আমার প্রিয় পোস্ট

প্রান্তিক জনগোষ্ঠিগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমমর্যাদা দাবী করছি

হিল্লো মিলেবো জুমত যায় দে, জুমত যায় দে, যাদে যাদে পধত্তুন পিছ্যা ফিরি রিনি চায়, শস্য ফুলুন দেঘিনে বুক্কো তার জুড়ায়...

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৩

শেয়ারঃ
0 0 0

এ গানের বাংলা অর্থ হল- ‘পাহাড়ি মেয়েটি জুমে যায় রে, জুমে যায় রে, যেতে যেতে পথে পিছন ফিরে চায়, পাকা শস্য দেখে তার বুকটা জুড়ায়।’

পাহাড়ে জুম ক্ষেতে এখন পাকা ফসল তোলার ভর মৌসুম। জুমিয়াদের ঘরে উঠছে জুমের সেই সোনালি ফসল। আর ফলানো ফসল ঘরে তুলতে পেরে জুমিয়া নারী-পুরুষের মুখে ফুটেছে হাসি। চোখে আশার আলো। জুম্ম নারীরা উৎফুল্ল মনে ব্যস্ত জুমের পাকা ধান কাটতে।

তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের আদিবাসীদের জুম ক্ষেতে সবেমাত্র শুরু হয়েছে পাকা ধান কাটা। ধুম পড়েছে মারফা, বেগুন, ধানি মরিচ, ঢেঁড়শ, কাকরোল, কুমড়াসহ ইত্যাদি ফসল তোলার কাজ। এরপর ঘরে উঠবে তিল, যব এবং সব শেষে তোলা হবে তুলা। জুমে বীজ বপনের ৫ মাস পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের পর ফলিত ফসল দেখে হাসি ফুটে ওঠে জুম চাষীদের মুখে। এ মৌসুমে জুম ক্ষেত থেকে ফসল ঘরে আনতে শুরু হয় উৎফুল্ল জুমিয়া নারী-পুরুষের। কিছু কিছু জুমিয়া ঘরে নবান্ন উৎসবের আয়োজনও শুরু হয় এসময়। গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ে বন্যা এবং ইঁদুরের উপদ্রবে জুমের পাকা ফসল ঘরে তুলতে পারেনি জুমিয়ারা। ফলে অভাব-অনটনে কেটেছিল সাম্প্রতিক বছরগুলো। এ মৌসুমে উপযুক্ত জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের কারণে এবং ইঁদুরের উৎপাত কমে যাওয়ায় ভালো ফলন হয়েছে। জুমের সোনালি ফসল ঘরে তুলতে পারায় জুম্ম নারী-পুরুষ ফিরে পেয়েছে মুখের হাসি। চোখে ফুটে উঠেছে আশার আলো।


জুম চাষের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরনো। পার্বত্য আদিবাসীদের জীবিকার আদিম ও প্রধান উৎস এই জুম চাষ পদ্ধতি বেশ কষ্টসাধ্য। চাষের মৌসুমে প্রথমে নির্বাচিত পাহাড়টির জঙ্গল ও আগাছা বিশেষ কৌশলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বৃষ্টির পর নির্বাচিত জুমের জমিতে পুড়ে যাওয়া জঙ্গল ও আগাছার ছাই সারের কাজ করে। এর পর ছোট্ট ছোট্ট গর্তে একই সঙ্গে কয়েক ধরণের ফসল বোনা হয়। ধান, গম, ভূট্টা, আলু, কলা, তরমুজসহ জুমের জমিতে প্রায় সব ধরণের খাদ্য শষ্য ও শাক-সব্জি চাষ করা হয়।


জুম চাষে বন পোড়ানো নিয়ে বনজ-প্রানীজ সম্পদ ধ্বংস, ভূমি ক্ষয় ইত্যাদি সংক্রান্ত নানান ভ্রান্ত ও অতিরঞ্জিত ধারণা রয়েছে। এখানে জুমচাষের কিছু বিশেষত্ব উল্লেখ করছি -

