আমার প্রিয় পোস্ট

অনেকের মাঝেও একা থাকা যায়, নি:সঙ্গতায় কারো অনুভব ছুঁয়ে যায় ...

দ্য কিউরিয়াস কেইস অফ বাংলা কী-বোর্ড

২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:০৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

অভ্র-বিজয় সংঘর্ষে কী-বোর্ড এখনো উত্তপ্তই। মোস্তফা জব্বার নাছোড়বান্দার মত আইনানুগ পথেই এগুলেন । অভ্রর দিকে অঙ্গুলি তুললেও মোস্তফা জব্বার আদতে ইউনিজয় নিয়ে ক্ষুব্ধ। বিজয় এবং ইউনিজয়ের কী-বোর্ড লে-আউটের সাদৃশ্যতা নিয়ে অভিযোগ কপিরাইট দপ্তর পর্যন্ত গড়িয়েছে। কারণ দর্শাও প্রকারের নোটিশ গেছে অভ্র টিমের কাছে। কিন্তু অভ্র এখানে আইনের মুখোমুখি কেন? অভ্র ইউনিজয়কে যুক্ত করেছে বলে মোস্তফা জব্বারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা এখন জবাবদিহিতার মুখোমুখি। অভ্র আসলে কী? অভ্র মূলত একটি সফটওয়্যার। একটি ইন্টারফেস। যেখানে ইউনিজয় ছাড়াও রয়েছে ফোনেটিক, অভ্র ইজি, বর্ণনা এবং জাতীয় কী-বোর্ড নামক প্রতিটি আলাদা আলাদা কী-বোর্ড লে-আউট। একুশে প্রজেক্ট অন্যান্য কী-বোর্ড লে-আউটের (যেমন- মুনীর ইউনিকোড, প্রভাত, রূপালী) পাশাপাশি ইউনিজয় লে-আউট বিতরণ করেছিল। প্রথম ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা কী-বোর্ড ইন্টারফেসের দাবিদার সৃষ্টি প্রজেক্ট বিজয় কী-বোর্ড লে-আউটকে ব্যবহার করেছিল। বিজয়ের ৯৫% অনুরূপ লে-আউটে করা ইউনিকোড ভিত্তিক কী-বোর্ড যুক্ত বলে সৃষ্টি ইন্টারফেসের বৈশিষ্ট্যের তালিকা থেকে জানা যায়। একুশে ও অমিক্রনল্যাবের সাইটে ইউনিজয়ের লে-আউটের ব্যাপারে বিজয়ের সাথে ৯৯% সাদৃশ্যতার কথা জানানো হয়।

জব্বার বিদ্মেষীরা কিংবা অভ্র-সমর্থনকারীরা ত্যাক্ত, বিরক্ত এবং চিন্তিন্ত এই ভেবে যে, কেবল জব্বার সাহেবের পক্ষ থেকে বিশেষ কোন প্রভাব বিস্তারের কারণে যদি অভ্র এই আইনি লড়াইয়ে হেরে যায় তাহলে আন্তর্জাল থেকে বুঝি অভ্র বিলুপ্ত হয়ে গেলো। নন-টেকি কেউ এভাবে ভাবলে খুব একটা অবাক হওয়ার জো নেই, তবে সামান্য হলেও প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন কেউ এই ভাবনার জোয়ারে গা ভাসালে তা তথ্যপ্রযুক্তির কী-বোর্ডগত গবেষণা, উদ্ভাবনকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করার সামিল হয়। উল্লেখ্য ’অভ্র ইজি’ লে-আউট নিয়ে মোস্তফা জব্বারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ ওঠেনি। অভ্র সফটওয়্যারে ইউনিজয় কী-বোর্ড সংযুক্তকরণে অভ্রটিমকে আত্মপক্ষ সমর্থনে ইউনিজয় এবং বিজয়ের বৈসাদৃশ্য তুলে ধরতে হবে। লে-আউটের সাদৃশ্যতার কারণে বিজয়ের পেটেন্ট ভঙ্গ হয়েছে কি হয়নি তা নিয়ে তাদের যুক্তি দিতে হবে। সিদ্ধান্ত অবশ্যই শেষ পর্যন্ত আইন দেবে। তবে হেরে যাওয়া বা জিতে যাওয়া নিয়ে কথা বলার সুযোগ থেকে যায়।

১. ধরা যাক, ৯৯% মিল থাকার কারণে যদি পেটেন্ট ভঙ্গ হয়, এবং তা কোন রকম প্রভাব বিস্তার ছাড়াই সম্ভাব্য হারের কারণ হয়, তাহলে ইউনিজয় লে-আউট থেকে অভ্র ইন্টারফেস যদি মুক্ত হয়ে যায় তো আর কোন আইনি ঝামেলার সুযোগ থাকে না। ইউনিজয়মুক্ত অভ্র সফটওয়্যার সেই আগের মতই আমরা ব্যবহার করতে পারবো সফটওয়্যারটির অন্যান্য কী-বোর্ড লে-আউটগুলো দিয়ে।

২. যদি ৯৯% মিল থাকার কারণে ইউনিজয় অবৈধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে কি ইন্টারনেটে বাংলা টাইপিংয়ে বিশাল কোন ক্ষতি হয়? এর উত্তর না হতে পারে, আবার হ্যা -ও হতে পারে। ’না’ কিভাবে? ইউনিজয় হলো ইউনিকোড ভিত্তিক একটি কী-বোর্ড লে-আউট। ইউনিজয় কী-বোর্ড লে-আউট নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে কিন্তু ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা টাইপিং সুবিধা নিয়ে কোন প্রকার বিরোধ নেই। তাই ইউনিজয় না থাকলেও ভিন্ন একটি কী-বোর্ড লে-আউটকে ইউনিকোড-বান্ধব করলেই বিশেষত আন্তর্জালে বাংলা মুদ্রাকরদের সুবিধা বঞ্চিত হতে হয়না। আর ’হ্যা’ কিভাবে? যদি ব্যবহারকারীরা বিজয় কী-বোর্ড লে-আউটে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, কেবল তাহলেই ইউনিকোড ভিত্তিক হলেও একটি নতুন কী-বোর্ড লে-আউটে স্বাচ্ছন্দ আনতে আমাদের অসুবিধা হবে।

কাগজে মুদ্রন জগতে বিজয় এখনও বেশ জাঁকিয়ে থাকলেও সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের কারণে আন্তর্জালে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে বাংলা লিখতে ইউনিকোড পদ্ধতি প্রয়োজনীয়। আমরা যারা অভ্র সফটওয়্যারটি ব্যবহার করি সেই অভ্রপ্রেমীদের মধ্যে বলতে গেলে সবাই ফোনেটিক অথবা ইউনিজয় নির্ভর। অনেকেই জাতীয় কী-বোর্ড লে-আউটকে বাহবা দিলেও, অভ্রের মত একটি জনপ্রিয় সফটওয়্যারে এর সংযুক্তিস্বত্বেও জাতীয় কী-বোর্ড লে-আউটের সাথে আমরা অভ্যস্ত হয়নি। এমনকি অভ্র ইজি লে-আউটটির সাথেও আমরা অভ্যস্ত না। বর্ণনা লে-আউটের কথা তো বাদই দিলাম। তাহলে দু’টি বিষয় দেখা যাচ্ছে; এক-ওয়েবে লেখার জন্য আমাদের ইউনিকোড পদ্ধতি প্রয়োজন এবং দুই- কী-বোর্ড লে-আউটের জন্য আমাদের বিজয় লে-আউট অনুরূপ কিছু প্রয়োজন।

১৯৮৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশী কী-বোর্ড সফটওয়্যার আবিষ্কৃত হয়েছে। লে-আউট এসেছে বিভিন্ন রকম। প্রশ্ন হলো-
১. আমরা কি এখনো নতুন নতুন কী-বোর্ড লে-আউট আবিস্কার করেই যাবো?
২. প্রচলিত কী-বোর্ড লে-আউটগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে কতটা মান সম্মত তা নিয়ে কী কোন গবেষণা হয়েছে?
৩. ওয়েবে ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা টাইপিং সুবিধা থাকলেও মুদ্রণ মাধ্যমকে ইউনিকোড বান্ধব করা হচ্ছে না কেন?

কী-বোর্ড সফটওয়্যারের ফিচার আর কী-বোর্ড লে-আউটের মান যাচাই দুটো খানিকটা ভিন্ন বিষয়। একটি কী-বোর্ড ডিজাইন করতে যে রীতিমত আকণ্ঠ গবেষণা করতে হয়, তা হয়ত আমরা সাধারণ ব্যবহারকারীরা, এমনকি হয়ত যারা ইতিপূর্বে, এখন ও আগামীতে বাংলা কী-বোর্ড নিয়ে কাজ করতে চান তারাও মনে হয় ক্ষেত্রবিশেষে গুরুত্বসহকারে বুঝতে চাননা। এই যেমন অভ্র-টিম বা সমর্থকরা বলছেন, পেটেন্ট এড়ানোর জন্য কিছু কী-স্ট্রোকের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়। আমাদের খুব স্পষ্ট করে জানা উচিৎ, একজন কী-বোর্ড নকশাকারী গবেষক কী-স্ট্রোকের অবস্থান নির্ণয় করবেন ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য চিন্তা করে এবং টাইপিং গতিকে আরামদায়ক, তরান্বিত করার জন্য। যদি গানিতিক সংখ্যা ৭ চিহ্নিত কী-স্ট্রোকে থাকা চন্দ্রবিন্দুকে গানিতিক সংখ্যা ২ চিহ্নিত কী-স্ট্রোকে বসানোর কারণ কেবল মাত্র যদি পেটেন্ট/কপিরাইট আইন ঝামেলা এড়ানোর জন্য হয় তবে এরকম উদ্বাবন হয়ত তথ্যপ্রযুক্তিগত মান বাড়ানোর চেয়ে মান কমিয়ে দিতে পারে।

