somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এলোমেলো মন ... + অর্থহীন শব্দমালা = বালসুলভতা

২১ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ : ব্যস্ততা আমাকে দেয়না অবসর

জীবন অনেক যান্ত্রিক এখন । জীবিকার চাহিদার পেষণে মানবিক চাহিদাগুলো একে একে ম্রিয়মাণ। রাত জেগে কি-বোর্ড আর মাউসের সাথে অদ্ভূত খেলা, তাই ভোর বেলা বিছানায় অঘোরে পরে থাকা । সন্ধ্যায় পড়িমরি করে অফিস থেকে বাসায় ফিরে আসা। সময় কখনো থেমে থাকে না; প্রতি বছর ৩৬৫ টা সূর্যদোয় আর সূর্যাস্ত চলে যাচ্ছে, অথচ দেখা হচ্ছেনা !!!

কিছু অবসর পাওয়া হয়না;

পুরনো রেকর্ডে 'মান্না দে' শোনা
শাড়ি কেটে তৈরী কাঁথাতে নকশা বোনা
আরাম কেদারায় 'শেষের কবিতা'
ক্লান্ত বিকেলে ছাদে ওঠা।

২ : এসো তবে বৃষ্টি নামাই, সৃষ্টি ছাড়া ভালবাসায়

রঙহীন বৃষ্টি কি অদ্ভূত বর্ণালি ছড়ায় পরানের গহীনে। বৃষ্টির শব্দে শিহরণ জাগে ক্ষণে ক্ষণে। ১১ তলার ফ্লোর থেকে, অফিসের সুপ্রশস্ত জানালা দিয়ে, কাজের ফাঁকে এক ঝলক বৃষ্টি দেখা। চলতি পথে বৃষ্টি হলে সর্বক্ষণ ব্যাগে থাকা ফোল্ডিং ছাতাটা মেলে মাথা বাঁচাই। এসবের মাঝে একবার, ভেজা রাস্তার সোঁদা গন্ধ খুঁজি।

কিছু বৃষ্টিতে ভেজা হয়না;

খরখরে মাটি, প্রথম ফোঁটা বৃষ্টির
ঘন দেয়া বাধা হয় দৃষ্টির
কাক ভেজা, উদ্বাহু আলিঙ্গন
শাওন রাতে অঝোর বরিষন ।

৩ : তুমি শুনিতে চেয়োনা, আমার মনের কথা

সম্পর্ক ব্যাপারটা অতিরিক্ত প্যাঁচানো; ডি.এন.এ -র চেয়েও । কথা থেকে একটা নতুন সম্পর্কের অবতারণা হয়; আবার কিছু কথায় বিদ্যমান সম্পর্ক ধূলিসাত্ হয়ে যায়। কথা আর সম্পর্কের এই টানাপোড়ানে কিছু কথা শেষ পর্যন্ত চাপা পরে যায়।

কিছু কথা বলা হয় না;

সন্ধ্যার সেই আবেগী ক্ষণে
ভীষণ সৃষ্টি-ছাড়া অভিমানে
অশ্রু লুকিয়ে তবুও হাসি
ভালবাস ? ভালবাসি ।


৪ : আমরাও হাঁটব ঠিকই, মাঝে মাঝে থেমে যাব, মুখোমুখি চেয়ে রব অনন্তকাল

প্রতিদিনই তো হাঁটছি পিচ ঢালা রাস্তায়। বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট বিশ্রীরকম প্লাবিত হয়, ড্রেন আর ময়লার গন্ধ এসে নাকে লাগে; "সাগরের তীর থেকে মিষ্টি কিছু হাওয়া এনে, তোমার কপালে ছোঁয়াব গো, ভাবি মনে মনে" - ভাবনাগুলোর যবনিকাপাত হয় ওখানেই।

কিছু পথ হাঁটা হয় না ;

ক্লান্ত, অলি-গলি হেঁটে হেঁটে
সাগর বেলা দৃষ্টিপটে
মেঠো পথ দেয় হাতছানি
(দৃষ্টিভ্রম) হাত বাড়িয়ে ডাকছো তুমি।