১. জুমের আগুনে কখনো আগাছা বাদে কোনো বনজ বা প্রাণীজ সম্পদ নষ্ট করা হয়না।

২. বিশেষ কৌশলে আগুন ধরানো হয় বলে বনাঞ্চলে এই আগুন ছড়িয়ে পড়েনা।

৩. নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই পাহাড়িরা জুম চাষ করতে গিয়ে বন ও চাষ এলাকার কোনো বড় বা দামি গাছের ক্ষতি করেন না।

৪. জুম চাষে লাঙ্গল বা কোদাল ব্যবহৃত হয় না। জুমিয়ারা পাহাড়ে একটি ছোট্ট গর্ত খুঁড়ে একই গর্তে নানা রকম বীজ এক সঙ্গে বপন করেন বলে ভূমি ক্ষয় হওয়ারও প্রশ্ন আসে না।

৫. জুমের ফসলের বীজ সমতলের চেয়ে ভিন্ন। এসব ফসল উৎপাদনে কোনো ধরণের সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়না।

৬. জুমের শষ্য, ফল-মূল ও তরি-তরকারির আকার-আকৃতি সমতলের উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের চেয়ে ভিন্ন; এগুলো খেতে খুবই সুস্বাদু।


_______________________________________________
মুল লেখা: সুশীলপ্রসাদ চাকমা: পাহাড়ে জুমিয়াদের মুখে হাসি, ঘরে উঠছে...
তথ্যসুত্র; বিপ্লব রহমান: পাহাড়ে বিপন্ন জনপদ (তিন)
ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা: http://www.flickr.com

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পাহাড়ে কৃষিকাজজুম চাষ ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৬
রাতমজুর বলেছেন: থাঙ ভাই, গানটা পাওয়া যাবে? স্টুডিও রেকর্ড না, খোলা গলায় জুমে রেকর্ড করা?
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: খোলা গলায় জুমে রেকর্ড... ভাল আইডিয়া দিসেন।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৭

লেখক বলেছেন: গতকাল রাতে ড্রাফট করা পোস্টে যারা কমেন্ট করেছিলেন তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। পোস্টে ছবিজনিত সমস্যা থাকায় ড্রাফট করে রিপোস্ট করতে হলো -

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৬
রুবেল শাহ বলেছেন:
আপনার লেখা গুলো বরাবরই মাটি গন্ধ থাকে.........

ভাল লাগা রইল।


০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৬
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: গর্তগুলো দৈর্ঘ-প্রস্থে কত বড় হয়ে থাকে ? আর যে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুন লাগানোর কথা বলেছেন সেটাই বা কি ? আরেকটু বিস্তারিত লিখলে খূশী হবো।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ইমন জুবায়ের ।

৩. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৯
সেতূ বলেছেন: সুন্দর পোষ্টের জন্য+++
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৪

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ++

৪. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৯
আলমগীর কুমকুম বলেছেন: গানের লিংকু থাকলে দ্যান।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৮

লেখক বলেছেন: আপাতত নাই. তবে চেষ্টা চলছে।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৯

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৬. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৭
প্রতারিত পুরুষ বলেছেন: পোস্টে কামড় দিল কে?
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫০

লেখক বলেছেন: ব্যাপার্স না। সবার কাছে সবকিছু ভাল লাগতেই হবে এমন কোন কথা নেই :)

৭. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৬
দস্যু বনহুর বলেছেন: জুমের ফসলে বীজ সমতলের থেকে ভিন্ন তথ্যটা নতুন জানলাম।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১১

লেখক বলেছেন: হ্যা, এই বীজ স্থানীয়ভাবেই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

৮. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৭
নিশা সিনহা বলেছেন: প্রতারিত পুরুষ বলেছেন: পোস্টে কামড় দিল কে?



@লেখক: হিল্লো'র জায়গায় হিলো হবে মনে হয়।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩২

লেখক বলেছেন: ... অনুসন্ধানের চেস্টা করবো্।

১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় জেনন।

১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৫

লেখক বলেছেন: ব্যক্তিগত ঝামেলায় দৌড়ের উপ্রে আছি। আপনি কেমন?

১১. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৮
শয়তান বলেছেন: আছি কোনরকম। ব্যপক মিসকরি আপনারে
১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ... (ব্যপক অপ্রস্তুত ভাবের ইমো হবে এখানে!)

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৩১৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও জাতিগত অস্তিত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবী করছি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