বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম এমন এক ধরনের প্লাস্টিক তৈরীর কৌশল আবিস্কার করেছেন প্রিন্সস্টোন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল প্রকৌশলি।
বিভিন্ন কারিগরি বাধা দুর করে গবেষকেরা শেষ পর্যন্ত- এই আধা সচ্ছ, নমনীয়, বিদ্যুৎ পরিবাহী প্লস্টিক তৈরী করতে সক্ষম হলেন। এর মধ্য দিয়ে আরো অনেক ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসে প্লাসিক জাতীয় উপাদান ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হলো।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদার কারনে এধরনের প্লাস্টিক মূল্যবান ইন্ডিয়াম টিন অক্সাইডের একটি কমদামি বিকল্প উপাদান হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। বর্তমানে এই ধাতব উপাদানটি সৌর প্যানেল তৈরীতে ব্যাবহার হচ্ছে।
অনেক আগে থেকে এধরনের পলিমারের অসি-ত্ব থাকলেও এদের সাহায্যে কোন কিছু বানানোর পর তাদের এই বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতো। গবেষক দলের নেতৃত্ব প্রদানকারি বিজ্ঞানি ইউই-লিন লুউ জানান কিভাবে পরিবাহী প্লাস্টিকের এমন আচরন এড়িয়ে যাওয়া যায় তাই নিয়ে কাজ করেছেন তারা। উচ্চ বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিকের গঠন আকৃতি ধরে রাখা এভাবেই সম্ভব হয়েছে।
বহুপক্ষিয় একটি আনর্-জাতিক দল নতুন এই আবিষ্কার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গত ৮মার্চ অন লাইন জার্নাল প্রসিডিং অব দ্যা ন্যসনাল একাডেমি অব সায়েন্স এ প্রতিবেদন প্রকাশ পায়।
গবেষনার এ ক্ষেত্রটি জৈব ইলেকট্রনিক্স নামে পরিচিত। এর কারন হলো প্লাস্টিকও জীবের মত কার্বন দিয়ে তৈরী। আর এধরনের প্লস্টিক ব্যবহারে নতুন ইরেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি সহ বিদ্যমান প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এত দিন ইচ্ছা অনুসারে আকৃতি দেয়ার মত বিদ্যুৎ পরিবাহী প্লাস্টিকের অভাবে এধরনের যে কোন ধরনের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস' হয়েছে।
লুউ বলেন এ আবিষ্করের মধ্যদিয়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আসলে কতটা পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে তা সাধারন লোক জন এখনো বুঝে উঠতে পারছেনা। আমরা এমন ধরনের পলিমার আবিষ্কার করেছি যাকে ইচ্ছে মতো আকৃতি দেয়া যাবে, অন্যান্য কঠিন উপাদানের মত এর অণুর গঠন হওয়াতে প্রবাহিত বিদ্যুৎ প্রতিরোধের বদলে পরিবহণ করবে এ ধরনের প্লাস্টিক।
কেন এমন প্লাস্টিককে নির্দিস্ট ছাঁচে আকৃতি দেওয়ার পর তাদের বিদ্যূৎ পরিবহনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তা বুঝতে পারার পর, লুউ এবংতার সহকর্মীগণ প্লাস্টিকের গঠন শিথিল করার একটি উপায় বের করেন। কাঙ্খিত গঠন দেবার পর এক ধরনের এসিড দেয়া হয় এতে।
এভাবে তাঁরা প্লাস্টিকের ট্রানজিসটর তৈরী করতে সমর্থ হয়েছেন। বৈদ্যুতিক সংঙ্কেত পাঠাতে এবং বাড়াতে ইলেকট্রনিক্স এর এ অংশটি মূল কাজটি করে থাকে। প্লস্টিকের একটি তলে রং করে গবেষক দল ট্রানজিসটরের বিদ্যুৎ মুখ বা ইলেকট্রোড তৈরী করেছেন। একটি ইন্ক জেট প্রিন্টার মেশিন কাগজে যেভাবে বিভিন্ন আকৃতি এঁকেদেয়, দ্রুততর এ পদ্ধতিও ঠিক একইভাবে কাজ করে।
লুউ বলেন খবরের কাগজ ছাপাবার মত অল্প সময়ে অনেক বেশী পরিমান উৎপাদনে এধরনের পদ্ধতি কাজে লাগাবার সম্ভাবনা রয়েছে। ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে ছাপা কাজ আসলেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। যেভাবে হু হু করে প্রিন্টারের কালি বিক্রি হয় ঠিক একইভাবে কার্টিজে ব্যবহারের উপযোগী এধরনের প্লাস্টিক বিক্রি হবে। আর ছাপার জন্য বিষাক্ত প্রিন্টার রাখার কোন দরকারই হবে না।
কমদামে ছাপানোর কৌশল ব্যাবহার করে প্লাস্টিক সৌর সেল সাধারনের নাগালে নিয়ে আসা যাবে। এবং এগুলো সেলএর প্রাথমিক পরিবাহী দামি আইটিওর স'ান দখল করবে। এভাবে গবেষণা দলটির উদ্ভাবিত প্লাস্টিক কমদামের সোলারপ্যনেল তৈরীতে ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে আইটিও নির্মিত সচ্ছ ধাতব পরিবাহী দিয়ে বানানো প্লাস্টিক সোলার সেল এর সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। আলোক শক্তি শোষনের উপযোগী রাখার জন্য এধরনের পরিবাহীতে সূর্যর আলো প্রবেশ করতে দিতে হয়।
ফ্ল্যাট স্ক্রিন টেলিভিশন, মোবাইল ফোন সহ ডিসপ্লে স্ক্রিন আছে এমন অন্যান্য আরো অনেক ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে আইটিও নামের বিরল ও মূল্যবান খনিজ উপাদানটির চাহিদাও বাড়তে থাকে। এভাবে একসময় ইন্ডিয়াম টিন অক্সাইডের দাম আকাশ ছুয়ে অবস'ান নেয়। প্লাস্টিক সৌর বিদ্যুৎ কোষের দাম কমিয়ে আনতে এই উপাদানটির বিকল্পনিয়ে গবেষকদের যথেষ্ঠ ভাবতে হয়েছে। পরিবাহী প্লাস্টিকে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে বলে এটি মোক্ষম একটি বিকল্প হতে পারে।
গবেষকেরা স্বীকার করেছেন অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহার হওয়া মূল্যবান ধাতব উপানের বিকল্প হিসেবেও এধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া বায়োমেডিকেল সেন্সর হিসেবে এধরনের প্লাস্টিক ব্যবহারের চিন-াভাবনা করছেন বিজ্ঞানিরা। এধরনের সেন্সর বিশেষ রঙ ধারন করে রোগীর দেহের ইনফেকশনের ব্যপারে আগেই জানানদিতে পারবে। শিশুদের কান পাকার সময় নাইট্রিক অক্সাইড নামের রাসয়ানিক উপাদান উৎপন্ন হয়, প্লাস্টিকটি এই রাসায়নিক উপাদানের ছোয়ায় হলুদ হতে সবুজ রঙে বদলে যায়।
কমখরচে এমন সব ডিভাইস বানানো সম্ভব হলে এর সাহায্যে চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র দেশ সমুহ উপকৃত হবে। কারন মূল্যবান বিলাসি উপকরন দিয়ে চিকিৎসাদেয়া বেশীলভাগ ক্ষেত্রেই দরিদ্যদেশ গুলোতে সম্ভব হয়ে ওঠেনা। অন্যদিকে এধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করে কেবল এর রঙ দেখে রোগীর শারীরিক অবস'া জানা যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