আরো বিষদে যাওয়ার আগে জেনে নেই কী-বোর্ড লে-আউটের কারিগরি পর্ব। কী-বোর্ড লে-আউট দর্শনে তিনটি পর্যায় রয়েছে- মেকানিক্যাল লে-আউট, ভিজ্যুয়াল লে-আউট, ফাংশনাল লে-আউট।

মেকানিক্যাল লে-আউটঃ আমরা ’এ’ কী-স্ট্রোকে চাপ দিলে কী-বোর্ড বার্তা পাঠায়। তাতে ব্যবহারকারী কর্তৃক ’এ’ চাপ দেয়া হয়েছে বলা থাকেনা, বরং বলা থাকে হোম-রো এর সর্ববামের প্রধান কী-স্ট্রোকে চাপ দেয়া হয়েছে। এটা সাধারণভাবে বোঝার জন্য একটা উদাহরণ। মূলত প্রতিটি কী এর জন্য একটি আভ্যন্তরীণ রেফারেন্স নাম্বার থাকে এবং সেই নাম্বারটিই গনকযন্ত্রকে বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়।

ভিজ্যুয়াল লে-আউটঃ আমরা কী-বোর্ডে যেভাবে বর্ণমালা ও বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক চিহ্ন আঁকা দেখি তাই হলো ভিজ্যুয়াল লে-আউট। এটি ভাষা, দেশ এবং ব্যবহারকারীর উপর নির্ভর করে বিভিন্ন হতে পারে। কম্পিউটার বা অপারেটিং সিস্টেম ভিজ্যুয়াল লে-আউট পড়তে পারেনা। মেকানিক্যাল লে-আউট বুঝতে পারে। একই মেকানিক্যাল লে-আউটে ভিন্ন ভিন্ন ভিজ্যুয়াল লে-আউট হতে পারে।

ফাংশনাল লে-আউটঃ এটি সফটওয়ার অংশ যেখানে মূলত কী-ম্যাপ থাকে। ভিজ্যুয়াল লে-আউটের চিহ্নগুলোকে ফুটিয়ে তোলা হয় ফাংশনাল লে-আউটে। তাই ’এ’ চাপ দিলে ’এ’ পাই আমরা।

আগের কথার খেই ধরি আবার- নতুন নতুন, অজস্র কী-বোর্ড লে-আউটের প্রয়োজনীয়তা/অপ্রয়োজনীয়তা এবং কী-বোর্ড লে-আউটের মান যাচাই করা। ইংরেজী কী-বোর্ডে যে ক’টি নাম শোনা যায় সেগুলো হলো- QWERTY, QWERTZ, AZERTY, QZERTY এবং Non-QWERTY কী-বোর্ডের তালিকায় পাওয়া যাবে Dvorak, Colemak, Neo। QWERTY ইউএস প্রধান এবং পরবর্তীতে সার্বজনীন লে-আউট হলেও এই সারির অন্যান্য লে-আউটগুলো দেশ ভিত্তিকভাবে প্রচলিত ছিল বা আছে। যেমন, জার্মানী ও মধ্য ইউরোপে QWERTZ বেশ প্রচলিত। ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং আফ্রিকার কিছু দেশে AZERTY প্রচলিত। ইতালীতে কমপিউটার কী-বোর্ডে QWERTY ব্যবহৃত হলেও, টাইরাইটারে QZERTY লে-আউট প্রচলিত। মূলত টাইপরাইটারের কী-জ্যাম এড়াতে বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবিত QWERTY লে-আউট জনপ্রিয় হলেও Non-QWERTY হিসেবে Dvorak লে-আউট পরিচিত ছিল এর টাইপিং দ্রুততার জন্য।

কী-বোর্ড ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে জনাব ডিভোরাকের বক্তব্য ছিল, একটি অর্ধেক পৃষ্ঠার অফিসিয়াল চিঠি টাইপ করতে আমাদের আঙ্গুল কতটা পথ হাঁটে তা আমরা কল্পনাও করিনা! কিছু সাধারণ কিন্তু চমকপ্রদ পরীক্ষা ভেতর দিয়ে আমরা ডিভোরাক এবং কোয়ের্টি কী-বোর্ডের তুলনা দেখি বরং।

১. ৬২ শব্দের একটি প্যারাগ্রাফ এবং একটি অফিসিয়াল চিঠি টাইপ করতে কোয়ার্টি কী-বোর্ডের তুলনায় ডিভোরাক কী-বোর্ডে ৩৫-২০% কম আঙ্গুল চালনা করতে হয়, যা আঙ্গুলকে অন্তত ৬ ফুটের মত দূরত্ব অতিক্রম থেকে বাঁচিয়ে দেয়, যেখানে কোয়ের্টি কী-বোর্ডে প্রায় ১৬ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। কম দূরত্ব অতিক্রম শুধু সময়ই বাঁচিয়ে দেয় না বরং আরামদায়ক টাইপিংয়ের কারণে কার্পাল টানেল (Carpal Tunnel, এই রোগের লক্ষণ সমূহ হলো বৃদ্ধাঙ্গুল, মধ্যমা, তর্জনী অথবা হাতের কব্জিতে অবশ অনুভব, তীব্র স্নায়ুবিক যাতনা অথবা দূর্বল অনুভব করা, ক্রণিক কার্পেল টানেলের ক্ষেত্রে নার্ভ ড্যামেজের আশংকা থাকে) বা আরএসআই ইনজুরি(Repetitive strain injury, পুনরাবৃত্তি কাজের চাপে বাহু অথবা হাতের পেশী, অপেক্ষাকৃত নরম টিস্যুতে অতিরিক্ত ব্যাথ্যা অনুভব করা) জাতীয় স্বাস্থগত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়।

২. একটি পরীক্ষামূলক প্যারাগ্রাফের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডিভোরাক কী-বোর্ডে বাম হাতের অনামিকা যখন ৭ ১/৪ ইঞ্চি অতিক্রম করে, তখন ১৫ ৩/৮ ইঞ্চি অতিক্রম করতে হয় কোয়ের্টি কী-বোর্ডে।

৩. দি, অফ, এন্ড, টু, এ, ইন, দ্যাট, ইজ, আই, ইট, ফর, এ্যাজ (The, of, and, to, a, in, that, is, I, it, for, as) গিনিজ বুক রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত এমন বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় ১২টি শব্দাবলী দিয়ে একটি চার্ট তৈরী করা হয়। চার্টে কোয়ের্টি এবং ডিভোরাক কী-বোর্ডে আঙ্গুলের দূরত্ব অতিক্রমের তুলনা দেখানো হয় বরাবরের মতই। নন-হোমরো'তে আঙ্গুল চালনার জন্য স্কোর ধরা হয় ১, এবং স্কোর ১/২ ধরা হয় কেন্দ্রের কী-স্ট্রোকে (জি, এইচ হলো কোয়ের্টি কী-বোর্ডের জন্য, আই, ডি ডিভোরাক কী-বোর্ডেও জন্য) তর্জনী চালনা করার জন্য। এভাবে ’দি’ লিখতে গেলে কোয়ার্টি কী-বোর্ডের স্কোর দাঁড়ায় ২ ১/২ এবং ডিভোরাকের ক্ষেত্রে ০। ইজ লিখতে গেল কোয়ের্টি কী-বোর্ডের স্কোর যখন ১, তখন ডিভোরাকের স্কোর ১/২ । এভাবে কোয়ের্টি কী-বোর্ডের স্কোর দাঁড়ায় মোট ১৭ এবং ডিভোরাকের মোট ৫ ১/২ । এর অর্থ এই ১২টি শব্দের ক্ষেত্রে ডিভোরাকের তুলনায় কোয়ের্টিতে প্রায় ৩ গুণ বেশী আঙ্গুল চালনা করতে হয় বিভিন্ন দূরত্বে।

অগাস্ট ডিভোরাক মনস্তত্ববিদ ছিলেন বলেই বোধহয়, কী-বোর্ডের লে-আউট নকশা নিয়ে তার বিশ্লেষণ এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে বিভিন্ন পরীক্ষা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে একটি কী-বোর্ডের মান যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে সফলভাবেই তুলে ধরেছেন। মূলত একারণেই ডিভোরাক কী-বোর্ড QWERTY কী-বোর্ডের অভ্যস্ততার কাছে হেরে গেলেও এখনও সবাই এক বাক্যে ডিভোরাক কী-বোর্ড লে-আউটকে মান সম্মত বলতে দ্বিধা করেনা।

প্রশ্ন হলো, এই রকম বৈজ্ঞানিক তুলনামূলক পরীক্ষা কি আমরা পরিচালনা করেছি আমাদের দেশে উদ্ভাবিত জনপ্রিয়, অজনপ্রিয়, প্রচলিত কী-বোর্ডগুলোর মধ্যে?
তুর্কী কী-বোর্ডের উদ্বাবন কাহিনীতে একটা দূর্দান্ত গবেষণার গন্ধ পাওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায়, টার্কিশ ল্যাংগুয়েজ এ্যাসোসিয়েশনের সাহায্যে তুর্কী বর্ণমালার অক্ষর ফ্রিকোয়েন্সি নির্নয় করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যগুলো কাজে লাগানো হয় অস্থি এবং পেশী এ্যানাটমি গবেষণায়। অতঃপর ১৯৫৫ সালে তুর্কী জাতীয় কী-বোর্ড, টার্কিশ এফ কী-বোর্ড, উদ্ভাবিত হয়। এই কী-বোর্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো টাইপিংয়ে দুই হাতের ভারসাম্য রক্ষা। ৪৯% কী-স্ট্রোক বাম হাতের জন্য এবং ৫১% কী-স্ট্রোক ডান হাতের জন্য। এই রকম একটি বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্টতার কারণেই বোধহয় টার্কিশ কী-বোর্ড ১৯৫৭ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত টাইপিং প্রতিযোগীতায় মোট ১৪ বার বিশ্ব রেকর্ড ভঙ্গ করে!

