somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগুন আর বরফ

১৩ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আগুন আর বরফ

(ইংরেজ কবি রবার্ট ফ্রস্ট-এর ফায়ার এন্ড আইস কবিতার অনুবাদ ও আমার কিছু কথা)

কেউ কেউ বলে পৃথবীর শেষ হবে
আগুনের হোলি খেলা খেলে
কেউ কেউ বলে এতো সব হারাবে বরফের তলে
আমি সেই স্বাদ পাই, আমারই ইচ্ছের বলে
তবুও তো বাঁধা আছি, যারা শুধু আগুনের কথা বলে।
কিন্ত যদি এই ধরণী বিলীন হয় দু'বারের মতোন
মনে হয়, আমি তখন এতো সব বরফ গলিয়ে ফেলার জন্য
অনুক্ষণ চারপাশে ঘৃণা ছড়াবো
আর সেই ঘৃণা ক্রমেই বাড়তে থাকবে
ফনাতোলা অজস্র নাগিনীর মতো


মানুষকে আগুন উপহার দেওয়ার জন্য সর্বজ্ঞ, সর্ব শক্তিমান জিয়াস কেন তার প্রাণপ্রিয় পুত্রকে ককেশাস পাহাড়ের চূড়ায় অনন্ত কালের তরে বেঁধে রেখে ছিলেন? কেন তিনি তাঁকে এসবের সব কিছু, খুলে বলেননি ?-যে এই আগুনই একদিন কার্বনের ধোয়ায় পৃথিবীর আকাশ বাতাস চারদিক, দশদিগন্ত ঢেকে দেবে। গলতে থাকবে মরুর বরফ। সাগরের পানি ফুঁসে উঠবে। কেন তিনি বলেননি এই আগুনই একদিন সমস্ত মানব জাতির ধ্বংস ডেকে আনবে। কেন তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রকে শেষবারের মতন শুধরে দেননি। একজন দায়িত্ববান পিতার কি সেটাই করণীয় নয় ?
আচ্ছা, পিতার রোষানলে না পড়লে প্রমিথিয়াস মানুষকে আর কী কী উপহার দিতেন? সেসব দিয়ে মানুষ কি আজকের এই ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিপর্যয় বা আদৌ নিজের এই সম্ভাব্য ধ্বংস ঠেকাতে পারতো?...পারতো কি বিশ্বটাকে আবার নির্মল, প্রাণ চঞ্চল আর নতুন করে তুলতে?... পারতো কি? এমন একটি প্রশ্ন তো থেকেই যায়। যার জন্যে তিঁনি এতো ঝুঁকি নিয়ে পিতার রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে তুচ্ছাতিতুচ্ছ অসহায় মানব সন্তানের জন্যে জীবনদায়ী আগুন নিয়ে আসলেন, সেই আগুনের বিষবাষ্পই একদিন তাঁর সেই প্রাণপ্রিয় মানুষদের গ্রাস করবে; এটি জানার পরও কি প্রমিথিয়াস মাটির সেই অসহায় মানুষদের জন্য আর কিছুই কী করতেন না?
হায় ! বন্দি প্রমিথিয়াস আজো কি তুমি আমাদের হাতে অভিশপ্ত সেই আগুন তুলে দেবার দায়ে বরফ জমা ককেশাসের শুভ্র চূড়ায় বাঁধা পড়ে আছো ? আজো কি মৃত্যুর দেশ থেকে যম সদৃশ ঈগল এসে প্রতিদিন তোমার উদর চিরে আহার সারে !
আমাদের মত পরশ্রী কাতর, কুটিল মানবদের কথা ভেবে, পিতার ধনভাণ্ডার থেকে আগুন এনে দেবার জন্যে তোমার এই দশা হলো !
প্রমিথিয়াস আজো কি তুমি আমাদের হাতে অভিশপ্ত সেই আগুন তুলে দেবার দায়ে ককেশাসের শুভ্র চুড়ায় বাঁধা পড়ে আছো ? নাকি, মুক্তি মেলার পর দ্বিতীয়বারের মতো আবার নিজের কোন চরম বিপর্যয় এড়াতে, পিতার রক্ত চক্ষু আর কঠোর শাসনের ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছো। এতসব আমার জানা নেই। অন্যেরাও জানে কিনা তাও আমার কিছুই জানা নেই। দৈবের মন বোঝার সাধ্যও আমার নেই । কারো আছে কিনা তাও জানিনা ! তবে, এটা জানি যে, এমন ক্ষমতা বুঝি খুব কম লোকেরই আছে । আর তাদের ব্যবসায়ীক মানসিকতা বোধ হয় অন্য আট-দশ জন সাধারণ ব্যবসায়ীর চেয়ে দশ কি বার কাটা উপরে। তানাহলে এতসব মন বোঝার কৌশল কবেই চারধারে ছড়িয়ে পড়তো।
আচ্ছা ! প্রমিথিয়াস যাদের হাতে প্রথম আগুন তুলে দিয়ে ছিলেন তারাও কি সেই আগুন নিয়ে এই একই ধরনের ব্যবসা ফেঁদেছিলেন ? সেসময় এখনকার মতোন এত ব্যবসা আর পণ্যায়ন প্রথা চালু থাকলে বোধ হয় বিশ্বজুড়ে আগুন এত তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পরতে পারতো না , হয়তো রয়ালটি দেবার ভয়ে আবিষ্কারক ইঞ্জিনের ভেতর আগুন নামের কোন বস্তুর ঠাই পর্যন্ত দিতে কুণ্ঠা বোধ করতেন। তার সেই আবিষ্কৃত যন্ত্রকে আগুন হতে শত শত হাত দূরে রাখতে চেষ্টা করতেন। বেঢপ জ্বালানির ভারে ন্যূজ হতে দিতেন না কিছুতেই !


