কোন এক বেসরকারী সংস্থায় একজন ছাপোষা মহিলা কর্মজীবি হিসেবে আছি । কথাটা যতোটা তৃণভোজী ধরনের শোনাচ্ছে, বস্তুত: তা নই যদিও । তারপরও বেসরকারী সংস্থার জটিল ভাব, নির্দিষ্ট উপার্জন আর অসীম শখের ত্রিমাত্রিক দ্বন্দ্বে অহরহই নাকানিচুবানি খাই ।
আবারও শুরু থেকে শুরু করি তাহলে । কেমন চলছে দৈনন্দিন জীবন ? মন্দ নয় ; হিন্দী চ্যানেলে জমকালো এ্যাওয়ার্ড শো গুলোতে নায়িকা-গায়িকাদের মেকআপ দেখি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। বেতন পেলেই গাউসিয়া, চাঁদনীচক ঢুঁ মারি; দম বন্ধ করা ভিড়ে দামাদামি করে পাঁচশ টাকায় হাল ফ্যাশনের থ্রী পিস- প্রতি মাসে একটু নতুন জামা চাই! ফুটপাথ থেকে তিরিশ টাকায় ম্যাচিং কানের দুল! পরদিন মহিলা কলিগদের সাথে জামা-জুতো-দুল নিয়ে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ। বাসের গরমে আর রোদে ঝলসে যাওয়া ত্বকের উজ্বলতা ঠিক রাখতে প্রতি মাসে একবার পারসোনা’য় কয়েক ঘন্টা ব্যয়; ফোনে মাঝে মাঝে একটু গ্যাজানো- কোন্ বান্ধবী কি কান্ড ঘটালো এসব রসালো কথাবার্তা! হিন্দী সিরিয়ালগুলোর বাস্তবরূপ আর কি! ওদিকে সময় পেলে কখনও পুডিং , কখনও রকমারী সালাদ। ছুটির দিনে খুব ঘরকন্যা সুলভ মন নিয়ে ঘরবাড়ী ঝেড়েমুছে একাকার। আধুনিক নারী ; তাই অন্তর্জালে জড়াজড়ি করতেও ছাড়িনা । মাঝে-সাঝে টুপ করে এক-আধটা ন্যাকা ন্যাকা কবিতা লেখা! কেউ শখের কথা জানতে চাইলে, ধরাবাঁধা উত্তর, ”বই পড়া, গান শোনা” ! সব কিছু খাপে খাপে মেয়েলি-মেয়েলি!
এতো কিছুর পরও একটু বিলাসী নি:শ্বাস ছেড়ে বলি, ” ওহ! গেটিং বোরড ...” !!! কি কারণ ! ”দিল মাঙ্গে মোর ইয়ার ..”! এর আবার কি মানে ? ”মনে সাধ কালো মেঘ উড়ে যায়, একে বারে ফুঁড়ে যায় ... ” ! একটুখানি ব্যতিক্রমতা খুঁজি; তখন খানিকটা বিশ্লেষক হয়ে উঠি,চিন্তাবিদ, সমালোচক হয়ে উঠি , মুখরা হয়ে উঠি। হেঁশেলের ধোঁয়ার চেয়ে কেন জানি রাজনীতির ধুম্রজাল টানে বেশী তখন ! সিনেম্যাগের রগরগে খবরগুলোর চেয়ে পত্রিকার প্রধান প্রধান শিরোনামগুলোতেই চোখ পড়ে বেশী ।
খালেদা জিয়া যখন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি তখন হোসেইন মো: এরশাদ বললেন, ”দুই নেত্রীর সংলাপ কল্পনামাত্র” ! বটে ! এরশাদ ছাড়া আর কেই বা পারে এমন করে ”নারী চরিত” বিশ্লেষন করতে!
”কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ ঘোষনা” - কি কারণ, কার দোষ, কে নির্দোষ, ঘটনার সূত্রপাত কিভাবে, এসব জানার আগ্রহের চেয়ে মাথায় ঘুরপাক খায় অন্য কিছু; এখনও আমাদের দেশে কথায় কথায় শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলো বন্ধ হয়ে যায় ! একটা দেশকে খুব সহজেই প্রগতিশীলতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায় যদি তার শিক্ষা ব্যবস্থা দূর্বল, ভঙ্গুর হয় - শিক্ষার মর্ম এ জাতি আর কবে অনুভব করবে !
