বেশীর ভাগ প্রাণীর তুলনায়, আমরা মানুষেরা এমন সব আচরণ নিজেদের অগোচরে বয়ে বেড়াই যা অনেক সময় আমাদের নিজের ও অন্য সবার ক্ষতি বা ধংসের কারণ হয়। আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যে কিনা অকারণ মিথ্যে বলে, ধোঁকাবাজি ও চুরিকরে, নিজের প্রিয় শরীরেই নক্সা আঁকে; নিজেকে অনেক বেশী কষ্ট দেয়; কখনো কখনো আত্মহত্যাই করে বসে, আবার কখনো অন্য কাউকে একেবারে মেরেই ফেলে। সৃষ্টির সেরা জীব বলে কথিত মানুষ কেন এমন নোংরা, জঘন্য আত্মবিধ্বংসি, দুঃখজনক কাজ গুলো করে তার অনেক কিছুই আজকে বিজ্ঞানের সাহায্যে বুঝে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
১০. গসিপ বা বাজে কথা বলা:
গবেষকেরা দাবি করছেন, আমরা মানুষেরা বিবর্তন গত ভাবেই অন্যের সঙ্গে কথা বলা আর খুত ধরতে অভ্যস্ত, এতে কেউ কতটা দুঃখ পাবে সেটা অনেকেই ভেবে দেখেন না।
প্রাইমেট বিশারদ রবিন ডানবার বেবুনদের একে অপরের লোম বেছে দেবার মত আচরণ গুলোকে সামাজিক বন্ধন শক্ত করার উপায় বলে মনে করেন। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই আচরণের আরও বেশী বিবর্তন ঘটেছে, তাই আমরা একে অপরের সমালোচনায় ঘন্টার পর ঘণ্টা আঠার মত লেগে থাকতে পারি। এই আচরণ গুলো সবাই জন্মের পর কোন না কোন ভাবে অন্যের কাছ থেকে শেখে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে এই গসিপ বা বাজে কথা বিভেদের দেওয়ালটাকে মজবুত করে আমাদের দলে দলে ভাগ করে দেয়; ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে সহায়তা দিয়ে করে।
বেশীরভাগ সময় সঠিকভাবে সত্যকে তুলে আনা এই সমালোচনার উদ্দেশ্য থকে না। এতে নানা বিষয় বানিয়ে বলা হয়, অনেক সময় তৃতীয় কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়েও কেউ কেউ এমন গর্হিত কাজটি করেন। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেনিফার বোসন বলেন “যখন দু’জন লোক অপরের মাঝে থাকা অপছন্দের বিষয় গুলো নিয়ে আলাপে মগ্ন হয় তখন এর মাধ্যমে তারা পরস্পর আরও কাছাকাছি আসেন।”
৯. জুয়া, বাজি ধরা:
জুয়া বা বাজি ধরার বিষয়টিও মনে হয় আমাদের জিনগত, মাথার তারে তারে জুরে দেওয়া, কারণ কেবল এমন হলেই আমাদের এই সবচাইতে ধ্বংসাত্মক আচরণটির সহজ ব্যাখ্যা মিলতে পারে।
বানরেরাও বাজি ধরতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে জুস পুরষ্কার পাবার আশায় তারা তাদের হাতের কাছের নিশ্চিত প্রাপ্তিটিকেও গচ্চা দিতে প্রস্তত থাকে। আরও বেশী কিছু পাবার আশায় প্রাইমেটরা জুয়ারির মতন অসংলগ্ন আচরণ করে।
গত বছর নিউরন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে মাথার ভেতরকার জিতে নেওয়া সম্পর্কিত সার্কিট কোন কিছু জিতে নেবার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে বা জিতে নেবার ইচ্ছা বাড়াতে সহায়তা করে। এ প্রসঙ্গে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুক ক্লার্ক বলেন “ কোন বিশেষ করণে জুয়া বা বাজিতে হেরে যাওয়া আরও বেশী করে বাজি ধরতে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, একটুর জন্য হেরে যাওয়াতে মাথা জিতে যাবার মতই সাড়া দেয়।”
অন্যএক গবেষণায় দেখা গেছে হেরে যাওয়া জুয়াড়িকে বাজি চালিয়ে যেতে সহায়তা করে। কি পরিমাণে বাজি ধরতে হবে এই নিয়ে পরিকল্পনার সময় তারা খুবই বুদ্ধিমানের মত কাজ করে। কিন্তু হেরে যাবার পর হতে তাদের সেই বুদ্ধির লোপ পেতে থাকে, এবং পরিকল্পনা বদলে তখন সে আরও বেশী অঙ্কের বাজি ধরে।