টার্কিশ ল্যাংগুয়েজ এ্যাসোসিয়েশনের ন্যায় আমারদেরও ভাষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে- বাংলা একাডেমী। আমরাও আমাদের এনাটমিস্টদের কাজে লাগাতে পারি। এমনকি আমাদের দেশীয় মনস্তত্ববিদদের কাজে লাগাতে পারি। এবং তাতে বোধকরি একটি স্বীকৃত, মানসম্মত কী-বোর্ড দিয়ে আমরা টাইপ করতে পারি আরামে। প্রশ্ন হলো,
১. কোন বাংলা কী-বোর্ড লে-আউটের নকশা নিয়ে এখন পর্যন্ত এই পর্যায়ের গবেষণা হয়েছে কি?
২. এখন পর্যন্ত প্রচলিত জনপ্রিয় কী-বোর্ডগুলো (যেমন, বিজয়, অভ্র ইজি, এমনকি ৮টি কী স্ট্রোকের পার্থক্যে তৈরী ইউনিজয়) কি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোন টাইপিং প্রতিযোগীতায় দারুণভাবে টক্কর দেয়ার যোগ্যতা রাখে?
৩. তুর্কীতে নিজস্ব কী-বোর্ড লে-আউটের পাশাপাশি কোয়ের্টির পরিমার্জিত সংস্করণ ব্যবহৃত হয় । আমরা বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট নকশা করলেও মূলত কোয়ের্টি কী-বোর্ডের ভিজ্যুয়াল লে-আউটের নির্দিস্ট ছকেই আমাদের বাংলা বর্ণমালাগুলোকে বসাই। আমাদের কি একেবারেই নিজস্ব বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট প্রয়োজন টার্কিশ কী-বোর্ডে মত নাকি কোয়ের্র্টি কী-বোর্ডের উপরেই বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট ডিজাইনই আমাদের জন্য সুবিধাজনক?

বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট এবং লে-আউটের ভিন্নতা, অভিন্নতা নিয়ে কথা যখন হচ্ছেই তখন এক নজর প্রচলিত কিছু লে-আউটের দিকে নজর বুলিয়ে দেখা যায়।


প্রভাত লে-আউট-সাধারণ ভিউ

অভ্র ইজি লে-আউট-সাধারণ ভিউ

জাতীয় কী-বোর্ড লে-আউট-সাধারণ ভিউ

বিজয় লে-আউট-সাধারণ ভিউ

মুনীর লে-আউট-সাধারণ ভিউ

মুনীর লে-আউট-শিফট ভিউ

ইউনিজয় লে-আউট- সাধারণ ভিউ

ইউনিজয় লে-আউট -AltGrl ভিউ

১. প্রভাত কী-বোর্ড লে-আউট বহুলব্যবহৃত না হলেও এখনও অনেকে এই লে-আউটে কাজ করেন। অভ্র সফটওয়্যারের জনপ্রিয়তা থাকা স্বত্বেও অভ্র ইজি কিন্তু ব্যবহারকারীদের মধ্যে তেমন প্রচলিত নয়। কেবল মাত্র ঠ+ট, ফ+প, ঝ+জ, খ+ক, ভ+ব, ণ+ন কীস্ট্রোকগুলো ছাড়া এই দুই কী-বোর্ডের মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে ষ্পষ্টতই তেমন মিল পাওয়া যাবেনা।
২. অভ্র-ইজি আর বিজয়ের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া বেশ দুস্কর। ঠ+ট ছাড়া অন্য কোন কী-স্ট্রোকের মিল দেখা যায় না। প্রভাত আর বিজয়ের মাঝেও কেবলমাত্র ঠ+ট কী-স্ট্রোকের মিলটিই চোখে পড়ে।
৩. অনেকেই বলেন জাতীয় কী-বোর্ড ভাল ছিল। কিসের ভিত্তিতে বলেন সেটা খুব পরিস্কার না হলেও, জাতীয় কী-বোর্ড আর বিজয়ের লে-আউট অনেকাংশে কাছাকাছি। কিউ থেকে পি(Q-P) সারিটি দুই কী-বোর্ডের বেলাতেই এক। এ থেকে এল (A-L) সারিটিতে ৯টির মধ্যে ৬টি কী-স্ট্রোকে মিল দেখা যায়। জেড থেকে এম(Z-M) সারিতে ৭টির মধ্যে ৪টিতে মিল দেখা যায়।
৪. মুনীর কী-বোর্ডকে পথিকৃৎ বলা যায়। টাইপরাইটারের জন্য নকশাকৃত মুনীর কী-বোর্ডের লে-আউট সাথে পরবর্তীতে উদ্ভাবিত বিজয়ের মিল খুঁজে বার করা খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার মত হতে পারে।
৫. প্রথম দর্শনেই বিজয় এবং ইউনিজয়ের সাদৃশ্য ধরা পড়বে বৈকি। কিউ থেকে পি সারি একই রকম। এ থেকে এল সারি একই। জেড থেকে এম সারিতে একটি কী-স্ট্রোকে আপাত পার্থক্য চোখে পড়বে- ও ’এর জায়গায় ’ে া’ । বিজয়ে AltGrl এর সুযোগ নেই। যেটা অভ্র-ইউনিজয়ে রাখা হয়েছে। এই মুডে ইউনিজয়ে এ থেকে এফ সারিতে ঋ, উ+ঊ, ঈ+ই, অ+আ এবং এর নীচের সারিতে ঔ+ও, ঐ+এ সরাসরি লেখার সুবিধা আছে। বিজয়ে চন্দ্রবিন্দু ১ থেকে ০ সারিতে ৭ কী’তে, কিন্তু ইউনিজয়ে চন্দ্রবিন্দু ২ কী’তে রাখা হয়েছে। বিজয়ে খণ্ড-ত’কে ব্যাক-স্ল্যাশ কী’তে রাখা হয়েছিল, ইউনিজয়ে তা ৭ কী’তে রাখা হয়েছে।
৬. ’ও’ অক্ষরের অবস্থান মূলত বিজয়-ইউনিজয়ে একই থাকলেও ইউনিজয় AltGrl মুডে ’ও’কে লে-আউটে প্রদর্শন করে।
৭. অভ্র-ইজি, ইউনিজয় (এবং বর্ণনা) কী-বোর্ডে ব্যাক-স্ল্যাশের কী’তে পেট-কাটা ব এবং র রাখা হয়েছে, বর্তমান বাংলা চর্চাতে আমাদের দেশে এই দুটি অক্ষরের সংযোজন কতটা তাৎপর্যপূর্ণ তা ঠিক বোধগম্য হয়না।

লে-আউট নিয়ে গবেষণা, বাদানুবাদ এর পাশাপাশি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে আমাদের সবার দৃষ্টিপাত করা উচিৎ। আন্তর্জালে আমরা যখন ইউনিকোড নির্ভর হয়ে উঠেছি, তখন মুদ্রনমাধ্যম এখনো ASCII কোড নির্ভর। আমরা যখন ফেসবুকে বাংলায় স্ট্যাটাস লিখতে পেরে অভ্র নিয়ে তুষ্ট হয়ে যাই, তখন মুদ্রণমাধ্যমকে প্রকাশনার কাজে বিজয় নির্ভর হতেই হয়। অথচ বিজয় এবং অভ্রের চেয়ে মূলত আমাদের ইউনিকোড নির্ভর হতে হবে সার্বজনীন ভাবে - মুদ্রণ এবং আন্তর্জাল মাধ্যমে।
পুরনো লেখাগুলোকে ইউনিকোডে রূপান্তর করা নিয়েও অনেক সমস্যা হয়েছিল। বিজয় কনর্ভাটার তৈরী হলেও বিনামূল্যে ছিলনা, অন্যদিকে অভ্র কনভার্টার থাকলেও তা বেশ ধীরগতিসম্পন্ন ছিল। এই প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে নিকস (nikosh) কনভার্টার প্রকাশ করা হয়। ইউনিকোড নির্ভর ৫টি ফন্টও প্রকাশ করা হয় যেগুলো ওপেন সোর্স ও ফ্রিওয়্যার ছিল।

মুদ্রণ মাধ্যমে ইউনিকোড পদ্ধতি চালু করতে প্রধান সমস্যা বোধকরি ফন্ট এবং ইউনিকোডবান্ধব ফন্টগুলোর জন্য যথাযথ মুদ্রণযন্ত্র। মুদ্রণে বিজয় যতটা প্রফেশনাল লুক দেয়, অভ্র কিন্তু তা দেয় না এটা অনেকেরই অভিমত। বর্তমানে অভ্র-ইউনিজয় ছাড়াও আনন্দ কমপিউটার্সের বিজয়ও এখন ইউনিকোডবান্ধব। বিজয় ৫২ সফটওয়্যারে বিজয় ইউনিকোড সংযোজিত হয়েছে। কিন্তু আনন্দ কমপিউটার্স এবং ওমিক্রণল্যাব মুদ্রণমাধ্যমে আধুনিকতার ছাপ রাখতে উদ্যোগী হয়নি। কেউ কেউ বলেন, ফন্ট তৈরীতে শ্রম এবং অর্থ বিনিয়োগের অভাবে কাজটি শুরু বা এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। নিকস ফন্টগুলো যেহেতু ওপেন সোর্স তাই একে নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় গবেষণা করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় আমাদের ডেভেলপারদের। আর আইটিখাতে সরকার থেকে যে বাজেট বরাদ্দ হয়, তা কি আমাদের মুদ্রণমাধ্যমকে উন্নত করতে ব্যবহৃত হতে পারেনা?

