সংঘাতে বহু রক্তক্ষয়ের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ নিরাপত্তা বজায়ের লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। যে চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে সংঘাতের অবসান ঘটে সৈন্য প্রত্যাহার ছিল তার অন্যতম প্রধান শর্ত।
পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়নসহ একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সময়ে সেখানে স্থাপিত নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৫টি ক্যাম্প প্রত্যাহার হবে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বরাত দিয়ে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন ধাপে নিরাপত্তা বাহিনীর মোট ২০০ টি ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সাপেক্ষে সরকার আরও ৩৫টি ক্যাম্প ও ৩টি পদাতিক ব্যাটালিয়নসহ একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় এ প্রক্রিয়া 'অনতিবিলম্বে' শুরু হবে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ পর্যন্ত পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে এটিই হবে সর্ববৃহৎ ও উল্লেখযোগ্য সেনা প্রত্যাহার।
আওয়ামী লীগ সরকারের এর আগের মেয়াদে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
আইএসপিআর এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তা বাহিনীর আসন্ন প্রত্যাহার পাবর্ত্যবাসীর কাছে সরকারের প্রতিশ্র"তি বাস্তবায়নে একটি 'মাইলফলক' হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়। পাবর্ত্য শান্তি চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকার দেশবাসী বিশেষ করে পাবর্ত্যবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছে জানিয়ে এতে বলা হয়, সরকার শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে শান্তিবাহিনীর রাজনৈতিক সংগঠন 'জনসংহতি সমিতির' চেয়ারম্যান সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমার সঙ্গে তার রাঙামাটির বাসভবনে ঢাকা থেকে যোগাযোগ করা হলে তার সচিব জানান, 'তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন।'
শান্তি চুক্তির বিরোধিতাকারী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্্রন্ট সমর্থিত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি রিকো চাকমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সরকার অনেক কিছুই করছে। তবে এসবই লোক দেখানো। যতদিন না পর্যন্ত কাজে বাস্তবায়িত না হচ্ছে ততদিন বিশ্বাস করা যায় না।"
তিনি বলেন, "আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি যেভাবে জিইয়ে রেখেছে এ বিষয়টিও তেমনিভাবে জিইয়ে রাখবে।"
ঢাকা, জুলাই ২৯ (বিডিনিউজ টায়েন্টিফোর ডটকম )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