৮. দুশ্চিন্তা
দুশ্চিন্তা হার্টের সমস্যা বাড়ায়, এর থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। চূড়ান্ত হতাশার কারণে মানুষ আত্মহত্যা পর্যন্ত করে বসে।
কিন্তু কেন আমরা এই দুশ্চিন্তার আগুনে পুড়ি তা চিহ্নিত করা খুবই কঠিন কাজ। এর অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম হলও আধুনিক কালের জীবন-জীবিকার ধরন ধারণ। বেশীর ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক আর শিশুরা তাদের প্রতিদিনের জীবন ধারার কারণেই দুশ্চিন্তার তিমিরে তলিয়ে যেতে থাকে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতে বিশ্বজুড়ে ছয় লাখেরও বেশী লোকের সপ্তাহে ৪৮ ঘনটার বেশী সময় কর্ম ক্ষত্রে কাটাতে হয়। এবং স্মার্ট ফোন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মতো আধুনিক অনেক প্রযুক্তির কারণে মানুষ কাজ ও বিশ্রামের সময় টুকু আলাদা করে উপভোগ করতে ভুলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে অন্তত অর্ধেক আমেরিকান অফিসের কাজ বাড়িতে বয়ে নিয়ে আসে।
এই প্রসঙ্গে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জানান, অনেক শ্রমিকের ঘর দুয়ারের কোন ঠিক ঠিকানা থাকেনা, অন্যদের সাথে তাদের শ্রম-ব্যক্তিত্বের পার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক। তরুণ ও মধ্য বয়স্ক কর্মীদের থেকে তারা অনেক আলাদা; ব্যক্তিগত প্রয়োজন, শিশুদের প্রতি দায়দায়িত্ব এর সবই পেষার ওপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
আর তাই অবধারিত সব ধরনের দুশ্চিন্তার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম এর পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা।
৭. শরীরে ছিদ্র, ট্যাটু ও নক্সা আঁকা:
২০১৫ সালের মধ্যে আমেরিকার ১৭ভাগ লোক কসমেকিট প্রক্রিয়ায় দেহের বিভিন্ন অংশকে সাজাবে, দেশটির কসমেটিক ইন্ডাট্রির পক্ষ থেকে এমন ভবিষ্যতবাণী প্রচার করা হচ্ছে। কেউ কেউ একে শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করছে। আবার কেউ একে বলছে আত্ম-উন্নয়ন। কেউ একে দেখছে সময় কাটাবার মাধ্যম হিসেবে। কেউ বা প্রশাসনের বিরুদ্ধ বিদ্রোহ বলে গণ্য করছে। কিন্তু সাধারণভাবে বলা যায় এই কসমেটিক সার্জারির কবলে পরে মানুষের স্বাভাবিক চেহারা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আর নিজেকে কৃত্রিমভাবে বদলে নেবার জন্যই এত বেশী মানুষ কসমেটিক সার্জারির আশ্রয় নিচ্ছে।
শরীরের নক্সা আঁকা, ট্যাটু করার চর্চা অনেক প্রাচীন হলেও এর আগে এত বেশী বৈচিত্র্য কখনই দেখা যায়নি। আগেকার দিনে গোত্র পরিচয়, ধর্মীয় কারণ, পদ মর্যাদা, ক্ষমতার চিহ্ন হিসেবে লোকে গায়ে ট্যাটু বা বিভিন্ন নক্সা আঁকতও। আর এখনো শরীরের বেশীর ভাগ নক্সা ও ট্যাটু চিহ্নও কিন্তু কোন কোন দিক দিয়ে সেই প্রাচীন চর্চারই ধারাবাহিকতা। মানুষ তার মাথার আকৃতি বদলাচ্ছে। গলার দৈর্ঘ্য বাড়াচ্ছে, ঠোট ও কান ফোরাচ্ছে, শরীর জুড়ে রঙ করছে, স্থায়ীভাবে অলঙ্কার পড়ছে। হাজার হাজার বছর ধরেই এসব চলে আসছে।
কিন্তু আজকাল এর সবই করা হচ্ছে দেহের সৌন্দর্য বাড়াবার দিকে দৃষ্টি রেখে।
গবেষণায় দেখা গেছে ক্রেতা সাধারণেরা দেখতে আকর্ষণীয় এমন বিক্রেতার কাছ থেকেই বেশী পণ্য কিনে। এর কারণ দেখতে সুন্দর লোকেরা অন্যদের চাইতে অতি সহজেই আমাদের নজর কাড়তে সক্ষম; সুন্দর ত্বকের লোকেদের এই কাজের জন্য তাই বেশী যোগ্য বলে ধরা হয়।