আইনগত দিক থেকে "৯৯%" বিতর্কে যেই জিতুক তাতে আসলে কী-বোর্ড ব্যবহারকারীদের কি লাভ হবে? আমাদের প্রয়োজন-
১. একটি সার্বজনীন, বৈজ্ঞানিক মান সম্মত কী-বোর্ড লে-আউটের প্রচলন
২. মুদ্রণ মাধ্যমকে ইউনিকোড বান্ধব করে তোলা
৩. মুদ্রণ মাধ্যমের জন্য ইউনিকোড নির্ভর মান সম্মত ফন্ট
আর তাই পক্ষপাতিত্বে কালক্ষেপন না করে, দু’পক্ষকেই চাপে রাখতে পারি আমরা বাংলা কী-বোর্ড ব্যবহারকারীরা। এবং যারা সরাসরি আইটি ডেভেলপিংয়ে আছেন, আইটি ব্যবসায় আছেন, মুদ্রণমাধ্যমে জড়িত আছেন তারা চাপে রাখতে পারেন সরকারকে।

বাংলা কমপিউটিংয়ের জয়জয়কার হোক।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিজয়অভ্রইউনিজয়বাংলা কী-বোর্ডbangla key board ;
প্রকাশ করা হয়েছে:   বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৫৯

 

১. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:১৫
ডেমিয়েন থর্ন বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন, প্লাস দিয়ে গেলাম।
২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৩৬

লেখক বলেছেন: বিপরীত কোন মতামত থাকলে তাও জানাতে পারেন।

ধন্যবাদ ডেমিয়েন।

২. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:১৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: মুশকিলের গোড়ার কথা কইতাছেন আপনে। শুকরিয়া !

বাংলা বর্ণমালার ভাষাতাত্ত্বিক বিচার কইরা পরে সেইটার উপ্রে ভিত্তি কইরা কি বোর্ড লেআউট দরকার। যেই কি বোর্ড আপনার ভাষায়- ১. একটি সার্বজনীন, বৈজ্ঞানিক মান সম্মত কী-বোর্ড

কিন্তু সেইটা কি আনন্দ কম্পিউটার বা অভ্রের মতো কোনো প্রাইভেট কর্তৃপক্ষের কাজ? তা তো না। বাংলাভাষার বাংলাদেশের জাতীয় কি বোর্ড লেআউট- সেইটা তো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে হইতে হইবো। এবং মালিকানা রাষ্ট্রের তরফে উন্মুক্ত, জাতীয় লেআউটের তো প‌্যাটেন্ট দাবি করার সুযোগ নাই কোনো প্রাইভেট সিটিজেন বা প্রতিষ্ঠানের তরফে।
২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:০০

লেখক বলেছেন: ডেভেলপিং ক্ষেত্রের সবটাই যে, রাষ্ট্র করে তাতো না। কী-বোর্ডের ক্ষেত্রে অভ্র করতে পারে, বিজয় করতে পারে, সেটা প্রাইভেট সেক্টরের উদ্যোগ। কিন্তু এগুলো তো আর সরকারের নজরের বাইরে না। ইন্টিগ্রেশনের কাজ সরকার করতে পারে। অথবা এভাবে বলা যায় সরকার কোন না কোন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে নিড এ্যানালিসিস করে, তাদের মাধ্যমে ডেভেলপিং আগায় নিয়ে ফাইনাল আউটপুট দিতে পারে।

কোন একটা লে-আউটকে সার্বজনীন করে দিলে, সেটার তো আর পেটেন্ট ঝামেলায় যাওয়ার কারণ দেখিনা।

৩. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:২৩
আমিনুল ইসলাম বলেছেন: ঘটনা কি আইরিন আপুর বিজয়-অভ্র সংক্রান্ত পোস্টগুলোর টাইটেল ইংরেজিতে। :-*

পোস্ট পড়ে পরে মন্তব্য করবো।
২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:২৮

লেখক বলেছেন: কী-বোর্ড, ইউনিকোড, আসকি এইসব শব্দগুলো কি বাংলা? সবক্ষেত্রে বাংলা-ইংরেজী নিয়ে কাতর হলে চলে না বৎস। ;)

পড়তে থাকো ...:)

২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৫০

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, ঘুম থেকে উঠে পড়েন।

২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৫১

লেখক বলেছেন: বন্যবাদ শ্রীমান...........

৬. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:২৮
আজমান আন্দালিব বলেছেন: ওরে বাবা বিশাল গবেষণাধর্মী পোস্ট।
যাই হোক অভ্র বিজয়ের এই যুদ্ধে আমরা অভ্র'র পক্ষে আছি। ভাষা হোক উন্মুক্ত...
২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৩৪

লেখক বলেছেন: সেক্ষেত্রে আপনি পোস্টের মর্মার্থ বোঝেননি। এবং অনেকের মত সেই মনোটোনাস সুরেই গলা মেলাচ্ছেন ! /:) :-& :|

সময় থাকলে এই পোস্টটি পড়ে দেখার অনুরোধ করছি -

বিজয় ওয়াজ ওয়ান অফ দ্য বিগিনার্স এ্যান্ড অভ্র ইজ নট দ্য এন্ড

৭. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৩০
তাজুল ইসলাম মুন্না বলেছেন: প্রথম প্লাসটা কৈলাম আমি দিছি...... :):):)
২১ শে মে, ২০১০ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: কি বুইঝা দিসো, এইবার সেইটা আমারে বুঝাও ... :) :) :)

২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:১১

লেখক বলেছেন: কী-বোর্ড ভালো বাজতেছে তো? :)

ভাল আছি।

২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হাছিব। কোন মতামত থাকলে তাও আশা করবো।

১০. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:২৪
রাগ ইমন বলেছেন: অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সুলিখিত পোস্ট । আবেগে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি বর্ণ যোদ্ধাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নিয়ে অবশ্যই ভাবা দরকার ।

আমাদের অনেকের মনের কথা ও আড্ডার আলাপকে গুছিয়ে পোস্ট আকারে প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ ।

এই পোস্টটা স্টিকি করা হোক।
২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:৫২

লেখক বলেছেন: মূল কাহিনী হলো, বিজয় জিতলে আমার কি? অভ্র জিতলেই বা তোমার কি? তুমি-আমি এক পক্ষ, সেটা হলো 'ইউজার' পক্ষ। তাই আমি এই 'আমরা উমুক পক্ষ..' জাতীয় আবেগ, হুজুক থেকে ১০০ হাত দূরে গ্যাঁট হয়ে বসে থাকতেও রাজি আছি!

আর আন্তর্জালই তো শেষ কথা না, এইটা আমাদের মত আন্তর্জাল-ভক্তদের বুঝতে হবে। মুদ্রণ মাধ্যম আদি ক্ষেত্র, ভাষার বিস্তারে, এটাকে উন্নতকরণ না করলে ভাষার বিস্তার, রক্ষা তো কঠিন হয়ে যাবে। আন্তর্জালের ভূমিকা, প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বই পাঠ করার অভ্যাস তো চিরন্তন হতে হবে। সেখানে এক পক্ষের বিজয় আর অন্য পক্ষের অভ্র কত উন্নত ভূমিকা রাখলো সেটা নিয়েও তো আমাদের ভাবতে হবে, বলতে হবে।

ইউজার যদি তার ডিমান্ড না দেয় তাইলে চাহিদানুযায়ী উদ্ভাবন কেমনে হবে ! মানোন্নয়ের প্রয়োজনীয়তা কেমনে দেখা দিবে!

আরো ছোটখাট কিছু যোগ করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ব্লগে এতো বড় পোস্ট আসবে কিনা সেটা বুঝতে পারতেছিলাম না বিধায় লেখাটা আর দীর্ঘয়িত করিনি।

১১. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:২৫
রাগ ইমন বলেছেন: নুরুন্নবী হাছিব , আইরিনের অনুমতি নিয়ে লেখাটা ছাপানোর ব্যবস্থা করতে পারেন কিনা দেখেন।
১২. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:২৫
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: কি বোর্ডে সুর তোলার চেষ্টা করছি ;)
২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: সুর প্যাটেন্ট করায় ফেলেন, ফুয়াদও নাকি সুর চুরি করে ! /:)

১৩. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ১০:৫৪
সিউল রায়হান বলেছেন: আপু আমি আপনার পোস্টের সাপ্লিমেন্টারী অনেক লিখা লিখতে পারবো........ এবং সেটা থিওরিটিক্যাল এবং প্রাকটিক্যাল উভয় দিকই কাভার করবে........ তবে ২টি কারণেই লিখব না.......

দ্বিতীয় কারণটা রাগ ইমন আপু'র ব্লগ কমেন্ট থেকে পেস্ট করি:
জনাব আরিল্ড একবছর আগে আমি সামহোয়ারইন ব্লগের একটি বাগ নিয়ে জানানোতে আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন, আজকে সেটাকে মিথ্যাচার ও ব্লগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী পোস্ট বলে বলে আমাকে ওয়াচে পাঠিয়ে দিয়েছেন...... অনেক মিথ্যাচার দেখেছি তবে ব্লগেও এমনটা দেখব ভাবিনাই........

ডিটেইলস: Mr.Arild (এবং/অথবা) সামহোয়ারইন ব্লগ টিমের মিথ্যাচার নাকি আমার ???

