********************************
Ethical Issues Concerning Representation of Narratives of Sexual
Violence of 1971
by Nayanika Mookherjee
********************************
প্রথম পর্ব : Click This Link
********************************
পাবনা থাকাকালীণ সময়েই ঘটনাচক্রে আমি সেই সাংবাদিকের দেখা পাই যে সেই প্রতিবেদনটি লিখেছিল । সে আমাকে জানায় চম্পার ভাষ্যের পুরোপুরি বর্ননা সে দেয়নি বস্তুত চম্পার সাথে তার দেখাই করেনি। এই প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছিল MBS –এর তথ্যের উপর ভিত্তি করে।
আমার কাছে দেয়া চম্পার ভাষ্য আর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাঝের বৈসাদৃশ্যটুকু খতিয়ে দেখা খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল । কোন সূক্ষ তথ্য হয়ত বিশাল পার্থক্য তৈরী করতে পারে যুদ্ধকালীন সময়ে সংগঠিত শারীরিক নির্যাতনমূলক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে। প্রতিবেদনের মাঝে উল্লেখ ছিল, চম্পা ঢাকাতে নারী পূনর্বাসন কেন্দ্রে প্রায় দু’বছর চিকিৎসাধীন ছিল; উল্লেখ্য যে, উক্ত কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয় ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ -এ। পরবর্তীতে চম্পাকে ভর্তি করানো হয় পাবনা মানসিক হাসপাতালে; তথ্যগত বৈসাদৃশ্য এখানে লক্ষনীয় কারণ হাসপাতালের রেজিস্টার খাতায় চম্পাকে ভর্তির করানোর তারিখ ছিল ২২শে অক্টোবর ১৯৭২ ।
এছাড়াও রেজিষ্টার খাতায় বলা হয়েছিল যে, চম্পা সম্ভবত পাক-বাহিনী কর্তৃক শারীরিক ভাবে নির্যাতিত; সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল যে চম্পা একাত্তরের কোন ঘটনা বর্ননা করতে অস্বীকৃতি জানায় কারণ সে বস্তুত কোন স্মৃতিই মনে করতে পারে না , অথচ প্রতিবেদনে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় তার শারীরিক অত্যাচারের। একাত্তরের কোন বিশেষ অংশের স্মৃতিশক্তি হারানো চম্পার স্মৃতিশক্তি পুনুরুদ্ধারের জন্য কি চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ তা না উল্লেখ করে মূলত প্রতিবেদনটিতে পরিস্কার ভাবে পাকবাহীনি কর্তৃক সংগঠিত অমানুষিক নির্যাতনের বর্ননা তুলে ধরা হয়েছে পাঠকের জন্য ।
তথ্যগুলো থেকে আমি এই ধারণাটুকু নিতে চাইছিলাম যে চম্পার ভাষ্য থেকে মূলত কি প্রতিবেদককে প্রভাবিত করেছিল। যতটুকু বোঝা যায়, চম্পার ভাষ্য হলো একটি "অজানা" ঘটনার প্রমাণ; অসম্মতি স্বত্ত্বেও একজন সাংবাদিক তা জানতে এবং তুলে ধরতে পারে । এভাবে একজন স্বীকৃত নির্যাতিত, লান্চ্ছিত মহিলার বর্ণনা তুলে ধরার উদ্দেশ্য পরিণত হয় প্রয়োজনীয়তায়। এভাবেই সেই ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ননাগুলো তুলে ধরে চম্পাকে তার শরীরে প্রাপ্ত "চিহ্ন" সহ একটি "বিষয়" হিসেবে।
চম্পা বারবারই জানায় যে সে হয় গ্রামে ফিরে যেতে চায় নয়তো হাসপাতালেই থেকে যেতে চায়; ঢাকায় যেতে চম্পা বেশ অনীহা প্রকাশ করে। তার ইচ্ছের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হাসপাতালের পর্যাপ্ত অর্থাভাব, কর্মী ছাটাই এবং রোগীদের ছাড়পত্র দেয়ার চিত্রটিই ফুটে ওঠে। একারণেই চম্পার কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাকে MBS- এর তত্বাবধানে ঢাকাতে কোন কাজে যেমন শিশু পরিচর্যা বা অন্য কিছুতে নিয়োজিত করানো জরুরী ছিল।
অপরদিকে যে অংশটির ভয়াবহতার উপর জোড় দেয়ে হয়েছিল তা হলো মানসিক হাসপাতালে চম্পার যাপিত ২৬ বছরের বন্দী জীবন। এক্ষেত্রে অবশ্যই তখনই এই সত্যটি পর্যবেক্ষণ করাটাই স্বাভাবিক ছিল যে, ” ...চম্পাকে অনেক অসুস্থ মনে হচ্ছিল । সে খুব একটা কথা বলেনি এমননি যেটুকু বলছিল তাও জড়িয়ে যাচ্ছিল”; কিন্তু এই অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা হয় চম্পাকে ঢাকায় নিয়ে আসার পর, যা আমার কাছে মনে হয়েছে বহু বছর হাসাপাতালের পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর চম্পার দ্বিধা এবং নি:সঙ্গতারই বহি:প্রকাশ। অথচ তা এই প্রতিবেদনে একটি দু:খজনক মোড় নেয় এবং এই মর্মে জোড় দেয়া হয় যে, হাসপাতালের বন্দীদশা এবং ফলশ্রুতিতে এই অস্বাভাবিকতা থেকে মুক্ত হতে চম্পা " জীবনের শেষ ক'টা দিন অন্তত স্বাভাবিক মানুষ-জনের মাঝে কাটাতে চান ...." । হাসপাতালের বন্দীদশার মানসিক চাপ এই প্রতিবেদটিকে খুব জোড়ালোভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করল শারীরিক নির্যাতনের ফলাফল স্বরূপ দুই দশক ধরে অতিবাহিত একটি কঠিন সময়কালের চিত্র।
***********************
আগামী পর্বে সমাপ্তি ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



