জীবন অনেক যান্ত্রিক এখন । জীবিকার চাহিদার পেষণে মানবিক চাহিদাগুলো একে একে ম্রিয়মাণ। রাত জেগে কি-বোর্ড আর মাউসের সাথে অদ্ভূত খেলা, তাই ভোর বেলা বিছানায় অঘোরে পরে থাকা । সন্ধ্যায় পড়িমরি করে অফিস থেকে বাসায় ফিরে আসা। সময় কখনো থেমে থাকে না; প্রতি বছর ৩৬৫ টা সূর্যদোয় আর সূর্যাস্ত চলে যাচ্ছে, অথচ দেখা হচ্ছেনা !!!
কিছু অবসর পাওয়া হয়না;
পুরনো রেকর্ডে 'মান্না দে' শোনা
শাড়ি কেটে তৈরী কাঁথাতে নকশা বোনা
আরাম কেদারায় 'শেষের কবিতা'
ক্লান্ত বিকেলে ছাদে ওঠা।
২ : এসো তবে বৃষ্টি নামাই, সৃষ্টি ছাড়া ভালবাসায়
রঙহীন বৃষ্টি কি অদ্ভূত বর্ণালি ছড়ায় পরানের গহীনে। বৃষ্টির শব্দে শিহরণ জাগে ক্ষণে ক্ষণে। ১১ তলার ফ্লোর থেকে, অফিসের সুপ্রশস্ত জানালা দিয়ে, কাজের ফাঁকে এক ঝলক বৃষ্টি দেখা। চলতি পথে বৃষ্টি হলে সর্বক্ষণ ব্যাগে থাকা ফোল্ডিং ছাতাটা মেলে মাথা বাঁচাই। এসবের মাঝে একবার, ভেজা রাস্তার সোঁদা গন্ধ খুঁজি।
কিছু বৃষ্টিতে ভেজা হয়না;
খরখরে মাটি, প্রথম ফোঁটা বৃষ্টির
ঘন দেয়া বাধা হয় দৃষ্টির
কাক ভেজা, উদ্বাহু আলিঙ্গন
শাওন রাতে অঝোর বরিষন ।
৩ : তুমি শুনিতে চেয়োনা, আমার মনের কথা
সম্পর্ক ব্যাপারটা অতিরিক্ত প্যাঁচানো; ডি.এন.এ -র চেয়েও । কথা থেকে একটা নতুন সম্পর্কের অবতারণা হয়; আবার কিছু কথায় বিদ্যমান সম্পর্ক ধূলিসাত্ হয়ে যায়। কথা আর সম্পর্কের এই টানাপোড়ানে কিছু কথা শেষ পর্যন্ত চাপা পরে যায়।
কিছু কথা বলা হয় না;
সন্ধ্যার সেই আবেগী ক্ষণে
ভীষণ সৃষ্টি-ছাড়া অভিমানে
অশ্রু লুকিয়ে তবুও হাসি
ভালবাস ? ভালবাসি ।
৪ : আমরাও হাঁটব ঠিকই, মাঝে মাঝে থেমে যাব, মুখোমুখি চেয়ে রব অনন্তকাল
প্রতিদিনই তো হাঁটছি পিচ ঢালা রাস্তায়। বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট বিশ্রীরকম প্লাবিত হয়, ড্রেন আর ময়লার গন্ধ এসে নাকে লাগে; "সাগরের তীর থেকে মিষ্টি কিছু হাওয়া এনে, তোমার কপালে ছোঁয়াব গো, ভাবি মনে মনে" - ভাবনাগুলোর যবনিকাপাত হয় ওখানেই।
কিছু পথ হাঁটা হয় না ;
ক্লান্ত, অলি-গলি হেঁটে হেঁটে
সাগর বেলা দৃষ্টিপটে
মেঠো পথ দেয় হাতছানি
(দৃষ্টিভ্রম) হাত বাড়িয়ে ডাকছো তুমি।
৫ : ... লেখা হলনা তোমার নাম, হৃদয়ের পরতে পরতে
মনুষ্য অনুভুতি "ই ইকুয়্যালস টু এম সি স্কয়ার" সূত্রের চেয়েও দুর্বোধ্য। নিজের অজান্তে কারো উপর অধিকারবোধ জন্মে; নিজের স্থানটুকুও নিজে নিজেই 'সবার আগে' ঠিক করে ফেলা হয়। একটু নড়চড় হলে ঈর্ষা জাগে; চোখের কোনে গরম জলের আবির্ভাব ঘটে সহসাই। কোনটাই ইচ্ছাকৃত নয়; শুধু ঘটে যায়। তারপর চমকে গিয়ে সেই অনুভ’তিতে নিয়ন্ত্রনের বেড়ি পরানো হয়; যুক্তি দাঁড় করানো হয়, যত্তসব অযৌক্তিক বোকামিগুলোকে দমন করতে।