প্রথম কারণ: এটা বলা যাচ্ছে না, আমার মেইল আইডি: mas1485 @ জিমেইল........ এটাতে একটু মেইল করবেন প্লিজ, আমি ডিটেইলসে তাহলে পুরোটা ব্যাখ্যা করে বলতে পারবো
২১ শে মে, ২০১০ রাত ১১:১১

লেখক বলেছেন: আপনার পোস্টটি দেখলাম, খোঁজ নিয়ে দেখুন,ওটাও কোন বাগ কিনা!:)

বলে এই কারণে যদি আপনি হালের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যুতে আলোচনা বন্ধ করে দেন, তা কিন্তু খুবই অন্যায় হয়ে যাবে আমাদের সাথে সিউল।

আমি কী-বোর্ড নিয়ে কাজ করি নাই, কিন্তু আপনি কাজ করেছেন, ফলে আপনি আমার চেয়ে অনেক বেশী প্র্যাকটিক্যাল জানেন নিঃসন্দেহে।

এবং আমি বারবারই যে ধরনের আলোচনা আশা করছি তা হলো - থিওরিটিক্যাল এবং প্রাকটিক্যাল এর সমন্বয়। আপনি যদি এমন অভিমানে পিছুনা হন তো সেটা আমাদের মত কী-বোর্ড ব্যবহারকারীদের জন্য সুখকর হবেনা।

ব্লগার লেনিন বেশ কিছু পোস্ট করেছেন। জরুরী নয় যে, সব পয়েন্টের সাথেই আমি একমত পোষণ করবো, তবুও গবেষণার ভেতরের বিষয়গুলো উঠে আসলে সাধারণ ইউজাররা একটু হলে টেকি-জ্ঞান লাভ করবে।

আপনার কাছে থেকে একটি মাত্র পক্ষ, আর তা হলো ইউজার পক্ষ, নির্ভর টেকি-আলোচনার জোর দাবিই জানাবো, তা সে যে কোন পরিস্থিতিতে আপনার বিরক্তিতে ভরা থাকুক না কেন। :)

১৪. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ১১:১৬
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: দুই- কী-বোর্ড লে-আউটের জন্য আমাদের বিজয় লে-আউট অনুরূপ কিছু প্রয়োজন।

- এটা প্রয়োজন তাদের জন্য যারা বিজয়ে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। অভ্রের জনপ্রিয়তা আমার মতে ইউনিবিজয় লেআউটের জন্য না, বরং ফোনেটিক কিবোর্ডের জন্য। আপনি যদি এই ব্লগের ব্লগারদের উপর একটা জরিপ চালান তাতে ও মনে হয় ফোনেটিক ব্যবহারকারী প্রচুর পাবেন। দু'একটা যুক্তাক্ষর বাদ দিলে এর থেকে সহজ আর কিছু নেই।

ঘটনা কি ? বাংলা কিবোর্ড / সফটওয়্যার নিয়ে লেখা, অথচ হেডিং হচ্ছে বাংরেজীতে !!! এইটা এবং আগেরটা :)
২২ শে মে, ২০১০ সকাল ১১:২৭

লেখক বলেছেন:
হ্যা, কিন্তু একটা নতুন কী-বোর্ড লে-আউটে অভ্যস্ত হওয়াটাও খুব অসম্ভব কিছু নয়। ফলে বিজয় লে-আউটে না গিয়ে ওমিক্রন অভ্র-ইজি ইউনিকোডে তুলে ধরতে পারতো আমাদের সামনে। আন্তর্জালে বাংলা লেখার আনন্দে সাগ্রহেই ইউজারটা দিনে দিনে এতে অভ্যস্ত হতো।

বাংলা বর্নমালা জেনে-বুঝে টাইপ করবো, এটাই আমার কাছে বেশী আনন্দের মনে হয়, তবে বাংলা টাইপ ভীতি কাটিয়ে উঠতে, চট করে বাংলা লেখার অভ্যাস করতে ফোনেটিক নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা রাখে।

হ্যা, আমারো তাই মনে হয়, বিশেষত একটু তরুণ প্রজন্ম ফোনেটিকে অভ্যস্ত। একই সাথে ইউনিজয়ও প্রচলিত আন্তর্জালে তাতেও কোন সন্দেহ নেই।

এর আগের পোস্ট লেখার সময় তখনকার হুজুগ নিয়ে একটু অবাক, হতাশ ছিলাম, কোন একটা পোস্টে কমেন্ট দিতে গিয়ে ওই স্টেটমেন্টটা লিখেছিলাম, ওটাকেই পরে নিজে পোস্ট দেয়ার সময় টাইটেল করে দিলাম। তাতে একটু মৃদু বকে দেয়াও হয় সবাইকে। বাংলা সিনেমায় দেখেন না, রেগে গেলে বকে দিতে গেলে ইংরেজী বলে ! B:-/ আর এবারে কী নাম দেব ভাবতে ভাবতে হঠাতই মনে আসলো এটা..দেখলাম সিচুয়েশন এর সাথে যায় ও... :-B

১৫. ২১ শে মে, ২০১০ রাত ১১:১৮
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: আমার পেটেন্ট লাগবো না। আমার সুর কপি করলে পিটায়া মাইরা ফালামু X(( X(( X(

তয় আপ্নেগো মত মহান সুরকাররা কপি করলে কিচু কমু না ;)
১৬. ২২ শে মে, ২০১০ রাত ১২:৫২
সিউল রায়হান বলেছেন: নাহ, আমার থিসিস টপিক ছিল এটা। আমি এটা অনেক কাজ করেছি, করছি, সামনেও করবো সুতরাং থেমে যাওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নাই। এই ব্লগে ব্যান খাই যদি কখনো সমস্যা নাই, নিজের পার্সোনাল সাইট তো আছেই।

আমি আপনার, লেনিন ভাইয়ার, নিউটন স্যারের পোস্ট+কমেন্টগুলি ফলো করছি এবং সেই সাথে খুশী হচ্ছি অনেক কারণ আমি যেই যেই টপিক ভেবে কাজ করছিলাম সেগুলি তারাও বলছেন সুতরাং আমি রাইট ট্রাকে আছি ধরা যায়। একই সাথে নতুন অনেক কিছুও জানছি, যেমন: টার্কিশ কিবোর্ডের ওটা আমি জানতাম না।আবার নিউটন স্যার বললেন "ফোনেটিক" ও "ফিক্সড" উভয় কিবোর্ড লাগবে ২ লেভেলের ইউজারকে সার্ভ করতে এটাও আমি করার চেষ্টা করেছি রোকেয়া কিবোর্ড লেআউটে

অন্য দেশের কিবোর্ড কিভাবে সায়েন্টিফিকালি ডিজাইন করা হল সেটা ফ্যাক্টর এবং ফ্যাক্টর না কারণ স্পেসিফিক কোন দেশের কিবোর্ড সেই দেশের ভাষাকে তুলে ধরে। যেহেতু একেক ভাষার গঠন একেক রকম তাই তেমন একটা লাভ হয়না। যেমন: ইংরেজী ভাষায় স্মল লেটার- ক্যাপিটাল লেটার এর ব্যাপারটা আছ যেটা আবার আমাদের নেই। ফলে এই জিনিসটা কাজে না লাগলেও তারা যে অক্ষরের ফ্রিকোয়েন্সী বের করে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত অক্ষরকে সেরা জায়গায় বসাচ্ছে এটা আবার কাজে লাগছে...........

যাই হোক, বিস্তারিত না লিখে এগুলি লিখা কঠিন কারণ সাপ্লিমেন্টারী অনেক প্রশ্ন উঠে আসবে এতে। আপাতত বলি, আমি কাজ করছি খুব ভালমতই এটার ব্যাপারে ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে রাখলাম। নিত্য নতুন কিবোর্ড বের করে অনেক জার্নাল পেপার পাবেন আপনি, সবগুলিই বলেছে তাদেরটাই সেরা। এখন সবারটা তো সেরা হতে পারে না তাহলে প্রকৃত সেরা কোনটা ?? ব্যাপারটা "Reinvent the wheel million times" এর মত হয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করি আমি এই ব্যাপারটার ফিনিশিং টানতে পারবো।
২৩ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৫৫

লেখক বলেছেন: টার্কিশ কী-বোর্ডের বৈশিষ্ট্যটি খেয়াল করেছেন? ৪৯% কী-স্ট্রোক বাম হাতের জন্য এবং ৫১% কী-স্ট্রোক ডান হাতের জন্য। মি. ডিভোরাক তার গবেষনায় বলেন, কী-বোর্ডের অধিক সংখ্যাক কী ডানে থাকা বাঞ্জনীয়, কারণ আমরা বেশীর ভাগই ডান হাতে কাজে অভ্যস্ত। তাই কোয়ের্টি কী-বোর্ডে যখন ৫৬% কী-স্ট্রোক বাম হাত নির্ভর ছিল, ডিভোরাক কী-বোর্ডে সেখানে ৫৬% কী-স্ট্রোক ডান হাত নির্ভর করা হয়।



এখানে বিজয় লে-আউটের বাম-ডানের চিত্রটি দিলাম। এটা ইসলামিক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তিন জন শিক্ষার্থীর সংক্ষিপ্ত গবেষণা রিপোর্ট থেকে নেয়া। রিপোর্টের বিষয় ছিল এ্যান অপটিমাল বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট

আপনার রোকেয়া কী-বোর্ডের বৈশিষ্ট্য কি? ডানপন্থী না বামপন্থী ? :)

১৭. ২২ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৫৫
তাজুল ইসলাম মুন্না বলেছেন: আমি এতোকিছু বুঝিনা। আইরিন আপুর পুষ্ট। পইড়া ভাল লাগছে। লে-আউটের ইতিহাস পাতিহাস যা আছে তা নিয়া বহুত কিছু জানবার পারছি। তাই প্লাস দিছি।।।
২২ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:২২

লেখক বলেছেন: যাক! ঠিক মত পড়া মুখস্ত করো ...পড়সো এইজন্য তোমার একটা কী-বোর্ড গিফট পাওয়া থাকলো !