এখন প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক, তাহলে কেমন হতো আগুন বিহীন সেদিন কার সেই সব ইঞ্জিন ? নিঃশ্বাস আটকে আসা ঘনকালো ধোয়ার বদলে, ভারি হয়ে আসা ধোয়াসার বদলে, সেইসব ইঞ্জিনের সাইলেন্সর পাইপের ফুঁটো দিয়ে আজকে এখন আমরা কী বের হতে দেখতাম? এমন ইঞ্জিন তৈরি করার এখন কি আর একেবারেই সুযোগ নেই! কোনই উপায় নেই ?
যদি বলি আছে ! তাহলে বলতে হয় আমরা কেন সেই সুযোগটাকে অতিশিঘ্র কাজে লাগাচ্ছি না ?
গোটা কতক তেলের খনি, জবড়জং কলকারখানা আর মটর গাড়ি , অতি ভোগবাদী মানসিকতা, আর ব্যবসায়ীদের দিন দিন পুঁজি জড়ো করার চাকা টাকে সচল রাখতেই কী এমন সব কাজকারবার পরিচালিত হচ্ছে ? নাকি এই ধরনের কাজে আমাদের আবিষ্কারক উদ্ভাবকদের বড় ধরনের কোন সীমাবদ্ধতা রয়েছে?
নাকি কেউ এসব কাজে টাকা-কড়ি যোগান দেবার রাস্তাটা গোপনে আটকে বসে আছে। এধরনের সম্ভাব্য বাঁধা গুলো দূরকরে আমাদের এখনি কি এমন কোন পরিবেশ বান্ধবযন্ত্র বানানোর কাজে লেগে যাওয়া উচিত নয় ? যা আর এক ফোটাও তেল খাবেনা । যেগুলো বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন পুড়িয়ে চলার শক্তি যোগাবে না। একটি বারও ধোয়ার বিষ বাষ্পের সঙ্গে কার্বন আর জীবের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ছড়াবেনা। বরং তারবদলে বাতাসে ছেড়ে দেবে অক্সিজেন, বাতাসকে দেবে সজীবতা, আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে আবার পাবো নির্মল প্রাণের আশ্বাস।
এই ধরণীতে মানুষ বেঁচে থাকবে, বংশ পরম্পরায়, আমাদের এই ধরত্রী মাতা, বসুন্ধরা টিকে থাকবে অনন্তকাল .........
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০৪
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×