কিছু কবিতা লেখা হয় না ;
ছোট ছোট কষ্ট, বোকা বোকা অভিমান
শব্দগুলো হারায়; নয়ন জলে মজ্জমান
পাছে তুমি বুঝে ফেলে কর উপহাস
ছেলেমি অনুভূতির হয়না প্রকাশ।
পুনশ্চ (পায়ের প্যাঁচালি) :
'ভাঙবে, তবু মচকাবে না , চির চেনা প্রবাদ বাক্যটি আমার জন্য একটু উল্টোভাবে প্রযোজ্য হলো । গোড়ালি টিপে-টুপে, এক্স-রে দেখে ট্রমা সেন্টারের ডাক্তার বললেন, 'ভাঙেনি, তবে মচকেছে' । পায়ে ঢাউস আকৃতির প্লাস্টার আর ব্যান্ডেজ অবস্থায় আমাকে হুইল চেয়ারে করে টেনে এনে ক্যাবে তোলা হল। যারা হুইল চেয়ারের উপর নির্ভরশীল তাদের অনুভূতিটা ওই দুই/তিন মিনিটে বোঝা সম্ভব ছিলনা আমার জন্য। শাওনকে (ব্লগার শাওন নয়) এস.এম.এস করলাম,'নিজেকে কেমন বেকুব মনে হচ্ছে...' । সাথে সাথেই উত্তর আসে, 'সামটাইমস বিইং স্টুপিড ইজ গুড ফর বডি এন্ড মাইন্ড ' । আমি হাসি মনে মনে, দেশে আঁতেলের সংখ্যা বাড়ছে। পায়ের প্যাঁচালি আর কত পাড়া যায়, তাই একবার মনে হলেও, দোস্তকে এস.এস.এস করে বিরক্ত করতে যেয়েও মোবাইলের কালো বাটনগুলোতে অঙ্গুলী চালনা থেমে যায় । ব্যাপারটা নেহায়েতই কাকতালীয়; আমাকে টানা অনেকক্ষণ অফলাইন দেখে, ছুটির দিনে হালকা প্রেমে মশগুল কিনা জানতে চেয়ে দোস্তই এস.এম.এস করে বসল। রিকশায় যাযাবরের মত ঘোরাঘুরি, বিরিয়ানী, চটপটি, ফুচকা! হায়! সেই দিন কি আর আছে !
বাসায় ফিরে গম্ভীর মুখে আম্মাকে বললাম, 'পায়ের হাড় ভেঙেছে' । চোখ কপালে ওঠে আম্মার , 'আরো ধিঙ্গিপনা কর ...' । যেদিন মচকালাম সেদিন রাত ছাড়া পরে আমার কাছে সেরকম ব্যাথা অনুভূত হয়নি; সয্য ক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন বোধহয়! মচকানো পায়েই ঘর-বাহির-ঘর করে যাচ্ছি। এক বান্ধবী বলল, 'তুই পুরা জ্বীন-ভ’ত ...' । ওদিকে আমাকে অবাক করে দোস্ত ফোনই করে ফেলল । ওখানে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে নাকি; আর এখানে খটখটে রোদ ! কি করছি জানতে চাইলে, 'লিখছি' বলতে কেমন লজ্জা লাগলো, বললাম- গান শুনছি । মিথ্যে বলিনি অবশ্য।
মস্তিস্কের বাম দিক নাকি শরীরের ডান দিক নিয়ন্ত্রণ করে। আমার ক্ষেত্রে বোধহয় আবারও উল্টো হচ্ছে। ডান পায়ের কারণেই কিনা কে জানে মস্তিস্ক এলোমেলো হয়ে আছে। খাপছাড়া ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে । কি জানি লিখতে চাইলাম আর কি লিখছি! অযথাই টানাটানি করছি শব্দগুলোকে। নাহ্! ছেলেমানুষি বেশী হয়ে যাচ্ছে । সারথি, লাগাম টানো, এখনই সময় ...
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