মনোগবেষক ডিয়ানা জুকারম্যান বলেন, “ এক্ষেত্রে এমন ধারনা কাজ করে জেনো দেখতে সুন্দর হলেই আরও বেশী সুখী হওয়া যাবে। নিজের সম্বন্ধে আরও বেশী ভালো অনুভূতি জাগবে এবং আমাদের স্বাভাবিক যুক্তিও কিন্তু তাই বলে কারণ আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে আপনি দেখতে আসলে কেমন সেটা লোকে অনেক বেশী গুনায় ধরে।
৬. ভয় দেখানো:
এক হিসেবে দেখা গেছে গ্রেড-স্কুল শিশুদের অর্ধেকেরই ভয় পাবার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০৯এ ইউরোপের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সব ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসার পর কোন না কোন ভাবে ভয়ের স্বীকার হয় তাদের কম বেশী সবাই আবার বাসায় ভাই-বোনদেরও দ্বারা আতঙ্কিত হবার স্বীকার। এর মাধ্যমে গবেষকরা ধারনা করছেন ভয় দেখাবার বা ভয় পাবার এই আচরণের শুরু আসলে নিজ নিজ বাড়ি থেকে।
এই প্রসঙ্গে ইটালির ডেগলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরসিলিয়া মেনিসিনি বলেন “ কিভাবে এধরনের আচরণ শিশুদের মধ্যে বাসা বাধে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নায় কিন্তু শিশুরা যদি বাড়িতে এই কাজটি নিয়মিত করতে থাকে -ভাই-বোনকে ভয় দেখাতে অভ্যস্ত হয় আর সেটা কেউ নজরে না দেয় তাহলে তা স্কুল পর্যন্ত আসতেই পারে।
এই ভয় দেখাবার বিষয়টি কিন্তু মোটেই শিশুদের খেলার জিনিস নয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে আমেরিকার ত্রিশ ভাগ অফিসে বস বা সহ কর্মীদের দ্বারা আতঙ্কের স্বীকার হয়েছেন স্বাভাবিক শ্রমিকেরা। গুজব, চাকরি হারাবার ভয় ছড়িয়ে, বিভিন্ন উপায়ে অপমান করে এই ধরনের জঘন্য কাজ গুলো করা হয়েছে। আর একবার শুরু হবার পর অবস্থা সব সময় আরও খারাপের দিকেই গেছে।
এরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারাহ ট্রেসি বলেন, “ উচ্ছৃঙ্খলতা থেকেই এই ধরনের ভয় দেখাবার মত আচরণের জন্ম তাই এর প্রতিরোধ খুবই কঠিন কাজ।”
কর্মক্ষেত্রে এমন সব ভয়ের মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞেরা কার্য-কারণ ও যুক্তির ব্যবহার করতে বলেছেন।
আমরা কেন এমন আচরণ করি ? এই ব্যপারে মনোবিজ্ঞানীদের জবাব হলও পদমর্যাদা আর ক্ষমতার জন্য। আর তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাই এমন আচরণ প্রতিহত করা খুবই কঠিন কাজ। বানর সহ অন্যান্য প্রাইমেটদের মাঝেও ভয় দেখাবার এমন আচরণ দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা তাই তাদের মত হচ্ছে বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এই আচরণটি মানুষের মাঝেও জায়গা করে নিয়েছে।
৫. মিথ্যা বলা:
মানুষ কেনও যে এত বেশী মিথ্যা কথা বলে এর কারণ আসলে কারোই জানা নেই। কিন্তু গবেষণায় জানা গেছে এর সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের অত্যন্ত গভীর কিছু অনুষঙ্গ জড়িয়ে আছে।
ম্যাসাচুসেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ রবার্ট ফেল্ডম্যান বলেন, “ এটি আত্মাভিমানের সঙ্গে একই সূত্রে গাথা, আমরা দেখতে পেয়েছি যখনই লোকে বুঝতে পারে যে তার আত্মাভিমান ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে তখনি তারা উঁচু দরের মিথ্যে বলতে শুরু করে দেয়।” এই অধ্যাপক তার এক গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন ষাট ভাগ মানুষ কথোপকথনের সময় প্রতি দশ মিনিটে একটি করে মিথ্যে বলে।