১৮. ২২ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:৪৮
জলপাই দেশি বলেছেন: আপনি দেখা যাচ্ছে কম্পিউটারের পন্ডিত। অনেক কিছু জানলাম। সব কথা বুঝিনি। আবার পড়বো। অনেক ধন্যবাদ।
২৪ শে মে, ২০১০ রাত ১০:১১

লেখক বলেছেন: পন্ডিত না, তবে এই বিষয়ে সবার উত্তেজনা দেখে আমার একটু কৌতুহল হলো বিষয়টি নিয়ে সময়-সুযোগমত যতটুকু সম্ভব জানা যায় তা জানার...কোন কোন জায়গায় বুঝতে সমস্যা হয়েছে জানালে আমার জন্য হয়ত একটু সুবিধা হতো সে অংশগুলো আপনাকে পুনরায় ব্যাখ্যা করার। তারপরও -

যদি বাংলা কী-বোর্ড লে-আউটের ইমেজগুলোর পর প্রদত্ত ৭টি পর্যবেক্ষণ বুঝতে সমস্যা হয়, তাহলে একটু কষ্ট করে, প্রতি পয়েন্টে উল্লেখিত কী-বোর্ডের লে-আউটে চোখ বুলিয়ে নিন।

যদি কোয়ের্টি-ডিভোরাক কী-বোর্ডের মান যাচাইমূলক পরীক্ষার তালিকা বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে প্রথমত নিশ্চিত ভাবেই ধরে নিন আপনার ইংরেজী কী-বোর্ডটি কোয়ের্টি লে-আউট এবং ডিভোরাক কী-বোর্ড লে-আউট ইন্টারনেটে একটু সার্চ দিলেই পাবেন। এবার দুই লে-আউট পাশাপাশি দেখুন। একটু ঝামেলাকর ফলে বিরক্তিকর লাগতে পারে, তবে কঠিন কিছু নয়।

১৯. ২২ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:১৩
সায়েম মুন বলেছেন: আবারো কত জ্ঞানার্জন করলাম। ধন্যবাদ ধন্যবাদ!!
২৪ শে মে, ২০১০ রাত ১০:২১

লেখক বলেছেন: এইবার এই গিয়ান ব্যবহার করে সবগুলো কী-বোর্ডের মান যাচাই করেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে।

২০. ২২ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:৪২
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: সেইটাই।



আপনার যে প্রশ্ন ১. কোন বাংলা কী-বোর্ড লে-আউটের নকশা নিয়ে এখন পর্যন্ত এই পর্যায়ের গবেষণা হয়েছে কি? এইটার তো একটা নগদানগত মর্তবা আছে। QUERTY লেআউটে লিখা হউক বা অন্যটায়- ধরেন আমি এল কি তে কেন দ বা ধ বসাবো, এর একটা ভাষাতাত্ত্বিক এবং মানুষের টাইপিং সক্ষমতা প্লাস অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়া ন্যায্যতা থাকেত হইবো। যেই ন্যায্যতার ভিত্তি দাড় করাতে হইলে গবেষণা লাগবো।

তারপর রাষ্ট্রের উদ্যোগে কিম্বা সমন্বয়ে কিম্বা অনুমোদনের (নানা সংস্থা একটা লেআউট বানায়া একমত হইলো, তারপর ধরেন বাংলাদেশ সেইটা স্রেফ অনুমোদন করলো।) বরাত ছাড়া তো এইটা সম্ভব না। কি বোর্ড লেআউট ছাড়াও- কম্পিউটারে সামগ্রিক ইনপুট সিগন্যাল দেয়ার বিষয়- সেইক্ষেত্রেও তো এইটা জরুরি। যদি বাংলাদেশের মান ভাষায় প্রোগ্রাম তৈরি করতে হয়।

এরকম একটা ভাষার একটা জাতীয় লেআউটের প্যাটেন্ট তো কোনো ব্যক্তিমালিকানার হইতে পারে না। বিজয় মূলত চুড়ান্ত বিচারে যেই দাবী কার্যত হাকায়া বইসা আছে। এমনকি, রেকর্ড আছে- যেই 'সর্বজনীন' লেআউটের কথা আপনে কইতাছেন, সেই উদ্যোগ নেয়ার পরও বিজয়ের মালিকের কারনে সেইটা করা যায় নাই। (এ বিষয়ে সময়ে বলার ইচ্ছা রাখি)।
২১. ২৩ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:২৯
তাজা কলম বলেছেন: বিশ্লেষনাক্তক পোষ্ট। +++
ইউনিজয় চলে গেলেও অভ্রর কোন ক্ষতি হবে না। প্রয়োজনে নতুন কি বোর্ড তৈরী হবে।

তবে জব্বার সাবের অতিরিক্ত ব্যবসায়ীক মানুষিকতা নিন্দার্হ।
ভাল লাগল।
৩০ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৩৬

লেখক বলেছেন: আপমার সাথে সহমত স্যার। আমিও মনে করি, ইউনিজয় চলে গেলে অভ্রের হাহুতাশ করার কিছু নেই। অভ্র-ইজি অনেক বেশী ইউনিক। সেটা নিয়েই বরং তাদের মেধা, শ্রম, অর্থ ব্যয় করা উচিৎ প্রচার প্রচারণায়।

অতিরিক্ত ব্যবসায়িক মানুষিকতা নিয়ে আরো একটু বিশ্লেষণ চাইছিলাম।

আমার হঠাৎ একটা প্রস্তাবতা মনে আসল স্যার। এই পোস্টে টার্কিশ কী-বোর্ডের টাইপিং কনটেস্ট জয় করার অংশটুকু তো খেয়াল করেছেন। এরকম একটা প্রতিযোগীতা আমরা আমাদের দেশে আমাদের বাংলা কী-বোর্ডগুলো নিয়েও তো করতে পারি।

এতে বিভিন্ন বাংলা কী-বোর্ডের ব্যবহারকারীরা অংশ নেবে। বাংলা একাডেমী হয়ত কোন বাছাই করা বাংলা রচনা এই প্রতিযোগীতায় প্রদান করতে পারে। যা প্রতিযোগীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাইপ করতে হবে। এতে করে আমাদের একই কী-বোর্ডের উপর নির্ভরশীলতা দূর হবে। সাগ্রহে অনেকেই বিভিন্ন বাংলা কী-বোর্ডের লে-আউট আয়ত্ত করবে। এবং একই সাথে আমরাও বুঝতে পারবো, বর্তমানে কতটি লে-আউট আসলে কম-বেশী ব্যবহার তালিকায় রয়েছে। এবং এরকম প্রতিযোগীতা হলে, সময় সাপেক্ষে, আরামের সাপেক্ষে কোন লে-আউটটা ভালো এ ব্যাপারে ব্যবহারকারীদের চিন্তাধারা সজাগ হবে। এবং কী-বোর্ড লে-আউট ও সফটওয়্যার নির্মাতারা হয়ত এতে করে তাদের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে দ্রুত উন্নয়ন সাধনে মনোযোগী হতে পারবেন।

আমাদের দেশে তো কম্পিউটার গেম কনটেস্ট হয়। বাংলা কী-বোর্ডে টাইপিং নিয়েও এমন একটা কিছু করা গেলে মন্দ হয়না কিন্তু।

সরকারী অথবা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বছরে একবার এই প্রতিযোগীতা আয়োজন করতে পারে। অথবা বাংলা একাডেমীও এগিয়ে আসতে পারে। কিংবা BASIS অথবা BCC ।

আপনার কি মনে হয়?

২২. ২৩ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:৫২
পরিবেশবাদী ঈগলপাখি বলেছেন: অনেক সময় নিয়ে ভালো analysis করে একটা পোস্ট দেবার জন্য খুশি হলাম । প্লাস
এ ধরনের পোস্টের দরকার ছিলো , কারন আমরা (আমি নিজেও) আবেগের পোস্ট দিচ্ছি /পড়ছি বেশি , অভ্রর জন্য গান গাইছি , জব্বার সাহেবের বিচার চাইছি , কিন্তু বাংলাকে এগিয়ে নেয়ার ভবিষ্যত প্ল্যান কি হবে সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করিনি

আরো কিছু পয়েন্ট একটু পরে লিখবো
২৪ শে মে, ২০১০ রাত ১০:২৫

লেখক বলেছেন: আমরা ইউজার হিসেবে আমাদের সুবিধা বোঝাটাই বোধকরি বেশী ভাল হয়। আমাদের জানা দরকার, কোনটা আমাদের দ্রুত গতিতে, আরামদায়কভাবে বাংলা টাইপিংয়ে সহায়তা করবে। এখন পর্যন্ত উদ্ভাবনগুলোর উন্নতকরণ তরান্বিত হচ্ছেনা কেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনার বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও মতামতের পড়ার আগ্রহ রইল। ধন্যবাদ আপনাকে।

২৩. ২৪ শে মে, ২০১০ রাত ৯:০৯
সিউল রায়হান বলেছেন: কোন পন্থাই না, আমি মধ্যপন্থী :) মানে ৫০% বাম হাতে এবং ৫০% ডান হাতে এবং এটাই হওয়া উচিত......

৫১% আর ৪৯% এর কি কোন সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা আছে ?? থাকলে একটু বলবেন কারণ আমার হিসেবে ৫০-৫০ হলেই সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট আসবে। ৫১-৪৯ হলে ডিস্ট্রিবিউশনের যে ওভারহেড হবে তা ৫০-৫০ এর চেয়ে বেশী হবে সুতরাং এমনটা না হওয়ারই কথা

২৪. ২৫ শে মে, ২০১০ সকাল ৯:৫৮
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: একটা অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য সময়োপযোগী পোষ্ট। প্রথমেই অভিনন্দন গঠনমূলক আলাপচারিতার পথ তৈরি করার জন্য। বাঙলা কম্পিউটিং এর জন্য এই উদ্যোগগুলো নি:সন্দেহে খুবই জোরালো ভূমিকা রাখবে।

পুরো আলাপের সংযুক্তি হিসেবে কয়েকটা বিষয় মনে রাখার সবার জন্যই কার্যকর হবে বলে মনে করছি।

১.কেবল অভ্যস্ততাই নয়, একটা বড় বানিজ্য, পুরো মূদ্রণ ও প্রকাশনা (ইন্টারনেট থেকে পত্রিকা) প্রকল্পের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
২. বাঙলা কম্পিউটিং এর পুন:বিন্যাসের কালে শেষতক বানিজ্য আধিপত্য একটা জোড়ালো সঞ্চালক হিসেবে কাজ করবে।
৩. এই বানিজ্য আধিপত্যকে যতটা পারা যায় পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য বাঙলা কম্পিউটিং এর সাধারণ ব্যবহারকারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই।
৪. কি বোর্ড কেন্দ্রীক গবেষণা কিছু সরকারী আমলা আর বানিজ্য লোভী মানুষের হাতে ছেড়ে দেয়া কখনোই উচিৎ হবে না।
৫. যতই আষাঢ়ে মনে হোক মূদ্রণ শিল্পকে ইউনিকোড ভিত্তিক করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করা আবশ্যিক।

আবারো ধন্যবাদ অনেক। প্রিয় পোষ্টে গেল।
০৬ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:৫৫

