somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৬৬ জালান সেনতোসা ... (পর্বঃ ৪)

১৯ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিতি নামে আমার রুমে দুজন ছিল। একজনের কথাতো বলেছি, ওর কারনে ঘরে বসেই অনেক মুভি দেখা হয়ে গিয়েছিল। ও আবার যখনই হোমটাউন যেত অনেক খাবার, ফলমূল নিয়ে আসত, সেটা আবার মোটামুটি সবাইকেই খেতে দেয়া হত। আরেক সিতি ছিল খুবই ছটফটে, হাসিখুশি। একবার আমার পড়ার টেবিল, আলমারিতে আমার কাপড়-চোপড় সব প্রায় এলোমেলো হয়ে আসছিল; ভাবছিলাম ছুটির দিনে সব গুছিয়ে ফেলব। সেদিন বাসায় ফিরে একটু অবাক হলাম। পড়ার টেবিল, আলমারি সব সুন্দর করে গুছানো। সিতি হেসে জানাল সে আসলে একটু আগেই চলে এসেছিল, একা ছিল তাই কি করবে ভাবতে ভাবতে এসব করে ফেলেছে! ওর এই ব্যবহার খুবই ভাল লেগেছিল সেদিন।

মালয়শিয়ার সব বাসগুলোতে প্রতিটা বসার সিটের কাছাকাছি, উপরে, একটা করে পুশ বাটন দেয়া থাকত। গন্তব্য স্টপেজ আসার আগে আগেই ওটা চেপে এলার্মবেল জানানোর নিয়ম। তাহলেই ড্রাইভার বুঝবে পরের স্টপেজে কেউ নামবে। স্টপেজ ছাড়া ওখানে যাত্রী ওঠা-নামা করা হয়না। সব স্টপেজেই সুন্দর করে ছাউনি দেয়া থাকে। কিছু কিছু বাস স্টপেজ তো অনেক দীর্ঘ হয়। সব বাসই এসি-বাস। দাঁড়িয়েও যাত্রী নেয়া হয় তবে দাঁড়ানোর জায়গা কম-বেশী প্রশস্তই। কিছু কিছু বাসে একটা মেশিন ছিল যেখানে বাসে উঠে ভাড়ার নির্দিষ্ট পরিমান ফেলতে হতো; ড্রাইভার মেশিনের বাটন চাপলে টিকেট বার হয়ে আসত। গত বছর একটা বাস সার্ভিস শুরু হয়েছিল যেটা হলো দিনের মধ্যে একবার বাসে টিকেট করলে ওই রুটে সারাদিন আসা-যাওয়া করতে আর টিকেট করা লাগবে না! দুই রিংগিত আর এক রিংগিত করে বিভিন্ন রুটে অনেক বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। যারা মাঝেমাঝে শুধু শুধুই ঘুরতে চায় তাদের জন্য এটা দারুন খবর নিঃসন্দেহে। তাছাড়া ভুল স্টপেজে নামলেও সমস্যা নেই বাড়তি ভাড়া তো গুনতে হবে না , টিকেট দেখালেই হলো। এছাড়া ওখানে মাসিক বাসকার্ড, ট্রেন কার্ড, মনোরেল কার্ড পদ্ধতিও ছিল- এগুলো বেশ সাশ্রয়ী ।