মিথ্যে বলা কিন্তু ততটা সহজ কাজ নয়। সত্যি বলার চেয়ে এতে ত্রিশ ভাগ বেশী সময় লাগে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে আগেকার দিনের স্বাভাবিক লেখালেখির চাইতে ই-মেইলে বেশী মিথ্যা চালাচালি হয়।
কেবল মানুষ নয়, পশু-পাখিরাও মিথ্যে আচরণ করতে পারে, এমন কি রোবট পর্যন্ত। কাজের দক্ষতা পরীক্ষার এক গবেষণায় পুরষ্কার আর শাস্তির ব্যবস্থা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
৪. ধোঁকা দেওয়া:
মানুষের বেখাপ্পা আচরণ গুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। যেখানে বেশীর ভাগ লোকই বলে সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা, সেখানে খোদ প্রতি পাঁচ জন আমেরিকানের এক জন মনে করে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া নৈতিক ভাবে গ্রহণ যোগ্য, অথবা তাদের মতে এটা আসলে কোন নৈতিক বিষয়ই না। আর দেশটির দশভাগ লোক কোন না কোন ভাবে নিজের বউকেই ধোঁকা দিয়ে বেড়ায়। পো রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেছে।
উঁচু ধরনের নৈতিকতা পোষণ করেন এমন লোকেরা আবার জঘন্য এই ধোঁকাবাজির স্বীকার হয়ে আত্মহত্যাও করেন। তবে এমন শক্ত প্রকৃতির লোকেরাও আবার ঘুরিয়ে হলেও বিশ্বাস করেন কোন কোন পরিস্থিতিতে ধোঁকাবাজি নৈতিক ভাবে মেনে নেবার মত একটি আচরণ।
৩. চুরি করা:
নিজের দরকারের কারণেই কিন্তু চোরেরা চুরি করে। কিন্তু ক্লেপ্টোমেনিয়াক চুরি করে মজা লুটার জন্যে। ৪৩,০০০ লোকের মাঝে এক জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে তাদের এগার ভাগ কোননা কোন ভাবে এক বারের জন্য হলেও দোকানে গিয়ে চুরি করেছে।
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের জন ই. গ্রান্ট এই প্রসঙ্গে বলেন যে সব লোকেরা চুরি করে তাদের সবাই পুরোপুরি অভাবী নয়।”
২০০৯এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, চুরি রোগে আক্রান্তদের চুরির বাতিক সান্ত্বনা ওষুধ অথবা এলকোহলে আসক্তি কাটাবার ওষুধ নেলট্রেক্সন এর সাহায্যে রোধ করা গেছে। এই ধরনের ওষুধ চুরির সময়কার মস্তিষ্কের বিশেষ রাসায়নিক ক্ষরণ কমায়। এভাবে চুরির আনন্দের অনুভূতি মাটি করে দিয়ে চুরির আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। বায়োলজিক্যাল সাইকিয়্যাট্রি জার্নালে গ্রান্ট ও তার সহকর্মীর লেখা এ সম্পর্কিত একটি গবেষণা পত্র ছাপা হয়েছে।
চুরিবিদ্যা আমাদের জিনগত হবার সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্তত এটা দাবি করা যায় বানরও চুরি করতে পারে। কাপুচিন বানর সঙ্গী বানরদের সতর্ক করার জন্য সতর্ক সংকেত ব্যবহার করে। এই সংকেত শুনে অন্যেরা এদিক সেদিক ছড়িয়ে গিয়ে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কমায়। কিন্তু এদের অনেকেই আবার ভুয়া সঙ্কেত দিয়ে লুকিয়ে পরাদের খাবার চুরি করে।
২. সন্ত্রাস:
মানুষের জানা ইতিহাসের পুরোটা জুড়েই সন্ত্রাস আর নৈরাজ্যর দেখা মিলে। আর এই অবস্থা দেখে নাম করা কয়েক জন গবেষক বলেই বসেছেন আমদের জিন আর প্রাপ্তির অনুভূতি মাথার ভেতর জট পাকিয়ে সন্ত্রাস করতে ব্যকুল হয়।
তবে লক্ষ লক্ষ বছর পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, আজকের চাইতে তখনকার দিনে আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা অনেক বেশী শান্তি প্রিয় ছিলেন। যদিও প্রথম দিকের প্রাগৈতিহাসিক এই সব মানুষের মাঝে স্বজন-ভোজের প্রমাণ মেলে।