লেখক বলেছেন: প্রয়োজনীয় মন্তব্য। বাঙলা কম্পিউটিং এবং মুদ্রণ মাধ্যম নিয়ে কথাবার্তা হলেও একমদ ভেতরের সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিয়ে প্র্যাকটিক্যাল কথা কম হচ্ছে। আপনি বেশ ভালো একটা ৫ দফা দিলেন।

এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। আপনার বই প্রকাশনাকালে মুদ্রণ মাধ্যমকে অনেক কাছ থেকে দেখেছেন নিশ্চয়ই। ফলে এখানকার বর্তমান পরিস্থিতি (যেমন- বিজয় নির্ভরশীলতা, ইউনিকোড নির্ভরশীলতায় প্রতিবন্ধকতা, মুদ্রণ যন্ত্র ইউনিকোডবান্ধবকরণ, বাজেট ইত্যাদি ইত্যাদি) নিয়ে আপনার কাছ থেকে একটি পর্যালোচনার দাবি থাকলো।

সুচিন্তিত ও প্রয়োজনীয় মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

২৫. ২৫ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৩৫
'লেনিন' বলেছেন: পোস্টের ব্যাপারে তেমন দ্বিমত নেই। বরং এই বিষয়গুলো যত বেশি সম্ভব মানুষকে জানাতে হবে। সচলেও কিছু পোস্ট ছিলো এসংক্রান্ত যেগুলোতে বিশ্লষণ করা হয়েছে http://www.sachalayatan.com/mukit_tohoku/31714 এই পোস্টের মন্তবে‍্য ফোনেটিকের একটি দুর্বলতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

বিজয় যেভাবে বহুল প্রচলিত তাতে বিকল্প লেআউট ডিভোরাকের মতোই অব‍্যবহৃত থেকে যাবার আশঙ্কা থেকে যায়।

অপরদিকে ইউনিকোডে এখনো পুরোপুরি প্রিন্টমিডিয়ার সমাধান দেবার মতো প্রযুক্তি সহজলভ‍্য হয়নি সেটি আমার পোস্টগুলোতে দেখিয়েছি।

নিকশের উদ্ভাবিত ফন্টগুলো সোলায়মানলিপি, রূপালি গুলোর থেকে খুব আলাদা কিছু নয়। ফ্রি ফন্টের তালিকায় আরো কিছু যুক্ত হয়েছে মাত্র। ফ্রি ফন্টগুলো অমিক্রনল‍্যাব এবং রবিন উপটান সাহেবের একুশে.অর্গ এ আছে সবার ডাউনলোডের জন‍্য। ফন্টগুলো প্রিন্টিংয়ের সমাধান দেয়না তা বলাই বাহুল‍্য। প্রিন্টিং সমাধানের জন‍্য উপযুক্ত সফটওয়‍্যারের এখনো আবির্ভাব ঘটেনি বা অপ্রতুল। আর ইউনিকোডেই সবগুলোকে রাখার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণাও প্রয়োজন।

বিজয় বায়ান্নো নামে জব্বার সাহেবের যে সফটওয়‍্যারটি চলছে সেটি সম্পর্কে অনেক অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়। দায়সারাভাবে করা সফটওয়‍্যারটি দিয়ে কাজের কাজ করা প্রায় অসম্ভব।
৩০ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:০৫

লেখক বলেছেন: নেট সমস্যায় ব্লগে ঠিকমত এক্সেসই পাচ্ছিনা কদিন ধরে। ফলে মন্তব্যের জবাব দেয়া হয়ে উঠছে না যথাযথ।

একটা চিন্তা শেয়ার করি। হঠাৎ একটা প্রস্তাবনা মনে আসল । এই পোস্টে টার্কিশ কী-বোর্ডের টাইপিং কনটেস্ট জয় করার অংশটুকু তো খেয়াল করেছেন। এরকম একটা প্রতিযোগীতা আমরা আমাদের দেশে আমাদের বাংলা কী-বোর্ডগুলো নিয়েও তো করতে পারি।

এতে বিভিন্ন বাংলা কী-বোর্ডের ব্যবহারকারীরা অংশ নেবে। বাংলা একাডেমী হয়ত কোন বাছাই করা বাংলা রচনা এই প্রতিযোগীতায় প্রদান করতে পারে। যা প্রতিযোগীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাইপ করতে হবে। এতে করে আমাদের একই কী-বোর্ডের উপর নির্ভরশীলতা দূর হবে। সাগ্রহে অনেকেই বিভিন্ন বাংলা কী-বোর্ডের লে-আউট আয়ত্ত করবে। এবং একই সাথে আমরাও বুঝতে পারবো, বর্তমানে কতটি লে-আউট আসলে কম-বেশী ব্যবহার তালিকায় রয়েছে। এবং এরকম প্রতিযোগীতা হলে, সময় সাপেক্ষে, আরামের সাপেক্ষে কোন লে-আউটটা ভালো এ ব্যাপারে ব্যবহারকারীদের চিন্তাধারা সজাগ হবে। এবং কী-বোর্ড লে-আউট ও সফটওয়্যার নির্মাতারা হয়ত এতে করে তাদের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে দ্রুত উন্নয়ন সাধনে মনোযোগী হতে পারবেন।

আমাদের দেশে তো কম্পিউটার গেম কনটেস্ট হয়। বাংলা কী-বোর্ডে টাইপিং নিয়েও এমন একটা কিছু করা গেলে মন্দ হয়না কিন্তু।

সরকারী অথবা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বছরে একবার এই প্রতিযোগীতা আয়োজন করতে পারে। অথবা বাংলা একাডেমীও এগিয়ে আসতে পারে। কিংবা BASIS অথবা BCC । বা এই যে উবুন্টু গ্রুপ রয়েছে , সেই গ্রুপ থেকেও।

আপনার কি মনে হয়?

২৬. ২৫ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:০৭
'লেনিন' বলেছেন: আর হ্যাঁ সিউলের জন্যও বলছি। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডানহাতিদের বাম হাত দিয়ে বেশি টাইপ করার পড়ে। কীভাবে?

আমরা সাধারণত যারা ডানহাতি তারা ডানহাতটি আরো নানা কাজে ব্যবহার করে থাকি। যেমন ফোন ধরা, মাউস নাড়ানো, টাচপ্যাড নিয়ন্ত্রণ, খাওয়া ইত্যাদি। সুতরাং ডানহাতিদের বামহাতটি টাইপিংয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে।

আবার অনেকে আছেন কেবল ডানহাত বা কেবল বামহাত দিয়ে টাইপ করেন। তাই ডিভোরাক সাহেব তাদের জন্য লেফটহ্যান্ডেড এবং রাইট হ্যান্ডেড কীবোর্ড লেআউটও তৈরি করেছিলেন।
২৭. ২৮ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৩৭
পারভেজ রবিন বলেছেন: নতুন ও আরও ব্যবহার বান্ধব আর একটি কীবোর্ড শেখা আমাদের জন্য কঠিন হবে না। সে হিসেবে মনে হচ্ছে বিজয় ও ইউনিজয় দুটোই আমাদের ছুড়ে ফেলা উচিৎ। অভ্র টিকে থাকবে তার ফ্লেক্সিবিলিটি নিয়ে, নতুন কিবোর্ড অভ্রে যুক্ত করা হবে তা হলেই হল।
'মোস্তফা জব্বারও ঠান্ডা হল, বাংলা লেখালেখিও ভাঙ্গল না'
০৬ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: হাহাহা, মন্তব্য বিজয়ের প্রতি ঝাঁঝ সুস্পষ্ট কিন্তু :)

একটা লে-আউট শেখা আসলেও অসম্ভব কিছুনা বা খুব বেশী সময়সাপেক্ষও না। বিশেষত যদি তা বৈজ্ঞানিকভাবে মানসম্মত হয়। অনেকে বলছে জব্বার সাহেব আমাদের বিজয়ে অভ্যস্ত হতে বাধ্য করেছেন। কিন্তু একুশে.অর্গ, অমিক্রনল্যাবও তো আমাদের বিজয়ে অভ্যস্ত করিয়েছে ইউনিজয় দিয়ে। ইউনিকোড দিয়ে আন্তর্জালে বাংলা লেখা যাবে, এই একটি বৈশিষ্টের কারণেই কিন্তু সাগ্রহে এতো দিনে অনেকেই একটি নতুন লে-আউট শিখে নিতো।

বিজয়কে ছুঁড়ে ফেলা বা অভ্রকে গ্রহণ করার আগে আমার মনে হয়, বৈজ্ঞানিকভাবে কী-বোর্ডের মান যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবা উচিৎ। আগামীতে যারা কী-বোর্ড উদ্ভাবন বা উন্নতকরণ নিয়ে কাজ করবেন তারাও যেন এরকম কিছু পরীক্ষার ফলাফলই তুলে ধরে ব্যবহারকারীদের কাছে।

অভ্র বলতে আসলে কোনটা বুঝবো ? অভ্র ইজি ? ক'জন এতে টাইপ করে? ওমিক্রণল্যাব ইউনিজয়কে ইউনিক প্রমাণ করতে যতটা সময়, শ্রম দিচ্ছে ততটা তো অভ্র ইজির জন্য প্রচারণায় ব্যয় করছে না!

২৮. ০৩ রা জুন, ২০১০ রাত ১১:৩৬
দুরন্ত ইসলাম বলেছেন: নতুন একটা কি বোর্ড তৈরি করুন যা দিয়ে অভ্র ব্যবহার করা যাবে।
০৬ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:৫০

লেখক বলেছেন: হাহাহাহা..ইন্টারেস্টিং মন্তব্য তো !

কিন্তু দুরন্ত, আপনি তাহলে মূল বিষয় বোধদয় করতে পারেননি এখনো। এই লেখাটাকি কঠিন হয়ে গেছে বেশী !