তারেক জিয়ার অসুস্থ, দূর্বল শরীরের কথা শুনলে মায়া হয়; মাতা-পিতার সুস্থ পরিচর্যার অভাবে এক সন্তানের ভবিষ্যত কি হয়ে গেল ! এমন টগবগে এক তরুণ নিজ সততা, যোগ্যতাতে সত্যি সত্যিই ”বাংলাদেশ আইডল” হতে পারত! পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও যেখানে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ঘোর থেকে অনেকটাই মুক্ত; সেখানে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এখনও মৃত ব্যক্তির ছবিতে মালা ঝুলিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে !
”সিরিজ বোমা হামলায় প্রকম্পিত দিল্লী”র কথা শুনে আমিও কেঁপে উঠি! মনে মনে প্রমাদ গুণি, ”চাচা,দিল্লী কতদূর?” ।
ভেজাল খাবার খেয়ে খেয়ে অসুস্থ হয়ে গেলে পয়সাপাতি খরচা করে যে ওষুধ খাবো, সেখানেও ভেজাল! ক্যাপসুল, ট্যাবলেটে মেশানো হয় আটা, ময়দা, চকের গুড়া, ট্যালকম পাউডার ! যতদূর জানি এসব দ্রব্যাদিগুলোও ভেজালমুক্ত নয়, মানে ভেজালেও ভেজাল! রোজার মাসে ভাজাপোড়া খেয়ে পেট খারাপ হলে যে একটু স্যালাইন খাবেন, তারও জো নেই; কারণ ”স্যালাইনে শ্যাওলা” ! এই ভেজালচক্রের ভেজালে মাঝে মাঝে আবছাভাবে মনে পরে আমাদের নেতানেত্রীদের ওয়াদা , "ওমুক" সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা !
এক সাথে এতোগুলো খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ জন্ম দিল ঢাকা ওয়ারিওর্স এর। কোনটা বড়- আইসিএল -এর টাকার হাতছানি নাকি দেশপ্রেম ? কি উদ্বুদ্ধ করলো এই খেলোয়াড়দের এমন হঠকারী, বিতকির্ত সিদ্ধান্ত নিতে ? মোহ নাকি ক্ষোভ ? পর্দার আড়ালে কি বা কে ছিল ?
এখন খালেদা জিয়ার ফিরে আসায় সবার ভোল পাল্টে গেলেও এক সময় দলের প্রত্যেকেই পারলে নিজেকে হর্তাকর্তা ঘোষনা দিয়ে ফেলেন একরকম। হাতি খাদে পড়লে চামচিকারাও লাথি মারে আর কি !
এক সময় সংসদে মাত্র দু’টো সিট নিয়ে কাচুমাচু হয়ে বসে থাকা জামাতের দিকে এখন একবার তাকিয়ে দেখলে মনে হয়, বি.এন.পি আর আওয়ামী লীগের উচিত রাজনীতির আসল খেলাটা জামাতের কাছ থেকে শিখে নেয়া। জামাত না কি বি.এন.পি - কে কার ঘাড়ে বন্দুক রেখে চলছে কিনবা মুলো ঝুলিয়ে রেখেছে মাঝে মাঝে বুঝতে ধাঁধায় পরে যাই। তবে এতো ভাবনার পেছনের খবর হলো নির্বাচন নিয়ে জামাতের ভাবনা । খবরে প্রকাশ ”জামাত এবার ১০০ আসন চাইবে জোটের কাছে ” !
পত্রিকার পাতা উল্টাতে উল্টাতে, কিনবা মাউসের ক্লিকে এক লিংক থেকে আরেক লিংকে যেতে যেতে কিভাবে জানি চোখ পরে যায় ঈদের শপিংয়ের খবরগুলোতে। আনারকলি,সাওয়ারিয়া ডিজাইন নাকি এবার খুব চলছে; দামও তেমনি- তিন থেকে দশ হাজার ! গাউসিয়ার ভিড় এড়াতে তিনটে জামার ব্যবস্থা আগেভাগেই করে রেখেছিলাম; অবশ্য আরেকটা হলে এক হালি পূর্ণ হয় ! ওদিকে মাসখানেক হলো মিরপুর-১১ তে দেখছি পারসোনার বিশাল পোস্টার - ওপেনিং শর্টলী । যাক, গুলশান-ধানমন্ডি যাওয়ার খরচটাতো কিছু বাঁচবে! বান্ধবীকে একটা ফোন দেয়া উচিৎ; ওর ক’টা জামা হলো এবার কে জানে !
... বেখেয়ালেই কখন জানি ফিরে আসি আমার আমিতে ;দৈনন্দিন জীবনের ভীষণ মেয়েলিপনায় ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