২০০৮এর এক গবেষণায় এই বলে উপসংহার টানা হয়েছে, যে মানুষ যৌনতা, খাবার ও ড্রাগস নেবার মত করেই সন্ত্রাস করার জন্য ব্যগ্র থাকে।
সাইকো ফার্মাকোলজি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদন হতে জানাযায় ইঁদুরের মস্তিষ্কের কিছু কোষ সন্ত্রাস ঘটাবার জন্য ব্যগ্র থাকলেও এর পেছনে আসলে থাকে অন্য কোন প্রাপ্তির আশা। মানুষের মস্তিষ্কেও এই একই গবেষণার প্রয়োগ করার ব্যাপারে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।
গবেষণাটির অন্যতম সদস্য টেনিসির ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রেগ কেনেডি বলেন “ সব মেরুদণ্ডীদের মাঝেই আক্রমনাত্নক আচরণ লক্ষ করা যায়, আর সঙ্গী, বাসস্থান এবং খাবারের মত গুরুত্ব পূর্ণ সম্পদ আয়ত্তে আনা ও ধরে রাখার জন্য এর দরকার রয়েছে। আমরা দেখতে পেয়েছি প্রাপ্তির পথ অনুসরণ করে মস্তিষ্ক আক্রমনাত্নক কোন ঘটনার প্রতি সাড়া দেয়। এর এই কাজে ডোপামিনের ভূমিকা রয়েছে।”
অনেক গবেষক মনে করেন মানুষের এই সন্ত্রাসী আচরণ অন্যকোন ঝোঁকের রূপান্তরিত রূপ মাত্র যা তাকে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।
উথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিববিদ ডেভিড ক্যারিয়ার বলেন “ আগ্রাসী আচরণ ব্যক্তির টিকে থাকা ও বংশ বৃদ্ধির হারের সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তিত হয়, এবং কোন প্রজাতির নির্দিষ্ট পরিবেশ, সামাজিক, বংশবৃদ্ধি এবং ইতিহাসের ওপর এই রূপান্তর অনেক বেশী নির্ভরশীল। মানুষ এই বিচারে সবচাইতে বড় সন্ত্রাসী প্রাণী।
১. বদ অভ্যাসের পেছন লেগে থাকা:
এই তালিকার সব গুলো বদ অভ্যাসই প্রতিদিনের জীবনে কম বেশী সমস্যা তৈরি করতে পারে যদিনা আমরা তাতে পুরোপুরি অভ্যস্ত হই। গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, অনেক পরিচিত বদভ্যাসের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্বন্ধে জানার পরও লোকজনের পক্ষে তা পুরোপুরি ত্যাগ করা কষ্টকর হয়ে দাড়ায়।
এই প্রসঙ্গে অ্যালবাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিন্ডি জারডাইন বলেন, “ এই জন্য নয় যে তারা এর ভয়াবহতা সম্বন্ধে একদমই জানেনা, আসলে আমরা দীর্ঘ সময়ের কথা না ভেবে সব সময় কেবল তাৎক্ষণিক আনন্দের কথাই ভাবতে ভালোবাসি।
কেন লোকে নিজের বদ-অভ্যাস আঁকড়ে থাকে এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জারডাইন নিচের কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করেছেন:
--মানুষের ভেতরকার অবাধ্যতা
-- সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার প্রয়োজনীয়তা
-- সত্যিকারের ঝুঁকি অনুধাবন করতে না পারা
--জগত সংসার সম্বন্ধে এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস সম্বন্ধে ব্যক্তিগত দৃষ্টি ভঙ্গী
--আসক্তির প্রতি আগে থেকেই জিনগত প্রবণতা থাকা
তিনি আরও বলেন লোকজন তাদের বদ-অভ্যাস গুলোর ন্যায্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে বার বার সেই পুরনো ছুতোই ধরে থাকেন, যেমন বদ অভ্যাস ঢাকতে গিয়ে তারা প্রায়ই বলে-“এটি আমাকে মোটেই কষ্ট দেয় না” বা “ আমার দাদি সারা জীবন হুঁকো টেনে টানা নব্বই বছর বেচে ছিলেন।”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