নতুন কী-বোর্ড তৈরী বলতে কি বোঝাচ্ছেন আসলে? আর তাতে অভ্রের ব্যবহার বলতে কি বোঝালেন? আমাদের সমস্যা হলো কী-বোর্ডের উপরে যে বর্ণমালার সমাবেশ, সেগুলো কিভাবে সাজানো-গোছানো যায় তাই নিয়ে। অভ্র সফটওয়্যার সেরকরমই বর্নমালা সাজানোর কৌশল দিয়েছে। যেমনটা দিয়েছে, বিজয় এবং তারো আগে অন্যান্য কিছু উদ্ভাবনগুলো।

২৯. ০৭ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:১৭
মানুষ বলেছেন: এত বড় পোষ্ট পড়তে আলসেমি লাগছে। আপাতত প্লাস দিলাম (সবাই যখন দিল আমিই বা কেন বাদ যাই) পরে পড়ব সময় করে।
৩০. ১১ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:৪৮
শফিকুল বলেছেন:
bangla nie maramari kore lav nai.

Amra shobai Banglish hoe gesi.
১৭ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:১১

লেখক বলেছেন:

এই পোস্টে একটা অংশে লিখেছিলাম যে, ".....ইউনিজয় লে-আউট থেকে অভ্র ইন্টারফেস যদি মুক্ত হয়ে যায় তো আর কোন আইনি ঝামেলার সুযোগ থাকে না। ইউনিজয়মুক্ত অভ্র সফটওয়্যার সেই আগের মতই আমরা ব্যবহার করতে পারবো সফটওয়্যারটির অন্যান্য কী-বোর্ড লে-আউটগুলো দিয়ে। ..."

আজকে পত্রিকায় জানতে পারলাম, শেষ পর্যন্ত সুরাহা সেদিকেই হতে যাচ্ছে। এটা একটা ইতিবাচক দিকই বলবো। মেধা, শ্রম, সময়, অর্থ কোন নিজস্ব উদ্ভাবনের পেছনেই ব্যয় করা উচিৎ।

তবে মনে হচ্ছে, অভ্র সমর্থনকারীদের এনিয়ে বেশ আপত্তি হচ্ছে! তারা কেন একটি ভ্রান্ত বিষয়কে সত্যে পরিণত করার জন্য হৈচৈ করছেন এটা আসলেই বোধগম্য নয়। এবং এটা আপত্তিকরও বটে।

প্রথম আলো পত্রিকাতে আসা আজকের নিউজটা ।

********
সমঝোতার পথে অভ্র ও বিজয়

| তারিখ: ১৭-০৬-২০১০

ইন্টারনেটে জনপ্রিয় বাংলা সফটওয়্যার অভ্র নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার অনানুষ্ঠানিক এক সভায় অভ্র এবং বাংলা লেখার জনপ্রিয় সফটওয়্যার বিজয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে অভ্র সফটওয়্যার থেকে ইউনিবিজয় নামের কি-বোর্ড লে-আউট প্রত্যাহার করে নেবেন অভ্রের নির্মাতা অমিক্রন ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা মেহ্দী হাসান খান। আর একই সময়ের মধ্যে কপিরাইট অফিসে দায়ের করা অভ্রের বিরুদ্ধে কপিরাইট ভঙ্গের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেবেন বিজয়ের নির্মাতা আনন্দ কম্পিউটার্সের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার। ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় পারস্পরিক অনানুষ্ঠনিক আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে এই সমঝোতা হয়েছে। মোস্তাফা জব্বার ও মেহ্দী হাসান খান শিগগিরই এ ব্যাপারে একটি যৌথ বিবৃতি দেবেন।
বিসিসির নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এ সভা। সভায় মোস্তাফা জব্বার, মেহ্দী হাসান খানসহ আরও উপস্থিত ছিলেন আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পের পরিচালক রেজা সেলিম, এএইচজেড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান মাহমুদ, রায়ানস আর্কাইভের প্রধান নির্বাহী আহমেদ হাসান, বিসিসির সিস্টেম অ্যানালিস্ট এনামুল কবির, বাংলাদেশ ওপেন সোর্সনেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, প্রথম আলোর উপফিচার সম্পাদক পল্লব মোহাইমেন, কম্পিউটার প্রোগ্রামার রিফাত-উন-নবীসহ অনেকে। সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, কম্পিউটারে বাংলা লেখার কাজে দীর্ঘদিন ধরে বিজয় যেমন ব্যাপক জনপ্রিয়, তেমনি ইন্টারনেটে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে নতুন যুগ সৃষ্টি করেছে অভ্র। তাই আইনের দীর্ঘসূত্রতায় না গিয়ে একটি সমঝোতায় এলে তা বাংলায় কম্পিউটার চর্চার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মোস্তাফা জব্বার ও মেহ্দী হাসান খান ভবিষ্যতে কম্পিউটারে বাংলা ভাষার উন্নয়নে আরও কাজ করে যাবেন—উপস্থিত সবাই এ প্রত্যাশা করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল একটি দৈনিক পত্রিকায় মোস্তাফা জব্বারের একটি লেখায় অভ্রকে পাইরেটেড উল্লেখ করা হয়। এর পরই ইন্টারনেটে বাংলা ব্লগসাইটগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অভ্র সফটওয়্যারে ইউনিবিজয় কি-বোর্ড থাকার কারণে বিজয় কি-বোর্ড লে-আউটের কপিরাইট ও প্যাটেন্ট স্বত্ব লঙ্ঘন হয়—২৫ এপ্রিল কপিরাইট অফিসে এ অভিযোগ আনেন মোস্তাফা জব্বার। এরপর কপিরাইট অফিস মেহদী হাসান খানকে এর কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি দেয়। এর জবাবও দেন তিনি। এরপর বিষয়টির শুনানির দিন ধার্য করে কপিরাইট অফিস। তবে দুই পক্ষের মধ্যে যে সমঝোতা হতে যাচ্ছে, তাতে এই জটিলতার পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। —নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১. ১৭ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:২৪
আবু সালেহ বলেছেন:
আপু কি খবর?? কেমন আছেন...??
১৭ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:১৪

লেখক বলেছেন: আরে সালেহ যে ! এই তো ভালোওও। তারপর কেমন চলছে? দেখি ব্লগে ঢুঁ মেরে আসি ...

৩২. ১৯ শে জুন, ২০১০ সকাল ৯:৩৩
আবু সালেহ বলেছেন:
আরে আপু.........................
জটিল খেলা দেখলাম.....তয় ৩০ মিনিট অফিসে চুরি কইরা আর বাকি হাফ টাইম বাসায়......মাঝখানে রাস্তায় ঝড়ের বেগে রওনা দিছিলাম.... :P :P :P :P

আর্জেন্টিনা জিন্দাবাদ......
৩৩. ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৪৭
মুভি পাগল বলেছেন: আমি এত বিশ্লেষণ মূলক লেখা ঠিকমত বুঝতে পারিনা। বুদ্ধিসুদ্ধি একটু কম তো!!!
তবে চমৎকার লিখেছেন
৩৪. ২২ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:৫৭
সাদাচোখ বলেছেন:
দারুন গবেষণা ধর্মী লেখা।

+ দিলাম।

ধন্যবাদ।
৩৫. ২৪ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৫:৩১
টেকিবাবা বলেছেন: আপনার এই পোস্টটা দারুণ তথ্যবহুল। আজকেই প্রথম পড়লাম।

মন্তব্যে আপনি ১টা প্রস্তাব দিয়েছেন, টাইপিং প্রতিযোগিতার। এই প্রস্তাবটাও দারুণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কনটেস্ট আয়োজন করা যায়। ১টা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের রচনা কে দ্রুত টাইপ করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মোটামুটি পুরস্কার না থাকলে কনটেস্টে কেউ আগ্রহী হয় না। আর পুরস্কার দিতে হলে পকেটের টাকা খরচ করে তো দেওয়া যাবে না, স্পন্সর লাগবে। একটা গেমিং কনটেস্টে যত সহজে স্পন্সর পাবেন, এই ভালো উদ্দ্যোগে তত সহজে স্পন্সর পাবেন না।

আর আপনার আরেকটা কথা খুবই চিন্তার - "অনেকে বলছে জব্বার সাহেব আমাদের বিজয়ে অভ্যস্ত হতে বাধ্য করেছেন। কিন্তু একুশে.অর্গ, অমিক্রনল্যাবও তো আমাদের বিজয়ে অভ্যস্ত করিয়েছে ইউনিজয় দিয়ে।" খুবই খাঁটি কথা বলেছেন। কোনো আইনের জোরে যদি জব্বার সাহেব আসলেই বাজার থেকে সব বাংলা টাইপিং সফটওয়ার সরিয়ে ফেলতে পারেন(সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশে অসম্ভব নয় মোটেও), তাহলে এই ইউনিবিজয় লেআউট নির্ভরতা অধিকাংশকে বাধ্য করবে ইউনিবিজয়ের সাথে ৯৯% মিলের(!!!) বিজয় লেআউটে স্যুইচ করতে। আর বিজয় লেআউট পাওয়া যাবে কোথায়? আনন্দ মাল্টিমিডিয়ার কমার্শিয়াল সফটওয়ার বিজয়ে! তাই ভুল করে একুশে.অর্গ, অমিক্রনল্যাব এরা পরোক্ষভাবে বিজয়েরই মার্কেটিং-এ ভূমিকা রেখেছে!! এইভাবে চিন্তা করিনি আগে।

তবে সময় এখনো শেষ হয়ে যায় নি। এমনি আমরা সব বিষয়ে সাম্প্রতিক ট্রেন্ড থেকে প্রায় ৫০বছর পিছিয়ে আছি। তাই উচিৎ হবে বাকি সময়টা গবেষণা করে ১টা বিজ্ঞানসম্মত লেআউট বের করা। সিউলের মত নবীণদের পথ দেখাতে হবে। সরকারের আশাতে বসে থেকে কাজ নাই, কারণ এইসব জরুরী মাথা ঘামানোর সময় সরকারের নাই!!! বাংলা একাডেমির আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাথা ঘামানো লাগে!!

 

মোট সময় লেগেছে ০.২২৫১ সেকেন্ড

 

© somewhere in net ltd | terms of use | privacy policy
***বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই; রাজাকারদের না বলুন***...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