প্রথমদিন হোস্টেলে এসেছিলাম ট্যাক্সিতে। নতুন শহরের অপরিচিত, ব্যস্ত রাস্তাঘাট মনে রাখা কষ্টকর মনে হচ্ছিল। পরেরদিন সকালে কলেজ যাওয়ার সময় মেয়েদের সাহায্য নিয়েছিলাম, বাস স্টপ, বাস নাম্বার জানার জন্য। আমাকে বলা হয়েছিল ফেরার সময় জালান গমবাক বাসস্টপেজ এ নেমে হেঁটে আসলেই আমার হোস্টেল রোডে পৌছানো যাবে। তখন বিকাল পার হয়ে গিয়েছিল , বৃষ্টিও হচ্ছিল বেশ। আমি বাসের জানালা দিয়ে আমার রুমের বারান্দাটা পার হয়ে যেতে দেখলাম। সেদিন প্রথমবার জালান গমবাক বাস স্টপেজে নেমে একটু দিকহীন মনে হলো নিজেকে। বুঝতে পারছিলাম না কোন দিকে হাঁটতে হবে। যাইহোক, চিন্তা করে দিক ঠিক করে, অনেকখানি হেঁটে আমার হোস্টেল রোডের কাছাকাছি চলে আসলাম। সমস্যা ছিল যে মেইন রোডে লেখা ছিল জালান সমপূরনা ; আমি খুঁজছিলাম জালান সেনতোসা, যেটা কিনা ভেতরের রাস্তায় লেখা। সকালবেলা যখন বার হয়েছিলাম তখন রাস্তার ওপারে হলুদ রঙের একটা শপিং সেন্টার দেখেছিলাম, কোর্ট ম্যামোথ নাম ওটার (ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স - ক্যামেরা, ল্যাপটপ ইত্যাদি পাওয়া যেত)। প্রায় সন্ধ্যা বেলা, আর মেঘলা আকাশের কারনে রাস্তার এপার থেকে শপিং সেন্টারটা দেখলেও চিনতে পারছিলামনা। কয়েকবার আমি হাঁটাহাঁটি করে ফিরে গেলাম জালান গমবাক বাস স্টপেজেই। ওখানে এক ইনডিয়ান-মালয় লোক বোধহয় বুঝতে পারছিল আমার কোন সমস্যা হয়েছে। নিজে এসেই জানতে চাইল। আমি আমার হোস্টল রোডের নাম বলাতে ও বুঝতে পারছিলনা। কোর্ট ম্যামোথ এর পুরো নাম ভুলে গিয়েছিলাম, শুধু বললাম কোর্ট নামের কিছু একটা হলুদ রঙের একটা বিল্ডিং । লোকটা জিগেস করল কাছাকাছি পোস্ট অফিস আছে কিনা; ছিল তবে তখন আমি সেটা জানতাম না। ও আবার জিগেস করল হোস্টেলের কারো ফোন নাম্বার আছে কিনা। হোস্টেল সুপাভাইজারের নাম্বার ছিল, আমি একবার ফোনও করেছিলাম , সুপারভাইজারের ছোট ভাই ধরেছিল, ইংলিশ তেমন বলতে পারছিলনা, আমার এমনিতেই তখন মাথা গরম, আমি তার কথা কিছুই ধরতে পারছিলাম না। কিন্তু এই লোকটি স্থানীয়, আমি ফোন করে ওকে দিতে ও মালয় ভাষায় কিছু কথা বলল। এবার সে আমাকে আস্বস্ত করে বলল, আমার হোস্টেলের কাছাকাছি একটা পোস্ট অফিস আছে ও আমাকে সেখানে নিয়ে যাবে, হোস্টেল থেকে লোক আসছে আমাকে নিতে সেখানে। আমরা পোস্ট অফিস পৌছানোর পর দেখলাম আলোং (হোস্টেল সুপারভাইজারের ছোট ভাই) সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। সাথের লোকটি জিগেস করলো এই ছেলেকে আমি চিনি কিনা, জানালাম চিনি। এবার লোকটি আমাকে হাত তুলে রাস্তার ওপারে দেখিয়ে বলল, ওই যে তোমার হলুদ রঙের বিল্ডিং, ওটার নাম কোর্ট ম্যামোথ। আমার যেন সব কিছূ পাঁই করে মনে পড়ে গেল এক মুহুর্তে। মনে হলো এই লোকটাকে বোধহয় সৃস্টিকর্তা পাঠিয়েছে...! ধন্যবাদ জানানোর ভাষা পাচ্ছিলাম না; লোকটা হেসে শুধু সাবধানে চলা-ফেরা করার কথা বলে চলে গেল। আমার পায়ের স্যান্ডেলের একটা ফিতে তখন ছিঁড়ে গেছে, আমি স্যান্ডেল খুলে হাতে নিয়ে আলোং এর সাথে খালি পায়েই হাঁটা দিলাম। আলোং মনে হচ্ছিল আমার বেহাল অবস্থা দেখে খুব মজা পাচ্ছিল! ওই মুহুর্তটার একটা নাম আমি দিয়েছিলাম - লস্ট ইন মালয়শিয়া । তবে এরপর আর এরকমভাবে হারিয়ে যাইনি বরং মাঝে মাঝে তো আমি স্থানীয়দেরকেই রাস্তাঘাট চিনিয়ে দিয়েছি ...!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×