৫ : ... লেখা হলনা তোমার নাম, হৃদয়ের পরতে পরতে

মনুষ্য অনুভুতি "ই ইকুয়্যালস টু এম সি স্কয়ার" সূত্রের চেয়েও দুর্বোধ্য। নিজের অজান্তে কারো উপর অধিকারবোধ জন্মে; নিজের স্থানটুকুও নিজে নিজেই 'সবার আগে' ঠিক করে ফেলা হয়। একটু নড়চড় হলে ঈর্ষা জাগে; চোখের কোনে গরম জলের আবির্ভাব ঘটে সহসাই। কোনটাই ইচ্ছাকৃত নয়; শুধু ঘটে যায়। তারপর চমকে গিয়ে সেই অনুভ’তিতে নিয়ন্ত্রনের বেড়ি পরানো হয়; যুক্তি দাঁড় করানো হয়, যত্তসব অযৌক্তিক বোকামিগুলোকে দমন করতে।

কিছু কবিতা লেখা হয় না ;

ছোট ছোট কষ্ট, বোকা বোকা অভিমান
শব্দগুলো হারায়; নয়ন জলে মজ্জমান
পাছে তুমি বুঝে ফেলে কর উপহাস
ছেলেমি অনুভূতির হয়না প্রকাশ।

পুনশ্চ (পায়ের প্যাঁচালি) :

'ভাঙবে, তবু মচকাবে না , চির চেনা প্রবাদ বাক্যটি আমার জন্য একটু উল্টোভাবে প্রযোজ্য হলো । গোড়ালি টিপে-টুপে, এক্স-রে দেখে ট্রমা সেন্টারের ডাক্তার বললেন, 'ভাঙেনি, তবে মচকেছে' । পায়ে ঢাউস আকৃতির প্লাস্টার আর ব্যান্ডেজ অবস্থায় আমাকে হুইল চেয়ারে করে টেনে এনে ক্যাবে তোলা হল। যারা হুইল চেয়ারের উপর নির্ভরশীল তাদের অনুভূতিটা ওই দুই/তিন মিনিটে বোঝা সম্ভব ছিলনা আমার জন্য। শাওনকে (ব্লগার শাওন নয়) এস.এম.এস করলাম,'নিজেকে কেমন বেকুব মনে হচ্ছে...' । সাথে সাথেই উত্তর আসে, 'সামটাইমস বিইং স্টুপিড ইজ গুড ফর বডি এন্ড মাইন্ড ' । আমি হাসি মনে মনে, দেশে আঁতেলের সংখ্যা বাড়ছে। পায়ের প্যাঁচালি আর কত পাড়া যায়, তাই একবার মনে হলেও, দোস্তকে এস.এস.এস করে বিরক্ত করতে যেয়েও মোবাইলের কালো বাটনগুলোতে অঙ্গুলী চালনা থেমে যায় । ব্যাপারটা নেহায়েতই কাকতালীয়; আমাকে টানা অনেকক্ষণ অফলাইন দেখে, ছুটির দিনে হালকা প্রেমে মশগুল কিনা জানতে চেয়ে দোস্তই এস.এম.এস করে বসল। রিকশায় যাযাবরের মত ঘোরাঘুরি, বিরিয়ানী, চটপটি, ফুচকা! হায়! সেই দিন কি আর আছে !

বাসায় ফিরে গম্ভীর মুখে আম্মাকে বললাম, 'পায়ের হাড় ভেঙেছে' । চোখ কপালে ওঠে আম্মার , 'আরো ধিঙ্গিপনা কর ...' । যেদিন মচকালাম সেদিন রাত ছাড়া পরে আমার কাছে সেরকম ব্যাথা অনুভূত হয়নি; সয্য ক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন বোধহয়! মচকানো পায়েই ঘর-বাহির-ঘর করে যাচ্ছি। এক বান্ধবী বলল, 'তুই পুরা জ্বীন-ভ’ত ...' । ওদিকে আমাকে অবাক করে দোস্ত ফোনই করে ফেলল । ওখানে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে নাকি; আর এখানে খটখটে রোদ ! কি করছি জানতে চাইলে, 'লিখছি' বলতে কেমন লজ্জা লাগলো, বললাম- গান শুনছি । মিথ্যে বলিনি অবশ্য।

মস্তিস্কের বাম দিক নাকি শরীরের ডান দিক নিয়ন্ত্রণ করে। আমার ক্ষেত্রে বোধহয় আবারও উল্টো হচ্ছে। ডান পায়ের কারণেই কিনা কে জানে মস্তিস্ক এলোমেলো হয়ে আছে। খাপছাড়া ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে । কি জানি লিখতে চাইলাম আর কি লিখছি! অযথাই টানাটানি করছি শব্দগুলোকে। নাহ্! ছেলেমানুষি বেশী হয়ে যাচ্ছে । সারথি, লাগাম টানো, এখনই সময় ...

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৫০
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×