১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেলোয়ার হোসেন সাঈদী আমাদের বাড়ি লুটপাট করে। আমার তিন বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাদেরকে ধর্ষণ করে দিন কয়েক পর বাড়িতে ফেরত পাঠায়। এর কয়েক দিন পর আমাদের বাড়ির সকল সদস্যকে জোর পূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়। এই লজ্জায় আমার পুরো পরিবার ভারতে চলে যায়।
১৬ জানুয়ারি সোমবার সকালে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আসা পিরোজপুর জেলার পাড়ের হাট ইউনিয়নের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিকট এই জবানবন্দি দেন। তিনি এ মামলার ১৩ তম সাক্ষী হিসেব সাক্ষ্য দিলেন।
গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা। বয়স ৬৭। পেশা মুদি দোকানদার। ১৯৭১ সালে তিনি নিজ বাড়ি লুট হতে ও তার তিন বোনকে রাজাকাররা ধরে নিয়ে যেতে দেখেছেন। রাজাকারদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ছিলো বলে তিনি জানান। সাক্ষী গৌরাঙ্গ বলেন, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নেতৃত্বে কয়েকজন রাজাকার তার বাড়িতে আসে। বাড়ি ঢুকে তারা লুটপাট চালায়। লুটপাটের পর তারা আমার তিন বোনকে ধরে নিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। ক্যাম্পে রেখে আমার বোনদের ধর্ষণ করে দিন কয়েক পর ছেড়ে দেয়। তারা বাড়িতে চলে আসার দিন কয়েক পর সাঈদী আমাদের বাড়ি আসে। সাঈদী আমার মা বাবা ভাই বোন সহ আমাকে কলমা পড়িয়ে জোর পূর্বক মুসলমান বানায়। সাঈদী আমাদেরকে তছবী ও টুপি দেয়। এরপর স্থানীয় মসজিদে নিয়ে গিয়ে নামাজ পড়ায়। এই লজ্জা সইতে না পেরে আমার পুরো পরিবার ভারত চলে যায়। আমিই একা এদেশে থেকে যাই। দেশ স্বাধীন হলে আমি আমার পূর্বের ধর্মে ফিরে আসি।
আমার মত এরকম একশ-দেড়শ হিন্দুকে এভাবে ধর্মান্তরিত করা হয়। এদের মধ্যে আমার কয়েকজনের নাম মনে আছে যেমন: নারায়ণ সাহা,নিখিল পাল, গৌরাঙ্গ পাল, সুনীল পাল, হারান ভৌমিক সহ অনেক। এদের মধ্যে অনেকে বয়স হয়ে মারা গেছেন। অনেকে ভারত পালিয়ে গেছে।
সাক্ষী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগ প্রবণ হোন। আদালতে তিনি সাঈদীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন । খবরের সূত্র এই লিংকে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



